। আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ তুমি যেখানেই থাক আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় কর, মন্দ কাজের পরপরই ভাল কাজ কর, তাতে মন্দ দূরীভূত হয়ে যাবে এবং মানুষের সাথে উত্তম আচরণ কর। হাসান, মিশকাত (৫০৮৩), রাওযুন নায়ীর (৮৫৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। মাহমূদ ইবনু গাইলান-আবূ আহমাদ হতে, তিনি আবু নুয়াইম হতে, তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি হাবীব (রাহঃ) হতে এই সূত্রে একইরকম বর্ণনা করেছেন। মাহমূদ-ওয়াকী হতে, তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি হাবীব ইবনু আবী সাবিত হতে, তিনি মাইমূন ইবনু আবী শাবীব হতে, তিনি মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একইরকম বর্ণনা করেছেন। মাহমূদ বলেন, আবূ যর (রাঃ)-এর হাদীসটি সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মন্দ ধারণা পোষণ করা হতে তোমরা দূরে থাক। কেননা, মন্দ ধারণা হলো সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা। সহীহ, গাইয়াতুল মারাম (৪১৭), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। সুফিয়ান বলেন ধারণা-অনুমান দুই প্রকারে বিভক্ত। এক প্রকার ধারণা পাপের অন্তর্ভুক্ত এবং অন্য প্রকার ধারণা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত নয়। অন্তরে কাল্পনিক ধারণা পোষণ করে মুখে তা প্রকাশ করা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। যদি মনে মনে ধারণা পোষণ করা হয় এবং তা মুখে প্রকাশ না করা হয় তাহলে তা গুনাহের অন্তভুক্ত নয়।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের (ছোটদের) সাথে মিশতেন। এমনকি আমার ছোট ভাইটিকে তিনি কৌতুক করে বলতেনঃ হে আবূ উমাইর! কি করেছে নুগাইর (ছোট্ট পোষা পাখি)। সহীহ, বুখারী ও মুসলিম। ৩৩৩ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে হান্নাদ-ওয়াকী হতে, তিনি শুবা হতে, তিনি আবূত তাইয়্যাহ হতে, তিনি আনাস (রাঃ) হতে একইরকম বর্ণনা করেছেন। আবূত তাইয়্যাহ-এর নাম ইয়াযীদ, পিতা হুমাইদ আয-যুবাই। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আপনি তো আমাদের সাথে কৌতুকও করে থাকেন। তিনি বললেনঃ আমি শুধু সত্য কথাই বলে থাকি (এমনকি কৌতুকেও)। সহীহ, সহীহাহ (১৭২৬), মুখতাসার শামা-ইল (২০২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 1991 — Jami At Tirmidhi 27:97
সহিহসহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْوَاسِطِيُّ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلاً، اسْتَحْمَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنِّي حَامِلُكَ عَلَى وَلَدِ النَّاقَةِ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَصْنَعُ بِوَلَدِ النَّاقَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَهَلْ تَلِدُ الإِبِلَ إِلاَّ النُّوقُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একজন লোক আরোহণযোগ্য একটি বাহন চাইল। তিনি বললেনঃ একটি উষ্ট্রীর বাচ্চায় আমি তোমাকে আরোহণ করাব। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমি উষ্ট্রীর বাচ্চা দিয়ে কি করব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উষ্ট্রী ব্যতীত আর কোন কিছু কি উট প্রসব করে? সহীহ, মিশকাত (৪৮৮৬), মুখতাসার শামা-ইল (২০৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে “হে দুই কান বিশিষ্ট” বলে সম্বোধন করেন। সহীহ্, মুখতাসার শামা-ইল (২০০) আবূ উসামা বলেন, তিনি কৌতুক হিসাবে তা বলতেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ গারীব।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বাতিল ও জঘন্য মিথ্যা বলা ছেড়ে দিল, তার জন্য জান্নাতের মধ্যে এক পাশে প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়। যে ব্যক্তি ন্যায়ানুগ হওয়া সত্ত্বেও ঝগড়া-বিবাদ ছেড়ে দিল, তার জন্য জান্নাতের মাঝখানে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়। যে ব্যক্তি নিজের চরিত্র উন্নত করে তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ জায়গাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়। এই শব্দে হাদীসটি যঈফ, ইবনু মাজাহ (৫১) আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসটি হাসান। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র সালামা ইবনু ওয়ারদান হতে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর সূত্রে জেনেছি।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঝগড়াটে হওয়াই তোমার পাপিষ্ঠ হওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। যঈফ, যঈফা (৪০৯৬) আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধু উপরোক্ত সূত্রেই আমরা এ হাদীস জেনেছি।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করো না, তাকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করো না এবং তার সাথে এরূপ ওয়াদা করো না যা তুমি পরে ভেঙ্গে ফেলবে। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৪৮৯২) আবূ ঈসা বলেনঃ উল্লেখিত সনদসূত্রে এ হাদীসটি গারীব। আমার মতে আব্দুল মালিক হলেন ইবনু বাশীর।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দেখা করার জন্য একজন লোক অনুমতি চাইলো। আমি সে সময়ে তার সামনে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেনঃ গোত্রের মধ্যে এই লোকটি অথবা গোত্রের এই ভাই কতই না মন্দ! তারপর তিনি তাকে ভিতরে প্রবেশের সম্মতি প্রদান করলেন এবং তার সাথে নম্র ভাষায় কথা বললেন। লোকটি চলে যাওয়ার পর আমি তাকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আপনি প্রথম অবস্থায় তার ব্যাপারে এই এই কথা বললেন, তারপর তার সাথে নম্র ভাষায় কথা বললেন। তিনি বললেন, হে আইশা! মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যার অশালীন আচরণ হতে মুক্তির জন্য জনগণ তাকে পরিত্যাগ করে। সহীহ, সহীহাহ (১০৪৯), মুখতাসার শামাইল (৩০১), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।