। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু'মিন কখনো দোষারোপকারী ও নিন্দাকারী হতে পারে না, অভিসম্পাতকারী হতে পারে না, অশ্লীল কাজ করে না এবং কটুভাষীও হয় না। সহীহ, সহীহাহ (৩২০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে অন্যসূত্রেও এ হাদীসটি বর্ণিত আছে।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে একজন লোক বাতাসকে অভিসম্পাত করে। তিনি বললেনঃ বাতাসকে অভিশাপ প্রদান করো না, কারণ, সে তো হুকুমের গোলাম। কোন ব্যক্তি অপাত্রে অভিশাপ প্রদান করলে তা অভিশাপকারীর উপর ফিরে আসে। সহীহ, সহীহাহ (৫২৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীসটি মুসনাদভাবে বিশর ইবনু উমার ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা নিজেদের বংশধারার ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন কর, যাতে করে তোমাদের বংশীয় আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে পার। কেননা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় থাকলে নিজেদের মধ্যে আন্তরিকতা ও ভালবাসা তৈরী হয় এবং ধন-সম্পদ ও আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি পায়। সহীহ, সহীহাহ (২৭৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উল্লেখিত সনদসূত্রে গারীব। “মনসাআতুন ফিল আসার"-এর অর্থ আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি পাওয়া।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য অপর অনুপস্থিত ব্যক্তির দু'আর চেয়ে বেশী দ্রুত আর কোন দু'আ কুবুল হয় না। যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (২/২৬৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উল্লেখিত সনদসূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। আবদুর রহমান ইবনু যিয়াদ আল-ইফরীকী হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদের ডাকনাম আবূ আবদুর রহমান আল-হুবুলী।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুইজন লোক একে অপরকে গালি দেয়ার অপরাধ প্রথমে গালি প্রদানকারীর উপর এসে পড়ে, যতক্ষন পর্যন্ত নির্যাতিত ব্যক্তি (দ্বিতীয় ব্যক্তি) সীমালংঘন না করে। সহীহ, মুসলিম। সা’দ, ইবনু মাসউদ ও আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান
হাদিস 1982 — Jami At Tirmidhi 27:88
সহিহসহিহহাসান
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ، قَالَ سَمِعْتُ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَسُبُّوا الأَمْوَاتَ فَتُؤْذُوا الأَحْيَاءَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدِ اخْتَلَفَ أَصْحَابُ سُفْيَانَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ فَرَوَى بَعْضُهُمْ مِثْلَ رِوَايَةِ الْحَفَرِيِّ وَرَوَى بَعْضُهُمْ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَجُلاً يُحَدِّثُ عِنْدَ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .
। যিয়াদ ইবনু ইলাকা (রহ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিদেরকে তোমরা গালি দিও না, (যদি দাও) তাহলে জীবিতদেরই কষ্ট দিলে। সহীহ, রাওয (৩৫৭), তা’লীকুর রাগীব (৪/১৩৫), সহীহাহ (২৩৭৯) আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি বর্ণনায় সুফিয়ানের শাগরিদগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের কেউ কেউ আল-হাফারীর রিওয়ায়াতের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং অনেকে বলেছেন, সুফিয়ান-যিয়াদ ইবনু ইলাকা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে মুগীরা ইবনু শুবার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে একইরকম হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসিকী ও নাফারমানীমূলক কাজ এবং তাকে মেরে ফেলা বা তার বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করা কুফরীমূলক কাজ। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৬৯), বুখারী ও মুসলিম। অধঃস্তন বর্ণনাকারী যুবাইদ বলেন, আবূ ওয়াইলকে আমি প্রশ্ন করলাম, আপনি এ হাদীসটি কি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) এর নিকট সরাসরি শুনেছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতের মধ্যে একটি বালাখানা (প্রাসাদ) আছে। এর ভিতর হতে বাইরের এবং বাহির হতে ভিতরের দৃশ্য দেখা যায়। এক বিদুঈন (গ্রাম্যলোক) দাড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। এই বালাখানা কোন ব্যক্তির জন্য? তিনি বললেনঃ যে লোক মানুষের সাথে উত্তমভাবে কথা বলে, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেয়, সর্বদা রোযা পালন করে এবং মানুষ যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকে তখন আল্লাহ্ তা'আলার উদ্দেশ্যে নামায আদায় করে তার জন্য। হাসান, মিশকাত (২৩৩৫), তা’লীকুর রাগীব (২/৪৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীস প্রসঙ্গে শুধুমাত্র আবদুর রাহমান ইবনু ইসহাকের সূত্রেই জেনেছি। এই আবদুর রাহমানের স্মরণশক্তি সম্পর্কে কোন কোন হাদীস বিশারদ সমালোচনা করেছেন। তিনি কৃফার বাসিন্দা। আর আবদুর রাহমান ইবনু ইসহাক আল-কুরাশী একজন মাদীনার অধিবাসী। তিনি পূর্বোক্তজনের চাইতে বেশি বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য। তারা উভয়ে ছিলেন সমসাময়িক।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেই লোক কতই না উত্তম যে নিজের প্রভুরও আনুগত্য করে এবং নিজের মনিবের হকও আদায় করে অর্থাৎ গোলাম। সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (৩/১৫৯), বুখারী ও মুসলিম। কা'ব (রাঃ) বলেন, আল্লাহ ও তার রাসূল সত্যিই বলেছেন। এ অনুচ্ছেদে আবূ মূসা ও ইবনু উমর (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আৰূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন ব্যক্তি কিয়ামতের দিন কস্তরীর টিলার উপর থাকবে। (এক) যে ক্রীতদাস আল্লাহ্ তা'আলার হাক্কও আদায় করে এবং মনিবের হাক্কও আদায় করে, (দুই) যে ইমামের উপর তার মুসল্লিগণ সন্তুষ্ট এবং (তিন) যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে পাঁচবার নামাযের জন্য আহবান জানায়। যঈফ, মিশকাত (৬৬৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। সুফিয়ান হতে আবূল ইয়াকজান-এর সূত্রেই শুধু আমরা এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। আবূল ইয়াকজানের নাম উসমান ইবনু কাইস, মতান্তরে ইবনু উমাইর এবং এটাই প্রসিদ্ধ।