। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি মুসলিমদের কোন ইয়াতীমকে এনে নিজের পানাহারে শরীক করলে আল্লাহ তা'আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যদি সে ক্ষমার অযোগ্য কোন গুনাহ না করে। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (৩/২৩০), যঈফা (৫৩৪৫) এ অনুচ্ছেদে মুররা আল-ফিহরী, আবূ হুরাইরা, আবূ উমামা, সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ হানাশের নাম হুসাইন ইবনু কাইস, উপনাম আবূ আলী আর-রাহবী। সুলাইমান আত-তাইমী বলেছেন, হাদীস বিশারদদের মতে হানাশ হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল।
। সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি ও ইয়াতীমের তত্ত্বাবধানকারী এই দুই আঙ্গুলের অনুরূপ একসাথে জান্নাতে বসবাস করব। এই কথা বলে তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে দেখান। সহীহ, সহীহাহ (৮০০), বুখারী আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। যারবী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ একজন বয়স্ক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে আসে। লোকেরা তার জন্য পথ ছাড়তে বিলম্ব করে। (তা দেখে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে লোক আমাদের শিশুদের আদর করে না এবং আমাদের বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। সহীহ, সহীহাহ (২১৯৬) আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূ হুরাইরা, ইবনু আব্বাস ও আবূ উমামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আনাস (রাঃ) এবং অন্যান্য সাহাবী হতেও যারবীর বেশ কিছু মুনকার হাদীস রয়েছে।
। আমর ইবনু শুআইব (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (দাদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক আমাদের শিশুদের আদর করে না এবং আমাদের বড়দের সম্মানের প্রতি খেয়াল রাখে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (১/১৬) এ হাদীসটি হান্নাদ আবদাহ হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক হতে এই সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে এবং তাতে রয়েছেঃ “বড়দের অধিকার জ্ঞান রাখে না”।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না বড়দের সম্মান করে না, সৎকাজের নির্দেশ দেয় না এবং অসৎ কাজে বাধা দেয় না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। যঈফ, মিশকাত (৪৯৭০), তা’লীকুর রাগীব (৩/১৭৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমর ইবনু শুয়াইবের সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের হাদীসটি সাহীহ। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর হতেও হাদীসটি অন্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী লাইস মিন্না’-এর অর্থ বলেছেন, “আমাদের নিয়ম-নীতি ও শিষ্টাচারের অনুসারী নয়”। সুফিয়ান সাওরী লাইসা মিন্না-এর অর্থ 'লাইসা মিসলানা' (আমাদের মত নয়) করা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এর অর্থ হল- আমাদের দলভুক্ত নয়।
। জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক মানুষের প্রতি দয়া-অনুগ্রহ প্রদর্শন করে না তাকে আল্লাহ তা'আলাও দয়া করেন না। সহীহ, তাখরাজু মুশকিলাতিল ফাকর (১০৮), বুখারী, মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবদুর রাহমান ইবনু আওফ, আবূ সাঈদ, ইবনু উমার, আবূ হুরাইরা ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ শুধুমাত্র হৃদয়হীন, নিষ্ঠুর ও দুর্ভাগা মানুষের কাছ থেকেই রহমত ছিনিয়ে নেয়া হয়। হাসান, মিশকাত তাহকীক ছানী (৪৯৬৮)। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে হাদীস বর্ণনাকারী আবূ উসমানের নাম অজ্ঞাত। বর্ণিত আছে যে, তিনি মূসা ইবনু আবূ উসমানের বাবা, যার নিকট হতে আবূয যিনাদ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূয যিনাদ (রাহঃ) মূসা ইবনু আবী উসমান হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে একাধিক হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা দয়ালুদের উপর দয়া ও অনুগ্রহ করেন। যারা যমীনে বসবাস তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। দয়া রাহমান হতে উদগত। যে লোক দয়ার সম্পর্ক বজায় রাখে আল্লাহ তা'আলাও তার সাথে নিজ সম্পর্ক বজায় রাখেন। যে লোক দয়ার সম্পর্ক ছিন্ন করে, আল্লাহ তা'আলাও তার সাথে দয়ার সম্পর্ক ছিন্ন করেন। সহীহ, সহীহাহ (৯২২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে নামায বাস্তবায়ন, যাকাত আদায় এবং প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনার শপথ (বাই’আত) করেছি। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ধৰ্ম হচ্ছে কল্যাণ কামনার নাম। একথাটি তিনি তিনবার বললেন। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। কার কল্যাণ কামনা করা? তিনি বললেনঃ আল্লাহ, তার গ্রন্থের, মুসলিমদের নেতৃবর্গের এবং মুসলিম সর্বসাধারণের। সহীহ, ইরওয়া(৯২৬), গাইয়াতুল মারাম (৩৩২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু উমার, তামীম আদ-দারী, জারীর, হাকীম ইবনু আবী ইয়াযীদ তার পিতার সূত্রে এবং সাওবান (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।