। উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি শব্দ আলাদা আলাদাভাবে উচ্চারণ করে কিরআত পাঠ করতেন। তিনি পাঠ করতেন "আলহামদু লিল্লাহ রব্বিল আলামীন”, তারপর বিরতি দিতেন; তারপর পাঠ করতেনঃ “আর-রাহমানির রাহীম", তারপর বিরতি দিয়ে আবার পাঠ করতেনঃ “মালিকি ইয়াওমিদ্দীন”। সহীহঃ ইরওয়াহ (৩৪৩), মিশকাত (২২০৫), সিফাতুস সালাত, মুখতাসার শামা-য়িল (২৭০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আবূ উবাইদও “মালিকি ইয়াওমিদ্দীন” (মালিকি-এর মীমে আলিফবিহীন) পাঠ করতেন এবং তিনি এ কিরা'আতই গ্রহণ করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-উমাবী প্রমুখ ইবনু জুরাইজ হতে, তিনি ইবনু আবী মুলাইকাহ হতে, তিনি উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে এরূপই বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এই সনদসূত্র পরস্পর সংযুক্ত (মুত্তাসিল) নয়। কেননা লাইস ইবনু সা'দ (রাহঃ) এ হাদীসটি ইবনু আবী মুলাইকাহ হতে, তিনি ইয়ালা ইবনু মামলাক হতে, তিনি উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিরাআতের প্রতিটি অক্ষর আলাদা আলাদাভাবে উচ্চারণ করতেন। লাইসের রিওয়ায়াত অনেক বেশি সহীহ। তার রিওয়ায়াতে এ কথার উল্লেখ নেই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “মালিকি ইয়াওমিদ্দীন” (আলিফ বিহীন) পাঠ করেছেন।
হাদিস 2928 — Jami At Tirmidhi 46:2
দাঈফ Isnaadদাঈফ Isnaadদাঈফ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ قَالَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُوَيْدٍ الرَّمْلِيُّ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ - وَأُرَاهُ قَالَ - وَعُثْمَانَ كَانُوا يَقْرَءُونَ (مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ ) . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ هَذَا الشَّيْخِ أَيُّوبَ بْنِ سُوَيْدٍ الرَّمْلِيِّ . وَقَدْ رَوَى بَعْضُ أَصْحَابِ الزُّهْرِيِّ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الزُّهْرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ كَانُوا يَقْرَءُونَ (مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ ) . وَقَدْ رَوَى عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ كَانُوا يَقْرَءُونَ (مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ ).
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর, উমার এবং উসমান (রাঃ) তারা প্রত্যেকেই পাঠ করতেনঃ “মালিকি ইয়াওমিদীন" অর্থাৎ মীমের সাথে আলিফসহ মদের সাথে পাঠ করতেন। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র এই শাইখ আইউব ইবনু সুওয়াইদ আর-রামলীর রিওয়ায়াত হিসাবে যুহরী-আনাস (রাঃ) বর্ণিত উপরোক্ত হাদীস জেনেছি। যুহরীর কিছু শাগরিদ তার সূত্রে এ হাদীস এভাবে বর্ণনা করেছেন, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বাকর ও উমার (রাঃ) “মালিকি ইয়াওমিদীন” (মালিকি-এর মীম-এর সাথে আলিফ যোগে) পাঠ করতেন। সনদ দুর্বল আবদুর রাযযাক (রাহঃ) মামার হতে তিনি যুহরী হতে তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বাকর ও উমর (রাঃ) “মালিকি ইয়াওমিদীন” (মালিকি-এর মীম-এর সাথে আলিফ যোগে) পাঠ করতেন।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়েছেনঃ ইন্নান্নাফসা বিন-নাফসি ওয়াল আইনু বিলআইনি। সনদ দুর্বল সুয়াইদ ইবনু নাসর-ইবনুল মুবারাক- ইউনুস ইবনু ইয়াযীদ (রাহঃ) হতে এই সূত্রে উপরোক্ত সনদে বর্ণিত হাদীসের মতই হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু আলী ইবনু ইয়াযীদ হলেন ইউনুস ইবনু ইয়ামীদের সহোদর। এ হাদীসটি হাসান গারীব। মুহাম্মাদ বলেনঃ কেবল মাত্র ইবনুল মুবারাক ইউনুস ইবনু ইয়ামীদের সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ উবাইদ এ হাদীসের অনুসরণক্ৰমে ওয়াল-আইনু বিল-আইন পড়েছেন।
