। আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যাতুস সালাসিল যুদ্ধে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করেন। আমর (রাযিঃ) বলেন ,আমি তার নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট কোন লোক সর্বাধিক প্রিয়? তিনি বললেন, আয়িশাহ। আমি বললাম, পুরুষদের মাঝে কে? তিনি বললেনঃ তার বাবা। সহীহঃ আত-তা’লীক 'আলা আল-ইহসান (৪৫২৩), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আমর ইবনুল ‘আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, আপনার নিকট সর্বাধিক প্রিয় কোন ব্যক্তি? তিনি বললেনঃ আয়িশাহ। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, পুরুষদের মাঝে কে? তিনি বললেনঃ তার পিতা। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং ইসমাঈল-কাইস হতে এই সনদে বর্ণিত হাদীস হিসেবে গারীব।
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাবতীয় খাদ্যের উপর যেরূপ সারীদের (শোরবাতে ভেজানো রুটি) মর্যাদা, সকল স্ত্রীলোকের উপর তেমন আয়িশাহর মর্যাদা। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩২৮১), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ ও আবূ মূসা (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু মামার হলেন আবূ তুওয়ালা আল-আনসারী, মাদীনার অধিবাসী এবং নির্ভরশীল বর্ণনকারী। মালিক ইবনু আনাস তার নিকট হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাযিঃ) বলেন, তিনি (আয়িশাহ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী দুনিয়াতে এবং আখিরাতেও। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম অনুরূপ, দেখুন হাদীস নং (৩৮৮০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আলী (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! লোকের মাঝে কে আপনার সর্বাধিক প্রিয়? তিনি বললেন, আয়িশাহ। পুনরায় প্রশ্ন করা হল, পুরুষদের মাঝে কে? তিনি বললেনঃ তার পিতা। সহীহঃ তা’লীক 'আলা আল-ইহসান। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং আনাস (রাযিঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সনদে গারীব।
হাদিস 3891 — Jami At Tirmidhi 49:291
হাসানহাসানহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ الْعَنْبَرِيُّ أَبُو غَسَّانَ، قَالَ حَدَّثَنَا سَلْمُ ابْنُ جَعْفَرٍ وَكَانَ ثِقَةً عَنِ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ قِيلَ لاِبْنِ عَبَّاسٍ بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ مَاتَتْ فُلاَنَةُ لِبَعْضِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَجَدَ فَقِيلَ لَهُ أَتَسْجُدُ هَذِهِ السَّاعَةَ فَقَالَ أَلَيْسَ قَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا رَأَيْتُمْ آيَةً فَاسْجُدُوا " . فَأَىُّ آيَةٍ أَعْظَمُ مِنْ ذَهَابِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
। ইকরিমাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-কে ফজর নামাযের পর বলা হল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অমুক স্ত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সিজদা্য় পড়ে গেলেন। তাকে বলা হল, আপনি এ সময সিজদা করলেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননিঃ তোমরা যখন কোন নিদর্শন দেখ, সে সময় সিজদা কর? অতএব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের দুনিয়া হতে বিদায়ের চেয়ে বড় নিদর্শন আর কি আছে? হাসানঃ সহীহ আবূ দাউদ (১০৮১), মিশকাত (১৪৯১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদসূত্রে হাদীসটি অবগত হয়েছি।
হাদিস 3892 — Jami At Tirmidhi 49:292
দাঈফ Isnaadদাঈফ Isnaadদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا هَاشِمٌ، هُوَ ابْنُ سَعِيدٍ الْكُوفِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا كِنَانَةُ، قَالَ حَدَّثَتْنَا صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَىٍّ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ بَلَغَنِي عَنْ حَفْصَةَ وَعَائِشَةَ كَلاَمٌ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " أَلاَ قُلْتِ فَكَيْفَ تَكُونَانِ خَيْرًا مِنِّي وَزَوْجِي مُحَمَّدٌ وَأَبِي هَارُونُ وَعَمِّي مُوسَى " . وَكَانَ الَّذِي بَلَغَهَا أَنَّهُمْ قَالُوا نَحْنُ أَكْرَمُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا . وَقَالُوا نَحْنُ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَبَنَاتُ عَمِّهِ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ .هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ صَفِيَّةَ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ هَاشِمٍ الْكُوفِيُّ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِذَلِكَ الْقَوِيِّ .
