। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ এক ইয়াহুদী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হে ইয়াহুদী! কিছু শুনাও। সে বলল, হে আবূল কাসিম যখন আল্লাহ তা'আলা আকাশসমূহ এক আঙ্গুলে, যমিনসমূহ এক আঙ্গুলে, পানি এক আঙ্গুলে, পাহাড়গুলো এক আঙ্গুলে এবং আর সকল সৃষ্টি এক আঙ্গুলে ধারণ করবেন এ প্রসঙ্গে আপনি কি বলেন? রাবী আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবনুস সালত তার হাত মুষ্টিবদ্ধ করে কনিষ্ঠা হতে বৃদ্ধ আঙ্গুলী পর্যন্ত ইঙ্গিত করে দেখালেন। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “এই লোকেরা আল্লাহর প্রতি যতটুকু মর্যাদা দেয়া উচিত, তারা তাকে তা দেয়নি।” (সূরাঃ আয-যুমার-৬৭) যঈফ, প্রাগুক্ত আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। এটা শুধু উল্লেখিত সনদসূত্রেই আমরা জেনেছি। আবূ কুদাইনার নাম ইয়াহইয়া ইবনুল মুহাল্লাব। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল এ হাদীস হাসান ইবনু শুজার সূত্রে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুস সালতের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
। মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) (আমাকে) প্রশ্ন করেন, তুমি কি জান জাহান্নাম কত প্রশস্ত? আমি বললাম, না। তিনি বলেন, হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ! তুমি জান না। আয়িশাহ (রাযিঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিম্নের আয়াত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেছিলেন (অনুবাদ) “কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী তার কব্জার ভিতর থাকবে এবং আকাশমণ্ডলী তার ডান হাতে গুটানো থাকবে”— (সূরা যুমার ৬৭)। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! সেদিন লোকেরা কোথায় থাকবে? তিনি বললেনঃ জাহান্নামের উপরকার পুলসিরাতের উপর। সনদ সহীহ এ হাদীসে একটি ঘটনা আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, উল্লেখিত সনদসূত্রে গারীব।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! “কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী তার হাতের মুষ্টিতে এবং আকাশমণ্ডলী থাকবে তার ডান হাতে ভাজ করা অবস্থায়"- (সূরা যুমার ৬৭), সেদিন মু’মিনগণ কোথায় থাকবে? তিনি বললেনঃ হে আয়িশাহ! পুলসিরাতের উপর। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শিঙ্গা ফুৎকারকারী মুখে শিঙ্গা নিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে কান খাড়া করে অপেক্ষায় আছেন, শিঙ্গায় ফুঁ দেয়ার আদেশ পাওয়া মাত্র তিনি ফুঁ দিবেন। এ অবস্থায় আমি কিভাবে নিশ্চিন্তে আরামে বসে থাকতে পারি? মুসলিমরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কিভাবে দুআ করব? তিনি বললেনঃ তোমরা বলঃ “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকীল, তাওয়াককালনা আলাল্লাহি রাব্বিনা” আল্লাহ-ই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই আমাদের অতি উত্তম অভিভাবক, আমরা আমাদের রব আল্লাহ তা'আলার উপর নির্ভর করি। সুফইয়ান তার বর্ণনায় কখনো "তাওয়াককালনা 'আলাল্লাহ"-এর পরিবর্তে “আলাল্লাহি তাওয়াককালনা” বর্ণনা করেছেন। সহীহঃ সহীহাহ (১০৭৮, ১০৭৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। আ'মাশ হাদীসটি আতিয়্যার সূত্রে আবূ সাঈদ হতে বর্ণনা করেছেন।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক বেদুঈন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সূর কি? তিনি বললেনঃ একটি শিং, তাতে ফুঁ দেয়া হবে। সহীহঃ সহীহাহ (১০৮০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমরা শুধু সুলাইমান আত-তাইনী কর্তৃক হাদীসটি সম্পর্কে জেনেছি।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, এক ইয়াহুদী মদীনার বাজারে উচ্চস্বরে বললঃ না! সেই সৃষ্টিকর্তার শপথ, যিনি মূসাকে মানবজাতির উপর মর্যাদা দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এক আনসার লোক এ কথা শুনার সাথে সাথে হাত তুলে ইয়াহুদীর মুখে থাপ্পর মেরে দেয়। সে বলল, তুমি এই কথা বলছ, অথচ আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে বর্তমান আছেন? (উভয়ে মহানবীর নিকট উপস্থিত হলে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “আর শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে। তখন আসমান-জামীনের সকলে মূৰ্ছিত হয়ে পড়বে, আল্লাহ তা’আলা যাকে জ্যান্ত রাখতে চান সে ছাড়া। তারপর আবার শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে। সহসা তারা দণ্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে”— (সূরা যুমার ৬৮)। আমিই সবার আগে মাথা তুলে দেখতে পাব যে, মূসা (আঃ) আরশের পায়াসমূহের একটি ধরে আছেন। আমি জানি না, তিনি কি আমার আগে মাথা তুলেছেন, না তিনি ঐ সব লোকের দলে যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা (জ্ঞানশূন্য হওয়া হতে) মুক্ত রেখেছেন। যে লোক বলে যে, আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা (আঃ)-এর চেয়ে শ্ৰেষ্ঠ সে মিথ্যা বলে। হাসান সহীহঃ তাখরীজুত তাহাবিয়াহ (১৬২), বুখারী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ সাঈদ ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ একজন ঘোষক (জান্নাতের মধ্যে) ঘোষণা দিবে, এখন হতে তোমরা জীবিত থাকবে, আর কখনো মরবে না। তোমরা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। তোমরা যুবক থাকবে, কখনো বৃদ্ধ হবে না। তোমরা অফুরন্ত ভোগবিলাসের ভিতর থাকবে, অভাব-অনটন কখনো তোমাদের স্পর্শ করবে না। এটাই আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীর তাৎপর্যঃ “তোমরা পার্থিব জীবনে যেসব কাজ করেছ তার বিনিময়ে এ জান্নাতের উত্তরাধিকারী হলে”— (সূরা যুখরুফ ৭২)। সহীহঃ মুসলিম (৮/১৪৮)। আবূ ঈসা বলেন, ইবনুল মুবারাক প্রমুখ সুফইয়ান সাওরীর সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মারফুরূপে নয়।
নুমান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ দু'আটাই হল ইবাদাত। তারপর তিনি পাঠ করেন (অনুবাদ) "তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। যারা অহংকারবশতঃ আমার ইবাদাত হতে বিমুখ হয়, নিশ্চিত তারা অচিরেই লাঞ্চিত হয় জাহান্নামে যাবে”— (সূরা মু'মিন ৬০)। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৮২৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, তিন লোক কা'বা ঘরের নিকট বিবাদ করে। তাদের দু'জন ছিল কুরাইশ বংশীয় এবং একজন সাকীফ বংশীয় অথবা দু’জন সাকীফ বংশীয় এবং একজন কুরাইশ বংশীয়। তাদের অন্তরে বুদ্ধি ছিল খুব অল্পই কিন্তু তাদের পেট ছিল মেদবহুল। তাদের একজন বলল, তোমাদের কি মনে হয়, আমরা যা বলি তা আল্লাহ তা'আলা শুনেন? দ্বিতীয় লোক বলল, আমরা জোরে বললে শুনেন, আস্তে বললে শোনে না, তৃতীয়জন বলল, আমরা জোরে কিছু বললে যদি তিনি তা শুনেন তাহলে আস্তে বা গোপনে বললেও তা শুনেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) “তোমাদের কান, চোখ ও ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে না এই বিশ্বাসে তোমরা কিছুই গোপন করতে না। উপরন্তু তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা করতে তার অনেক কিছুই আল্লাহ তা'আলা জানেন না”— (সূরা হা-মীম আস্-সিজদাঃ ২২)। সহীহঃ বুখারী (৪৮১৬, ৪৮১৭, ৭৫২১), মুসলিম (৮/১২০-১২১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেছেনঃ আমি কা'বার পর্দার আড়ালে লুকিয়েছিলাম। তখন তিনজন লোক সেখানে আসে। তাদের পেট ছিল মেদবহুল এবং অন্তর ছিল কম বুদ্ধিসম্পন্ন। তাদের একজন ছিল কুরাইশ বংশীয় এবং অপর দু'জন ছিল তার জামাতা, সাকীফ বংশীয় কিংবা একজন ছিল সাকীফ বংশীয় এবং অপর দু'জন ছিল তার জামাতা, কুরাইশ বংশীয় তারা এমন কথাবার্তা বলতে লাগলো যা আমি বুঝিনি। তারপর তাদের একজন বলল, তোমরা কি মনে কর, আমাদের এসব আলাপ আল্লাহ তা'আলা শুনেন? দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, আমরা প্রকাশ্যে (জোরে) কিছু বললে তিনি তা শুনেন এবং উচ্চস্বরে না বললে শুনেন না। তৃতীয়জন বলল, তিনি যদি কোন কথা শুনেন তা হলে সব কথাই শুনেন। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ (অনুবাদ) “তোমাদের কান, চোখ ও ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে না এই বিশ্বাসে তোমরা কিছুই গোপন করতে না। উপরন্তু তোমরা মনে কর যে, তোমরা যা করতে তার অনেক কিছুই আল্লাহ তা'আলা জানেন না। তোমাদের রবের ব্যাপারে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদের ধ্বংস এনেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছ"- (সূরা হা-মীম আস-সিজদা ২২-২৩)। সহীহঃ মুসলিম (৮/১২১) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মাহমূদ ইবনু গাইলান-ওয়াকী হতে, তিনি সুফইয়ান হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।