। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানু সাহমের এক লোক তামীমুদ দারী (রা) ও ‘আদী ইবনু বাদ্দার সাথে (সফরে) বের হয়। বানু সাহমের লোকটি এমন এক এলাকায় মারা গেল, যেখানে কোন মুসলিম ছিল না। ঐ দুই ব্যক্তি তার পরিত্যক্ত সম্পদ নিয়ে তার পরিজনের নিকট ফিরে এলে তারা তার মধ্যে স্বর্ণখচিত রূপার পানপত্রটি খুজে পেল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে শপথ করালেন। তার ওয়ারিশরা পরে মক্কায় ঐ পানপত্রটি দেখতে পায়। তাদের বলা হয়, আমরা এটি তামীম ও আদীর নিকট হতে কিনেছি। সাহমীর ওয়ারিশদের মধ্য হতে দুইজন লোক দাবি নিয়ে উঠে এবং আল্লাহর শপথ করে বলে, আমাদের সাক্ষ্য উক্ত দুইজনের সাক্ষ্যের চাইতে অনেক বেশি সত্য ও গ্রহণযোগ্য। নিঃসন্দেহে এ পানপত্রটি তাদের সাথীরই। এদের সম্পর্কেই এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে (অনুবাদ) “হে মু’মিনগণ! তোমাদের কারও যখন মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন ওয়াসিয়াত করার সময় তোমাদের মধ্য হতে দু’জন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখবে..."— (সূরা আল-মায়িদাহ ১০৬)। সহীহঃ বুখারী (২৭৮০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এটি হল ইবনু আবী যায়িদার রিওয়ায়াত।
। আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আকাশ হতে (ঈসা (আঃ)-এর উম্মাতের জন্য) খাঞ্চাভর্তি রুটি ও গোশত পাঠানো হয়। তাদের প্রতি হুকুম ছিল তারা যেন খিয়ানাত না করে এবং আগামী কালের জন্য তা সঞ্চয় করে না রাখে। কিন্তু তারা এতে খিয়ানাত করল ও তা থেকে জমা করল এবং আগামী কালের জন্য তুলে রাখল। ফলে তাদেরকে বানর ও শূকরে পরিনত করা হল। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীসটি আবূ আসিম প্রমুখ সাঈদ ইবনু আবূ আরুবা হতে তিনি কাতাদা হতে তিনি খিলাস হতে তিনি আম্মার (রাঃ) সূত্রে মাওকুফরূপে বর্ণনা করেছেন। হাসান ইবনু কাযাআর রিওয়ায়াত ছাড়া অন্য কোন সূত্রে এটিকে আমরা মারফু বলে জানি না। হুমাইদ ইবনু মাসআদা-সুফিয়ান ইবনু হাবীব হতে তিনি সাঈদ ইবনু আবূ আরুবার সূত্রে একই রকম বর্ণিত হয়েছে এবং এই সূত্রে তা মারফুরূপে বর্ণনা করেছেন। এটি হাসান ইবনু কাযাআর রিওয়ায়াতের তুলনায় অনেক বেশি সহীহ। মারফুরূপে বর্ণিত রিওয়ায়াতটির কোন ভিত্তি আছে বলে আমাদের জানা নেই।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ঈসা (আঃ)-কে তার যুক্তি-প্রমাণ শিখিয়ে দেয়া হয়। আল্লাহ তা'আলাই তাকে তা শিখিয়ে দেন। যেমন নিম্নোক্ত আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (অনুবাদ) “আল্লাহ তা'আলা যখন বললেনঃ হে ঈসা ইবনু মারিয়াম! তুমি কি লোকদের বলেছিলে, তোমরা আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আমাকে এবং আমার মাকে ইলাহরূপে গ্রহণ কর”— (সূরা আল-মায়িদাহ ১১৬)? আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেনঃ তখন আল্লাহ তা'আলাই ঈসা (আঃ)-কে উত্তর শিক্ষা দিলেনঃ “তিনি বললেন, তুমি মহিমান্বিত। যা বলার অধিকার আমার নেই তা বলা আমার পক্ষে শোভনীয় নয়... তবে তুমি তো পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়"- (সূরা আল-মায়িদাহ ১১৬-১১৮)। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা হল সূরা আল-মায়িদাহ। সনদ হাসান, হাকিম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং এর একটি শাহিদ বর্ণনা করেছেন। ইমাম যাহাবী তাকে সমর্থন করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ ছাড়া ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও একটি বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, সবশেষে অবতীর্ণ সূরা হচ্ছে “ইয জা-য়া নাসরুল্লা-হ"- (সূরা নাসর)।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আবূ জাহল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, আমরা তো তোমাকে মিথ্যাবাদী বলি না, বরং তুমি যে জিনিস নিয়ে এসেছ তাকেই আমরা মিথ্যা মনে করি। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “কিন্তু তারা তো তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে না, বরং যালিমরা আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে..." (সূরাঃ আল-আনআম- ৩৩) সনদ দুর্বল ইসহাক ইবনু মানসূর-আবদুর রহমান ইবনু মাহদী হতে তিনি সুফিয়ান হতে তিনি আবূ ইসহাক-এর সূত্রে নাজিয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবূ জাহল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল.... এরপর এরকমই বর্ণনা করেন। তবে এই সনদে আলী (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই এবং এটাই বেশি সহীহ। পূর্বের হাদীসের ন্যায় এটিও দুর্বল
। 'আমর ইবনু দীনার (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল (অনুবাদ) “বল তিনি তোমাদের ঊর্ধ্বদেশ অথবা পাদদেশ হতে তোমাদের উপর শাস্তি প্রেরণ করতে সক্ষম", তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “(হে আল্লাহ) আমি আপনার (মর্যাদাবান) মুখমণ্ডলের (সত্বার) নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি"। পরে আবার অবতীর্ণ হল (অনুবাদ) “অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করতে এবং এক দলকে অপর দলের সংঘর্ষের স্বাদ আস্বাদন করাতে সক্ষম”— (সূরা আল-আন’আম ৬৫)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ দুটিই অপেক্ষাকৃত সহজতর। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (২০৫৮, ২০৫৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 3066 — Jami At Tirmidhi 47:118
