حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، قَالَ عَرَضْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ قَالَ أَبُو طَلْحَةَ لأُمِّ سُلَيْمٍ لَقَدْ سَمِعْتُ صَوْتَ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - يَعْنِي ضَعِيفًا - أَعْرِفُ فِيهِ الْجُوعَ فَهَلْ عِنْدَكِ مِنْ شَيْءٍ فَقَالَتْ نَعَمْ . فَأَخْرَجَتْ أَقْرَاصًا مِنْ شَعِيرٍ ثُمَّ أَخْرَجَتْ خِمَارًا لَهَا فَلَفَّتِ الْخُبْزَ بِبَعْضِهِ ثُمَّ دَسَّتْهُ فِي يَدِي وَرَدَّتْنِي بِبَعْضِهِ ثُمَّ أَرْسَلَتْنِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَذَهَبْتُ بِهِ إِلَيْهِ فَوَجَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا فِي الْمَسْجِدِ وَمَعَهُ النَّاسُ قَالَ فَقُمْتُ عَلَيْهِمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرْسَلَكَ أَبُو طَلْحَةَ " . فَقُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " بِطَعَامٍ " . فَقُلْتُ نَعَمْ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِمَنْ مَعَهُ " قُومُوا " . قَالَ فَانْطَلَقُوا فَانْطَلَقْتُ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ حَتَّى جِئْتُ أَبَا طَلْحَةَ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ يَا أُمَّ سُلَيْمٍ قَدْ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ مَعَهُ وَلَيْسَ عِنْدَنَا مَا نُطْعِمُهُمْ . قَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ فَانْطَلَقَ أَبُو طَلْحَةَ حَتَّى لَقِيَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو طَلْحَةَ مَعَهُ حَتَّى دَخَلاَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلُمِّي يَا أُمَّ سُلَيْمٍ مَا عِنْدَكِ " . فَأَتَتْ بِذَلِكَ الْخُبْزِ فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَفُتَّ وَعَصَرَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ عُكَّةً لَهَا فَآدَمَتْهُ ثُمَّ قَالَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ ثُمَّ قَالَ " ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ " . فَأَذِنَ لَهُمْ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا ثُمَّ خَرَجُوا ثُمَّ قَالَ " ائْذَنْ لِعَشَرَةٍ " . فَأَذِنَ لَهُمْ فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا ثُمَّ خَرَجُوا فَأَكَلَ الْقَوْمُ كُلُّهُمْ وَشَبِعُوا وَالْقَوْمُ سَبْعُونَ أَوْ ثَمَانُونَ رَجُلاً . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আবূ ত্বালহা আনসারী (রাযিঃ) তার সহধর্মিণী উম্মু সুলাইম (রাযিঃ)-কে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুর্বল কণ্ঠস্বর শুনে আমি বুঝতে পারলাম, তিনি অতি ক্ষুধার্ত। তোমার নিকটে কি (খাবার) কিছু আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ আছে। উম্মু সুলাইম (রাযিঃ) কয়েকখানা যবের রুটি বের করলেন, তারপর নিজের একটি ওড়না বের করে তার একাংশে রুটি বাধলেন এবং তা আমার হাতে লুকিয়ে দেন এবং আমাকে ওড়নার অপরাংশ দেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমাকে পাঠান। আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমি ঐসব নিয়ে তার লক্ষ্যে রাওয়ানা হলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মসজিদে বসা অবস্থায় পেলাম। সে সময় তার সঙ্গে আরো লোক ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাদের সম্মুখে গিয়ে দাঁড়ালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করলেনঃ তোমাকে আবূ ত্বালহা পাঠিয়েছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আহারের দাওয়াত? বর্ণনাকারী বলেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথীদের বললেনঃ তোমরা উঠে দাঁড়াও। আনাস (রাযিঃ) বলেন, তারা প্রত্যেকে রওয়ানা হলেন। আর আমি তাদের সামনে সামনে চললাম এবং আবূ তালহা (রাযিঃ)-এর নিকট গিয়ে বিষয়টি অবহিত করলাম। আবূ ত্বালহা (রাযিঃ) বললেন, হে উম্মু সুলাইম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো লোকজন নিয়ে এসে পড়েছেন, কিন্তু তাদের সকলের আহার করানোর মত খাবার তো আমাদের নিকটে নেই। উম্মু সুলাইম (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূল তা ভাল করেই জানেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, আবূ তলিহা (রাযিঃ) এগিয়ে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে দেখা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ ত্বালহা (রাযিঃ) একসাথে বাড়ির অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উম্মু সুলাইম! তোমার নিকট খাবার জিনিস যা কিছু আছে তা এখানে নিয়ে এসো। উম্মু সুলাইম (রাযিঃ) ঐ রুটিগুলো নিয়ে এলেন। রুটিগুলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টুকরা টুকরা করার হুকুম দিলে তা টুকরা টুকরা করা হল। একটি চামড়ার পাত্র হতে উম্মু সুলাইম (রাযিঃ) তাতে ঘি ঢেলে দিয়ে তা তরকারীবৎ তৈরী করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছানুযায়ী তাতে কিছু দু'আ-কালাম পাঠ করলেন এবং বললেনঃ দশজন করে আসতে বল। সুতরাং দশজনকে আহবান করা হল, তারা পেট ভরে আহার করে বের হয়ে গেলে তিনি পুনরায় বললেনঃ আরো দশজনকে আসতে বল। আবার দশজনকে আহবান করা হল। তারা পেট ভরে আহার করে বের হয়ে গেলে তিনি পুনরায় বললেনঃ আরো দশজনকে আসতে বল। সুতরাং আবার দশজনকে আহবান করা হল। এভাবে দলের প্রত্যেকে পেট ভরে আহার করলেন। দলে সর্বমোট সত্তর কিংবা আশিজন লোক ছিলেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 3631 — Jami At Tirmidhi 49:27
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَحَانَتْ صَلاَةُ الْعَصْرِ وَالْتَمَسَ النَّاسُ الْوَضُوءَ فَلَمْ يَجِدُوهُ فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِوَضُوءٍ فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ فِي ذَلِكَ الإِنَاءِ وَأَمَرَ النَّاسَ أَنْ يَتَوَضَّئُوا مِنْهُ . قَالَ فَرَأَيْتُ الْمَاءَ يَنْبُعُ مِنْ تَحْتِ أَصَابِعِهِ فَتَوَضَّأَ النَّاسُ حَتَّى تَوَضَّئُوا مِنْ عِنْدِ آخِرِهِمْ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَجَابِرٍ وَزِيَادِ بْنِ الْحَارِثِ الصُّدَائِيِّ وَحَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- কে আমি লক্ষ্য করলাম, আসরের নামাযের ওয়াক্তও হয়ে গেছে এবং লোকেরা উযূর পানি খোজ করছে কিন্তু তারা তা পায়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উযূর পানি আনা হল। তিনি নিজের হাত পানির পাত্রে রাখলেন এবং তা হতে লোকদেরকে উযূ করার হুকুম দিলেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমি লক্ষ্য করলাম তার আঙ্গুলের নীচ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে। তারা সকলে উযূ করলেন, এমনকি তাদের শেষ লোকটি পর্যন্ত। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইমরান ইবনু হুসাইন, ইবনু মাসউদ জাবির ও যিয়াদ ইবনুল হারিস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আনাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 3632 — Jami At Tirmidhi 49:28
হাসান Sahihহাসান Sahihহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের আবির্ভাব এভাবে হল যে, আল্লাহ তা'আলা যখন তার বান্দাদের সম্মানিত ও তাদের প্রতি দয়া করতে চাইলেন, সে সময় এই পরিস্থিতি হল যে, যে স্বপ্লই তিনি দেখতেন তা ভোরের আলোর ন্যায় স্পষ্ট হয়ে উদ্ভাসিত হত। তারপর আল্লাহ তা'আলা যত দিন চাইলেন তার এই অবস্থা অব্যাহত থাকে। এ সময় তার কাছে নির্জনতা এত পছন্দনীয় ছিল যার চাইতে অন্য কিছুই তার কাছে বেশী পছন্দনীয় ছিল না। হাসান সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম এর চেয়ে আরো পূর্ণাঙ্গভাৰে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
হাদিস 3633 — Jami At Tirmidhi 49:29
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Bukhari
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ إِنَّكُمْ تَعُدُّونَ الآيَاتِ عَذَابًا وَإِنَّا كُنَّا نَعُدُّهَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَرَكَةً لَقَدْ كُنَّا نَأْكُلُ الطَّعَامَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ نَسْمَعُ تَسْبِيحَ الطَّعَامِ . قَالَ وَأُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِإِنَاءٍ فَوَضَعَ يَدَهُ فِيهِ فَجَعَلَ الْمَاءُ يَنْبُعُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " حَىَّ عَلَى الْوَضُوءِ الْمُبَارَكِ وَالْبَرَكَةِ مِنَ السَّمَاءِ " . حَتَّى تَوَضَّأْنَا كُلُّنَا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, তোমরা আল্লাহ তা'আলার রহমতের নিদর্শনগুলোকে (অতি প্রাকৃতিক বিষয়াবলীকে) শাস্তি মনে কর, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমলে আমরা এগুলোকে বারাকাত মনে করতাম। অবশ্যই আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খাবার খেতাম এবং খাদ্যের তাসবীহ পাঠ শুনতে পেতাম। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে একটি পানির পাত্র আনা হলে তিনি তার মাঝে নিজের হাত রাখলেন এবং তার আঙ্গুলগুলো দিয়ে পানি উপচে বের হতে থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা অতি মুবারাক ও আকাশের কল্যাণকর পানি দিয়ে উযূ করতে এদিকে এসো। এমনকি সেই পানিতে আমরা সবাই উযূ করলাম। সহীহঃ বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 3634 — Jami At Tirmidhi 49:30
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ الْحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ يَأْتِيكَ الْوَحْىُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَحْيَانًا يَأْتِينِي فِي مِثْلِ صَلْصَلَةِ الْجَرَسِ وَهُوَ أَشَدُّ عَلَىَّ وَأَحْيَانًا يَتَمَثَّلُ لِي الْمَلَكُ رَجُلاً فَيُكَلِّمُنِي فَأَعِي مَا يَقُولُ " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْزِلُ عَلَيْهِ الْوَحْىُ فِي الْيَوْمِ الشَّدِيدِ الْبَرْدِ فَيَفْصِمُ عَنْهُ وَإِنَّ جَبِينَهُ لَيَتَفَصَّدُ عَرَقًا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, আল-হারিস ইবনু হিশাম (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করেন, আপনার কাছে ওয়াহী কিরূপে আসে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কখনও ঘন্টাধ্বনির মতো তা আমার কাছে আসে এবং এটাই আমার জন্য সবচেয়ে কষ্টসাধ্য ওয়াহী। আবার কখনও ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আমার কাছে এসে আমার সঙ্গে কথা বলেন এবং তিনি যা বলেন, আমি তা সঙ্গে সঙ্গেই আয়ত্ত করি। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি অতিরিক্ত শীতের দিনেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ হতে দেখেছি। তা বন্ধ হওয়ার পরও তার কপাল হতে ঘাম গড়িয়ে পড়ত। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, লাল রং-এর পোশাক পরা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তুলনায় বেশি সুদর্শন আমি আর কোন বাবরি চুলওয়ালা লোক দেখিনি। তার বাবরি কেশ তার দুই কাধের মাঝখানে পর্যন্ত ঝুলন্ত ছিল। তার দুই কাধের মধ্যবর্তী জায়গা ছিল দীর্ঘ। তিনি না খর্বাকৃতির ছিলেন আর না দীর্ঘাকৃতির। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। পূর্বে ১৭২৫ নং হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
হাদিস 3636 — Jami At Tirmidhi 49:32
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Bukhari
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ الْبَرَاءَ أَكَانَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ السَّيْفِ قَالَ لاَ مِثْلَ الْقَمَرِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
। আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক লোক আল-বারাআ (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখমণ্ডল কি তলোয়ারের মতো (চকচকে) ছিল? তিনি বলেন, না, বরং চাদের মতো উজ্জ্বল ছিল। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (৯), বুখারী। আবূ ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান।
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না অতি লম্বা ছিলেন আর না (অতি) বেঁটে ছিলেন। তার দু হাত ও দু পা ছিল গোশতবহুল, মাথা ছিল আকারে বৃহৎ এবং হাড়ের গ্রন্থিসমূহ ছিল স্থুল ও শক্তিশালী। তার বুক হতে নাভি অবধি প্রলম্বিত ফুরফুরে পশমের একটি রেখা ছিল। চলার সময় তিনি সম্মুখের দিকে ঝুঁকে হাটতেন, যেন তিনি ঢালবিশিষ্ট জায়গা দিয়ে হেঁটে চলছেন। আমি তার পূর্বে কিংবা তার পরে আর কাউকে তার মতো দেখিনি। সহীহঃ মুখতাসার শামায়িল (৪০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী'-তার বাবা ওয়াকী হতে, তিনি আল মাসউদী হতে এই সনদসূত্রে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন।
। আলী (রাঃ)-এর নাতি ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যা (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আলী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট বর্ণনা করতে গিয়ে বলতেনঃ তিনি বেশি লম্বাও ছিলেন না এবং অত্যন্ত বেঁটেও ছিলেন না, বরং লোকদের মাঝে মধ্যম আকৃতির ছিলেন। তার মাথার চুল খুব বেশি কোকড়ানোও ছিল না এবং একেবারে সোজাও ছিল না, বরং কিছুটা ঢেউ খেলানো ছিল। তিনি স্থূলকায় ছিলেন না, তার মুখাবয়ব সম্পূর্ণ গোলাকার ছিল না, বরং কিছুটা গোলাকার ছিল। তিনি ছিলেন সাদা-লাল মিশ্রিত