। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কোন একসময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম (বাজারে) একটি খাদ্যশস্যের স্তূপ অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। তিনি নিজের হাতকে স্তূপের মধ্যে প্রবেশ করালেন। তিনি তার হাতে ভিজা অনুভব করেন। স্তূপের মালিককে তিনি প্রশ্ন করেনঃ এ কি? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এটা বৃষ্টির পানিতে ভিজে গিয়েছিল। তিনি বললেনঃ ভিজাগুলো স্তুপের উপরে রাখলে না কেন, যাতে লোকেরা দেখতে পেত? অতঃপর তিনি বললেনঃ প্রতারণাকারী ও ধোকাবাজকারীদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২২৪) ইবনু নিয়ার ও হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ মত দিয়েছেন। প্রতারণা ও ধোকাবাজিকে তারা খুবই জঘন্য অপরাধ হিসাবে উল্লেখ করেছেন এবং এটাকে হারাম বলেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি নিজের পাওনা আদায়ের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কঠোর তাগাদা দিল। এর ফলে লোকটির উপর সাহাবীগণ রেগে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে উপেক্ষা কর, কেননা, পাওনাদারের অধিকার আছে কথা বলার। তিনি আরো বললেনঃ একটি উট কিনে তোমরা তাকে প্রদান কর। তারা উটের তালাশ করলেন। কিন্তু তার পাওনা উট হতে অধিক ভালটি ছাড়া অন্য কোন উট পেলেননা। তিনি বললেনঃ তাকে সেটাই কিনে দাও। কেননা, তোমাদের মধ্যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধকারী লোকই উত্তম। সহীহ, বেচা-কেনার হাদীস, নাসা-ঈ এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শুবা হতে, তিনি সালামা ইবনু কুহাইল হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
হাদিস 1317 — Jami At Tirmidhi 14:120
সহিহসহিহ Hadithহাসান Sahih
হাদিস 1318 — Jami At Tirmidhi 14:122
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ اسْتَسْلَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَكْرًا فَجَاءَتْهُ إِبِلٌ مِنَ الصَّدَقَةِ . قَالَ أَبُو رَافِعٍ فَأَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَقْضِيَ الرَّجُلَ بَكْرَهُ . فَقُلْتُ لاَ أَجِدُ فِي الإِبِلِ إِلاَّ جَمَلاً خِيَارًا رَبَاعِيًّا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَعْطِهِ إِيَّاهُ فَإِنَّ خِيَارَ النَّاسِ أَحْسَنُهُمْ قَضَاءً " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আযাদকৃত গোলাম আবূ রাফি (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উঠতি বয়সের একটি উট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধার হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তারপর (বাইতুল মালে) যাকাতের উট আসে। আবূ রাফি (রাঃ) বলেন, ঐ লোকের উঠতি বয়সের উটটি পরিশোধের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিলেন। আমি বললাম, (বাইতুল মালে) ছয় বছর বয়সের উটের চেয়ে ছোট উট পাচ্ছি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে ঐটিই প্রদান কর। কেননা, উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধকারী ব্যক্তিই লোকদের মধ্যে বেশি উত্তম। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২৮৫), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রয়-বিক্রয় ও তাগাদার ক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলা নমতা পছন্দ করেন। সহীহ, সহীহ (৮৯০৯) জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা গারীব বলেছেন। উপরোক্ত হাদীসটি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে সাঈদ আল-মাকবুরীর বরাতে ইবনুস এর সূত্রেও বর্ণিত আছে।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমাদের পূর্বকালের এক লোককে ক্ষমা করে দিয়েছেন। সে যখন বিক্রয় করত নম্রতা দেখাতো, যখন ক্রয় করত বিনয় প্রদর্শন করতো এবং যখন ঋণের তাগাদা প্রদান করত তখনও নম্রতা ও ভদ্রতা প্রদর্শন করত। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২০৩), বুখারী অনুরূপ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদসূত্রে সহীহ্ হাসান গারীব বলেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বলেছেনঃ মসজিদের ভিতরে তোমরা কোন লোককে বেচা-কেনা করতে দেখলে বলবে, আল্লাহ তা'আলা যেন তোমার ব্যবসায়ে কোন লাভ প্রদান না করেন। মসজিদের মধ্যে তোমরা কোন লোককে হারানো জিনিসের ঘোষণা দিতে দেখলে বলবে, তোমার হারানো জিনিসকে যেন আল্লাহ্ তা'আলা ফিরিয়ে না দেন। সহীহ, মিশকাত (৭৩৩), ইরওয়া (১৪৯৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করার কথা বলেছেন। তাদের মতে মসজিদের ভিতরে বেচা-কেনা করা নিষেধ। এই মত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)। মসজিদের ভিতরে বেচা-কেনা করাটা অন্য একদল বিশেষজ্ঞ আলিমের মতে জায়িয।