। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন বলেন, আমি মনে করি না যে, এমন কোন ব্যক্তি আছেন যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালবাসেন অথচ আবূ বাকর ও উমর (রাযিঃ)-এর মর্যাদা খাটো করে দেখেন। সনদ সহীহ মাকতু'। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।
। উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরবর্তীতে কেউ নবী হলে অবশ্যই উমার ইবনুল খাত্তাবই নবী হত। হাসানঃ সহীহাহু (৩২৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র মিশরাহ ইবনু আ-হান বর্ণিত হাদীস হিসাবে এটি অবগত হয়েছি।
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমার কাছে এক পেয়ালা দুধ আনা হয়েছে, তা হতে আমি পান করলাম এবং বাকি অংশটুকু উমার ইবনুল খাত্তাবকে দিলাম। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কি ব্যাখ্যা করেন? তিনি বললেনঃ “জ্ঞান"। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। ২২৮৪ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মি'রাজের রাতে আমি জান্নাতে প্রবেশ করে তাতে একখানা সোনার বালাখানা প্রত্যক্ষ করলাম। আমি প্রশ্ন করলাম, এ বালাখানা কার? ফেরেশতারা বললেন, কুরাইশের এক যুবকের। আমি ধারণা করলাম, আমিই সেই যুবক। আমি প্রশ্ন করলামঃ কে সেই যুবক? ফেরেশতারা বললেন, "উমার ইবনুল খাত্তাব। সহীহঃ সহীহাহ (১৪০৫, ১৪২৩), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। বুরাইদাহ (রাযিঃ) বলেন, এক দিন ভোরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাযিঃ)-কে ডেকে বললেনঃ হে বিলাল! তুমি জান্নাতে কি কারণে আমার আগে আগে থাকছঃ যখনই আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি সে সময়ই আমার আগে তোমার জুতার শব্দ শুনতে পেয়েছি। গত রাতেও আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি এবং আমার আগে তোমার জুতার শব্দ শুনতে পেয়েছি। আমি স্বর্ণনির্মিত একটি বর্গাকার সুউচ্চ প্রাসাদের নিকট এসে বললামঃ এ প্রাসাদটি কার? ফেরেশতারা বললেন, এটা আরবের এক ব্যক্তির। আমি বললাম, আমি একজন আরব। সুতরাং এ প্রাসাদটি কার? তারা বললেন, কুরাইশ বংশের এক লোকের। আমি বললামঃ আমি কুরাইশ বংশীয়, অতএব এ প্রাসাদটি কার? তারা বললেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মাতের এক ব্যক্তির। আমি বললাম, আমিই মুহাম্মাদ, সুতরাং এ প্রাসাদটি কার? তারা বললেন, উমার ইবনুল খাত্তাবের। তারপর বিলাল (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কখনো আমি আযান দিলেই দুই রাকাআত নামায আদায় করি এবং কখনো আমার উযূ ছুটে গেলেই আমি উযূ করি এবং মনে করি আল্লাহ তা'আলার নামে দুই রাকাআত নামায আদায় করা আমার কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ দু'টি কারণেই (তোমার এ মর্যাদা)। সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (১/৯৯)। এ অনুচ্ছেদে জাবির, মুআয ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতের মাঝে আমি সোনার তৈরী একখানা প্রাসাদ দেখে বললাম, এ প্রাসাদটি কার? বলা হল, উমার ইবনুল খাত্তাবের। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ “গত রাতে আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি", এর অর্থ “আমি স্বপ্নে দেখেছি যেন আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি”। কোন কোন হাদীসে এ রকমই বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, নবীদের স্বপ্নও ওয়াহী।
। বুরাইদাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোন এক যুদ্ধাভিযানে যান। তিনি ফিরে এলে এক কৃষ্ণবর্ণা মেয়ে এসে বলে, হে আল্লাহর রাসূল! আমি মানৎ করেছিলাম যে, আপনাকে আল্লাহ তা'আলা হিফাযাতে (সুস্থাবস্থায়) ফিরিয়ে আনলে আপনার সম্মুখে আমি দফ বাজাব এবং গান করব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি সত্যিই যদি মানৎ করে থাক তবে দফ বাজাও, তা না হলে বাজিও না। সে দফ (এক মুখ খোলা ঢোল) বাজাতে লাগল। এই অবস্থায় সেখানে আবূ বাকর (রাযিঃ) এলেন এবং সে দফ বাজাতে থাকে, তারপর ‘আলী (রাযিঃ) এলেন এবং সে ওটা বাজাতে থাকে। তারপর উসমান (রাযিঃ) এলেন, সে সময়ও সে তা বাজাতে থাকে। তারপর উমর (রাযিঃ) এসে প্রবেশ করলে সে দফটি তার নিতম্বের নীচে রেখে তার উপর অবস্থান করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উমার! তোমাকে দেখলে শাইতানও ভয় পায়। আমি উপবিষ্ট ছিলাম আর ঐ মেয়েটি দফ বাজাচ্ছিল। পরে আবূ বাকর এসে প্রবেশ করলে সে সময়ও সে তা বাজাতে থাকে। তারপর ‘আলী প্রবেশ করলে সে সময়ও সে তা বাজাতে থাকে। এরপর উসমান এসে প্রবেশ করলে তখনও সে তা বাজাতে থাকে। অবশেষে তুমি এসে যখন প্রবেশ করলে, হে উমার! সে সময় সে দফটি ফেলে দিল। সহীহঃ নাকুদুল কিত্তানী (৪৭-৪৮), সহীহাহ (২২৬১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং বুরাইদাহর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব। এ অনুচ্ছেদে 'উমার, সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস ও আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস 3691 — Jami At Tirmidhi 49:87
সহিহসহিহহাসান SahihIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ صَبَّاحٍ الْبَزَّارُ، قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ رُومَانَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا فَسَمِعْنَا لَغَطًا وَصَوْتَ صِبْيَانٍ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا حَبَشِيَّةٌ تُزْفِنُ وَالصِّبْيَانُ حَوْلَهَا فَقَالَ " يَا عَائِشَةُ تَعَالَىْ فَانْظُرِي " . فَجِئْتُ فَوَضَعْتُ لَحْيَىَّ عَلَى مَنْكِبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلْتُ أَنْظُرَ إِلَيْهَا مَا بَيْنَ الْمَنْكِبِ إِلَى رَأْسِهِ فَقَالَ لِي " أَمَا شَبِعْتِ أَمَا شَبِعْتِ " . قَالَتْ فَجَعَلْتُ أَقُولُ لاَ لأَنْظُرَ مَنْزِلَتِي عِنْدَهُ إِذْ طَلَعَ عُمَرُ قَالَ فَارْفَضَّ النَّاسُ عَنْهَا قَالَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لأَنْظُرُ إِلَى شَيَاطِينِ الإِنْسِ وَالْجِنِّ قَدْ فَرُّوا مِنْ عُمَرَ " . قَالَتْ فَرَجَعْتُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা ছিলেন। সে সময় আমরা একটা সোরগোল ও শিশুদের হৈচৈ শুনতে পেলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে গিয়ে দেখলেন, এক হাবশী নারী নেচেকুদে খেলা দেখাচ্ছে আর শিশুরা তার চারদিকে ভীড় জমিয়েছে। তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ! এসো এবং প্রত্যক্ষ কর। অতএব আমি গেলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাধের উপর আমার চিবুক রেখে তার খেলা প্রত্যক্ষ করতে লাগলাম। আমার চিবুক ছিল তার মাথা ও কাধের মধ্যবর্তী জায়গায়। (কিছুক্ষণ পর) আমাকে তিনি বললেনঃ তুমি কি তৃপ্ত হওনি, তোমার কি তৃপ্তি পূর্ণ হয়নি। তিনি বলেন, আমি না, না বলতে থাকলাম। আমার লক্ষ্য ছিল, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতটুকু খাতির করেন তা পর্যবেক্ষণ করা। ইত্যবসরে উমর (রাযিঃ) আবির্ভূত হন এবং মুহুর্তের মধ্যে সমস্ত লোক তার কাছ হতে সটকে পড়ে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি দেখলাম জিন ও মানববেশধারী শাইতানগুলো 'উমারকে দেখেই সরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, তারপর আমি ফিরে এলাম। সহীহঃ মিশকাত (৬০৩৯)। আবূ ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার জন্যই প্রথমে (কবর) বিদীর্ণ করা হবে, তারপর আবূ বাকরের, তারপর উমারের জন্য। তারপর আমি আল-বাকী’র কবরবাসীদের নিকট আসব এবং তাদেরকে আমার সাথে হাশরের মাঠে সমবেত করা হবে। তারপর আমি মক্কাবাসীদের জন্য প্রতীক্ষা করব। পরিশেষে হারামাইন শরীফাইন (মক্কা ও মদীনা)-এর মধ্যবর্তী স্থানে আমাকে উঠানো হবে। যঈফ, যঈফা (২৯৪৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। (আমার মতে) আসিম ইবনু উমার হাফেজে হাদীস' নন।
হাদিস 3693 — Jami At Tirmidhi 49:89
হাসান Sahihহাসান Sahihহাসান Sahihসহিহ - Bukhari And Muslim
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবেক উম্মাতদের মাঝে মুহাদ্দাস’ (তীক্ষ্ণবুদ্ধি ও সূক্ষ্মদশী লোক) আবির্ভাব হতেন। আমার উম্মাতের মাঝে কেউ মুহাদ্দাস হলে তা উমার ইবনুল খাত্তাবই। হাসান সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। ইবনু উয়াইনার অপর এক শাগরিদ সুফইয়ান ইবনু উয়াইনার সনদে আমার কাছে রিওয়ায়াত করেছেন যে, তিনি বলেন, মুহাদ্দাসুন অর্থ মুফাহহামূন (আল্লাহ যাদেরকে ইসলামের পূর্ণ জ্ঞান দান করেন)।
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের সামনে জান্নাতীদের একজন আবির্ভূত হবেন। ইত্যবসরে আবূ বাকর (রাঃ) আবির্ভূত হন। তিনি আবার বলেনঃ তোমাদের সামনে জান্নাতীদের একজন আবির্ভূত হবেন। ইত্যবসরে উমর (রাঃ) আবির্ভূত হন। যঈফ, মিশকাত (৬০৮৫) এ অনুচ্ছেদে আবূ মূসা ও জাবির (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীসটি গারীব।