। ইউনুস ইবনু জুবাইর (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ইবনু উমার (রাঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, এক লোক তার স্ত্রীকে হায়িয থাকাবস্থায় তালাক দিয়েছে। তিনি বললেন, তুমি কি আবদুল্লাহ ইবনু উমারকে চেন? সে তার স্ত্রীকে হায়িয থাকাবস্থায় তালাক দিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উমার (রাঃ) (এর বিধান প্রসঙ্গে) প্রশ্ন করেন। তিনি তাকে নিজ স্ত্রীকে ফেরত নিতে হুকুম দিলেন। বর্ণনাকারী উমর (রাঃ) বলেন, আমি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে) প্রশ্ন করলাম, এ তালাকও কি গণনা করা হবে? তিনি বললেনঃ কেন হবে না! তুমি কি মনে কর, যদি কোন লোক অপারগ হয় বা আহম্মকি করে (তাতে কি তালাক কার্যকর হবে না)। -সহীহ, ইবনু মজাহ (২০২২), বুখারী, মুসলিম
। সালিম (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) তার স্ত্রীকে হায়িয থাকা অবস্থায় তালাক দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উমার (রাঃ) এর বিধান জানতে চাইলেন। তিনি বললেনঃ তাকে তার স্ত্রীকে ফিরত নেওয়ার হুকুম দাও। অতঃপর সে যেন তাকে তুহরে (পবিত্র অবস্থা চলাকালে) অথবা গর্ভাবস্থায় তালাক দেয়। — সহীহ, ইবনু মাজাহ (২০২৩), মুসলিম ইবনু উমারের সূত্রে ইউনুস ইবনু জুবাইর (রাহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনু উমার হতে সালিম (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসটিও হাসান সহীহ। এ হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। তালাকের সুন্নাত (আইনানুগ) পদ্ধতি প্রসঙ্গে তাদের মত হলঃ যে তুহরে সঙ্গম করা হয়নি সেই তুহরে তালাক দেওয়া। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, তুহর অবস্থায় তিন তালাক দিলে তাও সুন্নাত নিয়মে হয়ে যাবে। এই মত ইমাম শাফিঈ ও আহমাদের। আর একদল আলিম বলেছেন, সুন্নাত পদ্ধতি মুতাবেক তালাক হবে এক তালাক দেওয়া হলে কিন্তু একসাথে তিন তালাক দেওয়া হলে তা হবে না। এই মত সুফিয়ান সাওরী ও ইসহাকের। গর্ভবতী স্ত্রীলোক প্রসঙ্গে তাদের মত হল, যে কোন সময়ই তাকে তালাক দেয়া যায়। এই মত শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের। অন্য এক দল আলিম বলেছেন, প্রতি মাসে এক তালাক করে দিবে (তিন তালাক একসাথে দিবে না)।
আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ ইবনু রুকানা (রাঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (রুকানা) বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার স্ত্রীকে কাটাছিড়া (বাত্তা শব্দে) তালাক দিয়েছি। তিনি প্রশ্ন করেনঃ এটা দ্বারা তোমার কি উদ্দেশ্য ছিল? আমি বললাম, এক তালাক। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলার শপথ! আমি বললাম, আল্লাহ্ তা'আলার শপথ (সত্য বলছি)। তিনি বললেনঃ তোমার যা উদ্দেশ্য ছিল তাই হয়েছে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২০৫১) আবূ ঈসা বলেনঃ আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র উল্লেখিত সূত্রেই জেনেছি। আমি এই হাদীস সম্পর্কে মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বলেনঃ এর সনদে অস্থিরতা আছে। ইবনু আব্বাস হতে বর্ণিত আছে যে, রুকানা তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ও অপরাপর আলিমদের মধ্যে সোজাসুজি ও নিশ্চিত (বাত্তা) তালাক নিয়ে মতপার্থক্য আছে। উমার (রাঃ) বাত্তা তালাককে এক তালাক গণ্য করেছেন কিন্তু আলী (রাঃ) এটাকে তিন তালাক গণ্য করেছেন। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, এটা তালাক প্রদানকারীর নিয়াতের উপর নির্ভর করবে। সে এক তালাকের নিয়াত করলে এক তালাক বলবৎ হবে, তিন তালাকের নিয়াত করলে তিন তালাক বলবৎ হবে এবং দুই তালাকের নিয়াত করলে এক তালাক বলবৎ হবে। সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসী আলিমদের এই মত। ইমাম মালিক বলেছেন, সে স্ত্রীর সাথে (বিয়ের পর) সহবাস করে থাকলে বাত্তা তালাকের মাধ্যমে তিন তালাকই বলবৎ হবে। ইমাম শাফিঈ বলেছেন, সে এক তালাকের নিয়াত করলে এক তালাক, দুই তালাকের নিয়াত করলে দুই তালাক এবং তিন তালাকের নিয়াত করলে তিন তালাকই বলবৎ হবে।