গৌরবর্ণের এবং লম্বা ভ্রুযুক্ত কালো চোখের অধিকারী। তার হাড়ের গ্রন্থিগুলো ছিল মজবুত, বাহু ছিল মাংসল। তার দেহে অতিরিক্ত লোম ছিল না, বুক হতে নাভি পর্যন্ত হালকা লোমের একটি রেখা ছিল। তার হাতের তালু ও পায়ের পাতা ছিল গোশতে পুরু। তিনি দৃঢ় পদক্ষেপে চলতেন, যেন তিনি ঢালবিশিষ্ট স্থান হতে (নীচে সমতলে) নামছেন। তিনি কারো দিকে ফিরে তাকালে গোটা দেহ ঘুরিয়ে তাকাতেন। তার দুই কাধের মধ্যবর্তী স্থানে ছিল নাবুওয়াতের মোহর। তিনি ছিলেন খাতামুন নাবিয়ীন (নবীগণের মোহর বা তাদের আগমন ধারার পরিসমাপ্তিকারী)। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী ও দানশীল, বাক্যালাপে সত্যবাদী, কোমল হৃদয়ের অধিকারী এবং বন্ধু-বান্ধব ও সহোচরদের সাথে সম্মানের সাথে বসবাসকারী (অথবা সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত বংশোদ্ভূত)। যে কেউ তাকে প্রথম বারের মত দেখেই সে প্রভাবান্বিত হত। যে ব্যক্তি তার সাথে মিশত এবং তার প্রসঙ্গে জানতো সে তার প্রতি বন্ধু ভাবাপন্ন হয়ে যেত। তার বর্ণনা প্রদানকারী বলতে বাধ্য হত, তার আগে বা পরে আমি আর কাউকে তার এরকম (সৌন্দর্যময়) দেখিনি। যঈফ, মুখতাসার শামায়িল, মিশকাত (৫৭৯১) আবূ ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসের সনদসূত্র মুত্তাসিল (অবিচ্ছিন্ন) নয়। আবূ জাফর বলেন, আমি আল-আসমাঈকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্য ও গঠনাকৃতি সম্পর্কিত বর্ণনার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলতে শুনেছিঃ “মুম্মাগিত” অর্থ অতিরিক্ত লম্বা। আল-আসমাঈ আরো বলেন, আমি এক বিদুঈনকে কথা প্রসঙ্গে বলতে শুনেছি, “তামাগগাতা কী নুশশাবাতিন” (সে তার তীর খুব টেনেছে)। "মুতারাদ্দিদ” অর্থ স্থূলতার কারণে বেঁটে দেহের একাংশ অপরাংশের মধ্যে প্রবিষ্ট মনে হওয়া। “কাতাত” অর্থ কুঞ্চিত ও কোকড়ানো। “রাজিল” যে ব্যক্তির মাথার চুল কোকড়ানো সে। “মুতাহহাম" অর্থ স্থল দেহ, মাংসল দেহ। "মুকালসাম” গোলগাল চেহারা। “মুশরাব" এমন রং যা সাদা-লালে (দুধে আলতায়) মিশ্ৰিত, গৌর, এটা সবচেয়ে সুন্দর বর্ণ। “আদআজ” অর্থ চোখ ঘোর কালো। “আহদাব” যার ভ্রু লম্বা। “কাতাদ” দুই কাঁধের সঙ্গমস্থল, একে কাহিল’ও বলা হয়। “মাসরুবাত” বুকের পশমের সরল রেখা যা বুক হতে নাভী পর্যন্ত প্রলম্বিত। “আশ-শাছন" অর্থ যার হাত ও পায়ের অঙ্গুলীসমূহ এবং হাত ও পায়ের পাতা মাংসবহুল। “আত-তাকাল্লাউ" অর্থ দৃঢ় পদক্ষেপে পথ অতিক্রম। “সাবাব” অর্থ (উপর হতে নীচে) ঢালু স্থান দিয়ে নেমে আসা। যেমন আমরা বলি, আমরা উপর হতে নীচে নামছি। “জালীলুল মুশাশ” বড় গ্রন্থিযুক্ত অর্থাৎ বাহুর অগ্রভাগ, উদ্ধবাহু। “ইশরাত” অর্থ সাহচর্য, “আশীরু" অর্থ সঙ্গী-সহচর, “বাদীহাতু" অর্থ দৈবাৎ, হঠাৎ। যেমন আরবরা বলে, বাদাহ্তুহু বিআমরিন অর্থাৎ আমি তাকে হঠাৎ কোন বিষয়ে ভীত-বিহব্বল করে দিয়েছি।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের মতো দ্রুত গতিতে কথা বলতেন না, বরং তিনি ধীরে সুস্থে প্রতিটি শব্দ পৃথকভাবে উচ্চারণ করে কথা বলতেন, ফলে তার কাছে বসা লোক খুব সহজেই তা আয়ত্ত করে নিতে পারত। হাসানঃ আল-মুখতাসার (১৯১), মিশকাত (৫৮২৮), বুখারী ও মুসলিম। “তিনি দ্রুত কথা বলতেন না" এই অংশটুকু বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র যুহরীর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে অবগত হয়েছি। উক্ত হাদীস ইউনুস ইবনু ইয়াযীদও যুহরী হতে রিওয়ায়াত করেছেন।