। ইয়া'লা ইবনু মুররাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হুসাইন আমার হতে এবং আমি হুসাইন হতে। যে লোক হুসাইনকে মুহাব্বাত করে, আল্লাহ তাকে মুহাব্বাত করেন। নাতিগণের মাঝে একজন হল হুসাইন। হাসানঃ ইবনু মাজাহ (১৪৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র 'আবদুল্লাহ ইবনু উসমান ইবনু খুসাইমের সূত্রেই জেনেছি। একাধিক বর্ণনাকারী এটি 'আবদুল্লাহ ইবনু উসমান ইবনু খুসাইম হতে বর্ণনা করেছেন।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন লোকদের মাঝে দৈহিক কাঠামোয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আল-হাসান ইবনু আলীর তুলনায় বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ আর কেউ ছিল না। সহীহঃ বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ জুহাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি দেখেছি। আল-হাসান ইবনু আলী ছিলেন (দৈহিক কাঠামোয়) তার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। পূর্বে (২৬৭৬) নং হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আবূ বাকর আস-সিদ্দীক, ইবনু আব্বাস ও ইবনুয যুবাইর (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন, আমি ইবনু যিয়াদের নিকট হাযির ছিলাম। সে সময় আল-হুসাইন (রাযিঃ)-এর শির (কারবালা হতে) এনে হাযির করা হল। সে তার নাকে ছড়ি মারতে মারতে (ব্যঙ্গোক্তি করে) বলতে লাগল, এর ন্যায় সুশ্ৰী আমি কাউকে তো দেখিনি! বৰ্ণনাকারী বলেন, সে সময় আমি বললাম, সতর্ক হও! লোকদের মাঝে (দৈহিক কাঠামোয়) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আল-হুসাইন ইবনু আলীর তুলনায় বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ আর কেউ ছিল না। সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৬১৭০), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
হাদিস 3779 — Jami At Tirmidhi 49:178
দাঈফদাঈফহাসানদাঈফ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هَانِئِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ الْحَسَنُ أَشْبَهُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا بَيْنَ الصَّدْرِ إِلَى الرَّأْسِ وَالْحُسَيْنُ أَشْبَهُ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَا كَانَ أَسْفَلَ مِنْ ذَلِكَ . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বুক হতে মাথা পর্যন্ত অংশের সাথে আল-হাসানের শরীরের সাদৃশ্য ছিল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বুক হতে পা পর্যন্ত নীচের অংশের সাথে আল-হুসাইনের শরীরের সাদৃশ্য ছিল। যঈফ, মিশকাত (৬১৬১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। উমারাহ ইবনু উমাইর (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ ও তার সাথীদের ছিন্ন মস্তক এনে কূফার আর-রাহবা নামক জায়গায় মসজিদে স্তুপিকৃত করা হলে আমি সেখানে গেলাম। সে সময় লোকেরা এসে গেছে, এসে গেছে বলে চেচামেচি করতে লাগল। দেখা গেল একটি সাপ এসে ঐসব মাথাসমূহের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ছিল। এমনকি সাপটি উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদের নাকের ছিদ্রে প্রবেশ করে কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করল, তারপর বের হয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। লোকেরা আবারও চীৎকার করে বলতে লাগলো, এসে গেছে এসে গেছে। এরূপে সাপটি দু’বার অথবা তিনবার এসে তার নাকের ছিদ্রে ঢুকে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর বের হয়ে যায়। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার মা আমাকে প্রশ্ন করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তুমি কখন যাবে? আমি বললাম, আমি এতদিন হতে তার নিকট উপস্থিত পরিত্যাগ করেছি। এতে তিনি আমার উপর নারাজ হন। আমি তাকে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আমাকে মাগরিবের নামায আদায় করতে ছেড়ে দিন। তাহলে আমি তার কাছে আমার ও আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করব। অতএব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমি হাযির হয়ে তার সাথে মাগরিবের নামায আদায় করলাম। তারপর তিনি নফল নামায আদায় করতে থাকলেন, অবশেষে তিনি এশার নামায আদায় করলেন। তারপর তিনি বাড়ির দিকে যাত্রা করলেন এবং আমি তার পিছু পিছু গেলাম। তিনি আমার আওয়াজ শুনতে পেলেন এবং প্রশ্ন করলেন, তুমি কে, হুযাইফাহ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তোমার কি দরকার, আল্লাহ তা'আলা তোমাকে এবং তোমার মাকে ক্ষমা করুন। তিনি বললেনঃ একজন ফেরেশতা যিনি আজকের এ রাতের আগে কখনও পৃথিবীতে অবতরণ করেননি। তিনি আমাকে সালাম করার জন্য এবং আমার জন্য এ সুখবর বয়ে আনার জন্য আল্লাহ তা'আলার কাছে অনুমতি চেয়েছেনঃ ফাতিমাহ জান্নাতের নারীদের নেত্রী এবং হাসান ও হুসাইন জান্নাতের যুবকদের নেতা। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (২০৫, ২০৬), মিশকাত (২১৬২), সহীহাহ (২৭৮৫)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র ইসরাঈলের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতেই জানতে পেরেছি।
। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইনকে দেখে বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি এ দু’জনকে মুহাব্বাত করি, সুতরাং তুমিও তাদেরকে মুহাব্বাত কর। সহীহঃ সহীহাহ (২৭৮৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আদী ইবনু সাবিত (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আলীর পুত্র হাসানকে তার কাধে তুলে নিয়ে আমি বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! একে আমি মুহাব্বাত করি, অতএব তাকে তুমিও মুহাব্বাত কর। সহীহঃ সহীহাহ (২৭৮৯), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এটা ফুযাইল ইবনু মারযুক (রহঃ) বর্ণিত হাদীস অপেক্ষা বেশি সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা আলীর ছেলে হাসানকে স্বীয় কাধে বহন করছিলেন। এক লোক বলেন, হে বালক! কতই না উত্তম বাহনে তুমি আরোহণ করেছ (তার মন্তব্য শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে কতই না উত্তম আরোহী। যঈফ, মিশকাত (৬১৬৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু আলোচ্য সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। হাদীসের কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম যামআ ইবনু সালিহকে তার স্মৃতিশক্তির কারণে যঈফ বলেছেন।