। ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরে তোমরা আমার সাহাবীদের মাঝে আবূ বাকর ও উমারের অনুসরণ কর এবং আম্মারের অনুসৃত পথ অবলম্বন কর আর ইবনু মাসউদের ওয়াসীয়াত শক্তভাবে ধারণ কর। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৯৭)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে ইবনু মাসউদের হাদীস হিসেবে এটি হাসান গারীব। কেননা এ হাদীস আমরা শুধু ইয়াহইয়া ইবনু সালামাহ ইবনু কুহাইলের রিওয়ায়াত হিসেবে জানতে পেরেছি। ইয়াহইয়া ইবনু সালামাহ হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। আবূয যারা নামে দুই লোক রয়েছেন। তাদের একজনের নাম ‘আবদুল্লাহ ইবনু হানী এবং অন্যজন যার হতে শুবাহ ও সাওরী হাদীস রিওয়ায়াত করেন। ইবনু উয়াইনাহর নাম 'আমর ইবনু 'আমর। তিনি ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-এর শীষ্য আবূল আহওয়াসের ভাইয়ের ছেলে।
। আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাযিঃ) বলেন, আমি ও আমার সহোদর ইয়ামান হতে (মাদীনায়) আসা মাত্র আমরা ধারণা করতাম যে, 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারের একজন সদস্য। কেননা আমরা তাকে ও তার মাতাকে প্রায়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসা-যাওয়া করতে দেখতাম। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি এই সনদ সূত্রে হাসান সহীহ গারীব। সুফইয়ান সাওরীও হাদীসটি আবূ ইসহাকের সনদে রিওয়ায়াত করেছেন।
হাদিস 3807 — Jami At Tirmidhi 49:207
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Bukhari
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ أَتَيْنَا عَلَى حُذَيْفَةَ فَقُلْنَا حَدِّثْنَا مَنْ، بِأَقْرَبِ النَّاسِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَدْيًا وَدَلاًّ فَنَأْخُذَ عَنْهُ وَنَسْمَعَ مِنْهُ قَالَ كَانَ أَقْرَبَ النَّاسِ هَدْيًا وَدَلاًّ وَسَمْتًا بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ابْنُ مَسْعُودٍ حَتَّى يَتَوَارَى مِنَّا فِي بَيْتِهِ وَلَقَدْ عَلِمَ الْمَحْفُوظُونَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ ابْنَ أُمِّ عَبْدٍ هُوَ مِنْ أَقْرَبِهِمْ إِلَى اللَّهِ زُلْفَى . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা হুযাইফাহ্ (রাযিঃ)-এর কাছে এসে বললাম, আপনি আমাদেরকে এরূপ একজন ব্যক্তির সন্ধান দিন, যিনি আচার-আচরণে অপরদের চাইতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বেশি কাছের, যাতে আমরা তার নিকট দ্বীন শিখতে পারি এবং হাদীস শুনতে পারি। হুজাইফাহ (রাযিঃ) বলেন, আচার-আচরণে ও চাল-চলনে ব্যক্তিদের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনেক বেশি নিকটবর্তী হলেন ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)। তিনি আমাদের মাঝ হতে অন্তরাল হয়ে তার ঘরে অবস্থান করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশ্বস্ত সাহাবীগণ ভালভাবে অবগত আছেন যে, ইবনু উম্মু আবদ (আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) তাদের প্রত্যেকের তুলনায় আল্লাহ তা’আলার বেশি নৈকট্যলাভকারী। সহীহঃ তা’লীকাত আল-হাসসান (৭০২৩), বুখারী সংক্ষিপ্তাকারে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যদি তাদের কাউকে পরামর্শ ছাড়া দলনেতা নিযুক্ত করতাম, তাহলে ইবনু উম্মি আবদকে দলনেতা নিযুক্ত করতাম। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৩৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু হারিস হতে আলী (রাঃ) সূত্রে এ হাদীস জেনেছি।
হাদিস 3809 — Jami At Tirmidhi 49:209
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ كُنْتُ مُؤَمِّرًا أَحَدًا مِنْ غَيْرِ مَشُورَةٍ لأَمَّرْتُ ابْنَ أُمِّ عَبْدٍ " .
