। আলী ইবনু আবী ত্বালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) ছাড়া আর কারো লক্ষ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার বাবা-মাকে একসাথে কুরবান করতে শুনিনি। উহুদের যুদ্ধের দিন আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ হে সাদ! তীর নিক্ষেপ কর। তোমার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, (২৮২৮) নং হাদীস পূর্বেও উল্লিখিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।
হাদিস 3756 — Jami At Tirmidhi 49:153
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ سَهِرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَقْدَمَهُ الْمَدِينَةَ لَيْلَةً قَالَ " لَيْتَ رَجُلاً صَالِحًا يَحْرُسُنِي اللَّيْلَةَ " . قَالَتْ فَبَيْنَا نَحْنُ كَذَلِكَ إِذْ سَمِعْنَا خَشْخَشَةَ السِّلاَحِ فَقَالَ " مَنْ هَذَا " . فَقَالَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا جَاءَ بِكَ " . فَقَالَ سَعْدٌ وَقَعَ فِي نَفْسِي خَوْفٌ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجِئْتُ أَحْرُسُهُ . فَدَعَا لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ نَامَ . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় আগমন করার পর কেন যেন রাতে নিদ্রা যাপন করতে পারলেন না। তিনি (মনে মনে) বললেনঃ আহা! যদি কোন সৎকর্মপরায়ণ লোক আজকের রাতটুকু আমাকে পাহারা দিত। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমরা এই চিন্তায় ছিলাম, তখনই অস্ত্রের শব্দ শুনতে পেলাম। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ কে? উত্তর এল, আমি সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি কারণে এসেছ? সা'দ (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আমার মনে শংকা জাগ্রত হওয়ায় আমি তাকে পাহারা দিতে এসেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য দু'আ করেন, তারপর ঘুমিয়ে যান। সহীহঃ সহীহুল আদাবুল মুফরাদ (৬২২), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। সাঈদ ইবনু যাইদ ইবনু আমর ইবনু নুফাইল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নয়জন লোক প্রসঙ্গে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তারা জান্নাতী। যদি আমি দশম ব্যক্তি প্রসঙ্গেও সাক্ষ্য দেই তবে তাতেও আমি পাপী হব না। প্রশ্ন করা হল, তা কিভাবে? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমরা হেরা পর্বতের উপর অবস্থানরত ছিলাম। (হেরা কেঁপে উঠলে) তিনি বললেনঃ হেরা শান্ত হও। অবশ্যই তোমার উপরে একজন নবী কিংবা একজন সিদ্দীক (পরম সত্যবাদী) অথবা একজন শহীদ আছেন। বলা হল, তারা কারা তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর, উমার, উসমান, আলী, তালহা, যুবাইর, সা’দ ও আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ)। তাকে প্রশ্ন করা হল, দশম লোকটি কে? তিনি বললেন, আমি। সহীহঃ (৩৭৪৮) নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি সাঈদ ইবনু যাইদ (রাযিঃ)-এর বরাতে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আহমাদ ইবনু মানী'-হাজ্জাজ ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি শু’বাহ হতে, তিনি তিনি সাঈদ ইবনু যাইদ (রাযিঃ) হতে উক্ত মর্মে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম বর্ণনা করেছেন। এ শেষের সনদের হাদীসটি হাসান।
‘আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল-আব্বাস (রাযিঃ) প্রসঙ্গে উমার (রাযিঃ)-কে বলেনঃ কোন লোকের চাচা তার পিতৃ সমতুল্য। আল-আব্বাস (রাযিঃ)-এর যাকাত প্রদান প্রসঙ্গে উমর (রাযিঃ) কিছু বলেছিলেন। সহীহঃ ইরওয়া (৩/৩৪৮-৩৫০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল-আব্বাস হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা। আর চাচা হল পিতৃ সমতুল্য। সহীহঃ সহীহাহ (৮০৬),সহীহ আবূ দাউদ (১৪৩৫), ইরওয়া (৩/৩৪৮-৩৫০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। এ হাদীস আমরা শুধু আবূয যিনাদের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে উপর্যুক্তভাবে অবগত হয়েছি।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল-আব্বাস (রাযিঃ)-কে বললেনঃ আগামী সোমবার প্রভাতে আপনি আমার কাছে আসবেন এবং আপনার সন্তানদেরকেও সাথে নিয়ে আসবেন। আপনার জন্য এবং আপনার সন্তানদের জন্য আমি একটি দুআ করব, যার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা আপনাকেও উপকৃত করবেন এবং আপনার সন্তানদেরও। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, প্রভাতে তিনি গেলেন এবং তার সঙ্গে আমরাও গেলাম। তিনি আমাদের শরীরে একখানা চাদর জড়িয়ে দিলেন, তারপর বললেনঃ “হে আল্লাহ আল-“আব্বাস ও তার সন্তানদের বাহির ও ভিতর উভয় দিক এমনভাবে ক্ষমা করে দিন যার পর তাদের আর কোন অপরাধ বাকি না থাকে। হে আল্লাহ! তাকে তার সন্তানদের ব্যাপারে হিফাযাত করুন"। হাসানঃ মিশকাত (৬১৪৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদে অবগত হয়েছি।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি (স্বপ্নে) জাফারকে জান্নাতের মধ্যে ফেরেশতাদের সঙ্গে উড়ে বেড়াতে দেখেছি। সহীহঃ সহীহাহ (১২২৬), মিশকাত (৬১৫৩)। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র আবদুল্লাহ ইবনু জাফরের সনদে জানতে পেরেছি। ইয়াহইয়া ইবনু মুঈন প্রমুখ তাকে যঈফ বলেছেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু জাফার হলেন ‘আলী ইবনুল মাদীনীর বাবা। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস 3764 — Jami At Tirmidhi 49:163
সহিহ Isnaad Mauqufসহিহ Isnaad Mauqufহাসান SahihIsnaad Sahih
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর জাফার (রাযিঃ)-এর চেয়ে উত্তম কোন লোক জুতা পরিধান করেনি, জন্তুযানে আরোহণ করেনি, উটের হাওদায় উঠেনি। সনদ সহীহ, মাওকুফ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আল-কাওর অর্থ- হাওদা।