। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “তোমাদের সকলকেই তার উপর দিয়ে পার হতে হবে”— (সূরা মারইয়াম ৭১) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লোকেরা কিয়ামত দিবসে তার (পুলসিরাত) উপর দিয়ে পার হবে। তারা এটা পার হবে নিজ নিজ কৃতকর্ম মোতাবেক (বিভিন্ন গতিবেগে)। সহীহঃ মাওকুফ তবে মারফু এর মতই তার হুকুম। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-আবদুর রহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি শুবাহ হতে, তিনি সুদ্দী (রহঃ) হতে উপরের হাদীসের মতো বর্ণনা করেছেন। 'আবদুর রহমান বলেন, আমি শুবাহকে বললাম, উল্লিখিত হাদীসটি ইসরাঈল আমাকে সুদ্দীর সুত্রে, তিনি মুররার সুত্রে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-এর সূত্রে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। শু'বাহ (রহঃ) বলেন, আমি এ হাদীস সুদ্দীর নিকট মারফুভাবেই শুনেছি। কিন্তু আমি ইচ্ছাকৃতভাবেই (মারফু হিসেবে বর্ণনা করা) ত্যাগ করেছি।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দাকে যখন আল্লাহ তা'আলা ভালবাসেন তখন জিবরীলকে ডেকে বলেনঃ আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালবাসি। অতএব তুমিও তাকে ভালবাস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আসমানবাসীদের মধ্যে জিবরীল তখন (এ কথা) ঘোষণা করেন। তারপর যমীনবাসীদের অন্তরে তার জন্য ভালবাসা অবতীর্ণ হয়। এটাই আল্লাহ তা'আলার বাণীর মধ্যে ফুটে উঠেছেঃ “যারা ঈমান আনয়ন করেছে এবং উত্তম কার্য সম্পাদন করেছে খুব শীঘ্রই দয়াময় রহমান (লোকদের অন্তরে তাদের প্রতি) ভালবাসার উদ্রেক করবেন"- (সূরা মারইয়াম ৯৬)। অপর দিকে যখন আল্লাহ তা'আলা কাউকে ঘৃণা করেন তখন জিবরীলকে ডেকে বলেনঃ আমি অমুককে ঘৃণা করি। জিবরীল তখন আসমানবাসীদের মধ্যে এটা ঘোষণা করেন। তারপর যমীনের অধিবাসীদের মনে তার জন্য ঘৃণা অবতীর্ণ হতে থাকে। সহীহঃ যঈফাহ (২২০৭) নং হাদীসের অধীনে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি আবদুর রহমান ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু দীনার (রাহঃ) তার বাবা হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন।
। মাসরুক (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, খাব্বাব ইবনুল আরাত্তি (রাযিঃ)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ আমার একটি স্বত্ব আস ইবনু ওয়ায়িল আস-সাহমীর যিম্মায় ছিল। এ ব্যাপারে তাগাদা দেয়ার উদ্দেশে আমি তার নিকট আসলাম। সে বলল, যে পর্যন্ত তুমি মুহাম্মাদের নবুওয়াত অস্বীকার না করবে, সে পর্যন্ত আমি তোমার স্বত্ব ফিরিয়ে দিব না। আমি বললাম, তুমি মৃত্যুর পর কিয়ামত দিবসে আবার জীবিত হয়ে না উঠা পর্যন্ত তা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সে বলল, আমি মৃত্যুবরণ করব এবং আবার জীবিত হব? আমি বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, তাহলে আমার ধন-সম্পদ ও, সন্তান-সন্ততিও সেখানে থাকবে আর সেখানে তোমার পাওনাটা ফিরিয়ে দিব। এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়ঃ “তুমি কি সেই লোককে দেখেছ, যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে এবং সে বলেছে, আমাকে তো ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে ধন্য করা হবে”— (সূরা মারইয়াম ৭৭)। সহীহঃ বুখারী (৪৭৩২), মুসলিম। হান্নাদ-আবূ মু'আবিয়াহ হতে, তিনি আ'মাশ (রহঃ) হতে উপরের হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন খাইবার যুদ্ধ হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসছিলেন এবং রাতে চলতে চলতে তার খুব ঘুম পেল, তখন তিনি তার উট বসিয়ে তা হতে নেমে পড়লেন, তারপর বললেনঃ হে বিলাল! আজ রাতে তুমি আমাদের