দাঈফ Isnaadদাঈফ Isnaadদাঈফ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ الْغَسَّانِيِّ، عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذِهِ الآيَةِ: (قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِنْ فَوْقِكُمْ أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ ) فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَمَا إِنَّهَا كَائِنَةٌ وَلَمْ يَأْتِ تَأْوِيلُهَا بَعْدُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
। সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে, “বল, তিনি তোমাদের উপর তোমাদের উপর হতে অথবা তোমাদের পদতল হতে শাস্তি প্রেরণে সক্ষম” (সূরাঃ আল-আনআম– ৬৫), এ আয়াত অবতীর্ণ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ প্রসঙ্গে বলেনঃ এরূপ সংঘটিত হবেই কিন্তু তার ব্যাখ্যা এখনো বাস্তব লাভ করেনি। সনদ দুর্বল আবু ঈসা বলেনঃ এ হাসিসটি হাসান গারীব।
। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন অবতীর্ণ হলঃ “যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি..."— (সূরা আল-আনআম ৮২), তখন মুসলিমদের নিকট তা খুবই কঠিন মনে হল। তাই তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে নিজের উপর যুলুম করেনি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বিষয়টি আসলে তা নয়। এখানে যুলুম অর্থ হল শিরক। তোমরা কি শুনোনি যা লোকমান তার ছেলেকে বলেছিলেনঃ “হে পুত্র! আল্লাহ তা'আলার সাথে কাউকে শরীক করবে না। নিশ্চয়ই শিরক অতি বড় যুলুম”— (সূরা লোকমান ১৩)। সহীহঃ বুখারী (৪৬২৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। মাসরুক (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর নিকটে হেলান দিয়ে বসা ছিলাম। তিনি বললেন, হে আবূ আয়িশাহ! তিনটি বিষয় এমন যে, কোন ব্যক্তি এগুলোর কোনটি বললে সে আল্লাহ তা'আলার উপর ভীষণ (মিথ্যা) অপবাদ চাপালো। যে ব্যক্তি এ ধারণা পোষণ করে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রভুকে দেখেছেন, সে আল্লাহ তা'আলার উপর ভীষণ অপবাদ আরোপ করল। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “দৃষ্টিসমূহ তাকে প্রত্যক্ষ করতে পারে না, কিন্তু তিনি দৃষ্টিসমূহকে অনুধাবণ করেন। তিনি অতিশয় সূক্ষ্মদশী, সম্যক ওয়াকিফহাল"- (সূরা আল-আন’আম ১০৩); “কোন মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তা'আলা তার সাথে কথা বলবেন ওয়াহীর মাধ্যম ব্যতীত অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যতীত”– (সূরা আশ-শূরা ৫১)। আমি হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলাম। আমি উঠে সোজা হয়ে বসে বললাম, হে উন্মুল মু'মিনীন থামুন, আমাকে বলার সুযোগ দিন, তাড়াহুড়া করবেন না। আল্লাহ তা'আলা কি বলেননি? “নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিল"- (সূরা আন-নাজমঃ ১৩)। সে তো তাকে উজ্জ্বল দিগন্তে দেখেছে"- (সূরা আত-তাকবীর ২৩)। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমিই সর্বপ্রথম এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছি। তিনি বলেছেনঃ সে তো জিবরীল। আমি তাকে তার আসল আকৃতিতে এ দু'বারই দেখেছি। আমি তাকে আসমান হতে অবতরণ করতে দেখেছি। তার দেহাবয়ব এতো প্রকাণ্ড যে, তা আসমান ও যামীনের মাঝখানের সবটুকু স্থান ঢেকে ফেলেছিল। (দুই) যে ব্যক্তি এ ধারণা করে যে, আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর যা অবতীর্ণ করেছেন, তিনি তার কিছুটা গোপন করেছেন, সেও আল্লাহ তা'আলার উপর ভীষণ অপবাদ আরোপ করল। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “হে রাসূল! তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমার উপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তা (লোকদের নিকট) পৌছে দাও..." (সূরা আল-মায়িদাহঃ ৬৭)। (তিন) যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আগামী কাল কি ঘটবে তিনি (মুহাম্মাদ) তা জানেন, সেও আল্লাহ তা'আলার উপর ভীষণ মিথ্যারোপ করল। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “বল, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আসমান-যামীনে কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না”— (সূরা আন-নামল ৬৫)। সহীহঃ বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মাসরুক ইবনুল আজদার ডাকনাম আবূ আয়িশাহ। তিনি হলেন মাসরুক ইবনু আবদুর রহমান।
। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কয়েকজন লোক এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যা হত্যা করি তা খাবো আর আল্লাহ তা'আলা যা হত্যা করেন তা খাবো না? তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) ‘তোমরা তার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাসী হলে যার উপর আল্লাহ তা'আলার নাম নেয়া হয়েছে তা হতে খাও... তোমরা যদি তাদের কথামত চল তবে অবশ্যই তোমরা মুশরিক হয়ে যাবে" (সূরা আল-আনআম ১১৮-১২১)। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (২০৫৮, ২০৫৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে অন্যভাবেও বর্ণিত হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে আতা ইবনু সায়িব হতে, তিনি সা’ঈদ ইবনু জুবাইর হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।