। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক মুসলিম অন্য মুসলিমের ভাই। সে তার সাথে কোনরকম বিশ্বাসঘাতকতা করবে না, ভার প্রসঙ্গে মিথ্যা বলবে না, তাকে অপমান করবে না। প্রত্যেক মুসলিমের মান-সন্মান, ধন-সম্পদ ও রক্তের (জীবনের) উপর হস্তক্ষেপ করা অপর মুসলিমের উপর হারাম। তাকওয়া এখানে (অন্তরে)। কেউ মন্দ বলে প্রমাণিত হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার অপর মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ জ্ঞান করে। সহীহ, ইরওয়া (৮/৯৯-১০০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আলী ও আবূ আইয়ুব (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন মু'মিন ব্যক্তি অন্য মু’মিনের জন্য একটি সুদৃঢ় প্রাসাদস্বরূপ, যার একটি অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে। সহীহ, মিশকাত (১০৪), আল-ঈমান ইবনু আবী শাইবা (৯০), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ মুসলিম ভাইয়ের আয়নাস্বরূপ। অতএব সে যদি তার মধ্যে কোন দাগ (ত্রুটি) লক্ষ্য করে, তবে তা যেন দূর করে দেয়। খুবই দুর্বল, যঈফা (১৮৮৯) আবূ ঈসা বলেনঃ শুবা (রহঃ) ইয়াহইয়া ইবনু উবাইদুল্লাহকে হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল বলেছেন। এ অনুচ্ছেদে আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক কোন মুসলিম লোকের দুনিয়াবী বিপদাপদের মধ্যে একটি বিপদও দূর করে দেয়, আল্লাহ তা'আলা তার পরকালের বিপদাপদের কোন একটি বিপদ দূর করে দিবেন। যে লোক দুনিয়াতে অন্য কারো অভাব দূর করে দেয়, তার দুনিয়া ও আখিরাতের অসুবিধাগুলোকে আল্লাহ তা'আলা সহজ করে দিবেন। যে লোক দুনিয়ায় কোন মুসলিমের দোষ-ক্রটিকে গোপন রাখে, আল্লাহ তা'আলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। যে পর্যন্ত বান্দাহ তার ভাইয়ের সাহায্য-সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকে, সে পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলাও তার সাহায্য-সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১২২৫), মুসলিম। ইবনু উমার ও উকবা ইবনু আমির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীসটি বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীসের মতো হাদীস আবূ আওয়ানা এবং বর্ণনাকারী আমাশ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তবে তারা এই সনদে “হুদ্দিসতু আন আবী সালিহ" কথাটুকু উল্লেখ করেননি।
। আবূদ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক তার কোন ভাইয়ের মান-সম্মানের উপর আঘাত প্রতিরোধ করে, কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তা'আলা তার মুখমণ্ডল হতে জাহান্নামের আগুন প্রতিরোধ করবেন। সহীহ, গাইয়াতুল মারাম (৪৩১)। আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীসটি বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান।
। আবূ আইয়ুব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য তিনদিনের বেশি সময় ধরে তার ভাইয়ের সাথে কথা-বার্তা ও মেলামেশা ত্যাগ করা জায়িয নয়। তাদের দুজনের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ হয়, অথচ একজন এদিকে এবং অন্যজন আরেক দিকে মুখ সরিয়ে নেয়। তাদের দুজনের মধ্যে যে ব্যক্তি প্রথমে সালাম দেয় সে-ই উত্তম। সহীহ, ইরওয়া (২০২৯), বুখারী, মুসলিম। আব্দুল্লাহ ইবনু মাস'উদ, আনাস, আবু হুরায়রা, হিশাম ইবনু আমির ও আবূ হিন্দ আদ-দারী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) মদীনায় পৌছানোর পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এবং সা’দ ইবনুর রাবী (রাঃ)-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করে দেন। সা'দ (রাঃ) তাকে বললেন, আসুন আমার সম্পদ উভয়ে অর্ধেক অর্ধেক ভাগ করে নিই। আমার দু’জন স্ত্রী আছে। আমি তাদের একজনকে তালাক দেই এবং সে তার ইদ্দাত পূর্ণ করলে আপনি তাকে বিয়ে করে ফেলুন। আবদুর রাহমান (রাঃ) বললেন, আপনাকে আপনার ধন-দৌলতে ও পরিবার-পরিজনে আল্লাহ তা'আলা বারকাত দান করুন। আপনারা আমাকে বাজারের পথটি দেখিয়ে দিন। তারা তাকে বাজারের পথটি দেখিয়ে দিলেন। সেদিন বাজার হতে তিনি লাভম্বরূপ কিছু পনির ও ঘি নিয়ে ফিরে আসেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তার শরীরে হলুদ রং-এর চিহ্ন দেখে বললেন, কি ব্যাপার? তিনি বললেন, আমি একজন আনসার মহিলাকে বিয়ে করেছি। তিনি আবার প্রশ্ন করলেনঃ মোহরানা হিসেবে কি দিয়েছ? তিনি বললেন, খেজুর বীচি (পরিমাণ স্বর্ণ)। হুমাইদ বলেনঃ অথবা তিনি বলেছেন, এক খেজুর বীচি পরিমাণ স্বর্ণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বিবাহ ভোজের ব্যবস্থা কর তা একটি ছাগল দিয়ে হলেও। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৯০৭), বুখারী, মুসলিম। তবে তাতে সা’দ ও আব্দুর রাহমানের ঘটনার উল্লেখ নেই। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, একটি খেজুর বীচির সমপরিমাণ স্বর্ণের ওজন হচ্ছে সোয়া তিন দিরহাম। ইমাম ইসহাক (রহঃ) বলেন, একটি খেজুর বীচির সমপরিমাণ স্বর্ণের ওজন হচ্ছে পাঁচ দিরহাম। আমি এই তথ্যটি পেয়েছি ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) হতে ইসহাক ইবনু মানসূরের মধ্যস্থতায়।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল গীবত কি? তিনি বললেনঃ তোমার ভাইয়ের প্রসঙ্গে তোমার এমন ধরনের কথা-বার্তা বলা যা সে অপছন্দ করে। প্রশ্নকারী বলল, আমি যে কথাগুলো বলি তা প্রকৃতপক্ষেই তার মধ্যে নিহিত থাকলে, এক্ষেত্রে আপনার কি মত? তিনি বললেনঃ তুমি যে কথাগুলো বল তা প্রকৃতই তার মধ্যে নিহিত থাকলে তবেই তো তুমি তার গীবত করলে। তুমি যা বল তার মধ্যে যদি সেগুলো না থাকে তাহলে তুমি তাকে মিথ্যা অপবাদ দিলে। সহীহ, গাইয়াতুল মারাম (৪২৬), নাকদুল কাত্তাণী (৩৬), সহীহাহ (২৬৬৭), মুসলিম। আবূ বারযা, ইবনু উমার ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা একজন অন্যজনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না, পরস্পরে শক্রতা পোষণ করো না, পরস্পরকে ঘৃনা করো না, পরস্পর হিংসা করো না, বরং আল্লাহ তা'আলার বান্দাহগণ পরস্পর ভাই হয়ে থেকো। কোন মুসলিম ব্যক্তির পক্ষেই বৈধ নয় তার ভাইকে তিনদিনের অধিক সময় ধরে ত্যাগ করে থাকা। সহীহ, ইরওয়া (৭/৯৩), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। আবূ বাকর সিদ্দীক, যুবাইর ইবনুল আওয়াম, ইবনু মাসউদ, ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস 1936 — Jami At Tirmidhi 27:42
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Bukhari And Muslim
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ حَسَدَ إِلاَّ فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالاً فَهُوَ يُنْفِقُ مِنْهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ الْقُرْآنَ فَهُوَ يَقُومُ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوُ هَذَا .
। সালিম (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শুধু দুই প্রকারের লোকই হিংসাযোগ্য। (এক) যে লোককে আল্লাহ তা'আলা ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং সে তা হতে দিন-রাত আল্লাহ তা'আলার পথে ব্যয় করে। (দুই) যাকে আল্লাহ তা'আলা কুরআনের জ্ঞান দিয়েছেন এবং সে দিন-রাত এর বাস্তবায়নে নিযুক্ত থাকে। সহীহ, রাওযুন নায়ীর (৮৯৭), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু মাসউদ ও আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।