। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, জ্বর, বদ-নজর ও ব্ৰণ-ফুসকুড়ি (ক্ষুদ্র ফোড়া) ইত্যাদি ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝাড়ফুঁক দেয়ার সম্মতি প্রদান করেছেন। সহীহ, মুসলিম। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, জ্বর ও ফুসকুড়ির ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝাড়ফুক দেয়ার সম্মতি প্রদান করেছেন। সহীহ, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। তিনি আরও বলেন, আমার মতে পূর্ববর্তী হাদীসের তুলনায় এ হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ। বুরাইদা, ইমরান ইবনু হুসাইন, জাবির, আইশা, তালক ইবনু আলী, আমর ইবনু হাযম ও আবূ খিযামা (রাঃ) হতে তার বাবার সূত্রে এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস 2057 — Jami At Tirmidhi 28:22
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ رُقْيَةَ إِلاَّ مِنْ عَيْنٍ أَوْ حُمَةٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى شُعْبَةُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ حُصَيْنٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ بُرَيْدَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বদ-নজর ও জ্বর ব্যতীত আর অন্য কোন ক্ষেত্রে ঝাড়ফুঁক বৈধ নয়। সহীহ, মিশকাত (৪৫৫৭), বুখারী মাওকুফরুপে বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হুসাইন-শাবী হতে, তিনি বুরাইদা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম বর্ণনা করেছেন।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিন এবং মানুষের কু-দৃষ্টি হতে আশ্রয় চাইতেন। তারপর সূরা ফালাক ও সূরা নাস নাযিল হলে তিনি এ সূরা দুটি গ্রহণ করেন এবং বাকীগুলো পরিত্যাগ করেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৫১১)। আবূ ঈসা বলেন, আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। উবাইদ ইবনু রিফাআ আয-যুরাকী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, আসমা বিনতু উমাইস (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। জাফরের সন্তানদের তাড়াতাড়ি বদ-নজর লেগে যায়। আমি কি তাদেরকে ঝাড়ফুক করতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। কেননা, কোন জিনিস যদি ভাগ্যকে অতিক্রম করতে পারত তাহলে বদ-নজরই তা অতিক্রম করতে পারত। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৫১০)। আবূ ঈসা বলেন, ইমরান ইবনু হুসাইন ও বুরাইদা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি আইয়ূব-আমর ইবনু দীনার হতে, তিনি উরওয়া ইবনু আমির হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আমাদের কাছে এই হাদীসটি হাসান ইবনু আলী আল-খাল্লাল (রাহঃ)-আবদুর রাযযাক হতে, তিনি মামার হতে, তিনি আইয়ুব (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হাসান ও হুসাইন (রাঃ)-এর জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’আ পাঠ করে আশ্রয় প্রার্থনা করতেনঃ “আমি তোমাদের উভয়ের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্ তা'আলার পরিপূর্ণ কল্যাণময় কালামের মাধ্যমে প্রতিটি শাইতান, জীবননাশক বিষ ও অনিষ্টকারী কু-দৃষ্টি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি"। তিনি বলতেনঃ এভাবে ইবরাহীম (আঃ) তার দুই ছেলে ইসহাক ও ইসমাঈলের জন্য আশ্রয় চাইতেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৫২৫), বুখারী। উক্ত মর্মে একইরকম হাদীস হাসান ইবনু আলী আল-খাল্লাল-ইয়াযীদ ইবনু হারুন ও আবদুর রাযযাক হতে, তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি মানসূর (রহঃ) হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 2061 — Jami At Tirmidhi 28:26
দাঈফদাঈফIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ، عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ, قال حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ أَبُو غَسَّانَ الْعَنْبَرِيُّ، قال حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي حَيَّةُ بْنُ حَابِسٍ التَّمِيمِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ، سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ شَىْءَ فِي الْهَامِ وَالْعَيْنُ حَقٌّ " .
