। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের নিকট ইয়ামানবাসী এসেছে। তারা খুব নরম মন ও কোমল হৃদয়ের লোক। ঈমান ইয়ামান হতে এসেছে এবং প্রজ্ঞাও ইয়ামান হতে এসেছে। সহীহঃ রাওযুন নায়ীর (১০৩৪), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস ও ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাজত্ব কুরাইশদের মাঝে, বিচার-বিধান আনসারদের মধ্যে, (সুমধুর সুরে) আযান হাবশীদের মাঝে এবং আমানতদারি আযদ অর্থাৎ ইয়ামানবাসীদের মাঝে। সহীহঃ সহীহাহ (১০৮৩)। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি মু’আবিয়াহ ইবনু সালিহ হতে, তিনি আবূ মারইয়াম আল-আনসারী হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে এই সনদে উপর্যুক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন, তবে মারফুরূপে নয়। এ হাদীস যাইদ ইবনু হুবাবের বর্ণিত হাদীসটির তুলনায় অনেক বেশি সহীহ।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল আযদ (ইয়ামানীরা) হল দুনিয়ার বুকে আল্লাহর সহায়তাকারী। লোকেরা তাদেরকে দাবিয়ে রাখতে চাইবে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তা হতে দিবেন না, বরং তিনি তাদেরকে সমুন্নত করবেন। মানুষের সামনে অবশ্যই এমন এক যামানা আসবে, যখন কোন ব্যক্তি বলবে, হায় যদি আমার পিতা ইয়ামানী (আযদী) হতেন? হায়, যদি আমার মাতা ইয়ামানী (আযদী) গোত্রীয় হতেন? যঈফ, যঈফা (২৪৬৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই হাদীসটি প্রসঙ্গে জেনেছি। আনাস (রাঃ) হতে উপরোক্ত সূত্রে হাদীসটি মাওকুফ হিসেবেও বর্ণিত আছে। আমাদের মতে মাওকুফ বর্ণনাটিই অনেক বেশি সহীহ।
হাদিস 3938 — Jami At Tirmidhi 49:338
সহিহ Isnaad Mauqufসহিহ Isnaad Mauqufহাসান SahihIsnaad Sahih
। গাইলান ইবনু জারীর (রহঃ) বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, আমরা আযদ গোত্রভুক্ত না হলে উত্তম মানুষই হতাম না। সনদ সহীহঃ মাওকুফ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে হাযির থাকা অবস্থায় তার নিকটে এক লোক আসে। আমার ধারণা লোকটি কাইস গোত্রীয়। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! হিমইয়ার গোত্রকে অভিসম্পাত করুন। তিনি তার হতে অন্য দিকে মুখ সরিয়ে নেন। সে অপর পাশ দিয়ে এলে তিনি এবারও তার হতে মুখ সরিয়ে নেন। আবার সে অপর পাশ দিয়ে এলে তিনি এবারও তার হতে মুখ সরিয়ে নেন। লোকটি অপর পাশ দিয়ে এলে এবারও তিনি তার হতে মুখ সরিয়ে নেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হিমূইয়ার গোত্রের প্রতি আল্লাহ তা'আলা দয়া করুন, তাদের মুখে সালাম (শান্তি), তাদের হাতে খাদ্যসম্ভার এবং তারা নিরাপত্তা ও ঈমানের ধারক। মাওযু, যঈফা (৩৪৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু আবদুর রাযযাকের সূত্রে উপরোক্তভাবে এ হাদীস জেনেছি। আর মীনাআর কাছ হতে বেশিরভাগ মুনকার হাদীস বর্ণিত হয়ে থাকে।
। আবূ আইউব আল-আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আনসারগণ এবং মুযাইনাহ্, জুহাইনাহ, আশজা', গিফার গোত্রগুলো ও বানু আবদুদ দার-এর লোকেরা আমার সঙ্গী ও সাহায্যকারী। আল্লাহ ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী সঙ্গী নেই। আল্লাহ ও তার রাসূলই তাদের সাহায্যকারী সঙ্গী বা সাথী। সহীহঃ মুসলিম (৭/১৭৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আসলাম গোত্রকে আল্লাহ হিফাযাতে রাখুন। গিফার গোত্রকে আল্লাহ তা'আলা মাফ করুন। আর উসাইয়্যাহ গোত্র আল্লাহ ও তার রাসূলের অবাধ্যাচরণ করেছে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি গোত্রের প্রতি মন্দ মনোভাব রেখে মারা যানঃ বানু সাকীফ, বানু হানীফা ও বানু উমাইয়্যা। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু আলোচ্য সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাকীফ গোত্রে এক চরম মিথ্যাবাদী ও এক নরঘাতকের সৃষ্টি হবে। সহীহঃ মুসলিম (২১২৩) নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। 'আবদুর রহমান ইবনু ওয়াকিদ আবূ মুসলিম শারীক (রহঃ)-এর সনদে উপরের হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু উসম-এর উপনাম আবূ উলওয়ান, তিনি কুফার অধিবাসী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র শারীকের সনদে অবগত হয়েছি। শারীক (রাহঃ) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আসিম। ইসরাঈলও এই শাইখ হতে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু ইসমাহ। এ অনুচ্ছেদে আসমা বিনতু আবী বাকর (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে।