। আইশা (রাঃ) হতে জুদামা বিনতু ওয়াহব (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (জুদামা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আমি দুগ্ধদায়িনী স্ত্রীর সাথে সহবাস করাকে নিষিদ্ধ করতে ইচ্ছা করলাম। কিন্তু আমি অবহিত হলাম যে, পারস্য ও রোমের (এশিয়া মাইনর) জনগণ এটা করে থাকে (দুগ্ধপোষ্য শিশু থাকাকালীন সময়ে স্ত্রী সহবাস করে)। অথচ তাদের সন্তানদের তারা হত্যা করে না (উল্লেখিত সময়ে সহবাসের কারণে শিশুর কোন ক্ষতি হয় না)। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২০১১), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আসাম বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি সহীহ। মালিক-আবূল আসওয়াদ হতে, তিনি উরওয়া হতে, তিনি আইশা হতে, তিনি জুদামা বিনতু ওয়াহব (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একইরকম বর্ণনা করেছেন। ইমাম মালিক (রাহঃ) বলেন, ‘গীলা অর্থ দুগ্ধপোষ্য শিশুর মায়ের সাথে সহবাস করা।
। জুদামা বিনতু ওয়াহব আল-আসাদীয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ আমি সন্তানের দুধ পানের সময়সীমার মধ্যে স্ত্রীসহবাস করাকে নিষিদ্ধ করতে চাইলাম। অবশেষে আমি জানলাম যে, পারস্য ও রোমের জনগণ (এ সময়) স্ত্রীসহবাস করে থাকে। এর ফলে তাদের সন্তানদের কোন ক্ষতি হয় না। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস। ঈসা ইবনু আহমাদ (রাহঃ) ইসহাক ইবনু ঈসা হতে, তিনি মালিক হতে, তিনি আবূল আসওয়াদ হতে একইরকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফুসফুসের প্রদাহে যাইতুন ও ওয়ারসের (ওষধি বিশেষ) প্রশংসা করতেন। কাতাদা (রাহঃ) বলেন, দেহের যে দিক আক্রান্ত, এ ঔষধ চামচ দিয়ে মুখের সেদিক দিয়ে ঢালতে হবে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩৪৬৭) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ আবদুল্লাহর নাম মাইমূন, তিনি বসরার মুহাদ্দিস।
। যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কুসতে বাহরী (চন্দন কাঠ) ও যাইতুনের তৈল দিয়ে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা করার নির্দেশ (পরামর্শ) দিয়েছেন। দুর্বল, দেখুন পূর্বের হাদীস আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। মাইমূন হতে যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) সূত্রেই শুধুমাত্র আমরা এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। মাইমূন হতে একাধিক রাবী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। "যাতুল জানব” অর্থ “আস-সিল্লু" (ফুসফুসের প্রদাহ, যদরুন রোগী দুর্বল হয়ে যায়।)
হাদিস 2080 — Jami At Tirmidhi 28:45
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، قال حَدَّثَنَا مَعْنٌ، قال حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُصَيْفَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ السُّلَمِيِّ، أَنَّ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، أَخْبَرَهُ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِي، أَنَّهُ قَالَ أَتَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبِي وَجَعٌ قَدْ كَانَ يُهْلِكُنِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " امْسَحْ بِيَمِينِكَ سَبْعَ مَرَّاتٍ وَقُلْ أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُوَّتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ " . قَالَ فَفَعَلْتُ فَأَذْهَبَ اللَّهُ مَا كَانَ بِي فَلَمْ أَزَلْ آمُرُ بِهِ أَهْلِي وَغَيْرَهُمْ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। উসমান ইবনু আবূল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন। আমি তখন ধ্বংসাত্মক ব্যথার কারণে অস্থির ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ব্যথার জায়গাতে তোমার-ডানহাত দিয়ে সাতবার মর্দন কর এবং বল, “আমি আল্লাহ তা'আলার ইজ্জাত ও সম্মান, তার কুদরাত ও শক্তি এবং তার রাজত্ব, সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্বের নিকট আমার এই কষ্ট হতে মুক্তি প্রার্থনা করছি"। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তা-ই করলাম। আমার সম্পূর্ণ ব্যথাই আল্লাহ তা'আলা সারিয়ে দিলেন। আমি এরপর হতেই আমার পরিবারের লোকদেরকে এবং অন্যান্যদেরকে এরূপ করার জন্য নির্দেশ দিয়ে আসছি। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৫২২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 2081 — Jami At Tirmidhi 28:46
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قال حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنِي عُتْبَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَأَلَهَا " بِمَ تَسْتَمْشِينَ " . قَالَتْ بِالشُّبْرُمِ . قَالَ " حَارٌّ جَارٌّ " . قَالَتْ ثُمَّ اسْتَمْشَيْتُ بِالسَّنَا . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَوْ أَنَّ شَيْئًا كَانَ فِيهِ شِفَاءٌ مِنَ الْمَوْتِ لَكَانَ فِي السَّنَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . يَعْنِي دَوَاءَ الْمَشْىِّ .