পাহারা দাও। বর্ণনাকারী বলেন, বিলাল (রাযিঃ) নামায আদায় করলেন, তারপর সূর্যোদয়ের দিকে মুখ ফিরিয়ে হাওদার সাথে হেলান দিয়ে বসে রইলেন। তার চোখ ঘুমের তীব্রতায় বন্ধ হয়ে গেল। কেউই সকাল বেলা ঘুম হতে উঠতে পারলেন না। সর্বপ্রথম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হলেন। তিনি ডাকলেনঃ হে বিলাল! বিলাল (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার বাবা আপনার জন্য কুরবান হোক। আপনার জীবন যিনি নিয়েছিলেন, আমার জীবনও তিনিই নিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উটের পিঠে হাওদা বাধো এবং দ্রুত সফর কর। তারপর তিনি আরেক স্থানে পৌছে উট বসালেন এবং উযূ করলেন। নামাযের উদ্দেশে ইকামাত বলা হল। তিনি যেভাবে ওয়াক্তিয়া নামাযগুলো পড়েন, ঠিক সেভাবে ধীরে সুস্থে এই (কাযা) নামায পড়লেন। তারপর তিনি আয়াত পাঠ করলেনঃ “আমার স্মরণে নামায কায়িম কর” (সূরা ত্ব-হা- ১৪)। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (৪৬১, ৪৬৩), ইরওয়া (২৬৩), মুসলিম অনুরূপ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদ সুরক্ষিত নয়। একাধিক হাফিয যুহরীর সূত্রে এবং তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাবের সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম উল্লেখ করে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তারা নিজ নিজ সনদে আবূ হুরাইরাহর উল্লেখ করেননি। তাছাড়া হাদীস শাস্ত্রে সালিহ ইবনু আবী আখযার দুর্বল। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান প্রমুখ তাকে স্মরণ শক্তির দিক হতে দুর্বল বলেছেন।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ওয়াইল হচ্ছে জাহান্নামের একটি ময়দানের নাম। এটা এতই গভীর যে, এর তলদেশে পৌছা পর্যন্ত কাফির ব্যক্তি চল্লিশ বছর ধরে নীচের দিকে পড়তে থাকবে। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (৪/২২৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু ইবনু লাহীআর সূত্রেই এটি মারফু হিসেবে জেনেছি।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে বসে এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কয়েকটি গোলাম আছে। আমার নিকট এরা মিথ্যা কথা বলে, আমার সম্পদে ক্ষতিসাধন (খিয়ানাত) করে এবং আমার অবাধ্যতা করে। এ কারণে তাদেরকে আমি বকাবকি ও মারধর করি। তাদের সাথে এমন ব্যবহারে আমার অবস্থা কি হবে? তিনি বললেনঃ তারা যে তোমার সাথে খিয়ানাত করে, তোমার অবাধ্যতা করে এবং তোমার নিকট মিথ্যা বলে, আর এ কারণে তাদের সাথে তুমি যেমন আচরণ কর- এ সবেরই হিসাব-নিকাশ হবে। যদি তোমার দেয়া শাস্তি তাদের অপরাধের সমান হয় তবে ঠিক আছে। তোমারও কোন অসুবিধা হবে না তাদেরও কোন অসুবিধা হবে না। যদি তোমার দেয়া শাস্তি তাদের অপরাধের তুলনায় কম হয় তাহলে তোমার জন্য অতিরিক্ত (সাওয়াব) রয়ে গেল। তোমার প্রদত্ত শাস্তি যদি তাদের অপরাধের তুলনায় বেশি হয়, তাহলে অতিরিক্ত অংশের জন্য তোমাকে শাস্তি পেতে হবে। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে লোকটি চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে আলাদা হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তা'আলার কিতাবে তুমি কি এ কথা পড় না (অনুবাদ) “আমরা কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের দাড়িপাল্লা স্থাপন করব। সুতরাং কোন লোকের উপর কোন যুলম করা হবে না। কারো বিন্দু পরিমাণও কিছু কৃতকর্ম থাকলে আমরা তাও হাযির করব। আর হিসাব সম্পন্ন করার জন্য আমরাই যথেষ্ট”— (সূরা আম্বিয়া ৪৭)। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর কসম! তাদের মাঝে এবং আমার মাঝে বিচ্ছিন্নতা ছাড়া আমার ও তাদের কল্যাণের আর কোন পথ দেখছি না। আপনাকে আমি সাক্ষী রেখে বলছি, তাদের সবাই এখন হতে মুক্ত। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আবদুর রহমান ইবনু গাযওয়ানের সূত্রেই শুধুমাত্র আমরা এ হাদীস জেনেছি। ইমাম আহমাদও এ হাদীস আবদুর রহমান ইবনু গাযওয়ানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহঃ বলেছেনঃ ইবরাহীম (আঃ) তিনটি ক্ষেত্র ছাড়া কোন ব্যাপারে কখনো মিথ্যা বলেননি। যেমন তার কথা “আমি অসুস্থ”- (সূরাঃ আস-সাফফাত ৮৯), অথচ তিনি অসুস্থ ছিলেন না, নিজের বিবি সারা'-কে তার বোন বলা এবং তার কথা “বরং এগুলোর ভিতর সর্বাধিক বড়টি এ কাজ করেছে"- (সূরা আম্বিয়া ৬৩)। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (১৯১৬), বুখারী, মুসলিম। হাদীসটি একাধিক সূত্রে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে। ইবনু ইসহাক হতে আবূয যান্নাদ সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি গারীব। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াজ-নাসীহাত করতে দাড়িয়ে বললেনঃ হে লোকেরা! কিয়ামতের দিন তোমরা নগ্ন ও খাতনাহীন অবস্থায় আল্লাহ তা'আলার নিকট সমবেত হবে। (বর্ণনাকারী বলেন,) তারপর তিনি পড়লেনঃ "যেভাবে প্রথম আমরা সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবেই তার পুনরাবৃত্তি করব। এটা একটা ওয়াদাহ্, যা পূরণ করার দায়িত্ব আমার। আর এ কাজ আমি অবশ্যই করবো”— (সূরা আম্বিয়া ১০৪)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাকে কাপড় পরানো হবে, তিনি হচ্ছেন ইবরাহীম (আঃ)। আমার উম্মাতের কিছু সংখ্যক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে এবং তাদেরকে ধরে বাঁ দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি তখন বলবঃ হে আমার সৃষ্টিকর্তা! এরা আমার অনুসারী। তখন বলা হবে, আপনি জানেন না, এরা আপনার বিদায়ের পর কি ধরনের বিদ'আতের উদ্ভব ঘটিয়েছিল। আমি সে সময় একজন সৎকর্মশীল বান্দার ঈসা (আঃ)] মত বলবঃ (কুরআনের ভাষায়) “আমি যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের মধ্যে ছিলাম ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের পরিচালক ছিলাম। কিন্তু আপনি যখন আমাকে তুলে নিলেন, তখন আপনিই ছিলেন তাদের তত্ত্বাবধায়ক। আর আপনি তো সকল বিষয়ের সাক্ষী। আপনি যদি তাদেরকে আযাব দেন তবে তারা তো আপনারই বান্দা, আর যদি ক্ষমা করে দেন তাহলে আপনি তো পরাক্রান্তশালী ও প্রজ্ঞাময়"- (সূরা আল-মায়িদাহ ১১৭-১১৮)। তখন বলা হবে, আপনি যখন তাদেরকে রেখে এসেছেন তখন হতে এরা অনবরত মন্দ পথেই চলেছে। সহীহঃ বুখারী, মুসলিম। এটি (২৪২৩) নং হাদীসের পুনরুক্তি। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শুবাহ হতে, তিনি মুগীরাহ ইবনু নু'মান হতে এই সনদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। সুফইয়ান সাওরীও এ হাদীসটি মুগীরাহ ইবনু নু'মানের সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ সুফইয়ান সাওরী এই হাদীসের মর্মার্থ দ্বারা মুরতাদদেরকে বুঝিয়েছেন যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পর মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, “হে লোকেরা! তোমাদের প্রভুর গযব হতে নিজকে রক্ষা কর। কিয়ামতের কম্পন বড়ই ভয়াবহ ব্যপার। যেদিন তোমরা তা দেখতে পাবে সেদিনের অবস্থা এমন হবে যে, প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী নিজের দুধের শিশুকে দুধ পান করাতে ভুলে যাবে। প্রত্যেক গর্ভবতী গর্ভপাত করবে এবং লোকদেরকে তোমরা মাতালের মতো দেখতে পাবে, অথচ তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বরং আল্লাহ্ তা'আলার শাস্তিই এতদূর কঠোর হবে" (সূরাঃ আল-হাজ্জ১-২)। রাবী বলেন, এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হয়, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে ছিলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান এটা কোন দিন? সাহাবীগণ বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলই সবচাইতে ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এটা সেই দিন, যখন আল্লাহ তা'আলা আদম (আঃ)-কে বলবেনঃ জাহান্নামের বাহিনী প্রস্তুত কর। আদম (আঃ) বলবেনঃ হে প্ৰভু! জাহান্নামের বাহিনীর সংখ্যা কত? তিনি বলবেনঃ (হাজারকে) নয় শত নিরানব্বই জন জাহান্নামের এবং একজন জান্নাতের বাহিনী। একথা শুনে মুসলিমরা কান্নায় ভেংগে পড়েন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সমতল পথে চলো, আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য খোজ কর, সোজা পথ ধর। প্রত্যেক নাবূয়াতের পূর্বেই রয়েছে জাহিলিয়াত। তিনি আরো বললেনঃ জাহিলিয়াত হতেই বেশি সংখ্যক নেয়া হবে। যদি এতে সংখ্যা পূর্ণ হয় তো ভালো, অন্যথায় মুনাফিকদের দিয়ে সংখ্যা পূর্ণ করা হবে। অপরাপর উম্মাতের ও তোমাদের উদাহরণ হচ্ছে, যেমন পশুর বাহুর দাগ অথবা উটের পার্শ্বদেশের তিলক (অর্থাৎ তোমাদের সংখ্যা বেশি হবে)। তিনি আবার বললেনঃ আমি আশা করি তোমরাই হবে জান্নাতের এক-চতুর্থাংশ অধিবাসী। একথা শুনে তারা তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করেন। তারপর তিনি বললেনঃ আমি আশা করি তোমরাই হবে জান্নাতের এক-তৃতীয়াংশ অধিবাসী। একথা শুনে তারা তাকবীর ধ্বনি দেন। তিনি আবার বললেনঃ আমি আশা করি তোমরাই হবে জান্নাতের অর্ধেক অধিবাসী। তারা এবারও তাকবীর ধ্বনি দেন। রাবী বলেন, তিনি দুই-তৃতীয়াংশের কথা বলেছেন কি-না তা আমার মনে নেই সনদ দুর্বল, তা’লীকুর রাগীব
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। চলার পথে তিনি ও তার সাহাবীগণ আগে-পিছে হয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সূরা হজ্জের প্রথম) এ দু'টি আয়াতের মাধ্যমে নিজের আওয়াজ বড় করলেনঃ “হে মানুষ! তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়াবহ ব্যাপার... বস্তুত আল্লাহ তা'আলার শাস্তি বড় কঠিন"- (সূরা হাজ্জ ১-২)। তার সাহাবীগণ এই ডাক শুনতে পেয়ে নিজেদের জন্তুযানের গতি দ্রুত করলেন এবং জেনে নিলেন যে, তিনি কিছু বলবেন। (সাহাবীগণ তার নিকট পৌছলে) তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান সেই দিন কোনটি? তারা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলই বেশী ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এটা সেই দিন, যেদিন আল্লাহ তা'আলা আদম (আঃ)-কে ডেকে বলবেনঃ হে আদম! দোযখের ফৌজ তৈরি কর। তিনি বলবেন, হে আমার প্রতিপালক! দোযখের ফৌজ কারা এবং তাদের সংখ্যা কত? তিনি বলবেনঃ প্রতি হাজারে নয় শত নিরানব্বই জন দোযখে যাবে এবং একজন জান্নাতে যাবে। সাহাবীগণ একথা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। তখন কারো মুখে হাসি ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের এই অবস্থা দেখে বললেনঃ কাজ করতে থাক এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! তোমরা দুটি জীবের সাক্ষাৎ পাবে। তাদের সাথে যাদের সাক্ষাৎ হবে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি হবে। এ দুটি জীব হল ইয়া'যুজ ও মাযুজ এবং আদম সন্তান ও ইবলীসের সন্তানদের মধ্যে যারা মরে গেছে তারা। বর্ণনাকারী বলেন, এতে লোকদের চিন্তা ও বিষন্নতা কিছুটা দূর হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কাজ কর এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! (অন্যান্য জাতির তুলনায়) তোমাদের দৃষ্টান্ত হল, উটের পার্শ্বদেশের তিলক অথবা চতুষ্পদ জন্তুর বাহুর দাগের মত। সহীহঃ বুখারী (৪৭৪১), মুসলিম (১/১৩৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।