। যাইদ ইবনু আসলাম (রহঃ) কর্তৃক তার পিতা হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, "উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবুকের যুদ্ধের প্রাক্কালে) আমাদেরকে দান-খাইরাত করার হুকুম করেন। সৌভাগ্যক্রমে ঐ সময় আমার সম্পদও ছিল। আমি (মনে মনে) বললাম, যদি আমি কোন দিন আবূ বকর (রাযিঃ)-কে ডিঙ্গাতে পারি তাহলে আজই সেই সুযোগ। উমার (রাযিঃ) বলেন, আমি আমার অর্ধেক সম্পদ নিয়ে এলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার পরিবার -পরিজনদের জন্য তুমি কি বাকি রেখে এসেছ? আমি বললাম, এর সমপরিমাণ। আর আবূ বাকর (রাযিঃ) তার সমস্ত মাল নিয়ে আসলেন। তিনি বললেনঃ হে আবূ বাকর! তোমার পরিবার-পরিজনদের জন্য তুমি কি বাকি রেখে এসেছ? তিনি বললেন, তাদের জন্য আল্লাহ ও তার রাসূলকেই রেখে এসেছি। আমি (মনে মনে) বললাম, কখনও আমি কোন প্রসঙ্গে আবূ বাকর (রাযিঃ)-কে ডিঙ্গাতে পারব না। হাসানঃ মিশকাত (৬০২১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। জুবাইর ইবনু মুত্বইম (রাযিঃ) বলেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তার সঙ্গে কোন প্রসঙ্গে কথা বলল। তিনি তাকে কিছু করার ব্যাপারে হুকুম দেন। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আচ্ছা আমি (আবার এসে) আপনাকে যদি না পাই? তিনি বললেনঃ যদি তুমি আমাকে না পাও তবে আবূ বাকরের কাছে এসো। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। এই সূত্রে গারীব।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদিন এক লোক একটি গরুর পিঠে আরোহিত থাকা অবস্থায় গরুটি বলল, আমাকে এজন্য সৃষ্টি করা হয়নি, আমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে কৃষিকাজের জন্য। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি, আবূ বাকর ও উমর (রাঃ)-এই বিষয়টির উপর দৃঢ় আস্থা স্থাপন করলাম। আবূ সালামাহ্ (রহঃ) বলেন, তারা দু'জন সেদিন জনতার মাঝে হাযির ছিলেন না। সহীহঃ ইরওয়াহ (২৪৭), বুখারী ও মুসলিম। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শু’বাহ (রাহঃ) হতে উপর্যুক্ত সনদে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকরের দ্বার ছাড়া আর সমস্ত দ্বার বন্ধ করে দেয়ার হুকুম দেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, দেখুন হাদীস নং ৩৬৬০। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উপর্যুক্ত সনদে গারীব। এ অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আবূ বাকর (রাযিঃ) প্রবেশ করলে তিনি বললেনঃ আপনি জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তিপ্রাপ্ত আল্লাহর বান্দা (আত্বীকুল্লাহ)। সেদিন হতে তিনি আতীক নামে ভূষিত হন। সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ৬০২২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস কিছু বর্ণনাকারী মাআন হতে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিনি মূসা ইবনু ত্বালহা হতে, তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে এই সনদের উল্লেখ করেছেন।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীরই আকাশবাসীদের মধ্য হতে দু’জন উযীর এবং যমিনবাসীদের মধ্য হতে দু'জন উযীর ছিল। আকাশবাসীদের মধ্য হতে আমার দু'জন উযীর হলেন জিবরীল ও মীকাঈল আলাইহিস সালাম এবং যমিনবাসীদের মধ্য হতে আমার দু'জন উযীর হলেন আবূ বাকর ও উমার। যঈফ, মিশকাত (৬০৫৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আর আবূল জাহ্হাফের নাম দাউদ ইবনু আবূ আওফ। সুফিয়ান সাওরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আবূল জাহহাফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ছিলেন প্রিয় লোক। তালীদ ইবনু সুলাইমানের ডাক নাম আবূ ইদরীস, তিনি শীয়া মতালম্বী।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “হে আল্লাহ! আবূ জাহল কিংবা উমার ইবনুল খাত্তাব- এই দু'জনের মাঝে তোমার নিকট যে বেশি প্রিয়, তার মাধ্যমে তুমি ইসলামকে মজবুত কর ও মর্যাদা দান কর”। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, ঐ দু'জনের মাঝে উমর (রাযিঃ)-ই আল্লাহ তা'আলার প্রিয় হিসেবে আবির্ভূত হন। সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৬০৩৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে গারীব।
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা উমার (রাযিঃ)-এর মুখে ও হৃদয়ে সত্যকে স্থাপন করেছেন। ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, জনগণের সম্মুখে কখনো কোন প্রসঙ্গ আবির্ভূত হলে লোকজনও তা সম্পর্কে মন্তব্য ব্যক্ত করত এবং উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-ও অভিমত ব্যক্ত করতেন। দেখা যেত, উমর (রাযিঃ)-এর অভিমত এর সমর্থনে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১০৮)। এ অনুচ্ছেদে আল-ফাযল ইবনু আব্বাস, আবূ যার ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, উপর্যুক্ত সূত্রে গারীব। খারিজাহ ইবনু আবদুল্লাহ আল-আনসারী হলেন ইবনু সুলাইমান ইবনু যাইদ ইবনু সাবিত। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।
হাদিস 3683 — Jami At Tirmidhi 49:79
Very DaifVery Daifদাঈফ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنِ النَّضْرِ أَبِي عُمَرَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اللَّهُمَّ أَعِزَّ الإِسْلاَمَ بِأَبِي جَهْلِ بْنِ هِشَامٍ أَوْ بِعُمَرَ " . قَالَ فَأَصْبَحَ فَغَدَا عُمَرُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَسْلَمَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُهُمْ فِي النَّضْرِ أَبِي عُمَرَ وَهُوَ يَرْوِي مَنَاكِيرَ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ .
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “হে আল্লাহ আবূ জাহল ইবনু হিশাম অথবা উমার ইবনুল খাত্তাবের মারফত ইসলামকে শক্তিশালী কর"। রাবী বলেনঃ পরের দিন সকালে উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হাযির হয়ে ইসলাম কুবুল করেন। অত্যন্ত দুর্বল, মিশকাত (৬০৩৬) আবূ ঈসা বলেনঃ উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীসটি গারীব। কিছু মুহাদ্দীস আন-নাযর আবূ উমারের সমালোচনা করেছেন। তিনি মুনকার হাদীস বর্ণনা করেন।
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ উমর (রাঃ) আবূ বাকর (রাঃ)-কে বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরেই হে সর্বোত্তম মানুষ। আবূ বাকর (রাঃ) বলেন, আপনি আমার প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করলেন। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবশ্যই বলতে শুনেছিঃ উমারের চাইতে অধিক ভালো কোন লোকের উপর দিয়ে সূর্য উঠেনি। মাওযু, যঈফা (১৩৫৭) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু আলোচ্য সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। এ হাদীসের সনদসূত্র তেমন মজবুত নয়। এ অনুচ্ছেদে আবূদ দারদা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।