। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একজন লোক তার দাঁত দিয়ে অন্য একজনের হাত কামড়ে ধরে। ঐ লোক তার হাতকে টেনে ছাড়িয়ে নেওয়ার ফলে প্রথম লোকটির সামনের দু'টি দাত উপড়ে যায়। তারা দু’জনেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অভিযোগ উত্থাপন করলে তিনি বললেনঃ তোমাদের কোন লোক কি উটের মত দাত দিয়ে তার ভাইকে কামড় দেয়? তোমার কোন দিয়াত প্রাপ্য নেই। অনন্তর মহান আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “জখমের জন্যও রয়েছে কিসাস" (সূরাঃ মাইদা— ৪৫)। সহীহ, নাসা-ঈ ইয়ালা ইবনু উমাইয়্যা ও সালামা ইবনু উমাইয়্যা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। তারা দু’জন সহোদর ভাই। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। বাহয ইবনু হাকীম (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন লোককে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানোর অভিযোগে বন্দী করেন, তারপর তাকে ছেড়ে দেন। হাসান, মিশকাত (৩৭৮৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বাহয ইবনু হাকীম (রাহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম বাহয ইবনু হাকীমের সূত্রে আরো দীর্ঘ ও পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন।
। সাঈদ ইবনু যাইদ ইবনু আমর ইবনু নুফাইল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক নিজের ধন-সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে গিয়ে মারা গেলে সে শহীদ। যে ব্যক্তি একবিঘত পরিমাণ জমি চুরি করবে কিয়ামত দিবসে তার গলায় সাত তবক জমি বুলিয়ে দেওয়া হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪৫৮০), নাসা-ঈ হাতিম ইবনু সিয়াহ আল মারায়ী এই হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে বলেছেনঃ মামার বলেন, “যুহরী হতে আমার নিকট পৌছেছে, আমি তার নিকট সরাসরি শুনিনাই।” আর শুয়াইব ইবনু আবী হামযাহ বর্ণনা করেছেন যুহরী হতে, তিনি তালহা ইবনু আব্দুল্লাহ হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু আমর হতে, তিনি সাঈদ ইবনু যাইদ হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা বর্ণনা করেছেন যুহরী হতে, তিনি তালহা ইবনু আব্দুল্লাহ হতে, তিনি সাঈদ ইবনু যাইদ হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। সুফিয়ান আব্দুর রহমান ইবনু আমরের উল্লেখ করেননি। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জোরপূর্বক কোন লোকের ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নিতে চাইলে সে যদি এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে মৃতুবরণ করে তবে শহীদ হিসাব গণ্য হবে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার আব্দুর রহমান হতে, তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান হতে, তিনি ইবারাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু তালহা হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
। সাঈদ ইবনু যাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে লোক নিজের ধনমাল রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে শহীদ। যে লোক নিজের দীনকে হিফাযাত করতে গিয়ে মারা যায় সে শহীদ। যে লোক নিজের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে শহীদ। যে লোক তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে গিয়ে মারা যায় সেও শহীদ। সহীহ, আল-আহকাম (৪২) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। একাধিক বর্ণনাকারী ইবরাহীম ইবনু সা’দ-এর নিকট হতে একইরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইয়াকুবের আব্বা ইবরাহীম দাদা সা’দ ইবন ইবরাহীম ইবনু আবদুর রাহমান ইবনু আওফ আয-যুহরী।
। সাহল ইবনু আবূ হাসমা ও রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তারা উভয়ে বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সাহল ইবনু যাইদ এবং মুহাইয়্যিসা ইবনু মাসউদ ইবনু যাইদ (রাঃ) সফরের উদ্দেশ্যে বের হন। তারা দু’জনে খাইবার নামক জায়গায় এসে পরস্পর এদিক-সেদিক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরে আবদুল্লাহ ইবনু সাহলকে মুহাইয়্যিসা (রাঃ) মৃত অবস্থায় দেখতে পান এবং তাকে দাফন করেন। তারপর মুহাইয়্যিসা, (তার বড় ভাই) হুওয়াইয়্যিসা ইবনু মাসউদ ও (নিহতের ভাই) আবদুর রহমান ইবনু সাহল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসেন। দলের সবার মধ্যে আবদুর রহমান বয়সে ছোট ছিলেন। তিনি তার অপর দু’জন সঙ্গীর আগে কথা বলতে গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ বড়কে অগ্রাধিকার দাও। এতে তিনি চুপ থাকেন এবং তার অন্য দু'জন সঙ্গী কথা বলেন। অতঃপর তিনিও তাদের সাথে কথা বলেন, তারা আবদুল্লাহ ইবনু সাহলের মারা যাওয়ার কথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বললেন। তাদেরকে তিনি বলেনঃ তোমাদের পঞ্চাশজন লোক কি শপথ করবে? এতে তোমরা তোমাদের সঙ্গীর অথবা তোমাদের মৃতের দিয়াতের অধিকারী হবে। তারা বলেন, আমরা কিভাবে শপথ করি, আমরা তো প্রত্যক্ষদশী ছিলাম না? তিনি বললেনঃ তাহলে পঞ্চাশজন ইয়াহুদী শপথ করে তোমাদের (খুনের অভিযোগ) হতে মুক্ত হয়ে যাবে। তারা বলেন, আমরা কিভাবে কাফির সম্প্রদায়ের শপথ গ্রহন করতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিস্থিতি অনুধাবন করে নিজের (সরকারের) কাছ থেকেই তার দিয়াত আদায় করে দেন। সহীহ, ইবনু মা’জাহ (২৬৭৭), নাসা-ঈ উপরোক্ত হাদীসের মত একই অর্থবোধক হাদীস আল-হাসান ইবনু হতে, তিনি বুশাইর ইবনু ইয়াসার হতে, তিনি সাহল ইবনু আবূ হাসমা ও রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে এইসূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী কাসামার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। মাদীনার একদল আলিম অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, যদি খুনের অপরাধ কাসামার মাধ্যমে স্বীকার করা হয় তবে কিসাস কার্যকর হবে। কূফার একদল আলিম এবং অন্যরা বলেছেন, কাসামার মাধ্যমে কিসাস ওয়াজিব হয় না, কিন্তু দিয়াত ওয়াজিব হয়।