। আবদুল্লাহ ইবনু আদী ইবনু হামরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি মাক্কার একটি ক্ষুদ্র টিলার উপর দণ্ডায়মানরত দেখলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! তুমি নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলার সকল ভূমির মাঝে সর্বোত্তম এবং আল্লাহ তা'আলার নিকট তুমিই সবচেয়ে প্রিয়ভূমি। আমাকে যদি তোমার বুক হতে (জোরপূর্বক) বিতাড়িত না করা হত তবে আমি কখনও (তোমায় ছেড়ে) চলে যেতাম না। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩১০৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। এ হাদীস ইউনুস যুহরী হতে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু আমর (রাহঃ) আবূ সালামাহ্ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদে এটি রিওয়ায়াত করেছেন। আমার মতে আবূ সালামার বরাতে আব্দুল্লাহ ইবনু আদী ইবনু হামরার সনদে যুহরী হতে বর্ণিত অনেক বেশি সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কা ভূমিকে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ কতই না পবিত্র ও উত্তম শহর তুমি এবং আমার নিকট তুমি কতই না প্রিয়। আমার স্বজাতি যদি তোমার হতে আমাকে বিতাড়িত না করত তবে আমি তোমাকে ব্যতীত অন্য কোথাও বসবাস করতাম না। সহীহঃ মিশকাত (হাঃ ২৭২৪)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে সালমান! আমার প্রতি হিংসা করো না, তাহলে তুমি তোমার দীনকে টুকরো করে ফেলবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার প্রতি কি করে হিংসা পোষণ করতে পারি, অথচ আল্লাহ তা'আলা আপনার মাধ্যমেই আমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আরবের প্রতি হিংসা পোষণ করাই হচ্ছে আমার প্রতি হিংসা পোষণ। যঈফ, যঈফা (২০২০), মিশকাত (৫৯৮৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু আবূ বদর শুজা ইবনুল ওয়ালীদের সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ ইসমাঈলকে বলতে শুনেছি আবূ যাবইয়ান সালমানের সাক্ষাৎ পান নাই। সালমান (রাঃ) আলী (রাঃ)-এর পূর্বেই ইন্তিকাল করেছেন।
। উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আরবদের সাথে ঠকবাজী করবে সে আমার শাফাআতের সীমায় প্রবেশ করবে না এবং সে আমার ভালোবাসাও অর্জন করতে পারবে না। মাওযূ, যঈফা (৫৪৫), মিশকাত (৫৯৯০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু হুসাইন-ইবনু উমার আল-আহমাসী হতে মুখারিক সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। হুসাইন মুহাদ্দীসগণের মতে তেমন মজবুত রাবী নন।
। মুহাম্মাদ ইবনু আবূ রাযীন (রাহঃ) হতে তার মায়ের সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ উম্মুল হাররের অবস্থা এই ছিল যে, আরবের কোন লোক ইন্তিকাল করলে তিনি তাতে গভীরভাবে শোকাভিভূত হতেন। তাকে বলা হল, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, আরবের কোন লোক ইন্তিকাল করলে আপনি তাতে গভীরভাবে শোকাভিভূত হন। তিনি বললেন, আমি আমার মনিবকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরবের লোকদের মৃত্যু হচ্ছে কিয়ামত কাছাকাছি হওয়ার লক্ষণ। যঈফ, যঈফা (৪৫১৫) মুহাম্মাদ ইবনু আবী রাযীন বলেনঃ উম্মুল হারীরের মনিব হলেন তালহা ইবনু মালিক। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু সুলাইমান ইবনু হারবের রিওয়ায়াত হিসেবে এটি জেনেছি।
। জাবির ইবনু আবদিল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে, তিনি উম্মু শারীক (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা দাজ্জালের ভয়ে পলায়ন করবে, অবশেষে তারা পাহাড় পর্বতে গিয়ে আশ্রয় নিবে। উম্মু শারীক প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে সময় আরবরা কোথায় থাকবে? তিনি বললেনঃ সে সময় তারা সংখ্যায় অতি নগণ্য হবে। সহীহঃ সহীহাহ (৩০৭৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সাম হল আরবদের আদিপিতা, ইয়াফিস হল রূমীদের (তুর্কীদের) আদিপিতা এবং হাম হল আবিসিনীয়দের আদিপিতা। যইফ, যঈফা (৩৬৩৮) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। ইয়াফিস, ইয়াফিত ও ইয়াফাস ইত্যাদি উচ্চারণও আছে।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে অনারবদের উল্লেখ করা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তাদেরকে অথবা তাদের কিছুকে তোমাদের চেয়ে অথবা তোমাদের কিছুর চেয়ে নির্ভরযোগ্য মনে করি। যঈফ, মিশকাত (৬২৪৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু আবূ বাকর ইবনু আইয়াশের সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। সালিহ হলেন মিহরানের পুত্র, আমর ইবনু হুরাইসের আযাদ গোলাম।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আমরা উপস্থিত ছিলাম। সে সময় সূরা আল-জুমুআহ অবতীর্ণ হয় এবং তিনি তা পাঠ করেন। তিনি ‘ওয়া আখারীনা মিনহুম লাম্মা ইয়ালহাকু বিহিমি” (এবং তাদের অন্যেরাযারা এখনও তাদের সঙ্গে একত্রিত হয়নি) পর্যন্ত পৌছলে এক ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এসব লোক কারা, এখনো যারা আমাদের সঙ্গে একত্রিত হয়নি? তিনি তাকে কিছুই বললেন না। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, সালমান আল-ফারিসী (রাযিঃ) আমাদের মধ্যে হাযির ছিলেন। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাতখানা সালমান (রাযিঃ)-এর উপর রেখে বললেনঃ সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন! সুরাইয়্যাহ্ তারকায় ঈমান থাকলেও এদের (অনারবদের) কিছু লোক তা নিয়ে আসবে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। এটা ৩৩১০ নং হাদীসের পুনরুক্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। হাদীসটি একাধিক সূত্রে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে। আবূল গাইস এর নাম সালিম, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মুতী এর মুক্তদাস মাদীনার অধিবাসী।
। যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামান দেশের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ “হে আল্লাহ! তাদের মন (আমাদের দিকে) ফিরিয়ে দিন এবং আমাদের সা ও মুদ-এ বারাকাত দান করুন”। হাসান সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৬২৬৩), ইরওয়া (৪/১৭৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব। আমরা শুধুমাত্র ইমরান আল-কাত্তানের সনদেই হাদীসটি জানতে পেরেছি।