। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযি.) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সত্তর জোড়া (পরত) কাপড়ের ভেতর হতেও জান্নাতী মহিলাদের পায়ের গোছার উজ্জ্বলতা দেখা যাবে, এমনকি এর অস্থিও দেখা যাবে। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ “তারা (হুরগণ) যেন মহামূল্যবান পদ্মরাগমণি ও মুক্তা”— (সূরা আর-রহমানঃ ৫৮)। আর পদ্মরাগমণি তো এমন একটি পাথর যে, এর মধ্যে তুমি একটি সুতা ঢুকিয়ে তারপর তা পরিষ্কার করে দেখতে চাও, তাহলে এর বাইরে হতেও তা দেখতে পারবে। (য"ঈফ; তা’লীকুর রাগীব-হাঃ নং- ৪/২৬৩) এ হাদীসটি হান্নাদ আবীদাহ ইবনু হুমাইদ হতেও উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন।
। হান্নাদ স্বীয় সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মারফুরূপে নয়। (দেখুন পূর্বের হাদীস) আর এ হাদীস পূর্বোক্ত আবীদার হাদীসের তুলনায় অধিক সহীহ। এভাবেই জারীর প্রমুখগণ আতা ইবনু আস-সায়িব হতে আবূল আহ ওয়াসের মতই বর্ণনা করেছেন। মাওকুফরুপে আর এটি সঠিক।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে দলটি কিয়ামত দিবসে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে, দলের মুখমণ্ডল হবে আকাশে মুক্তার ন্যায় জ্বলজ্বলে তারকার মতো উজ্জ্বল। তাদের মধ্যে প্রত্যেক পুরুষের জন্য দু’জন করে স্ত্রী (হুর) থাকবে এবং প্রত্যেক স্ত্রীর সত্তরজোড়া জামা থাকবে। এই জামার ভিতর দিয়েও তার পায়ের জংঘার অস্থিমজ্জা দেখা যাবে। সহীহঃ সহীহাহ (১৭৩৬), মিশকাত তাহকীকু সানী (৫৬৩৫), তা’লীকুর রাগীব (২৬১)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতে প্রত্যেক মুমিনকে এত এত পরিমাণ সঙ্গমশক্তি প্রদান করা হবে। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তারা এমন করতে সক্ষম হবে? তিনি বলেনঃ প্রত্যেককে একশত জনের সমান সঙ্গমশক্তি প্রদান করা হবে। হাসান সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ৫৬৩৬)। যাইদ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি সহীহ গারীব। ইমরান আল-কাত্তান (রাহঃ) ছাড়া কাতাদা হতে আনাস (রাযিঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীস হিসেবে এটি সম্বন্ধে আমাদের জানা নেই।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে দলটি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেই দলের মানুষদের আকৃতি হবে পূর্ণিমার চাদের মতো উজ্জ্বল। তারা সেখানে থুথু ফেলবে না, নাকের শিকনিও বের হবে না, প্রস্ৰাব-পায়খানাও করবে না। তাদের ব্যবহার্য পাত্রসমূহ হবে স্বর্ণের তৈরি আর সোনা-রুপার সংমিশ্রণে তৈরি হবে চিরুনি। চন্দন কাঠ ও আগরবাতি জ্বালানো থাকবে। তাদের শরীরের ঘাম হবে মিশকের মতো সুগন্ধময়। তাদের প্রত্যেকের জন্য দুজন করে স্ত্রী (হুর) থাকবে। সৌন্দর্যের কারণে গোশতের ভিতর দিয়ে তাদের পায়ের জংঘার হাড়ের মজ্জা পর্যন্ত দৃষ্টিগোচর হবে। তাদের মধ্যে না থাকবে ঝগড়া-বিবাদ, আর না থাকবে হিংসা-বিদ্বেষ। তাদের সকলের অন্তর যেন একটি অন্তরে পরিণত হবে। সকাল-বিকাল তারা আল্লাহ তা'আলার পবিত্রতা বর্ণনা করবে। সহীহঃ বুখারী (৩২৪৫), মুসলিম (৮/১৪৬-১৪৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। আল উলুওয়াতুঃ চন্দন কাঠ।
। সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যদি জান্নাতের কোন জিনিসের এক চিমটি পরিমাণও (পৃথিবীতে) আসতে পারতো তাহলে আসমান-যমীন সকল স্থান আলোকিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়ে যেতো। কোন জান্নাতী যদি দুনিয়াতে উকি দিত এবং তার হস্তালংকার প্রকাশিত হয়ে পড়তো তাহলে তা সূর্যের আলোকে নিস্তেজ করে দিত যেভাবে সূর্যের আলো নক্ষত্রসমূহের আলোকে নিস্তেজ করে দেয়। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক ছানী (৫৬৩৭)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি গারীব। এই হাদীসটি শুধুমাত্র ইবনু লাহীআর বর্ণনা হিসেবেই আমরা জেনেছি। ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব এই হাদীসটি ইয়াযীদ ইবনু আবূ হাবীবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং (আমির-এর স্থলে) উমর ইবনু সাদ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, এই সূত্র উল্লেখ করেছেন।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতীদের শরীরে কোন লোম থাকবে না, দাঁড়ি-গোফ থাকবে না এবং চোখে সুরমা লাগানো থাকবে। কখনো তাদের যৌবন শেষ হবে না, জামাও পুরাতন হবে না। হাসানঃ মিশকাত তাহকীক সানী (৫৬৩৮, ৫৬৩৯), তা’লীকুর রাগীব (৪/২৪৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এই হাদীসটি গারীব।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্ তা'আলার বাণী “সুউচ্চ বিছানা থাকবে” (সূরাঃ ওয়াকিয়া- ৩৪) প্রসঙ্গে বলেন, এর উচ্চতা হবে আসমান-যমিনের উচ্চতার সমান আর তা হবে পাঁচ শত বছরের দূরত্বের সমান। যঈফ, মিশকাত (৫৬৩৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র রিশদীন ইবনু সাদের রিওয়ায়াত হিসাবে এ হাদীস জেনেছি। এ হাদীসের ব্যাখ্যায় কিছু আলিম বলেন, সেই বিছানাসমূহের এক স্তর হতে আরেক স্তরের উচ্চতা হবে আসমান-যমিনের মাঝখানের দূরত্বের সমান।
। আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাযি.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে সিদরাতুল মুনতাহা (প্রান্তসীমার কুলগাছ) সম্পর্কে আলোচনা করা হলে আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ সেই গাছের একটি শাখার ছায়াতলে কোন যাত্রী এক শত বছর পর্যন্ত চলতে থাকবে (তবুও তা অতিক্রম করতে পারবে না) অথবা বলেছেনঃ এক শত সাওয়ারী এর ছায়াতলে অবস্থান করবে (ইয়াহইয়া ইবনু আবদুল্লাহ সংশয়ে পতিত হয়েছেন যে, তার ঊর্ধ্বতন রাবী কোন কথাটি বলেছেন)। সে গাছে অসংখ্য সোনার পতঙ্গ আছে এবং এর ফলগুলো মটকার মত বড় বড়। (য’ঈফ; মিশকাত তাহকীকু ছানী, হাঃ নং- ৫৬৪০; তা’লীকুর রাগীব-হাঃ নং- ৪/২৫৬) আবূ ঈস বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাওযে কাওসার প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ তা একটি ঝর্ণা যা আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে আমাকে প্রদান করেছেন। এর পানি দুধের চেয়ে সাদা এবং মধুর চেয়ে মিষ্টি। এতে অনেক পাখি রয়েছে যাদের ঘাড় উটের ঘাড়ের মতো উচু। উমর (রাযিঃ) বলেন, তাহলে তো এগুলো সতেজ হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যারা এগুলো আহার করবে, তারা আরো সুন্দর ও সুখী হবে। সহীহঃ মিশকাত (৫৬৪১), সহীহাহ (২৫১৪)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান গারীব। মুহাম্মাদ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু মুসলিম হলেন ইবনু শিহাব যুহরীর ভাইয়ের ছেলে। 'আবদুল্লাহ ইবনু মুসলিম ইবনু উমার ও আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।