। আলী ইবনু আবী তলিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। সে সময় আবূ বাকর ও উমার (রাযিঃ) আবির্ভূত হন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরা দুজন জান্নাতে নবী-রাসূলগণ ছাড়া পূর্বাপর (সৰ্বকালের) পূর্ণ বয়স্কদের নেতা হবেন। হে ‘আলী! এটা তাদেরকে জানাবে না। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৯৫)। আবূ ঈসা বলেন, উক্ত সনদসূত্রে এ হাদীসটি গারীব। আল-ওয়ালীদ ইবনু মুহাম্মাদ আল-মুয়াক্কিরী হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। ‘আলী ইবনু হুসাইন (রহঃ) আলী (রাযিঃ) হতে কিছু শুনেননি। এ হাদীস অবশ্য আলী (রাযিঃ) হতে অন্য সনদেও বর্ণিত হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে আনাস ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আবূ বাকর ও উমার নবী-রাসূলগণ ছাড়া পূর্বাপর সমস্ত বয়স্ক জান্নাতবাসীর নেতা হবেন। হে ‘আলী! তাদের দু’জনকে জানাইও না। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেছেন, আমি সেই লোক নই কি যে সর্বাগ্রে ইসলাম কবুল করেছে? আমি কি এমন কাজের অধিকারী নই? সহীহঃ আল-আহাদীসুল মুখতারাহ (১৯-২০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস কতিপয় বর্ণনাকারী শুবাহ হতে, তিনি জুরাইরী হতে, তিনি আবূ নাযরাহ-এর সনদে উদ্ধৃত করেছেন এবং তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেছেন। এটাই বেশি সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-আবদুর রহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি শুবাহ হতে, তিনি জুরাইরী হতে, তিনি আবূ নাযরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেছেন ... উক্ত মর্মে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন এবং এতে তিনি আবূ সাঈদ (রাযিঃ)-এর উল্লেখ করেননি। এটাই অধিক সহীহ।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মুহাজির ও আনসার সাহাবীদের আবূ বাকর ও উমারসহ বসা অবস্থায় তাদের নিকট আসতেন। কিন্তু আবূ বাকর ও উমার (রাঃ) ব্যতীত অন্য কেউই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে চোখ তুলে তাকাতেন না। অথচ তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে তাকাতেন এবং তিনিও তাদের উভয়ের দিকে তাকাতেন। তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতেন এবং তিনিও তাদের উভয়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতেন। যঈফ, মিশকাত (৬০৫৩) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু হাকাম ইবনু আতিয়্যার সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। কোন কোন হাদীস বিশারদ হাকাম ইবনু আতিয়্যার সমালোচনা করেছেন।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর ও উমর (রাঃ)-এর হাত ধরা অবস্থায় বেরিয়ে এসে মসজিদে ঢুকেন। তাদের একজন ছিলেন তার ডান পাশে এবং অপরজন ছিলেন তার বাম পাশে। তিনি বলেনঃ কিয়ামতের দিন আমরা এভাবে (হাত ধরা অবস্থায়) উঠবো। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৯৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। সাঈদ ইবনু মাসলামা হাদীসবিশেষজ্ঞদের মতে তেমন মজবুত রাবী নন। এ হাদীসটি নাফি হতে ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রেও ভিন্নরূপে বর্ণিত হয়েছে।
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবূ বাকরকে হুকুম দাও তিনি যেন লোকদের নামায আদায় করান। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বাকর আপনার স্থানে দাঁড়ালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ার কারনে লোকদেরকে কিরাআত শুনাতে পারবেন না। অতএব আপনি উমার (রাযিঃ)-কে হুকুম দিন তিনি যেন লোকদের নামায আদায় করান। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তিনি পুনরায় বললেনঃ আবূ বাকরকে নির্দেশ দাও তিনি যেন লোকদের নামায আদায় করান। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, এবার আমি হাফসাহ (রাযিঃ)-কে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলুন, আবূ বাকর (রাযিঃ) তার স্থানে দাড়ালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ার কারণে লোকদেরকে (তার কিরাআত) শুনাতে পারবেন না। অতএব আপনি উমার (রাযিঃ)-কে বলুন তিনি যেন লোকদের নামায আদায় করান। হাফসাহ (রাযিঃ) তাই করলেন। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমারই তো ইউসুফ (আঃ)-এর জন্য সমস্যা সৃষ্টিকারী সঙ্গী (যার ফলে তিনি জেলে যেতে বাধ্য হন)। আবূ বাকরকেই লোকদের নামায আদায় করানোর হুকুম দাও। সে সময় হাফসাহ (রাযিঃ) আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে বললেন, কখনো আমি তোমার নিকট হতে মঙ্গল পাইনি। সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১২৩২), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবূ মূসা, ইবনু আব্বাস, সালিম ইবনু উবাইদ ও 'আবদুল্লাহ ইবনু যাম'আহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদিস 3673 — Jami At Tirmidhi 49:69
Very DaifVery Daifদাঈফ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكُوفِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ مَيْمُونٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَنْبَغِي لِقَوْمٍ فِيهِمْ أَبُو بَكْرٍ أَنْ يَؤُمَّهُمْ غَيْرُهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন জাতির মধ্যে আবূ বাকর হাযির থাকতে তাদের ইমামতি করা অন্য কারো জন্য কাম্য নয়। অত্যন্ত দুর্বল, যঈফা (৪৮২০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক একই মালের এক জোড়া আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় খরচ করে তাকে জান্নাতে ডাকা হবে, হে আল্লাহ তা'আলার বান্দা! এটাই উত্তম জায়গা। সুতরাং যে লোক নামাযী, তাকে নামাযের দ্বার হতে আহবান করা হবে। যে লোক মুজাহিদ তাকে জিহাদের দ্বার হতে আহবান করা হবে। যে লোক দানশীল তাকে দান-খাইরাতের দ্বার হতে আহবান করা হবে। যে লোক রোযাদার তাকে রোযার বিশেষ দ্বার (রাইয়্যান) হতে আহবান করা হবে। সে সময় আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক! কোন লোককে সকল দরজা হতে ডাকার তো দরকার নেই। তা সত্ত্বেও কোন লোককে কি এসবগুলো দরজা হতে আহবান করা হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এবং আমি আশা করি আপনিও তাদের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। সহীহঃ সহীহাহ (২৮৭৮), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।