হাম্মাদ ইবনু যাইদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি আইউবকে প্রশ্ন করলাম, হাসান (বাসরী) ব্যতীত আরো কোন ব্যক্তি “আমরুকে বিয়াদিকে" (তোমার ব্যাপার তোমার হাতে) কথাটিকে তিন তালাক বিবেচিত করেছেন বলে আপনার জানা আছে কি? তিনি বলেন। হাসান ব্যাতিত আর কেউ এমনটি বলেছেন বলে আমার জানা নেই। তারপর তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা মাফ করুন। কাতাদা আমাকে সামুরা গোত্রের মুক্ত ক্রীতদাস কাসীরের সূত্রে বলেছেন, তিনি আবূ সালামা হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ “(এরূপ বলায়) তিন (তালাক) বিবেচিত হবে”। আইউব বলেন, আমি কাসীরের সাথে দেখা করে তাকে এই হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি তা চিহ্নিত করতে পারেননি। আমি কাতাদার নিকটে এসে ব্যাপারটা তাকে জানালে তিনি বলেন, সে (কাসীর) ভুলে গেছে। যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (৩৭৯) বিবৃতিটি হাসানের এটাই সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধু সুলাইমান ইবনু হারব হতে হাম্মাদ ইবনু যাইদের সূত্রেই জেনেছি। আমি ইমাম বুখারীকে এ হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সুলাইমান ইবনু হারব হাম্মাদ ইবনু যাইদের সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এটা আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে মাওকৃফ হাদীস হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে এবং আবূ হুরাইরার এ হাদীস মারফু হিসেবে জানা যায়নি। আলী ইবনু নাসর হাদীসের হাফিয ছিলেন। (স্বামী যদি স্ত্রীকে বলে) “তোমার ব্যাপার তোমার হাতে” তবে এর ফায়সালা কি হবে এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমদের মধ্যে মতের অমিল আছে। সা হাবীদের মাঝে উমার ও আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর মতে এতে এক তালাক বলবৎ হবে। একাধিক তাবিঈ ও তাদের পরবর্তীদেরও এই মত। অপর দিকে উসমান ইবনু আফফান ও যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর মতে স্ত্রী যা নির্ধারণ করবে তাই বলবৎ হবে (এক, দুই অথবা তিন তালাক যেটা গ্রহণ করবে তাই হবে)। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, স্বামী স্ত্রীর হাতে তার ব্যাপারটি ছেড়ে দেয়ার পর সে (স্ত্রী) নিজেকে তিন তালাক দিল। স্বামী এটা ফিরিয়ে দিয়ে বলল, আমি তাকে শুধু এক তালাকেরই অধিকার দিয়েছি। এ ক্ষেত্রে স্বামীকে শপথ করতে হবে। সে শপথ করলে তার বিবৃতিই মেনে নেয়া হবে। সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণ উমার ও আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর মত গ্রহণ করেছেন। ইমাম মালিক বলেছেন, স্ত্রী যা নির্ধারণ করবে তাই হবে। ইমাম আহমাদেরও এই মত। ইমাম ইসহাক (রাহঃ) ইবনু উমার (রাঃ)-এর মত গ্রহণ করেছেন।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তার স্ত্রী হিসাবে থাকা বা না থাকার) স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। আমরা তাকে গ্রহণ করলাম। এতে কি তালাক হল? — সহীহ, ইবনু মাজাহ (২০৫২) একইরকম হাদীস আইশা (রাঃ) হতে মাসরুকের বরাতে আবুয যুহা হতে বর্ণিত আছে। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। স্ত্রীকে যদি তার স্বামী তার সাথে থাকা বা না থাকার স্বাধীনতা দেয় তবে এর ফলাফল কি হবে সে বিষয়ে আলিমদের মধ্যে মত পার্থক্য আছে। উমার ও ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, স্ত্রী নিজের প্রতি (স্বামী হতে পৃথক হওয়ার) ইখতিয়ার প্রয়োগ করলে তবে তাতে এক বাইন তালাক হবে। তাদের আরো একটি মত উল্লেখ আছে যে, তাতে এক রিজঈ তালাক হবে। আর যদি স্বামীর সাথে থাকাকেই স্ত্রী ইখতিয়ার করে তবে কোন তালাক হবে না। আলী (রাঃ) বলেছেন, সে নিজেকে বেছে নিলে এক বাইন তালাক হবে এবং স্বামীকে বেছে নিলে এক রিজঈ তালাক হবে। যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) বলেন, তিন তালাক হবে যদি সে নিজেকে ইখতিয়ার করে এবং এক তালাক হবে যদি সে স্বামীকে ইখতিয়ার করে। উমার ও আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর মতকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ ফিকহবিদ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ গ্রহণ করেছেন। এই মত গ্রহণ করেছেন সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসী আলিমগণও। কিন্তু আলী (রাঃ)-এর মতকে ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রাহঃ) গ্রহণ করেছেন।
হাদিস 1180 — Jami At Tirmidhi 13:6
সহিহসহিহসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ قَالَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ قَيْسٍ طَلَّقَنِي زَوْجِي ثَلاَثًا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ سُكْنَى لَكِ وَلاَ نَفَقَةَ " . قَالَ مُغِيرَةُ فَذَكَرْتُهُ لإِبْرَاهِيمَ فَقَالَ قَالَ عُمَرُ لاَ نَدَعُ كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم لِقَوْلِ امْرَأَةٍ لاَ نَدْرِي أَحَفِظَتْ أَمْ نَسِيَتْ . وَكَانَ عُمَرُ يَجْعَلُ لَهَا السُّكْنَى وَالنَّفَقَةَ . حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَنْبَأَنَا حُصَيْنٌ، وَإِسْمَاعِيلُ، وَمُجَالِدٌ، قَالَ هُشَيْمٌ وَحَدَّثَنَا دَاوُدُ، أَيْضًا عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ فَسَأَلْتُهَا عَنْ قَضَاءِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهَا فَقَالَتْ طَلَّقَهَا زَوْجُهَا الْبَتَّةَ فَخَاصَمَتْهُ فِي السُّكْنَى وَالنَّفَقَةِ فَلَمْ يَجْعَلْ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سُكْنَى وَلاَ نَفَقَةً . وَفِي حَدِيثِ دَاوُدَ قَالَتْ وَأَمَرَنِي أَنْ أَعْتَدَّ فِي بَيْتِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمُ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ وَعَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ وَالشَّعْبِيُّ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالُوا لَيْسَ لِلْمُطَلَّقَةِ سُكْنَى وَلاَ نَفَقَةٌ إِذَا لَمْ يَمْلِكْ زَوْجُهَا الرَّجْعَةَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ عُمَرُ وَعَبْدُ اللَّهِ إِنَّ الْمُطَلَّقَةَ ثَلاَثًا لَهَا السُّكْنَى وَالنَّفَقَةُ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لَهَا السُّكْنَى وَلاَ نَفَقَةَ لَهَا . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَاللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ وَالشَّافِعِيِّ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ إِنَّمَا جَعَلْنَا لَهَا السُّكْنَى بِكِتَابِ اللَّهِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: (لاَ تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلاَ يَخْرُجْنَ إِلاَّ أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ ) قَالُوا هُوَ الْبَذَاءُ أَنْ تَبْذُوَ عَلَى أَهْلِهَا . وَاعْتَلَّ بِأَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ لَمْ يَجْعَلْ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم السُّكْنَى لِمَا كَانَتْ تَبْذُو عَلَى أَهْلِهَا . قَالَ الشَّافِعِيُّ وَلاَ نَفَقَةَ لَهَا لِحَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي قِصَّةِ حَدِيثِ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ .
। শাবী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কাইসের মেয়ে ফাতিমা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাকে) বলেনঃ তুমি বাসস্থান এবং ভরণ-পোষণ কোনটাই পাবে না। মুগীরা (রাহঃ) বলেন, আমি ইবরাহীম নাখঈর নিকট একথা উল্লেখ করলে তিনি বলেন, উমার (রাঃ) বলেছেন, আমরা আল্লাহ তা'আলার কিতাব ও আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতকে একজন মহিলার কথায় ছেড়ে দিতে পারি না। সে স্মরণ রেখেছে না ভুলে গেছে তা আমাদের সঠিক জানা নেই। তিন তালাকপ্রাপ্তার জন্য উমার (রাঃ) বাসস্থান ও খরচ-পাতির ব্যবস্থা করেছেন। শাবী (রহঃ) হতে আরও বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি কাইসের মেয়ে ফাতিমা (রাঃ)-এর নিকট এলাম এবং তার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ফায়সালা দিয়েছেন তাকে সে সম্বন্ধে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন যে, তাকে তার স্বামী শেষ তালাক দিলে তিনি বাসস্থান ও খরচ-পাতির জন্য তার স্বামীর সাথে ঝগড়া করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য বাসস্থান ও খরচ-পাতির ব্যাবস্থা করার সিদ্ধান্ত দেননি। দাউদের বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি (ফাতিমা) বলেন, উম্মু মাকতুমের ছেলের ঘরে আমাকে ইদ্দাত পালনের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দেন। — সহীহ, ইবনু মাজাহ (২০৩৫, ২০৩৬) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। হাসান বাসরী, আতা ইবনু আবু রাবাহ ও শাবীর মতে তালাকপ্রাপ্তাকে স্বামীর জন্য আবার তার বিয়ের বন্ধনে ফিরিয়ে আনার সুযোগ না থাকলে সে (স্ত্রী) ইদ্দাতকালের জন্য বাসস্থান ও খরচ-পাতি পাবে না। ইমাম আহমাদ ও ইসহাকও একথা বলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী, যেমন উমার ও আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেছেন, ইদ্দাত কালের জন্য তিন তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বাসস্থান ও খরচ-পাতি পাবে। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসী ফাকীহগণ। ইমাম মালিক, লাইস ইবনু সা’দ ও শাফিঈ আরো বলেছেন, সে বাসস্থান পেলেও। খরচ-পাতি পাবে না। শাফিঈ আরো বলেন, আমরা তার বাসস্থান পাওয়ার কথাটি আল্লাহ্ তা'আলার কিতাবের নির্দেশ অনুযায়ীই বলেছি। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ “তোমরা (ইদ্দাতকালে) তাদের বাসস্থান হতে তাদেরকে বের করে দিও না এবং তারাও যেন বের না হয়। তবে তারা সুস্পষ্ট কোন অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়লে তবে ভিন্ন কথা” (সূরাঃ তালাক- ১)। আলিমগণ বলেন, এখানে পুরুষের পরিবার-পরিজনের সাথে অসভ্য আচরণ করাকেই ‘অশ্লীলতা’ বলে বুঝানো হয়েছে। তারা ফাতিমাকে বাসস্থান ও খরচ-পাতির ব্যবস্থা না করার কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তার স্বামীর সাথে অসদাচরণ করেছিলেন। ইমাম শাফিঈ বলেন, এ ধরণের তালাকপ্রাপ্তা মহিলার খরচ-পাতির ব্যবস্থা করাটা স্বামীর উপর বাধ্যতামূলক নয়। এর প্রমাণ হচ্ছে ফাতিমা বিনতি কাইস সম্পর্কিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস।
। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (দাদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম সন্তান যে সকল জিনিসের মালিক নন সে সকল জিনিসের মানত জায়িয নয়, সে যার মালিক নয় তাকে সে মুক্তি দিতে পারে না এবং তার সাথে যার বিয়ে হয়নি তাকে সে তালাকও দিতে পারে না। – হাসান সহীহ, ইবনু মাজাহ (২০৪৭) আলী, মুআয ইবনু জাবাল, জাবির, ইবনু আব্বাস ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ অনুচ্ছেদের মধ্যে যে কয়টি হাদীস বর্ণিত আছে সেগুলোর মধ্যে এ হাদীসটিই সবচেয়ে উত্তম। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবী মত দিয়েছেন। এই মত দিয়েছেন আলী ইবনু আবূ তালিব, ইবনু আব্বাস, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ), সাঈদ হুসাইন, শুরাইহ, জাবির ইবনু যাইদ প্রমুখ একাধিক ফিকহবিদ সাহাবী ও তাবিঈও। ইমাম শাফিঈ একইরকম কথা বলেছেন। ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, কোন এলাকার কোন নির্দিষ্ট মহিলাকে বিয়ে করার কথা উল্লেখ করে তালাক দিলে সে তালাক কার্যকর হবে (কেউ যদি বলে, আমি অমুক বংশ বা অমুক এলাকার অমুক মেয়ে বিবাহ করলে সে তালাক, এ ক্ষেত্রে বিয়ে বিধিবদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে তালাক হয়ে যাবে)। শাবী, ইবরাহীম নাখঈ ও অপরাপর আলিম বলেন, তালাক অবতীর্ণ হবে যদি সময় নির্দিষ্ট করে বলা হয়। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী ও মালিক ইবনু আনসও। তারা বলেন, সঠিকভাবে কোন মহিলার নাম, অথবা সঠিক সময় নির্ণয় করে, অথবা কোন শহরের নাম স্পষ্টভাবে বলা হলে, যেমন আমি অমুক শহরের অমুক মেয়ে বিয়ে করলে (সে তালাক), এসব অবস্থায় তালাক কার্যকর হবে। এ প্রসঙ্গে ইবনুল মুবারাক (রাঃ) কঠোর নীতি অবলম্বন করেছেন। তিনি বলেছেন, কোন লোক যদি এরূপ করে তবে আমি বলি না যে, তার জন্য ঐ মহিলাটি হারাম হবে। আহমাদ (রহঃ) বলেন, সে যদি বিয়ে করে তবে আমি তাকে তার স্ত্রীকে ত্যাগ করার হুকুম দেই না। ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর হাদীস অনুযায়ী ইসহাক (রাহঃ) নির্দিষ্ট নারীর ক্ষেত্রে তালাক সংঘটিত হওয়ার পক্ষপাতী হওয়া সত্ত্বেও এইরূপ বিয়েকে জায়িয মনে করেন। তিনি বলেন, যদি ঐ মহিলাকে শপথ করার পরও সে লোক বিয়ে করে তবে আমি একথা বলি না যে, তার জন্য ঐ মহিলাটি হারাম হবে। আর ইসহাক (রহঃ)-এর মত অনির্দিষ্ট নারীর ক্ষেত্রে আরও উম্মুক্ত। এক ব্যক্তি প্রসঙ্গে ইবনুল মুবারাককে প্রশ্ন করা হল যে, সে শপথ করে বলেছে যে, সে বিয়ে করবে না, করলে তালাক হয়ে যাবে। পরে দেখা গেল যে, সে বিয়ে করতে চাচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে বিয়ের সুযোগ আছে বলে যেসব ফিকহবিদ মত দিয়েছেন, তাদের মতের অবলম্বনে এই লোক কি বিয়ে করতে পারবে? এর উত্তরে ইবনুল মুবারাক বললেন, যদি এসব ফিকহবিদের মতের প্রতি সে লোক এই সমস্যায় জড়িত হওয়ার পূর্বে আস্থাবান হয়ে থাকে তাহলে সে লোকের তাদের মত গ্রহণের সুযোগ আছে। কিন্তু পূর্ব হতেই যে লোক তাদের এ মত পছন্দ করেনি এবং সে যখন পরবর্তীতে এ সমস্যায় জড়িয়ে পড়লো তখন তাদের মত গ্রহণ করতে চায়, তাদের মত গ্রহণের সুযোগ তার আছে বলে আমি মনে করি না।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দাসীর বেলায় দুই তালাক এবং তার ইদ্দাত দুই হাইযকাল। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২০৮০) এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। মুযাহির ইবনু আসলামের সূত্রেই শুধু এ হাদীসটি মারফু বলে জানা যায়। এ হাদীসটি ব্যতীত মুযাহিরের বর্ণিত আর কোন হাদীস আছে কি-না তা আমরা অবগত নই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগন এ হাদীস অনুযায়ী অভিমত দিয়েছেন। সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকেরও এই অভিমত।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে পর্যন্ত আমার উন্মাত কোন মনের কথা প্রকাশ না করে অথবা সে অনুযায়ী কাজ না করে, সে পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তা উপেক্ষা করেন (ক্ষমা করেন)। - সহীহ, ইবনু মাজাহ (২০৪০), বুখারী, মুসলিম এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ মত দিয়েছেন। কোন লোক তার মনে মনে তালাকের কথা ভাবলে তা মুখে উচ্চারণ না করা পর্যন্ত এর কোন আইনগত কার্যকারিতা নেই।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি বিষয়ে প্রকৃতপক্ষে বললেও এবং ঠাট্টাচ্ছলে বললেও যথার্থ বলে বিবেচিত হবেঃ বিয়ে, তালাক ও রাজআত (তালাক প্রত্যাহার)। — সহীহ, ইবনু মাজাহ (২০৩৯) এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিম মত দিয়েছেন। আবদুর রামানের পিতা হাবীব এবং দাদা আরদাক আল-মাদানী। আমার মতে ইবনু মাহাক অর্থাৎ মাহাকের ছেলের নাম ইউসুফ।