। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক বেদুঈন একটি জোয়ান উষ্ট্রী উপহার দেয়। তিনি তার বিনিময়ে তাকে ছয়টি জোয়ান উষ্ট্রী দেন। কিন্তু লোকটি তারপরও আখুশি থাকে। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলে তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণগান করার পর বলেনঃ অমুক লোক আমাকে একটি উষ্ট্রী উপটৌকন দিলে আমি এর বিনিময়ে তাকে ছয়টি উষ্ট্রী প্রদান করি। তারপরও সে অখুশি। অতএব আমি প্রতিজ্ঞা করলাম যে, আমি কুরাইশী অথবা আনসারী অথবা সাকাফী অথবা দাওসীদের ছাড়া আর কারো নিকট হতে উপটৌকন কবুল করব না। সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৩০২২), সহীহাহ (১৬৮৪)। এ হাদীসে আরো বেশি বক্তব্য আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। ইয়াযীদ ইবনু হারূন (রহঃ) আইউব-আবূল আলা হতে বর্ণনা করেন। তিনি হলেন আইউব ইবনু মিসকীন। তিনি ইবনু আবী মিসকীন বলেও পরিচিত। সম্ভবতঃ এই হাদীস যা আইউব হতে, সাঈদ আল-মাকবুরীর সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি হলেন আইউব আবূল আ'লা।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ফাযারা গোত্রের এক ব্যক্তি গাবা নামক জায়গায় প্রাপ্ত তার উটপাল হতে একটি উস্ত্রী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উপটৌকন দেয়। তিনি এর বিনিময়ে তাকে কিছু দান করেন। কিন্তু সে তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি মিম্বারের উপর বলতে শুনেছিঃ আরবের কোন এক লোক আমাকে কিছু উপহার দিলে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে কিছু দান করি। কিন্তু সে তাতে অখুশি প্রকাশ করে। এমনকি এ ব্যাপারে সে আমার উপর অখুশিই হয়ে যায়। আল্লাহর কসম! এরপর হতে আমি আর কুরাইশী কিংবা আনসারী কিংবা সাকাফী কিংবা দাওসী লোক ছাড়া আরবের আর কোন লোকের উপহার গ্রহণ করব না। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এটা ইয়াযীদ ইবনু হারূনের বর্ণিত হাদীসের চাইতে অনেক বেশি সহীহ।
। আমির ইবনু আবূ আমির আল-আশআরী (রাঃ) হতে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আসাদ গোত্র ও আশআরী গোত্র কত ভাল! তারা যুদ্ধের মাঠ হতে পালায় না এবং গানীমাতের মাল আত্মসাৎ করে না। কাজেই তারা আমার হতে এবং আমি তাদের হতে। আমির (রাহঃ) বলেন, আমি উক্ত হাদীস মুআবিয়া (রাঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, এইরূপ নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে বলেননি, বরং বলেছেনঃ তারা আমার হতে এবং আমারই। আমির (রাহঃ) বলেন, আমার পিতা আমাকে এরকম বলেননি, বরং তিনি আমাকে বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তারা আমার হতে এবং আমি তাদের হতে। মুআবিয়া (রাঃ) বলেন, তুমি তোমার পিতার বর্ণিত হাদীস বেশি জান। যঈফ, যঈফা (৪৬৯২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু ওয়াহব ইবনু জারীরের সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। কথিত আছে যে, আসাদ সম্প্রদায় ও আযদ সম্প্রদায় একই।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! গিফার, আসলাম ও মুযাইনাহ গোত্র এবং যারা জুহাইনাহ গোত্রীয় এবং মুযাইনাহ গোত্রীয়, তারা কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলার কাছে অবশ্যই আসাদ, তাঈ ও গাতাফান গোত্রের তুলনায় ভাল বিবেচিত হবে। সহীহঃ সহীহাহ (৩২১২), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, তামীম গোত্রের প্রতিনিধিদলরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাজলিসে হাযির হলে তিনি বলেনঃ হে বানু তামীম! সুখবর গ্রহণ কর। তারা বলল, আপনি আমাদের সুখবর দিয়েছেন, তাই আমাদেরকে কিছু দান করুন। বর্ণনাকারী বলেন, এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে যায়। তারপর ইয়ামান দেশীয় এক প্রতিনিধিদল আগমন করলে তিনি বলেনঃ তোমরা সুখবর কবুল কর, যা তামীম গোত্র গ্রহণ করেনি। তারা বলল, অবশ্যই আমরা তা গ্রহণ করলাম। সহীহঃ সহীহাহ (৩২১২), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকরাহ (রহঃ) হতে তার বাবার সনদে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আসলাম, গিফার ও মুযাইনাহ গোত্রসমূহ তামীম, আসাদ, গাতাফান ও আমির ইবনু সাসা'আহ গোত্রসমূহ হতে ভাল। তিনি উচ্চস্বরে কথাটি বললেন। লোকেরা বলেনঃ ঐ গোত্রের লোকগুলো তো ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হল। তিনি বলেনঃ ঐ গোত্রগুলোর ব্যক্তিগুলো এসব গোত্রের লোকদের চেয়ে অধিক ভাল। সহীহঃ বুখারী (৩৫১৬), মুসলিম (৭/১৭৯-১৮০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের শামদেশে বারাকাত দান করুন, হে আল্লাহ! আমাদের ইয়ামানদেশে বারাকাত দান করুন। লোকেরা বলল, আমাদের নাজদের জন্যও (দুআ করুন)। তিনি পুনরায় বলেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের সিরিয়ায় বারাকাত দান করুন, আমাদের ইয়ামানদেশে বারাকাত দান করুন। এবারও লোকেরা বলল, আমাদের নাজদের জন্যও (দু’আ করুন)। তিনি বললেনঃ সেখানে ভূমিকম্প, বিশৃঙ্খলা বা বিপর্যয় রয়েছে অথবা তিনি বলেছেনঃ সেখান হতেই শাইতানের শিং আবির্ভাব হবে। সহীহ তাখরাজ ফাযায়িলিশ শাম (৮), সহীহাহ (২২৪৬)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং ইবনু ‘আওনের বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব। হাদীসটি সালিম ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু উমার-তার বাবা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদেও বর্ণিত হয়েছে।
। যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে উপস্থিত হয়ে চামড়ার উপর হতে কুরআন সংকলন করছিলাম। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সিরিয়ার জন্য মঙ্গল। আমরা বললাম, তা কেন হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ কেননা দয়াময় রহমানের ফেরেশতাগণ তার উপর নিজেদের ডানা বিস্তার করে রেখেছেন। সহীহঃ ফাযায়িলিশ শাম (১), মিশকাত (৬৬২৪), সহীহাহ (৫০২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র ইয়াহইয়া ইবনু আইউবের সনদে হাদীসটি অবগত হয়েছি।