। উমারা ইবনু যাকারা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমার পূর্ণ বান্দা সেই ব্যক্তি যে তার শক্রর সাথে যুদ্ধরত অবস্থায় আমাকে মনে করে। যঈফ, যঈফা (৩১৩৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। এর সনদসূত্র তেমন মজবুত নয়। এই হাদীসটি ব্যতীত উমার ইবনু যাকারার কোন হাদীস আমাদের জানা নেই।
। কাইস ইবনু সা'দ ইবনু উবাদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তার বাবা তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেবার জন্য তার কাছে অর্পণ করেন। তিনি বলেন, আমি নামাযরত থাকা অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছ দিয়ে গমন করলেন। তিনি নিজের পা দিয়ে আমাকে আঘাত (ইশারা) করে বললেনঃ আমি তোমাকে কি জান্নাতের দরজাগুলোর একটি দরজা সম্পর্কে জানাব না? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" (আল্লাহ ব্যতীত অনিষ্ট দূর করার এবং কল্যাণ লাভের কোন শক্তি কারো নেই)। সহীহঃ সহীহাহ (১৭৪৬)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদসূত্রে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। সাফওয়ান ইবনু সুলাইম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ফেরেশতাই “লা- হাওলা ওয়ালা কু-ওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" পাঠ না করে উর্ধ্বাকাশের দিকে গমন করেন না। এর সনদ সহীহ মাকতু"।
। ইউসাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি ছিলেন হিজরতকারিণী মহিলাদের একজন— তিনি বলেন, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই তোমরা তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহলীল (লাইলা-হা ইল্লাল্লাহ) ও তাকদীস (সুব্বুহুন কুদ্দূসুন রাববুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ অথবা সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস) আঙ্গুলের গিরায় হিসাব করে পড়বে। কেননা এগুলোকে কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা করা হবে এবং কথা বলতে আদেশ দেয়া হবে। সুতরাং তোমরা রহমত (অনুগ্রহের কারণ) সম্পর্কে উদাসীন থেকো না এবং তা ভুলে যেও না। হাসানঃ সহীহ আবূ দাউদ (১৩৪৫), মিশকাত (২৩১৬), যঈফার (৮৩) নং হাদীসের অধীনে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আমরা হানী ইবনু উসমানের রিওয়ায়াত থেকেই জানতে পেরেছি। মুহাম্মাদ ইবনু রাবী'আহ (রাহঃ)ও এ হাদীস হানী ইবনু উসমানের সনদে উল্লেখ করেছেন।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, জিহাদ করার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তুমিই আমার বাহুবল, তুমিই আমার সাহায্যকারী এবং তোমার সহযোগিতায় আমি যুদ্ধ করি”। সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (১২৫), সহীহ আবূ দাউদ (২৩৬৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। আমর ইবনু শু'আইব (রহঃ) কর্তৃক পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও তার দাদার সনদে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরাফাতের দিনের দু'আই উত্তম দুআ। আমি ও আমার আগের নবীগণ যা বলেছিলেন তার মধ্যে সর্বোত্তম কথাঃ “আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বূদ নেই। তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই, সার্বভৌমত্ব তারই এবং সমস্ত কিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান”। হাসানঃ মিশকাত (২৫৯৮), তা’লীকুর রাগীব (২/২৪২), সহীহাহ (১৫০৩)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। হাম্মাদ ইবনু আবী হুমাইদ হলেন মুহাম্মাদ ইবনু আবী হুমাইদ এবং তিনি আবূ ইবরাহীম আল-আনসারী আল-মাদীনী। তিনি মুহাদ্দীসগণের মতে খুব একটা মজবুত বর্ণনাকারী নন।
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে (দু’আ) শিখিয়ে বলেনঃ তুমি বল, “হে আল্লাহ! আমার বাহিরের অবস্থার চেয়ে আমার ভিতরের অবস্থাকে বেশি ভাল কর এবং আমার বাহিরের অবস্থাকেও অতি উত্তম কর। হে আল্লাহ! তুমি মানুষকে যে ধন-দৌলত, পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্তুতি দিয়ে থাক, তাতে আমাকে উত্তমগুলোই দাও, যারা বিপথগামী এবং বিপথগামীকারীও নয়।” যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৫০৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি এবং এর সনদসূত্র তেমন মজবুত নয়।
। আসিম ইবনু কুলাইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ আল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলাম, তখন তিনি নামায আদায় করছিলেন। তিনি তার বাম হাত বাম উরুর উপর এবং ডান হাত ডান উরুর উপর রাখেন এবং তর্জনী উঠিয়ে অবশিষ্ট আঙ্গুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ করে রেখে বলেনঃ “হে অন্তরসমূহের ওলট-পালটকারী! তুমি আমার অন্তরকে তোমার দীনের উপর অটল রাখ"। এই বর্ণনায় হাদীসটি মুনকার, দেখুন হাদীস নং (২৯১,.২৯২, ২১:২৮, ৩৩৫০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি উক্ত সনদূত্রে গারীব।
। মুহাম্মাদ ইবনু সালিম (রহঃ) বলেন, সাবিত আল-বুনানী (রাহঃ) আমাকে বললেন, হে মুহাম্মাদ! তোমার কোন অংশে ব্যথা হলে তুমি ব্যথার জায়গায় তোমার হাত রেখে বলঃ “আল্লাহ তা'আলার নামে, আমি আল্লাহ তা'আলার অসীম সম্মান ও তার বিরাট ক্ষমতার নিকট আমার এ ব্যথার অনুভূতি ও অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি”। তারপর তোমার হাত তুমি তুলে নাও, পরে পুনরায় ঐ নিয়মে বেজোড় সংখ্যায় উক্ত দুআ পাঠ কর। কেননা আমাকে আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেছেন যে, তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ দুআ বলে দিয়েছেন। সহীহঃ সহীহাহ (১২৫৮)। আবূ ঈসা বলেন, উক্ত সনদসূত্রে এ হাদীসটি হাসান গারীব। এই মুহাম্মাদ ইবনু সালিম হলেন বাসরার শাইখ।
উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এই দু'আটি শিখিয়েছেন এবং বলেছেনঃ তুমি পাঠ কর “হে আল্লাহ! এটা তোমার রাত আসার, তোমার দিন চলে যাওয়ার, তোমার দিকে আহবানকারীর (মুয়াজ্জিনের) আওয়াজ দেয়ার এবং তোমার নামাযে হাযির হওয়ার সময়। আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি যে, তুমি আমাকে মাফ করে দাও"। যঈফ, আল-কালিমুত-তায়্যির (৭৬/৩৫), যঈফ আবূ দাউদ (৮৫), মিশকাত (৬৬৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীস শুধু উপরোক্ত সনদে জেনেছি। হাফসা বিনতি আবূ কাসীর ও তার পিতা প্রসঙ্গে আমরা অবহিত নই।