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি পরামর্শ ছাড়া কাউকে নেতার পদ দিলে ইবনু উম্মি আবদকেই নেতার পদ দিতাম। যঈফ, দেখুন পূর্বের হাদীস
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা চার লোকের কাছ হতে কুরআন শিক্ষা করঃ ইবনু মাসউদ, উবাই ইবনু কাব, মু'আয ইবনু জাবাল ও হুযাইফাহর মুক্ত দাস সালিম হতে। সহীহঃ সহীহাহ (১৮২৭), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। খাঈসামাহ্ ইবনু আবূ সাবরাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি মাদীনায় এসে আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা করলাম যে, তিনি যেন আমাকে একজন সৎকর্মপরায়ণ সঙ্গী জুটিয়ে দেন। অতএব তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-কে আমার ভাগ্যে জুটিয়ে দিলেন। তার পাশে বসে আমি তাকে বললাম, আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা করেছিলাম যে, তিনি যেন আমাকে একজন সৎকসর্মপরায়ণ সঙ্গী মিলিয়ে দেন। অতএব আপনি আমার জন্য সহজলভ্য হয়েছেন। তিনি (আমাকে) প্রশ্ন করেন, তুমি এসেছ কোথা হতে? আমি বললাম, আমি কুফার অধিবাসী। আমি মঙ্গলের সন্ধানে এসেছি এবং তাই খোজ করছি। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কি সাদ ইবনু মালিক (রাযিঃ), যার দুআ কবুল হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূর পানি ও জুতা বহনকারী ইবনু মাসউদ (রাযিঃ), রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন তথ্যের খাজাঞ্চী হুযাইফাহ্ (রাযিঃ), আম্মার (রাযিঃ) যাকে আল্লাহ তার নবীর ভাষায় শাইতানের আক্রমণ হতে নিরাপত্তা দান করেছেন এবং দুই কিতাবধারী সালমান (রাযিঃ) প্রমুখ সাহাবীগণ বিদ্যমান নেই? কাতাদাহ (রাহঃ) বলেন, দুই কিতাব হল ইনজীল ও কুরআন। সহীহঃ বুখারী (৩৭৪২, ৩৭৪৩) হুযাইফাহ হতে, এ হাদীসদ্বয়ে সালমানের উল্লেখ নেই। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। খাঈসামাহ হলেন আবদুর রহমান ইবনু আবী সাবরার পুত্র। তাকে তার দাদার সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়েছে।
। হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনি কাউকে খালীফা (স্থলাভিসিক্ত) নিযুক্ত করে যেতেন। তিনি বললেনঃ আমি কাউকে তোমাদের খালীফা নিযুক্ত করে গেলে এবং তোমরা তার অবাধ্যাচারী হলে তোমাদেরকে সাজা দেয়া হবে। সুতরাং হুযাইফা (রাঃ) তোমাদের নিকট যা বর্ণনা করে তাকে সত্য বলে গ্রহণ কর এবং ইবনু মাসউদ (রাঃ) তোমাদেরকে যা কিছু পাঠ করায় তা পাঠ করে নাও। যঈফ, মিশকাত (৬২৩২) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রাহমান বলেন, আমি ইসহাক ইবনু ঈসাকে বললাম, লোকেরা বলেন, এ হাদীস আবূ ওয়াইল হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, না, বরং তা ইনশাআল্লাহ যাযান থেকে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। এটি শারীকের বর্ণিত হাদীস
। উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি উসামা (রাঃ)-এর মাহিনা নির্ধারণ করলেন তিন হাজার পাঁচ শত দিরহাম এবং আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-এর মাহিনী নির্ধারণ করলেন তিন হাজার। সুতরাং আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) তার পিতাকে বললেন, আপনি উসামাকে কেন আমার উপর স্থান দিলেন? আল্লাহর কসম! সে কোন যুদ্ধে আমাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। উমার (রাঃ) বললেন, তোমার পিতার চাইতে (তার পিতা) যাইদ (রাঃ) ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশি প্রিয়পাত্র। আর তোমার চাইতে উসামা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশি পছন্দনীয় ব্যক্তি। তাই আমি আমার পছন্দনীয় ব্যক্তির উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পছন্দনীয় ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। যঈফ, মিশকাত (৬১৬৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
। সালিম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে তার বাবার সনদে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমরা যাইদ (রাযিঃ)-কে যাইদ ইবনু হারিসাহ না বলে বরং যাইদ ইবনু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে সম্বোধন করতাম। অবশেষে এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ): “তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃ-পরিচয়ে ডাকো, এটাই আল্লাহ তা'আলার দৃষ্টিতে বেশি ন্যায়সঙ্গত”– (সূরা আহযাব ৫)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। এটি ৩২০৯ নং হাদীসের পুনরুক্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।