। সফিয়্যা বিনতু হুয়াই (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন, হাফসা ও আইশা (রাঃ) হতে আমার সম্পর্কে কিছু কথা আমার নিকট পৌছল। ঐ বিষয়টি আমি তার নিকট উল্লেখ করলাম, তিনি বললেনঃ তুমি একথা কেন বললেনা যে, তোমরা আমার চেয়ে কিভাবে উত্তম হতে পার? বাস্তব অবস্থা হল, আমার স্বামী মুহাম্মাদ, পিতা হারুন আর চাচা হল মূসা আলাইহিস সালাম সফিয়্যার নিকট যে কথা পৌছেছিল তা এই যে, তারা বলেছিল আমরা তার চেয়ে সম্মানিত, কেননা আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আবার তার চাচাত বোন। সনদ দুর্বল, দেখুন আর রাদ্দু আলাল হাবাশী, হাদীস নং ৩৩৮৫, পৃঃ (৩৫-৩৮) এ অনুচ্ছেদে আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র হাশিম আল কুফীর সূত্রেই সুফিয়া (রাঃ)-এর হাদীসটি জেনেছি। এর সনদ সূত্র মযবুত নয়।
হাদিস 3893 — Jami At Tirmidhi 49:293
সহিহসহিহহাসানহাসান
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَثْمَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ يَعْقُوبَ الزَّمْعِيُّ، عَنْ هَاشِمِ بْنِ هَاشِمٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ وَهْبِ بْنِ زَمْعَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى ا��له عليه وسلم دَعَا فَاطِمَةَ عَامَ الْفَتْحِ فَنَاجَاهَا فَبَكَتْ ثُمَّ حَدَّثَهَا فَضَحِكَتْ قَالَتْ فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَأَلْتُهَا عَنْ بُكَائِهَا وَضَحِكِهَا . قَالَتْ أَخْبَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ يَمُوتُ فَبَكَيْتُ ثُمَّ أَخْبَرَنِي أَنِّي سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ إِلاَّ مَرْيَمَ بِنْتَ عِمْرَانَ فَضَحِكْتُ . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
। উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, মাক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাহকে ডেকে তার সাথে গোপনে কিছু কথা বললেন। এতে ফাতিমাহ কেঁদে ফেললেন। তারপর তিনি কিছু কথা বললে ফাতিমাহ হাসলেন। উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি ফাতিমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইনতিকালের পরে তার হাসি-কান্নার কারণ জানতে চাই। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জানান যে, খুব তাড়াতাড়ি তিনি মৃত্যুবরণ করবেন, তাই আমি কেঁদেছি। তারপর তিনি আমাকে জানান যে, মারইয়াম বিনতু ইমরান ছাড়া জান্নাতের নারীদের নেত্রী হব, তাই আমি হেসেছি। সহীহঃ ৩৮৭৩ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উপর্যুক্ত সনদে গারীব।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, সাফিয়্যাহ (রাযিঃ)-এর কানে পৌছে যে, হাফসাহ (রাযিঃ) তাকে ইয়াহুদীর মেয়ে বলে ঠাট্টা করেছেন। তাই তিনি কাঁদছিলেন। তার ক্ৰন্দনরত অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে প্রবেশ করেন। তিনি বললেনঃ তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন, হাফসাহ আমাকে ইয়াহূদীর মেয়ে বলে তিরস্কার করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অবশ্যই তুমি একজন নবীর কন্য, তোমার চাচা অবশ্যই একজন নবী এবং তুমি একজন নবীর সহধর্মিণী। অতএব কিভাবে হাফসাহ তোমার উপরে অহংকার করতে পারে? তারপর তিনি বললেনঃ হে হাফসাহ আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর। সহীহঃ মিশকাত (৬১৮৩)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।