। আসমা বিনতু উমাইস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রশ্ন করেনঃ তোমরা কি দিয়ে জোলাপ দাও? তিনি বললেন, শুবরুম (ছোলার মত এক প্রকার দানা) দিয়ে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা তো খুব গরম ঔষধ। আসমা (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি সোনামুখী গাছের পাতা দিয়ে জোলাপ দেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মৃত্যু' নামক রোগের নিরাময় যদি কোন জিনিস দিয়ে সম্ভব হত তবে সোনামুখী গাছ দিয়েই তা সম্ভব হত। যঈফ, মিশকাত (৪৫৩৭) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
হাদিস 2082 — Jami At Tirmidhi 28:47
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ،قال حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قال حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ أَخِي اسْتُطْلِقَ بَطْنُهُ . فَقَالَ " اسْقِهِ عَسَلاً " . فَسَقَاهُ ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ سَقَيْتُهُ عَسَلاً فَلَمْ يَزِدْهُ إِلاَّ اسْتِطْلاَقًا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اسْقِهِ عَسَلاً " . فَسَقَاهُ ثُمَّ جَاءَهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ سَقَيْتُهُ عَسَلاً فَلَمْ يَزِدْهُ إِلاَّ اسْتِطْلاَقًا . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَدَقَ اللَّهُ وَكَذَبَ بَطْنُ أَخِيكَ, اسْقِهِ عَسَلاً " . فَسَقَاهُ عَسَلاً فَبَرَأَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একজন লোক এসে বলল, আমার ভাইয়ের পাতলা পায়খানা (উদরাময়) হচ্ছে। তিনি বললেনঃ তাকে মধু পান করাও। সে তাকে মধু পান করায়, তারপর এসে বলে, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমি তাকে মধু পান করিয়েছি। কিন্তু তাতে দাস্ত আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে মধু পান করাও। বর্ণনাকারী বলেন, সে তাকে মধু পান করানোর পর এসে বলে, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমি তাকে তা পান করিয়েছি। কিন্তু এর ফলে তার দাস্ত আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা সত্য বলেছেন (মধুতে নিরাময় আছে), কিন্তু তোমার ভাইয়ের পেটই মিথ্যা বলছে। আবার তাকে মধু পান করাও। অতএব, লোকটি তাকে মধু পান করায় এবং সে সুস্থ হয়ে উঠে। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক যদি কোন রোগীকে দেখতে যায় যার মৃত্যুক্ষণ আসেনি, সে তাকে সাতবার এই দুআ করলেঃ “আমি মহান আরশের রব (প্রভু) মহামহিম আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দুআ প্রার্থনা করছি, তিনি তোমাকে রোগ হতে সুস্থতা দান করুন", তাকে রোগমুক্ত করা হবে। সহীহ, মিশকাত (১৫৫৩), আল কালিমুত তাইয়্যিব (১৪৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র আবূল মিনহালের সূত্রে জেনেছি।
। সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জ্বর হল জাহান্নামের একটি টুকরা। তোমাদের কারো জ্বর হলে সে যেন তা পানি ঢেলে নিভায়। (এর নিয়ম হচ্ছে) ফজরের নামাযের পর সূর্যোদয়ের পূর্বে প্রবাহমান ঝর্ণায় নেমে স্রোত প্রবাহের দিকে মুখ করে সে বলবে, “আল্লাহ তা'আলার নামে, হে আল্লাহ! তোমার বান্দাকে রোগমুক্ত করে দাও এবং তোমার রাসূলকে সত্যবাদী প্রমাণ কর"। তারপর ঝর্ণার পানিতে তিনবার ডুব দিবে। তিন দিন এরূপ করবে। তিন দিনেও যদি জ্বর না ছাড়ে তবে পাঁচ দিন এরকম করবে। পাঁচ দিনেও ভাল না হলে সাত দিন এরকম করবে। সাত দিনেও ভাল না হলে নয় দিন করবে। আল্লাহ্ তা'আলার হুকুমে জ্বর নয় দিনের বেশী অতিক্রম করতে পারবে না। যঈফ, যঈফা (২৩৩৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গরীব।
। আবূ হাযিম (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হলো এবং আমিও তা শুনলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জখমের মধ্যে কোন দ্রব্য প্রয়োগ করা হয়েছিল? তিনি বললেন, এ বিষয়ে আমার চেয়ে অধিক ভাল আর কোন ব্যক্তি জানে না। আলী (রাঃ) তার ঢালে করে পানি নিয়ে আসছিলেন এবং ফাতিমা (রাঃ) তার জখমের রক্ত ধুয়ে দিচ্ছিলেন। একটি মাদুর পুড়িয়ে তার ছাই তাঁর ক্ষত স্থানের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।