। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, চাটুকারদের মুখে ধুলাবালি নিক্ষেপ করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব।
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ তুমি ঈমানদার লোক ব্যতীত অন্য কারো সঙ্গী হয়ো না এবং আল্লাহভীরু মুত্তাকী লোক ছাড়া কেউ যেন তোমার খাদ্য না খায়। হাসান, মিশকাত (৫০১৮)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান। আমরা হাদীসটি শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই জেনেছি।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা যখন তার কোন বান্দার কল্যাণ সাধন করতে চান তখন তাড়াতাড়ি দুনিয়াতে তাকে বিপদে নিক্ষেপ করেন। আর যখন তিনি তার কোন বান্দার অকল্যাণ সাধন করতে চান তখন তাকে তার অপরাধের শাস্তি প্রদান হতে বিরত থাকেন। তারপর কিয়ামতের দিন তিনি তাকে পুরাপুরি শাস্তি দেন। সহীহ, সহীহাহ (১২২০), মিশকাত (১৫৬৫)। এ সনদেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ বিপদ যত মারাত্মক হবে, প্রতিদানও তত মহান হবে। আল্লাহ তা'আলা যখন কোন জাতিকে ভালোবাসেন তখন তাদেরকে (বিপদে ফেলে) পরীক্ষা করেন। যে লোক তাতে (বিপদে) সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য (আল্লাহ্ তা'আলার) সন্তুষ্টি বিদ্যমান। আর যে লোক তাতে অসন্তুষ্ট হয় তার জন্য (আল্লাহ্ তা'আলার) অসন্তুষ্টি বিদ্যমান। হাসান, ইবনু মা-জাহ (৪০৩১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গরীব।
। আইশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতাজনিত কষ্টের তুলনায় বেশি কষ্ট আমি আর কোন ব্যক্তির হতে দেখিনি। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬২২), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এটি হাসান সহীহ হাদীস।
। মুসআব ইবনু সা'দ (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (সাদ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। মানুষের মাঝে কার বিপদের পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন হয়? তিনি বললেনঃ নবীদের বিপদের পরীক্ষা, তারপর যারা নেককার তাদের, এরপর যারা নেককার তাদের বিপদের পরীক্ষা। মানুষকে তার ধর্মানুরাগের অনুপাত অনুসারে পরীক্ষা করা হয়। তুলনামূলকভাবে যে লোক বেশি ধাৰ্মিক তার পরীক্ষাও সে অনুপাতে কঠিন হয়ে থাকে। আর যদি কেউ তার দ্বীনের ক্ষেত্রে শিথিল হয়ে থাকে তাহলে তাকে সে মোতাবিক পরীক্ষা করা হয়। অতএব, বান্দার উপর বিপদাপদ লেগেই থাকে, অবশেষে তা তাকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেয় যে, সে যমীনে চলাফেরা করে অথচ তার কোন গুনাহই থাকে না। হাসান, সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪০২৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ হুরাইরা ও হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ)-এর বোন থেকেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলঃ কোন ব্যক্তি সবচাইতে বেশি বিপদগ্রস্ত হয়? তিনি বললেনঃ নবীগণ, তার পর যারা নেককার তাদের।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুমিন নারী-পুরুষের উপর, তার সন্তানের উপর ও তার ধন-সম্পদের উপর অনবরত বিপদাপদ লেগেই থাকে। সবশেষে আল্লাহ্ তা'আলার সাথে সে গুনাহমুক্ত অবস্থায় মিলিত হয়। হাসান সহীহ, সহীহাহ (২২৮০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমি দুনিয়াতে যখন কোন বান্দার দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিই, তখন তার জন্য একমাত্র জান্নাত ব্যতীত আমার নিকট আর কোন প্রতিদান থাকে না। সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (৪/১৫৫, ১৫৬), বুখারী অনুরূপ। আবূ হুরাইরা ও যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। আবূ যিলালের নাম হিলাল।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রে মারফুভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মহামহিম আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ আমি যে ব্যক্তির দুটি প্রিয় চোখ কেড়ে নিয়েছি; অতঃপর সে ধৈর্য ধারণ করেছে এটা আল্লাহর পক্ষ হতে হয়েছে বলে মনে করে এবং সাওয়াবের আশা করে, আমি তাকে জান্নাত ব্যতীত অন্য কোন কিছু প্রতিদান দিয়ে সন্তুষ্ট হব না। সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (৪/১৫৬)। ইরবায ইবনু সারিয়া (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে বিপদে পতিত (ধৈর্যধারী) মানুষদের যখন প্রতিদান দেয়া হবে, তখন (পৃথিবীতে) বিপদমুক্ত মানুষেরা আকাঙক্ষা (পরিতাপ) করবে, হায়! দুনিয়াতে যদি কাঁচি দ্বারা তাদের শরীরের চামড়া কেটে টুকরা টুকরা করে দেয়া হত। হাসান, সহীহাহ (২২০৬), তা'রীকুর রাগীব (৪/১৪৬), মিশকাত (১৫৭০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা এই সনদে উক্তভাবে রিওয়ায়াত ব্যতীত আর কিছুই জানি না। এ হাদীসটি আমাশ-তালহা ইবনু মুসাররিফ হতে, তিনি মাসরূক (রাহঃ) হতে তার বক্তব্য হিসাবে কোন কোন বর্ণনাকারী এর কিছু বর্ণনা করেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর অনুতপ্ত হবে। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিসের জন্য অনুতপ্ত হবে? তিনি বললেনঃ মৃত লোকটি সৎকর্মশীল হলে সে এই বলে অনুতপ্ত হবে যে, সে আরো বেশী (আমল) করল না কেন। আর সে অন্যায়কারী (পাপী) হলে এই বলে অনুতপ্ত হবে যে, সে কেন অন্যায় থেকে বিরত থাকলো না। খুবই দুর্বল, মিশকাত (৫৫৪৫) আবূ ঈসা বলেন, এ সূত্রেই আমরা হাদীসটি জেনেছি। শুবা (রাহঃ) এই হাদীসের রাবী ইয়াহইয়া ইবনু উবাইদুল্লাহ ইবনু মাওহাবের সমালোচনা করেছেন। তিনি মদীনাবাসী।