। আবূ সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবূর রাদ্দাদ (রাঃ) একবার অসুস্থ হলে তাকে আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) দেখতে আসেন। আবূর রাদ্দাদ (রাঃ) বলেন, আমার জানামতে সবচেয়ে উত্তম ও সর্বাধিক আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রক্ষাকারী ব্যক্তি হলেন আবূ মুহাম্মাদ (আবদুর রাহমান)। আবদুর রাহমান (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ পরিপূর্ণ কল্যাণ ও প্রাচুর্যের অধিকারী আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ "আমিই আল্লাহ এবং আমিই রাহমান। আত্মীয়তার সম্পর্ককে আমিই সৃষ্টি করেছি এবং আমার নাম হতে নির্গত করে এই নাম (রাহমান হতে রেহেম) রেখেছি। যে ব্যক্তি এই সম্পর্ক বহাল রাখবে আমিও তার সাথে (রহমতের) সম্পর্ক বহাল রাখব। আর এই সম্পর্ক যে ব্যক্তি ছিন্ন করবে আমিও তার হতে (রহমতের) সম্পর্ক ছিন্ন করব”। সহীহ, সহীহাহ (৫২০)। আবূ সাঈদ, ইবনু আবী আওফা, আমির ইবনু রাবীআ, আবূ হুরাইরা ও জুবাইর ইবনু মুতঈম (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, যুহরীর সুত্রে আবু সুফিয়ান কর্তিক বর্ণিত হাদিসটি সহীহ। মামার এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যুহরী হতে, তিনি আবূ আওফ (রাঃ)-এর সূত্রে। মুহাম্মাদ বলেন, মামার বর্ণিত রিওয়ায়াতটিতে ভুল আছে।
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সমানুরূপ ব্যবহারের মনোভাব নিয়ে সম্পর্ক রক্ষাকারী আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী নয়, বরং কেউ কোন ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক নষ্ট করলেও সে যদি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে তবে সে-ই হচ্ছে প্রকৃত সম্পর্ক স্থাপনকারী। সহীহ, গাইয়াতুল মারাম (৪০৪), সহীহ আবূ দাউদ (১৪৮৯), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। সালমান, আইশা ও আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। মুহাম্মাদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (জুবাইর) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কর্তনকারী (আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী) জান্নাতে যেতে পারবে না। সহীহ, গাইয়াতুল মারাম (৪০৮), সহীহ আবূ দাউদ (১৪৮৮), বুখারী, মুসলিম। ইবনু আবী উমার বলেন, সুফিয়ান বলেছেন, অর্থাৎ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) বলেছেন, খাওলা বিনতি হাকীম (রাঃ) একজন সৎকর্মশীলা মহিলা। তিনি বলেছেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কন্যা ফামিমা (রাঃ)-এর দুই ছেলের একজনকে কোলে করে বাহিরে এলেন। তখন তিনি বলেনঃ (সন্তানের মুহাব্বাতে) তোমরাই কৃপণতা, কাপুরষতা ও অজ্ঞতার কারণ হও। তোমরা হলে আল্লাহ তা'আলার বাগানের সুগন্ধি ফুল। যঈফ, যঈফা (৩২১৪) এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার ও আশআস ইবনু কাইস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, শুধু উল্লেখিত সনদসূত্রেই আমরা এ হাদীসটি জেনেছি। খাওলা বিনতি হাকীম (রাঃ) হতে উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) সরাসরি হাদীস শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আল-আকরা ইবনু হাবিস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলেন যে, তিনি হাসানকে চুমু খাচ্ছেন। ইবনু আবী উমার তার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাসান অথবা হুসাইনকে চুমু খেয়েছেন। আল-আকরা (রাঃ) বলেন, আমার দশটি সন্তান আছে কিন্তু আমি তাদের কাউকে কখনো চুমু দেইনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি দয়া-অনুগ্রহ করে না সে দয়া-অনুগ্রহপ্রাপ্ত হয় না। সহীহ, তাখরাজ “মুশকিলাতুল ফাকর" (১০৮), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আনাস ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ সালামার নাম আবদুল্লাহ, পিতা আবদুর রাহমান। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যারই তিনটি মেয়ে অথবা তিনটি বোন আছে, সে তাদের সাথে স্নেহপূর্ণ ব্যবহার করলে জান্নাতে যাবে। যঈফ, দেখুন পূর্বের হাদীস আবূ ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে আইশা, উকবা ইবনু আমির, আনাস, জাবির, ইবনু আব্বাস, (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ সাঈদ আল-খুদরী-এর নাম সা’দ ইবনু মালিক ইবনু সিনান। সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর পিতা মালিক ইবনু উহাইব। কোন কোন রাবী এ সনদে একজন রাবীকে যোগ করেছেন (তিনি হলেন সাঈদ ইবনু আবদুর রাহমান ও আবূ সাঈদ (রাঃ)-এর মাঝখানে আইউব ইবনু বাশীর)।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার মেয়ে সন্তানদের জন্য কোনরকম পরীক্ষার সম্মুখীন হয় (বিপদগ্ৰস্ত হয়), সে তাদের ব্যাপারে ধৈর্য ধরলে তার জন্য তারা জাহান্নাম হতে আবরণ (প্রতিবন্ধক) হবে। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক দুটি মেয়ে সন্তানকে লালন-পালন করবে, আমি এবং সে এভাবে একসাথে পাশাপাশি জান্নাতে যাব। এই বলে তিনি নিজের হাতের দুটি আঙ্গুল একত্র করে ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন। সহীহ, সহীহাহ (২৯৭), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এই সূত্রে হাদীসটি হাসান গারীব।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একজন মহিলা তার দুই মেয়েসহ আমার নিকটে এল এবং আমার কাছে কিছু চাইল। কিন্তু একটি খেজুর ব্যতীত আমার নিকটে আর কিছুই ছিল না। আমি সেটিই তাকে দিলাম। সে খেজুরটিকে ভাগ করে তার দুই মেয়ের হাতে দিল এবং নিজে মোটেও খেল না। তারপর সে উঠে চলে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে আসার পর আমি বিষয়টি তাকে অবহিত করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে লোক মেয়ে সন্তানদের নিয়ে এ ধরনের পরীক্ষার (বিপদের) সম্মুখীন হয়, তারা তার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হয়ে দাড়াবে। সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (৩/৮৩), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এই সনদ সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু উবাইদ মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল আযীয হতে একাধিক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি তার বর্ণনায় বর্ণনাকারীর নাম আবূ বাকর ইবনু উবাইদুল্লাহ ইবনু আনাস উল্লেখ করেছেন। সঠিক হল উবাইদুল্লাহ ইবনু আবী বাকর ইবনু আনাস।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার তিনটি মেয়ে অথবা তিনটি বোন আছে, অথবা দুটি মেয়ে অথবা দুটি বোন আছে, সে তাদের প্রতি ভাল ব্যবহার করলে এবং তাদের (অধিকার) সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করলে তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত আছে। বর্ণিত শব্দে হাদীসটি যঈফ, সাহীহা (২৯৪) আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসটি গারীব।