। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাযা উমরা আদায়ের উদ্দেশে মাক্কায় প্রবেশ করলেন, তখন কবি আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাযিঃ) তার সামনে সামনে এ কবিতা বলে হেঁটে যাচ্ছিলেনঃ হে বানী কুফফার ছেড়ে দে তার চলার পথ। আজ মারবো তোদের কুরআনের ভাষায় মারার মতো। কল্লা উড়ে যাবে তোদের গর্দান হতে, বন্ধু হতে বন্ধু হবে পৃথক তাতে"। উমার (রাযিঃ) তাকে বললেন, হে ইবনু রাওয়াহা! তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে আল্লাহ তা’আলার হেরেমের মধ্যে কবিতা বলছ? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হে “উমার! তাকে বলতে দাও। কেননা এই কবিতা তীরের চাইতেও দ্রুতগতিতে গিয়ে তাদেরকে (কাফিরদের) আহতকারী। সহীহঃ মুখতাসার শামা-য়িল (২১০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, উক্ত সূত্রে গারীব। এ হাদীসটি মামার-যুহরী হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে আবদুর রাযযাকও একই রকম বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি ব্যতীতও অপর হাদীসে বর্ণিত আছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাযা উমরাহ আদায়ের উদ্দেশে মাক্কায় প্রবেশ করলেন এবং কাব ইবনু মালিক (রাযিঃ) তার সামনে কবিতা আবৃত্তি করছিলেন”। এ বর্ণনাটি কিছু মুহাদ্দীসগণের নিকট অনেক বেশি সহীহ। কেননা ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাযিঃ) মুতার যুদ্ধে শহীদ হন। আর এ উমরাতুল কাযার ঘটনা ছিল সে যুদ্ধের অনেক পরে।
। শুরাইহ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করা হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি উপমা দেয়ার জন্য কবিতা আবৃত্তি করতেন। তিনি বললেন, তিনি ইবনু রাওয়াহার এ কবিতা আবৃত্তি করে উপমা দিতেন। "যাকে তুমি দাওনি তোশা, খবর আনবে সে নিশ্চয়ই।" সহীহঃ সহীহাহ (২০৫৭) ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরব কবিদের মধ্যে সর্বোত্তম ও সত্য কথা বলেছেন লাবীদ। তা হল এই “শুনে রেখ আল্লাহ ব্যতীত সব কিছুই বাতিল"। ‘অসদাকু” অধিক সত্য এই শব্দে হাদীসটি সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (২০৭), ফিকহুস সীরাহ (২৭), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। সাওরী ও অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ হাদীসটি আবদুল মালিক ইবনু উমাইর-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
। জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে শতাধিক বৈঠকে ছিলাম। সে সব বৈঠকে তার সাহাবীগণ কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং জাহিলিয়াত যুগের বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করতেন। তিনি সেগুলো চুপ করে শুনতেন এবং কখনো কখনো মুচকি হাসতেন। সহীহঃ মুখতাসার শামা-য়িল (২১১) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি সিমাকের সূত্রে যুহাইরও বর্ণনা করেছেন।
। সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযীঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো পেট (খারাপ ও চরিত্র বিধ্বংসী) কবিতার চাইতে বমি দ্বারা পূর্ণ থাকাই উত্তম। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৭৫৯), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো পেট কবিতার চাইতে বমিতে পূর্ণ থাকাই উত্তম যা উহাকে (পেটকে) খারাপ করে ফেলে। সহীহঃ প্রাগুক্ত। সা'দ, আবূ সাঈদ, ইবনু উমার ও আবূদ দারদা (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেসব বাকপটু-বাগ্মী লোকদেরকে আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই ঘৃণা করেন, যারা গরুর জাবর কাটার ন্যায় কথা বলে। সহীহঃ সহীহাহ (৮৭৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং এই সূত্রে গারীব। সা'দ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেয়ালবিহীন ছাদে ঘুমাতে নিষেধ করেছেন। সহীহঃ সহীহাহ (৮২৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির হতে জাবির (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসেবে জেনেছি। আবদুল জাব্বার ইবনু উমার আল-আইলীকে দুর্বল বর্ণনাকারী বলা হয়েছে।
। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সপ্তাহের দিনসমূহে আমাদেরকে ওয়াজ-নাসীহাতের ব্যাপারে আমাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখতেন, যাতে আমরা বিরক্ত হয়ে না যাই। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে, তিনি সুফইয়ান হতে, তিনি আল-আমাশ হতে, তিনি শাকীক ইবনু সালামাহ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের সমার্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন।