। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সঠিক ইলম ব্যতীত কুরআন প্রসঙ্গে কোন কথা বলে, সে যেন জাহান্নামকে নিজের জন্য বাসস্থান বানিয়ে নিল। যঈফ, মিশকাত (২৩৪) নাকদুত তাজ আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চিতভাবে যা তোমাদের জানা আছে তা ব্যতীত আমার নিকট হতে হাদীস বর্ণনা করা থেকে তোমরা নিবৃত্ত থাকবে। কারণ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে সে যেন জাহান্নামকে নিজের আবাস বানিয়ে নিল। আর যে ব্যক্তি নিজের খেয়াল মর্জিমত কুরআন প্রসঙ্গে কথা বলে সেও যেন জাহান্নামকে নিজের গৃহ বানিয়ে নিল। যঈফ, মিশকাত (২৩৫), নাকদুত তাজ, যঈফা (১৭৮৩), সিফাতুস সালাত আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান।
। জুনদাব ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের মত অনুযায়ী কুরআন প্রসঙ্গে কথা বলে, সে সঠিক বললেও অপরাধ করলো (এবং সঠিক ব্যাখ্যা করলো-সেও ভুল করলো)। যঈফঃ মিশকাত (২৩৫), নাকদুত তাজ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। কোন কোন হাদীস বিশারদ এ হাদীসের রাবী সুহাইল ইবনু আবূ হাযমের সমালোচনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্যদের সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তারা (উক্ত বিষয়ের) জ্ঞান ব্যতীত কুরআনের তাফসীর করার ব্যাপারে খুবই কঠোর মত ব্যক্ত করেছেন। মুজাহিদ, কাতাদাহ (রাহঃ) প্রমুখ বিশেষজ্ঞ আলিম প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, তারাও কুরআনের তাফসীর করেছেন। তাদের প্রসঙ্গে অবশ্য এ ধারণা করার সুযোগ নেই যে, তারা কুরআন প্রসঙ্গে মনগড়া কিছু বলেছেন বা জ্ঞান ছাড়া কুরআনের তাফসীর করেছেন অথবা নিজেদের থেকে কুরআন ব্যাখ্যায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তাদের প্রসঙ্গে আমরা যে মন্তব্য করেছি যে, তারা জ্ঞান ছাড়া কুরআন প্রসঙ্গে কিছু বলেননি, তাদের বক্তব্য হতেও তার সমর্থন পাওয়া যায়। হুসাইন ইবনু মাহদী আল-বাসরী, 'আবদুর রাযযাক্ হতে, তিনি মামার হতে, তিনি কাতাদাহ (রাহঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, কাতাদাহ্ (রহঃ) বলেন, কুরআনের এমন কোন আয়াত নেই যার (ব্যাখ্যা) প্রসঙ্গে আমি কিছু শুনিনি। সানাদ সহীহঃ মাকুতু"। ইবনু আবী উমার সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ হতে, তিনি আ'মাশ(রহঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, মুজাহিদ (রাহঃ) বলেছেন, আমি যদি ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-এর কিরআতের অনুসরণ করতাম, তাহলে কুরআনের এমন অনেক বিষয় যে প্রসঙ্গে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করেছি সেগুলো প্রসঙ্গে আমি তাকে প্রশ্ন করার প্রয়োজনবোধ করতাম না। সানাদ সহীহঃ মাকুতু"।
। আদি ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইয়াহুদীরা অভিশপ্ত এবং নাসারাগণ পথভ্রষ্ট .... তারপর পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। সহীহঃ তাখরাজু শারহিল আকীদাতিত তাহাবীয়া (৫৩১), সহীহাহ (৩২৬৩)।
। আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীর সর্বত্র হতে এক মুঠো মাটি নিয়ে আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করেছেন। তাই আদম-সন্তানরা মাটির বৈশিষ্ট্য প্রাপ্ত হয়েছে। যেমন তাদের কেউ লাল, কেউ সাদা, কেউ কালো বর্ণের আবার কেউ বা এসবের মাঝামাঝি, কেউ বা নরম ও কোমল প্রকৃতির। আবার কেউ কঠোর প্রকৃতির, কেউ মন্দ স্বভাবের, আবার কেউ বা ভালো চরিত্রের। সহীহঃ মিশকাত (১০০), সহীহাহ (১৬৩০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলার বাণী “তোমরা সিজদাবনত শিরে প্রবেশ করো"- (সূরা বাকারাহ ৫৮)-এর ব্যাখ্যায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তারা (বনী ইসরাঈল) তাদের নিতম্বে ভর করে দরজা দিয়ে প্রবেশ করেছিল। একই সনদে “কিন্তু যারা অন্যায় করেছিল, তারা তাদের যা বলা হয়েছিল তার পরিবর্তে অন্য কথা বলল”— (সূরা আল-বাকারাহঃ ৫৯) এ আয়াত প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তারা (হিত্তাতুন-এর পরিবর্তে) বলেছিল, “হাব্বাতুন ফী শারাতিন” যবের মধ্যকার শস্যদানা’। সহীহঃ বুখারী (৪৪৭৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমির ইবনু রাবী'আহ (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক অন্ধকার রাতে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সফরে ছিলাম। আমরা ধারণা করতে পারছিলাম না কিবলাহ কোন দিকে হবে। কাজেই আমাদের সকলেই নিজ নিজ ধারণা মোতাবিক কিবলার দিক নির্ধারণ করে নামায আদায় করে। আমরা বিষয়টি সকাল বেলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উত্থাপন করলাম। তখন নাযিল হয়ঃ “তোমরা যে দিকেই মুখ ফিরাও সেদিকই আল্লাহ তা'আলার চেহারা”— (সূরা বাকারাহঃ ১১৫)। হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (১০২০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা আশ'আস আস-সাম্মান আবুর রাবী বর্ণনাকারী কর্তৃক আসিম ইবনু উবাইদুল্লাহর হাদিস ব্যতীত আর কারো নিকট হতে এটিকে অবহিত নই। আর আশ'আসকে হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল বলে অভিহিত করা হয়েছে।
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা হতে মাদীনায় ফেরার পথে তার সাওয়ারী তাকে নিয়ে যে অভিমুখে অগ্রসর হত তিনি সেদিকে ফিরেই নফল নামায আদায় করতেন। তারপর ইবনু উমর (রাযিঃ) এই আয়াত পাঠ করেনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহ তা'আলারই। অতএব তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাও সেদিকই আল্লাহ তা'আলার চেহারা”— (সূরা আল-বাকারাহ ১১৫)। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, এ প্রসঙ্গেই উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়। সহীহঃ সিফাতুস সালাত, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি এ আয়াত প্রসঙ্গে বলেন যে, এর নির্দেশ রহিত (মানসূখ) হয়ে গেছে। রহিতকারী (নাসিখ) আয়াতটি হলঃ “অতএব তুমি মাসজিদুল হারামের দিকে তোমার মুখ ফিরাও”— (সূরা আল-বাকারাহ ১৪৪)। শাতরাল মসজিদিল হারাম" অর্থাৎ “কাবার দিকে”। তার এই মত নিম্নোক্ত সূত্রে বর্ণিত হয়েছেঃ মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল মালিক ইবনু আবূশ শাওয়ারিব-ইয়াযীদ ইবনু যুরাইহ হতে, তিনি সাঈদ হতে, তিনি কাতাদাহ (রাহঃ) হতে। মুজাহিদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি ফাছাম্মা ওয়াজহুল্লাহ" অর্থ করেছেন, “ফাসাম্মা কিবলাতুল্লাহ" (সেদিকেই আল্লাহ তা'আলার কিবলাহু রয়েছে)। তার এই মত নিম্নোক্ত সূত্রে বর্ণিতঃ আবূ কুরাইব মুহাম্মাদ ইবনুল আল-ওয়াকী হতে, তিনি নাযর ইবনু আরাবী হতে, তিনি মুজাহিদ (রাহঃ) হতে। সানাদ সহীহ, মাকতু।