। উম্মু সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “ইন্নাহু আমিলা গাইরা সালিহীন" ("আমিলা’ শব্দের মীমে যের) পাঠ করেছেন। সহীহঃ সহীহাহ (২৮০৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সাবিত আল-বুনানীর সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এটি সাবিত আল-বুনানীর রিওয়ায়াত। এ হাদীসটি শাহর ইবনু হাওশাব হতে আসমা বিনতু ইয়াযীদ সূত্রেও বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আমি আবদ ইবনু হুমাইদকে বলতে শুনেছিঃ আসমা বিনতু ইয়াযীদ হলেন উম্মু সালামা আল-আনসারিয়্যা। আমার মতে উভয় হাদীস একই। শাহর ইবনু হাওশাব (রাহঃ) উক্ত উম্মু সালামা আল-আনসারিয়্যা হতে এ হাদীস ব্যতীত আরো হাদীস বর্ণনা করেছেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) সূত্রেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস 2932 — Jami At Tirmidhi 46:6
Isnaad Hasan
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ وَحَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا هَارُونُ النَّحْوِيُّ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ هَذِهِ الآيَةَ : (إِنَّهُ عَمِلَ غَيْرَ صَالِحٍ ).
। উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত আয়াত এভাবে পাঠ করেছেনঃ “ইন্নাহু আমিলা গাইরা সালিহীন"। সহীহঃ সহীহাহ (২৮০৯)।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশদীদ সহযোগে “কাব বাল্লাগতা মিল্লাদুনী উযরা” পাঠ করেছেন, বা এর মধ্যে তাশদীদ সহযোগে। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। উমাইয়্যা ইবনু খালিদ সিকাহ রাবী। আবূল জারিয়া আল-আবদী একজন অজ্ঞাত শাইখ। আমরা তার নাম জানি না।
। উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “ফী আইনিন হামিআতিন” পাঠ করেছেন। বক্তব্য সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধু উপরোক্ত সূত্রেই জেনেছি। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত কিরাআতই সহীহ। বর্ণিত আছে যে, ইবনু আব্বাস ও আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) এ আয়াত পাঠে মতভেদ করেছেন এবং বিষয়টি কাব আল-আহবার (রাযিঃ)-এর সামনে পেশ করেছেন। তার নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিওয়ায়াত থাকলে তিনি সেটিকেই যথেষ্ট মনে করতেন এবং কাব (রাযিঃ)-এর সামনে মীমাংসার জন্য পেশ করতেন না।
। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদরের যুদ্ধের সময় রোমবাসীরা পারস্যবাসীদের উপর বিজয়ী হয়। এ সংবাদে মুসলিমগণ আনন্দিত হন। কারণ এই প্রসঙ্গে (ইতিপূর্বে) “আলিফ লাম মীম গুলাবাতির রূম... ইয়াফরাহুল মু'মিনূন" (সূরা আর-রুম ১-৪) আয়াত অবতীর্ণ হয়। তিনি বলেন, পারস্যবাসীদের উপর রোমীয়দের বিজয়ের কারণে মুসলিমগণ খুবই আনন্দিত হন। সহীহঃ (৩১৯২)নং হাদীসে এর পুনরুল্লেখ আসবে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। “গালাবাত” ও “গুলিবাত” উভয়রপে পাঠ করা যায়। কথিত আছে যে, রোমীয়রা প্রথমে পরাজিত হয়েছিল এবং পরে বিজয়লাভ করে। নাসর ইবনু আলী “গালাবাত” পাঠ করতেন (কিন্তু প্রচলিত কিরাআত “গুলিবাত”)।
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে পাঠ করলেন “খালাকাকুম মিন যা'ফিন"। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “যু’ফিন" হবে। হাসানঃ রাওযুন নায়ীর (৫৩০)। আবদ ইবনু হুমাইদ ইয়াযিদ ইবনু হারুন হতে, তিনি ফুযাইল ইবনু মারযুক (রাহঃ) হতে তিনি আতিয়্যাহ হতে, তিনি ইবনু উমার হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সুত্রে উপরোক্ত হাদীসের মত বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধু ফুযাইল ইবনু মারযুক সূত্রে জেনেছি।