। বাহয ইবনু হাকীমের দাদা [মু'আবিয়া ইবনু হাইদা (রাঃ)] হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল কোন ব্যক্তির সাথে আমি উত্তম আচরণ করব? তিনি বললেনঃ তোমার মায়ের সাথে। আমি প্রশ্ন করলাম, এরপর কার সাথে? তিনি বললেনঃ তোমার মায়ের সাথে। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, এরপর কার সাথে? তিনি বললেনঃ তোমার মায়ের সাথে। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, এরপর কার সাথে? তিনি বললেনঃ তারপর তোমার বাবার সাথে, তারপর নিকটাত্মীয়তার ক্রমানুসারে উত্তম আচরণ করবে। হাসান, মিশকাত (৪৯২৯) আবূ হুরাইরা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আইশা ও আবূদ দারদা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, বাহয ইবনু হাকীমের অপর নাম আবূ মুআবিয়া ইবনু হাইদা। এ হাদীসটি হাসান। শুবা (রাহঃ) বাহয ইবনু হাকীমের সমালোচনা করেছেন। কিন্তু হাদীস পারদর্শীদের মতে তিনি একজন সিকাহ বর্ণনাকারী। তার নিকট হতে মামার, সুফিয়ান সাওরী, হাম্মাদ ইবনু সালামা প্রমুখ হাদীসের ইমামগণ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। কোন কাজটি সবচাইতে উত্তম? তিনি বললেনঃ নামায তার নির্ধারিত সময়ে আদায় করা। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল এরপর কোনটি? তিনি বললেনঃ বাবা-মায়ের সাথে উত্তম আচরণ করা। আমি আবাৱো প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার পথে জিহাদ করা। এরপর আমাকে কিছু বলা হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকেন। আমি তাকে আরো প্রশ্ন করলে নিশ্চয়ই আমাকে তিনি আরো জানাতেন। সহীহ, সহীহা (১৪৮৯), বুখারী, মুসলিম আবূ আমরের নাম সা’দ ইবনু ইয়াস। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি আল-ওয়ালীদ ইবনুল আইযার হতে আশ-শাইবানী ও শুবা-সহ একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। আবূ আমর আশ-শাইবানী-ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে একাধিকসূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাবার সন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহ তা'আলার সস্তুষ্টি এবং বাবার অসন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহ তা'আলার অসন্তুষ্টি রয়েছে। সহীহ, সহীহা (৫১৫) উপরোক্ত হাদীসের মতো হাদীস মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফর হতে, তিনি শুবা হতে, তিনি ইয়ালা ইবনু আতা হতে, তিনি তার পিতা-আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে এই সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এটাকে তিনি মারফু হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেননি এবং এটাই অনেক বেশি সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এটিকে শুবার সঙ্গীগণ একইভাবে মাওকৃফ হিসেবে শুবা হতে, তিনি ইয়ালা ইবনু আতা হতে, তিনি তার পিতা-আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এটা শুবার সূত্রে মারফু (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী) হিসাবে শুধু খালিদ ইবনুল হারিস (রাহঃ) বর্ণনা করেছেন। খালিদ ইবনুল হারিস একজন সিকাহ ও বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না বলেন, আমি বসরায় খালিদের সমতুল্য এবং কৃফায় আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীসের মতো যোগ্য কোন ব্যক্তিকে দেখিনি। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীসটি বর্ণিত আছে।
। আবূদ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, তার কাছে একজন লোক এসে বলল, আমার এক স্ত্রী আছে। আমার মা আমাকে নির্দেশ দিচ্ছেন তাকে তালাক দেয়ার জন্য। আবূদ দারদা (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ জান্নাতের সর্বোত্তম দরজা হচ্ছে বাবা। তুমি ইচ্ছা করলে এটা ভেঙ্গে ফেলতে পার অথবা এর রক্ষণাবেক্ষণও করতে পার। সহীহ, সহীহা (৯১০), মিশকাত, তাহকীক ছানী (৪৯২৮) ইবনু আবী উমার বলেনঃ সুফিয়ান কখনো মায়ের কথা বলেছেন আবার কখনো বাবার কথা বলেছেন।
। আবদুর রাহমান ইবনু আবী বাকরা (রাঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (আবূ বাকরা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদেরকে সর্বাধিক কাবীরা গুনাহের ব্যাপারে জানিয়ে দিবো না? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। অবশ্যই জানিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার সাথে অংশীদারিতু স্থাপন করা এবং বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়া। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। তিনি সোজা হয়ে বসেন এবং বলেনঃ এবং মিথ্য সাক্ষ্য দেয়া ও মিথ্যা বলা। একথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবিরতভাবে বলতে থাকেন। আমরা (মনে মনে) বলতে লাগলাম, আহা! তিনি যদি থামতেন, চুপ করতেন! সহীহ, গাইয়াতুল মারাম (২৭৭), বুখারী মুসলিম আবূ সাঈদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ বাকরার নাম নুফাই, পিতা আল-হারিস।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি কর্তৃক তার বাবা-মাকে গালিগালাজ করা কাবীরা গুনাহ৷ সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। কেউ কি তার মা-বাবাকে গালিগালাজ করতে পারে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। কোন লোক অন্য কারো বাবাকে গালি দেয়। এর উত্তরে সেও তার বাবাকে গালি দেয়। সে অন্য কারো মাকে গালি দেয়। এর উত্তরে ঐ ব্যক্তিও তার মাকে গালি দেয়। সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (৩/২২১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ সর্বাধিক সাওয়াবের কাজ হচ্ছে বাবার বন্ধু-বান্ধবদের সাথেও সম্পর্ক বজায় রাখা। সহীহ, যঈফা (২০৮৯), মুসলিম। আবূ উসাইদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদ সহীহ। এ হাদীসটি ইবনু উমার (রাঃ) হতে অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন প্রকারের দুআ অবশ্যই মঞ্জুর করা হয়, তাতে কোনরকম সন্দেহ নেই। নির্যাতিত ব্যক্তির দুআ, মুসাফিরের দু'আ এবং সন্তানের প্রতি বাবার বদ-দুআ। হাসান, ইবনু মা-জাহ (৩৮৬২)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীরের সূত্রে হাজ্জাজ আস-সাওয়াফ হিশামের রিওয়ায়াতের মতোই বর্ণনা করেছেন। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে যে আবূ জাফার হাদীসটি বর্ণনা করেন তিনি হলেন আবূ জাফার আল-মুআযযিন। তার নাম সম্পর্কে আমরা অজ্ঞ। ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীরও তার সূত্রে একাধিক হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সন্তান কোন অবস্থাতেই তার বাবার সম্পূর্ণ অধিকার আদায়ে সক্ষম নয়। কিন্তু সে তার বাবাকে গোলাম অবস্থায় পেলে এবং তাকে কিনে মুক্ত করে দিলে তবে সামান্য অধিকার আদায় হয়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৬৫৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আমরা এ হাদীস বিষয়ে শুধুমাত্র সুহাইল ইবনু আবূ সালিহ এর সুত্রেই জানতে পেরেছি। এ হাদিসটি সুহাইল ইবনু আবূ সালিহ এর সুত্রে সুফিয়ান সাওরী ও একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।