। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ প্রত্যেক নবীরই হাওয়ারী (একনিষ্ঠ সাহায্যকারী) ছিল। আর আমার হাওয়ারী হল আয-যুবাইর ইবনুল আওওয়াম। আবূ নু'আইমের রিওয়ায়াতে আরো আছেঃ (এ কথা তিনি) আহযাবের দিন (খন্দকের যুদ্ধের) দিন বলেন। তিনি বললেনঃ আমাকে কুরাইশদের (কাফিরদের) সংবাদ কে সংগ্রহ করে দিতে পারে? আয-যুবাইর (রাযিঃ) বললেন, আমি। উক্ত কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার বললেন এবং আয-যুবাইর (রাযিঃ)-ও (তিনবারই) বললেন, আমি। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। হিশাম ইবনু উরওয়াহ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আয-যুবাইর (রাযিঃ) উষ্ট্রীয় যুদ্ধের দিন সকালে নিজ পুত্র আবদুল্লাহ (রাযিঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, বৎস! আমার শরীরে এমন কোন অঙ্গ নেই, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে (জিহাদে) ক্ষত-বিক্ষত হয়নি, এমনকি আমার লজ্জাস্থানও (ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে)। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং হাম্মাদ ইবনু যাইদের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।
। আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আবূ বাকর জান্নাতী, উমার জান্নাতী, উসমান জান্নাতী, আলী জান্নাতী, তলহা জান্নাতী, যুবাইর জান্নাতী, 'আবদুর রহমান ইবনু আওফ জান্নাতী, সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস জান্নাতী, সাঈদ জান্নাতী এবং আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ জান্নাতী। সহীহঃ মিশকাত (৬১১), তাখরীজ ত্বাহাতীয়াহ (৭২৮)। আবু মুস'আব আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি আব্দুর রাহমান ইবনু হুমাইদ হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। এই সনদে 'আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ)-এর উল্লেখ নেই। এ হাদীস আবদুর রহমান ইবনু হুমাইদ-তার পিতা হতে, তিনি সাঈদ ইবনু যাইদ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণিত হয়েছে। এ সনদে বর্ণিত হাদীসটি প্রথমোক্ত হাদীসের চাইতে অনেক বেশি সহীহ।
। সাঈদ ইবনু যাইদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি একদল লোকদের মাঝে রিওয়ায়াত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দশজন লোক জান্নাতী। (তারা হলেন) আবূ বাকর জান্নাতী, উমার জান্নাতী এবং আলী, উসমান, যুবাইর, ত্বালহা, আবদুর রহমান, আবূ উবাইদাহ ও সা'দ ইবনু আবী ওয়াককাস (রাযিঃ)। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি উক্ত নয়জনকে গণনা করেন এবং দশম লোক প্রসঙ্গে নীরব থাকেন। সে সময় লোকেরা বলল, হে আবূল আওওয়ার! আপনাকে আমরা আল্লাহর নামে কসম দিয়ে বলছি, দশম লোক কে? তিনি বলেন, তোমরা আমাকে আল্লাহর নামে কসম দিয়ে প্রশ্ন করেছ। আবূল আওয়ার জান্নাতী। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৩৩)। আবূ ঈসা বলেন, আবূল আওয়ার হলেন সাঈদ ইবনু যাইদ ইবনু আমর ইবনু নুফাইল (রাযিঃ)। মুহাম্মাদ (ইমাম বুখারী)-কে আমি বলতে শুনেছি, এ হাদীসটি পূর্বের হাদীসের চাইতে বেশি বিশুদ্ধ।
হাদিস 3749 — Jami At Tirmidhi 49:146
হাসানহাসানহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، عَنْ صَخْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " إِنَّ أَمْرَكُنَّ مِمَّا يُهِمُّنِي بَعْدِي وَلَنْ يَصْبِرَ عَلَيْكُنَّ إِلاَّ الصَّابِرُونَ " . قَالَ ثُمَّ تَقُولُ عَائِشَةُ فَسَقَى اللَّهُ أَبَاكَ مِنْ سَلْسَبِيلِ الْجَنَّةِ . تُرِيدُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ وَقَدْ كَانَ وَصَلَ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَالٍ يقالُ بِيعَتْ بِأَرْبَعِينَ أَلْفًا . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তার স্ত্রীদের) বলতেনঃ আমার (মৃত্যুর) পরে তোমাদের পরিস্থিতি (ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা) যে কি হবে তা সম্পর্কে আমি চিন্তিত (কারণ তোমাদের জন্য কোন উত্তরাধিকার স্বত্ব রেখে যাইনি)। ধৈর্য ধারণকারী ও সহিষ্ণুতা অনুরাগী ব্যক্তি ছাড়া তোমাদের অধিকারের প্রতি কেউ ভ্রুক্ষেপ করবে না। আবূ সালামাহ্ (রহঃ) বলেন, পরবর্তী সময়ে আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহ তা'আলা যেন তোমার বাবাকে অর্থাৎ ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাযিঃ)-কে জান্নাতের সালসাবীল নামক ঝর্ণার পানি পান করান। কেননা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের জন্য যে সম্পদ নিয়োগের মাধ্যমে তার সম্পত্তি তাদের সেবায় নিয়োজিত করেন পরবর্তীকালে তা চল্লিশ হাজার (দিনার মূল্যে) বিক্রয় করা হয়। হাসানঃ মিশকাত (৬১২১, ৬১২২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। আবূ সালামাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ) তার একটি বাগিচা উম্মুহাতুল মু'মিনীনদের জন্য উৎসর্গ করেন তা চার লক্ষ দিরহাম মূল্যে বিক্রয় করা হয়। সনদ হাসানঃ পূর্বের হাদীসের সহায়তায় সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
হাদিস 3751 — Jami At Tirmidhi 49:148
সহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا رَجَاءُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعُذْرِيُّ، - بَصْرِيٌّ - قَالَ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ ابْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَعْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اللَّهُمَّ اسْتَجِبْ لِسَعْدٍ إِذَا دَعَاكَ " . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ إِسْمَاعِيلَ عَنْ قَيْسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اللَّهُمَّ اسْتَجِبْ لِسَعْدٍ إِذَا دَعَاكَ " . وَهَذَا أَصَحُّ .
। সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “হে আল্লাহ। আপনার নিকট সা'দ দু'আ করলে তা গ্রহণ করুন"। সহীহঃ মিশকাত (৬১১৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীস ইসমাঈল-এর বরাতে কাইস (রহঃ)-এর সনদেও বর্ণিত আছে। তাতে আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “হে আল্লাহ! আপনার নিকট সাদ দুআ করলে তা গ্রহণ করুন”। এ রিওয়ায়াতটি অনেক বেশি সহীহ।
হাদিস 3752 — Jami At Tirmidhi 49:149
সহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أَقْبَلَ سَعْدٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " هَذَا خَالِي فَلْيُرِنِي امْرُؤٌ خَالَهُ " . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مُجَالِدٍ . وَكَانَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ مِنْ بَنِي زُهْرَةَ وَكَانَتْ أُمُّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ بَنِي زُهْرَةَ فَلِذَلِكَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " هَذَا خَالِي " .
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সা'দ (রাযিঃ) এসে হাযির হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইনি আমার মামা। কেউ আমাকে দেখাক তো তার মামাকে (যে আমার মামার সমপর্যায়ের হতে পারে)। সহীহঃ মিশকাত (৬১১৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র মুজালিদের হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে এটা অবগত হয়েছি। সা'দ (রাযিঃ) ছিলেন বনু যুহরার লোক এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আম্মাও ছিলেন বনু যুহুরার সদস্যা। এজন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইনি আমার মামা।
। আলী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা'দ (রাঃ) ছাড়া অন্য কারো জন্য নিজের পিতা-মাতাকে একত্র করেননি। তিনি উহুদের যুদ্ধের দিন তাকে বলেনঃ আমার আব্বা-আম্মা তোমার জন্য কুরবান হোক। হে নব যুবক! (শক্রর প্রতি) তীর নিক্ষেপ কর। “হে নও জোয়ান” এ শব্দটি মুনকার ২৮২০ নং হাদীসে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। বহু রাবী এ হাদীস ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাঈয়্যাব হতে, তিনি সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস 3754 — Jami At Tirmidhi 49:151
সহিহসহিহসহিহসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ جَمَعَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَوَيْهِ يَوْمَ أُحُدٍ . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
। সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার লক্ষ্যে তাঁর বাবা মাকে একত্রে কুরবান করেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, (২৮৩০) নং হাদীস পূর্বে উল্লেখ হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবদুল্লাহ ইবনু শাদ্দাদ ইবনুল হাদ হতে আলী (রাযিঃ)-এর বরাতেও এ হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে।