। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাফার ইবনু আবী তলিব (রাযিঃ)-কে বলেনঃ তুমি দৈহিক গঠনে ও স্বভাব-চরিত্রে আমার মতো। এ হাদীসে একটি ঘটনা আছে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী উবাই হতে, তিনি ইসরাঈল হতে ..... অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, অন্যের চেয়ে ভালোভাবে কুরআনের আয়াতের তাৎপর্য আমার জানা থাকা সত্ত্বেও আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে কোন সাহাবীর নিকট তার তাৎপর্য জানতে চাইতাম এ উদ্দেশ্যে যাতে তিনি আমাকে (তার বাড়িতে নিয়ে) কিছু খাওয়ান। আমি জাফর ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলেই তিনি আমাকে জবাব না দিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যেতেন, তারপর তার স্ত্রীকে বলতেন, হে আসমা! আমাদেরকে খানা খাওয়াও। তার স্ত্রী আমাদেরকে খানা খাওয়ানোর পর তিনি আমার প্রশ্নের উত্তর দিতেন। জাফর (রাঃ) ছিলেন দরিদ্র্য বৎসল এবং তিনি তাদের সাথে উঠা-বসা করতেন, তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করতেন এবং তারাও তার সাথে কথাবার্তা বলত। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আবূল মাসাকীন (গারীবদের পিতা) উপনামে আখ্যায়িত করেন। অত্যন্ত দুর্বল, মিশকাত তাহকীক ছানী (৬১৫২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আবূ ইসহাক আল-মাখযুমী হলেন ইবরাহীম ইবনুল ফাযল আল-মাদীনী। কোন কোন হাদীসবিশেষজ্ঞ তার স্মৃতিশক্তির সমালোচনা করেছেন। তিনি অনেক গারীব হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা জাফর ইবনু আবী তালিবকে আবূল মাসাকীন বলে সম্বোধন করতাম, আমরা যখন তার নিকট আগমন করতাম। উপস্থিত যা থাকত তাই আমাদের সামনে নিয়ে আসত, একদিন আমরা তার নিকট আগমন করলে তিনি কিছুই পেলেন না, ফলে তিনি একটি মধুর মটকা নিয়ে এলেন এবং তা ভেঙ্গে ফেললেন, তারপর আমরা চেটে চেটে খেতে থাকলাম। আবূ ঈসা বলেনঃ আবূ হুরাইরা হতে সালামার সূত্রে বর্ণিত এ হাদীসটি হাসান গারীর। যঈফ , যঈফ ইবনু মাজাহ
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল-হাসান ও আল-হুসাইন (রাযিঃ) প্রত্যেকেই জান্নাতী যুবকদের সরদার। সহীহঃ সহীহাহ (৭৯৬) সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী’-জারীর ও মুহাম্মাদ ইবনু ফুযাইল হতে, তিনি ইয়াযীদ (রাহঃ) হতে এই সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু আবী নুম হলেন আবদুর রহমান ইবনু আবী নুম আল-বাজালী, কুফার অধিবাসী। তার উপনাম আবূল হাকাম।
। উসামাহ্ ইবনু যাইদ (রাযিঃ) বলেন, এক রাতে আমার কোন দরকারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলাম। অতএব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অবস্থায় বাইরে এলেন যে, একটা কিছু তার পিঠে জড়ানো ছিল যা আমি অবগত ছিলাম না। আমি আমার দরকার সেরে অবসর হয়ে প্রশ্ন করলাম, আপনার দেহের সঙ্গে জড়ানো এটা কি? তিনি পরিধেয় বস্ত্র উম্মুক্ত করলে দেখা গেল তার দুই কোলে হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ)। তিনি বললেনঃ এরা দু’জন আমার পুত্র এবং আমার কন্যার পুত্র। হে আল্লাহ! আমি এদের দু’জনকে মুহাব্বাত করি। সুতরাং তুমি তাদেরকে মুহাব্বাত কর এবং যে ব্যক্তি এদেরকে মুহাব্বাত করবে, তুমি তাদেরকেও মুহাব্বাত কর। হাসানঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৬১৫৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
হাদিস 3770 — Jami At Tirmidhi 49:169
সহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ الْبَصْرِيُّ الْعَمِّيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي نُعْمٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ سَأَلَ ابْنَ عُمَرَ عَنْ دَمِ الْبَعُوضِ يُصِيبُ الثَّوْبَ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ انْظُرُوا إِلَى هَذَا يَسْأَلُ عَنْ دَمِ الْبَعُوضِ وَقَدْ قَتَلُوا ابْنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ هُمَا رَيْحَانَتَاىَ مِنَ الدُّنْيَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَاهُ شُعْبَةُ وَمَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوُ .
। আবদুর রহমান ইবনু আবী নুম (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে এক ইরাকবাসী মাছির রক্ত কাপড়ে লাগলে তার বিধান প্রসঙ্গে ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর কাছে জানতে চায়। ইবনু উমার (রাযিঃ) বললেন, তোমরা তার প্রতি লক্ষ্য কর, সে মাছির রক্ত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করছে। অথচ তারাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্রকে (নাতি হুসাইন) হত্যা করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ আল-হাসান ও আল-হুসাইন দু'জন এই পৃথিবীতে আমার দুটি সুগন্ধময় ফুল। সহীহঃ মিশকাত (৬১৫৫), সহীহাহ (৫৬৪), বুখারী সংক্ষিপ্তভাবে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। শু'বাহ (রাহঃ) এ হাদীস মাহদী ইবনু মাইমূন হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আবী ইয়াকুবের সনদে রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বরাতেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম হাদীস বর্ণিত আছে।
। সালমা (আল-বাকরিয়া) (রহঃ) বলেন, আমি উম্মু সালামা (রাঃ)-এর নিকট গিয়েছিলাম, তখন তিনি কাঁদছিলেন। আমি বললাম, কিসে আপনাকে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন, আমি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তার মাথায় ও দাড়িতে ধুলা জড়িয়ে আছে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কি হয়েছে? তিনি বললেনঃ আমি এইমাত্র হুসাইনের নিহত হওয়ার জায়গায় হাযির হয়েছি। যঈফ, মিশকাত (৬১৫৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল, আপনার আহলে বাইত-এর সদস্যগণের মধ্যে কে আপনার নিকট সবচাইতে প্রিয়? তিনি বললেনঃ আল-হাসান ও আল-হুসাইন। তিনি ফাতিমা (রাঃ)-কে বলতেনঃ আমার দুই সন্তানকে আমার কাছে ডাক। তিনি তাদের ঘ্রাণ নিতেন এবং নিজের বুকের সাথে লাগাতেন। যঈফ, মিশকাত (৬১৫৮) আবূ ঈসা বলেনঃ আনাস (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীসটি গারীব।
। আবূ বাকরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে নাববীর) মিম্বারে উঠে বললেনঃ আমার এ পুত্র (হাসান) নেতা হবে এবং আল্লাহ তা'আলা তার মাধ্যমে (মুসলিমদের) দু'টি বিবদমান দলের মাঝে সমঝোতা স্থাপন করাবেন। সহীহঃ রাওযুল নামীর (৯২৩), ইরওয়া (১৫৯৭), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। “এই পুত্র" দিয়ে আল-হাসান ইবনু আলী (রাযিঃ)-কে বুঝানো হয়েছে।
। আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) বলেন, আমি আমার পিতা বুরাইদাহ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন। হঠাৎ হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ) লাল বর্ণের জামা পরিহিত অবস্থায় (শিশু হওয়ার কারণে) আছাড় খেতে খেতে হেঁটে আসেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বার হতে নেমে তাদের দু’জনকে তুলে এনে নিজের সম্মুখে বসান, তারপর বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা সত্যই বলেছেন, “তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি তো পরীক্ষা বিশেষ”— (সূরা তাগাবুন ১৫)। আমি তাকিয়ে দেখলাম এই শিশু দুটি আছাড় খেতে খেতে হেঁটে আসছে। আমি আর সহ্য করতে পারলাম না, এমনকি আমার বক্তৃতা বন্ধ করে তাদেরকে তুলে নিতে বাধ্য হলাম। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩৬০০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র আল-হুসাইন ইবনু ওয়াকিদ-এর বর্ণনার প্রেক্ষিতেই এটি অবগত হয়েছি।