। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীকে সাতজন করে প্রতিনিধি দান করা হয়েছে এবং আমাকে দান করা হয়েছে চৌদ্দজন। আমরা বললাম, তারা কারা? তিনি বললেনঃ আমি (আলী), আমার দুই পুত্র (হাসান ও হুসাইন), জাফর, হামযা, আবূ বাকর, উমার, মুসআব ইবনু ইবনু মাসউদ (রাঃ)। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৬২৪৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। এ হাদীস আলী (রাঃ) হতে মাওকৃফরূপেও বর্ণিত হয়েছে।
। জাবির ইবনু আবদিল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি তার বিদায় হজ্জে আরাফার দিন তার কাসওয়া নামক উষ্ট্রীতে আরোহিত অবস্থায় বক্তৃতা দিতে দেখেছি এবং তাকে বলতে শুনেছিঃ হে লোক সকল! নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে আমি এমন জিনিস রেখে গেলাম, তোমরা তা ধারণ বা অনুসরণ করলে কখনও পথভ্রষ্ট হবে নাঃ আল্লাহ তা'আলার কিতাব (আল-কুরআন) এবং আমার ইতরাত অর্থাৎ আমার আহলে বাইত। সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৬১৪৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আবূ যার, আবূ সাঈদ, যাইদ ইবনু আরকাম ও হুযইফাহ ইবনু উসাইদ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। যাইদ ইবনুল হাসান হতে সাঈদ ইবনু সুলাইমান ও একাধিক বিশেষজ্ঞ আলিম হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পোষ্য উমার ইবনু আবী সালামাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ)-এর ঘরে এ আয়াত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “হে নবীর পরিবার। আল্লাহ তা'আলা তো চান তোমাদের হতে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণভাবে পবিত্র করতে”– (সূরা আহযাব ৩৩)। সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাহ, হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ)-কে ডাকেন এবং তাদেরকে একখানা চাদরে আবূত করেন। তার পেছনে আলী (রাযিঃ) ছিলেন। তিনি তাকেও চাদরে ঢেকে নেন, তারপর বললেনঃ “হে আল্লাহ! এরা আমার আহলে বাইত। অতএব তুমি তাদের হতে অপবিত্রতা অপসারণ করে দাও এবং তাদেরকে উত্তমভাবে পবিত্র কর”। সে সময় উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত কি? তিনি বললেনঃ তুমি স্বস্থানে আছ এবং তুমি কল্যাণের মাঝেই আছ। সহীহঃ ৩২০৫ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে উম্মু সালামাহ, মাকিল ইবনু ইয়াসার, আবূল হামরা ও আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি উপর্যুক্ত সনদে হাসান গারীব।
। যাইদ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে আমি এমন জিনিস রেখে গেলাম যা তোমরা শক্তরূপে ধারণ (অনুসরণ) করলে আমার পরে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তার একটি অন্যটির তুলনায় বেশি মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণঃ আল্লাহ তা'আলার কিতাব যা আকাশ হতে মাটি পর্যন্ত দীর্ঘ এক রশি এবং আমার পরিবার অর্থাৎ আমার আহলে বাইত। এ দুটি কখনও আলাদা হবে না কাওসার নামক ঝর্ণায় আমার সঙ্গে একত্রিত না হওয়া পর্যন্ত। অতএব তোমরা লক্ষ্য কর আমার পরে দু'জনের সঙ্গে তোমরা কিভাবে আচরণ কর। সহীহঃ মিশকাত (৬১৪৪), রাওযুন নায়ীর (৯৭৭, ৯৭৮), সহীহাহ (৪/৩৫৬-৩৫৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে মহব্বত কর। কেননা তিনি তোমাদেরকে তার নিয়ামাতরাজি খাবার খাওয়াচ্ছেন। আর আল্লাহ্ তা'আলার মহব্বতে তোমরা আমাকেও মহব্বত এবং আমার মহব্বতে আমার আহলে বাইতকেও মহব্বত কর। যঈফ, তাখরীজ ফিকহিস সীরাহ (২৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উন্মাতের মাঝে আবূ বাকর আমার প্রতি সবচাইতে বেশী দয়ালু। আল্লাহ তা'আলার বিধান প্রয়োগে উমার তাদের মাঝে সবচাইতে বেশী কঠোর। তাদের মাঝে উসমান ইবনু আফফান সবচাইতে বেশী লাজুক। তাদের মাঝে হালাল ও হারাম প্রসঙ্গে মুআয ইবনু জাবাল সবচাইতে বেশী ওয়াকিফহাল। তাদের মাঝে ফারায়িয (উত্তরাধিকার সম্পর্কিত বিধান) সম্বন্ধে যাইদ ইবনু সাবিত সবচাইতে বেশী অভিজ্ঞ। তাদের মধ্যে অধিক উত্তমরূপে কুরআন মাজীদ পাঠকারী উবাই ইবনু কাব। আর প্রত্যেক উম্মাতের একজন সবচাইতে বেশী বিশ্বস্ত লোক থাকে। এ উম্মাতের সর্বাধিক বিশ্বস্ত লোক আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৫৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদেই কাতাদাহর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে জেনেছি। এ হাদীস আবূ কিলাবাহ আনাস (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ কিলাবার হাদীসই বেশী প্রসিদ্ধ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মাঝে আবূ বাকর (রাযিঃ) হলেন আমার উম্মাতের প্রতি সর্বাধিক দয়ালু, তাদের মধ্যে আল্লাহর বিধান প্রয়োগে সর্বাধিক কঠোর হলেন উমার, তাদের মাঝে সর্বাধিক লজ্জাশীল হলেন উসমান, তাদের মাঝে সর্বাধিক উত্তম কুরআন পাঠকারী হলেন উবাই ইবনু কাব, তাদের মাঝে ফারাইয সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত হলেন যাইদ ইবনু সাবিত এবং তাদের মাঝে হালাল-হারাম সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত হলেন মুআয ইবনু জাবাল, সাবধান প্রত্যেক উন্মাতের মাঝেই একজন সর্বাধিক বিশ্বস্ত লোক আছে। আমার উম্মাতের মাঝে সর্বাধিক বিশ্বস্ত লোক হলেন আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ্। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ১৫৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ)-কে বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা আমাকে হুকুম দিয়েছেন আমি তোমাকে যেন “লাম ইয়াকুনিল্লায়ীনা কাফারূ" সূরাটি পাঠ করে শুনাই। উবাই (রাযিঃ) প্রশ্ন করলেন, তিনি কি আমার নামোল্লেখ করেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। এতে উবাই (রাযিঃ) কেঁদে ফেলেন। সহীহঃ সহীহাহ (২৯০৮), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী : আমাকে বললেনঃ ..... অতঃপর অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
। উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা আমাকে আপনার নিকট কুরআন পাঠ করতে আদেশ করেছেন, অতঃপর তিনি পাঠ করলেন, “আহলে কিতাবদের মাঝে কাফির নয়" আর তাতে পাঠ করলেন "আল্লাহর নিকট দ্বীনদার লোক হলেন একনিষ্ঠ মুসলিম ব্যক্তি। ইয়াহুদীরাও নয় নাসূরানীরাও নয়। যে ব্যক্তি ভাল আমল করবেন তিনি তা অস্বীকার করবেন না। তিনি আরও পাঠ করলেন, ইবনু আদমের নিকট যদি এক উপত্যকা সম্পদ থাকে তাহলে সে দ্বিতীয় উপত্যকা কামনা করবে, আর যদি দ্বিতীয় উপত্যকা থাকে, তাহলে সে তৃতীয় উপত্যকা কামনা করে। মাটি ব্যতীত আর কিছুতেই ইবনু আদমের পেট ভরবে না। যে তওবা করবে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান। এটি অন্য সূত্রেও বর্ণিত আছে। তিনি উবাই ইবনু কা'ব হতে বর্ণনা করেছেন। তাতে আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা'বকে বললেন, আল্লাহ আমাকে আদেশ করেছেন যেন আপনার নিকট কুরআন পাঠ করি। কাতাদাহ্ আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই (রাযিঃ)-কে বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা আমাকে আপনার নিকট কুরআন পাঠ করতে আদেশ করেছেন।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যমানায় চারজন ব্যক্তি কুরআন সংকলন করেন, তারা সকলেই আনসারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেনঃ উবাই ইবনু কাব, মুআয ইবনু জাবাল, যাইদ ইবনু সাবিত ও আবূ যাইদ (রাযিঃ)। আমি (কাতাদাহ্) আনাস (রাযিঃ)-কে বললাম, আবূ যাইদ কে? তিনি বললেন, আমার একজন চাচা। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।