। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শেষ যামানায় কিছু লোকের উদ্ভব হবে যারা পার্থিব স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ধর্মকে প্রতারণার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করবে। তারা জনগণের সামনে ভেড়ার চামড়ার মত কোমল পোশাক পরবে। তাদের মুখের ভাষা হবে চিনির চেয়ে মিষ্টি; কিন্তু তাদের হৃদয় হবে নেকড়ে বাঘের মত হিংস্র। আল্লাহ তা'আলা তাদের বলবেনঃ তোমরা কি আমার বিষয়ে ধোঁকায় পড়ে আছ, নাকি আমার প্রতি ধৃষ্টতা দেখাচ্ছ? আমার শপথ! আমি তাদের উপর তাদের মধ্য হতেই এমন বিপর্যয় আপতিত করব, যা তাদের খুবই সহনশীল ব্যক্তিদের পর্যন্ত হতবুদ্ধি ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে ছাড়বে। খুবই দুর্বল, তা’লীকুর রাগীব (১৩২) আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমর (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “আমি এমন মাখলুকও সৃষ্টি করেছি, যাদের মুখের ভাষা মধুর চাইতে মিষ্টি; কিন্তু তাদের হৃদয় তেতো ফলের চাইতেও তিক্ত। আমার সত্তার শপথ! আমি তাদেরকে এমন এক মারাত্মক বিপর্যয়ের মধ্যে ছেড়ে দেব যে, তা তাদের অধিক সহনশীল ব্যক্তিকেও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে ছাড়বে। তারা কি আমার সাথে প্রতারণা করছে নাকি আমার প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন করছে? যঈফ প্রাগুক্ত আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং ইবনু উমর (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
। উকবা ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মুক্তির উপায় কি? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার রসনা সংযত রাখ, তোমার বাসস্থান যেন তোমার জন্য প্রশস্ত হয় (অর্থাৎ তুমি তোমার বাড়ীতে অবস্থান কর) এবং তোমার গুনাহের জন্য ক্ৰন্দন কর। সহীহ, সহীহাহ (৮৮৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে মারফু হিসাবে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ সকালে ঘুম হতে উঠার সময় তার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিনীতভাবে জিহবাকে বলে, তুমি আমাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় কর। আমরা তো তোমার সাথে সম্পৃক্ত। তুমি যদি সোজা পথে দৃঢ় থাক তাহলে আমরাও দৃঢ় থাকতে পারি। আর তুমি যদি বাঁকা পথে যাও তাহলে আমরাও বাঁকা পথে যেতে বাধ্য। হাসান, মিশকাত তাহকীক ছানী (৪৮৩৮)। হান্নাদ-আবূ উসামা হতে, তিনি হাম্মাদ ইবনু যাইদের সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের একই রকমভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এই সূত্রটি মারফুভাবে বর্ণিত হয়নি। এটি মুহাম্মাদ ইবনু মূসার রিওয়ায়াতের চাইতে অনেক বেশি সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, আমরা এই হাদীসটি শুধুমাত্র হাম্মাদ ইবনু যাইদের সূত্রেই জেনেছি। এই হাদীসটি একাধিক বর্ণনাকারী ইবনু যাইদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মারফুভাবে নয়। সালিহ ইবনু ইবনু জুবাইর হতে, তিনি আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে উক্ত হাদীসের মতোই উল্লেখ করেছেন।
। সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার দুই ঠোটের মাঝখানের বস্তু (জিহ্বা) ও দুই পায়ের মাঝখানের বস্তুর (লজ্জাস্থানের) যামিন হতে পারে (অপব্যবহার হতে সংযত রাখবে), আমি তার জন্য জান্নাতের যামিন হবো। সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (৩/১৯৭), যঈফা (২৩০২), বুখারী অনুরূপ। আবূ হুরাইরা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, সাহল (রাঃ) বর্ণিত এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং এই সূত্রে গারীব।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা যে ব্যক্তিকে তার জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের অকল্যাণ হতে মুক্ত করেছেন, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হাসান, সহীহ, সহীহাহ (৫১০)। আবূ ঈসা বলেন, যে আবূ হাযিম আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তার নাম সালমান, আযযা আল-আশজাইয়্যার মুক্তদাস এবং কৃফার অধিবাসী। আর যে আবূ হাযিম সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন আবূ হাযিম আয-যাহিদ, মাদীনার অধিবাসী এবং তার নাম সালামা ইবনু দীনার। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। সুফিয়ান ইবনু আবদুল্লাহ আস-সাকাফী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে এমন একটি কথা বলুন, যা আমি ধারণ করতে পারি। তিনি বললেনঃ তুমি বল, আল্লাহই আমার রব (প্রভু) তারপর এতে সুদৃঢ় থাক। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, আমি আবার বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনার দৃষ্টিতে আমার জন্য সর্বাধিক আশংকাজনক বস্তু কোনটি? তিনি স্বীয় জিহ্বা ধরে বললেনঃ এই যে, এটি। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯৭২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এই হাদীসটি সুফিয়ান ইবনু আব্দুল্লাহ আস-সাকাফী (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার যিকির ছাড়া বেশী কথা বলো না। কেননা আল্লাহ তা'আলার যিকির ছাড়া বেশী কথা বললে অন্তর কঠিন হয়ে যায়। আর নিঃসন্দেহে কঠিন অন্তরের লোকই আল্লাহ তা'আলা থেকে সবচেয়ে বেশী দূরে থাকে। যঈফ, যঈফা (৯২০), মিশকাত, তাহকীক ছানী (২২৭৬) ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হাতিব হতে তিনি আবদুল্লাহ ইবনু দীনার হতে তিনি ইবনু উমার (রাঃ) হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উপরোক্ত হাদীসের মতই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। ইবরাহীম ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু হাতিবের সূত্রেই শুধুমাত্র আমরা এ হাদীস জেনেছি।
। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মু হাবীবা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মানুষের প্রতিটি কথা তার জন্য অপকারী, উপকারী নয়। তবে সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ এবং আল্লাহ তা'আলার যিকিরই তার জন্য লাভজনক। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩৯৭৪) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ ইবনু খুনাইসের রিওয়ায়াত হিসাবে এ হাদীসটি জেনেছি।
। আবূ জুহাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান (ফারসী) ও আবূদ দারদা (রাঃ)-এর মধ্যে ভাইয়ের সম্পর্ক তৈরী করে দেন। কোন একদিন আবূদ দারদা (রাঃ)-এর সাথে সালমান (রাঃ) দেখা করতে আসেন। তখন তিনি তার স্ত্রী উন্মুদ দারদাকে খুবই সাধারণ জামা-কাপড় পরে থাকাবস্থায় দেখতে পেয়ে প্রশ্ন করেন, আপনি এরূপ সাধারণ পোশাকে কেন? তিনি বললেন, আপনার ভাই আবূদ দারদার তো দুনিয়ার কিছু প্রয়োজন নেই। বর্ণনাকারী বলেন, আবূদ দারদা (রাঃ) এরই মধ্যে বাড়ী ফিরে আসলেন এবং তার (মেহমানের) সামনে খাবার পরিবেশন করে বললেন, আপনি খেয়ে নিন, আমি রোযা রেখেছি। তিনি বললেন, আপনি না খাওয়া পর্যন্ত আমি খাব না। তারপর তিনি খাবার খেলেন। রাত গভীর হলে আবূদ দারদা (রাঃ) নামায আদায় করার জন্য উঠেন। সালমান (রাঃ) তাকে বললেন, এখন ঘুমান। সুতরাং তিনি ঘুমালেন। কিছুক্ষণ পর তিনি পুনরায় অনেক বাকী)। কাজেই তিনি ঘুমিয়ে গেলেন। তারপর ফজরের সময় ঘনিয়ে এলে সালমান (রাঃ) তাকে বললেন, এখন উঠুন। তারপর দু'জনেই উঠে (তাহাজ্জুদ) নামায আদায় করলেন। তারপর তিনি বললেন, আপনার উপর আপনার দেহের প্রাপ্য (অধিকার) আছে এবং আপনার রবের প্রাপ্য (অধিকার) আছে, মেহমানের প্রাপ্য (অধিকার) আছে এবং আপনার পরিবারের (অধিকার) আছে। অতএব, প্রত্যেক হাকদারকে তার প্রাপ্য (অধিকার) প্রদান করুন। তারপর তারা এ ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন। তিনি বললেনঃ সালমান ঠিকই বলেছে। সহীহ, মুখতাসার বুখারী (৯৬৫), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ। আবূল উমাইস-এর নাম উতবা ইবনু আবদুল্লাহ। তিনি আবদুর রাহমান ইবনু আবদুল্লাহ আল-মাসউদীর ভাই।