। হাইয়্যা ইবনু হাবিস আত-তামীমী (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ হাম্ম বলতে কিছু নেই এবং বদনজ্বর সত্য। যঈফ, যঈফা (৪৮০৪)। "আল-আইনু হারুন" অংশটুকু সহীহ। সহীহা (১২৪৮) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ভাগ্যকে কোন জিনিস অতিক্রম করতে সমর্থ হলে কু-দৃষ্টিই তা অতিক্রম করতে পারত। যদি এ প্রসঙ্গে কেউ তোমাদেরকে গোসল করাতে চায় তাহলে তোমরা তাতে সম্মত হও। সহীহ, সহীহাহ (১২৫১-১২৫২), আল-কালিমুত তাইয়্যিব (২৪২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। হাইয়্যাহ ইবনু হাবিস হতে বর্ণিত হাদীসটি গারীব। শাইবান ইয়াহইয়া ইবনু কাদীর হতে, তিনিই হাইয়্যাহ ইবনু হাবিস হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবূ হুরাইরা হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। আলী ইবনুল মুবারক এবং হারব ইবনু শাদ্দাদ আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর উল্লেখ করেন নাই।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সামরিক অভিযানে প্রেরণ করেন। আমরা একটি জনপদে আসার পর তাদের কাছে মেহমানদারী প্রার্থনা করলাম। কিন্তু তারা আমাদেরকে আপ্যায়ন করাল না। এরকম পরিস্থিতিতে তাদের বংশের প্রধানকে বিছু দংশন করে। তারা আমাদের নিকট এসে বলে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি য়ে বিছু দংশনকারীকে ঝাড়ফুঁক করতে পারে? আমি বললাম, হ্যাঁ আমি নিজেই। কিন্তু তোমরা যদি আমাদেরকে এক পাল বকরী প্রদান না কর তাহলে আমি ঝাড়ফুঁক করতে সম্মত নই। তারা বলল, আমরা তোমাদেরকে ত্রিশটি বকরী প্রদান করব। আমরা এ প্রস্তাবে রাজি হলাম। আমি সাতবার সূরা ফাতিহা পাঠ করে তাকে ঝাড়ফুক করলাম। ফলে সে রোগমুক্ত হলো এবং আমরা বকরীগুলো হস্তগত করলাম। বর্ণনাকারী বলেন, এই বিষয়ে আমাদের মনে সন্দেহের উদ্রেক হলো। আমরা বললাম, তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে হাযির হওয়ার আগ পর্যন্ত (সিদ্ধান্তে পৌছতে) তাড়াহুড়া করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তার নিকট উপস্থিত হওয়ার পর আমি যা করেছি তা তাকে অবহিত করলাম। তিনি বললেনঃ কিভাবে তুমি জানতে পারলে, এটা দিয়ে ঝাড়ফুক করা যায়? বকরীগুলো হস্তগত কর এবং তোমাদের সাথে আমার জন্যও একটি অংশ রেখ। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২১৫৬), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আবূ নাযরার নাম আল-মুনযির ইবনু মালিক ইবনু কুতাআ। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) এ হাদীসের ভিত্তিতে বলেন, কুরআন শিক্ষা দানের ফলে বিনিময় গ্রহণ বৈধ। উস্তাদ এই বিষয়ে চুক্তিও করতে পারবেন। জাফর ইবনু ইয়াস হলেন জাফর ইবনু আবী ওয়াহসিইয়া আর তিনি আবূ বিশর। এ হাদীসটি শুবা, আবূ আওয়ানা, হিশাম, আরও অনেকে আবূ বিশর হতে, তিনি আবূল মুতাওয়াক্কিল হতে, তিনি আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কোন এক আরব গোত্রের অঞ্চল দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী পথ চলছিলেন। তারা তাদেরকে অতিথিসেবা করল না। ঘটনাক্রমে তাদের বংশের প্রধান ব্যক্তিটি অসুস্থ হয়ে যায়। তারা আমাদের নিকট এসে বলে, তোমাদের নিকট কি কোন ঔষধ আছে? আমরা বললাম, হ্যাঁ আছে কিন্তু তোমরা আমাদের মেহমানদারী করনি। অতএব, যে পর্যন্ত তোমরা আমাদের জন্য পারিশ্রমিক ঠিক না করবে আমরা চিকিৎসা করব না। আমাদেরকে একপাল ছাগল প্রদান করতে তারা রাজি হলো। আমাদের মধ্যেকার একজন সূরা ফাতিহা দ্বারা তাকে ঝাড়ফুক করল। ফলে সে রোগমুক্ত হয়ে গেল। আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বিষয়টি তাকে খুলে বললাম। তিনি বললেনঃ তুমি কিভাবে জানতে পারলে যে, এর মাধ্যমে ঝাড়ফুক করা যায়? বর্ণনাকারী এ বিষয়ে তার পক্ষ হতে কোন নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ করেননি। তিনি বললেনঃ এগুলো তোমরা ভোগ কর এবং তোমাদের সাথে আমার জন্যও একটা ভাগ রাখ। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। এটা পূর্ববর্তী জাফর ইবনু ইয়াস হতে আমাশের রিওয়ায়াতের তুলনায় অনেক বেশি সহীহ। একাধিক বর্ণনাকারী আবূ বিশর হতে, তিনি আবূল মুতাওয়াক্কিল হতে, তিনি আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে এই সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। জাফর ইবনু ইয়াস হলেন জাফর ইবনু আবূ ওয়াহুশিইয়্যা।