أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْبَغْدَادِيُّ، أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ بَحْرٍ، أَنْبَأَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ امْرَأَةَ، ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ اخْتَلَعَتْ مِنْ زَوْجِهَا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَعْتَدَّ بِحَيْضَةٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي عِدَّةِ الْمُخْتَلِعَةِ فَقَالَ أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِنَّ عِدَّةَ الْمُخْتَلِعَةِ عِدَّةُ الْمُطَلَّقَةِ ثَلاَثُ حِيَضٍ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِنَّ عِدَّةَ الْمُخْتَلِعَةِ حَيْضَةٌ . قَالَ إِسْحَاقُ وَإِنْ ذَهَبَ ذَاهِبٌ إِلَى هَذَا فَهُوَ مَذْهَبٌ قَوِيٌّ .
أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْبَغْدَادِيُّ، أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ بَحْرٍ، أَنْبَأَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ امْرَأَةَ، ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ اخْتَلَعَتْ مِنْ زَوْجِهَا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَعْتَدَّ بِحَيْضَةٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي عِدَّةِ الْمُخْتَلِعَةِ فَقَالَ أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِنَّ عِدَّةَ الْمُخْتَلِعَةِ عِدَّةُ الْمُطَلَّقَةِ ثَلاَثُ حِيَضٍ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِنَّ عِدَّةَ الْمُخْتَلِعَةِ حَيْضَةٌ . قَالَ إِسْحَاقُ وَإِنْ ذَهَبَ ذَاهِبٌ إِلَى هَذَا فَهُوَ مَذْهَبٌ قَوِيٌّ .
হাদিস 1186 — Jami At Tirmidhi 13:13
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا مُزَاحِمُ بْنُ ذَوَّادِ بْنِ عُلْبَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ أَبِي الْخَطَّابِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ، عَنْ ثَوْبَانَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمُخْتَلِعَاتُ هُنَّ الْمُنَافِقَاتُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِالْقَوِيِّ . وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " أَيُّمَا امْرَأَةٍ اخْتَلَعَتْ مِنْ زَوْجِهَا مِنْ غَيْرِ بَأْسٍ لَمْ تَرِحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ "
। সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ খোলা তালাক দাবিকারিণী নারীরা মুনাফিক। — সহীহ, সহীহা (৬৩৩), মিশকাত তাহকীক ছানী (৩২৯০) এ হাদীসটিকে উল্লেখিত সনদসূত্রে আবু ঈসা গরীব বলেছেন। এর সনদ খুব একটা মজবুত নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেনঃ “যে সকল নারী স্বামীর নিকট হতে কোন বিবেচনাযোগ্য কারণ ছাড়াই খোলা তালাক গ্রহণ করে সে জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না”।
। সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বামীর নিকট হতে যেসব নারী কোন বিবেচনাযোগ্য কারণ ছাড়াই তালাক চায় তার জন্য জান্নাতের সুগন্ধও হারাম। — সহীহ, ইবনু মাজাহ (২০৫৫) আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এটি অন্য একটি সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু মারফুভাবে নয়।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহিলারা পাঁজরের বাকা হাড়ের মত। তুমি যদি সেটাকে সোজা করতে যাও তাহলে তা ভেঙ্গে ফেলবে। আর যদি তুমি ফেলে রাখ (সোজা করার চেষ্টা না কর) তবে তার বাকা অবস্থায়ই তুমি ফায়দা উঠাতে পারবে। — সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (৩/৭২-৭৩), মুসলিম, বুখারী অনুরূপ আবু যার, সামুরা ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন এবং এর সনদসূত্র উত্তম।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার বিবাহিত এক স্ত্রী ছিল যাকে আমি ভালোবাসতাম, কিন্তু তাকে আমার পিতা পছন্দ করতেন না। তিনি আমাকে নির্দেশ দেন তাকে তালাক প্রদানের জন্য। কিন্তু আমি তা অস্বীকার করি। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আমি উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ হে উমারের- পুত্র আবদুল্লাহ! তুমি তোমার স্ত্রীকে তালাক দাও। – হাসান, ইবনু মাজাহ (২০৮৮) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আমরা এই হাদীসটির সাথে শুধুমাত্র ইবনু আবূ যিব-এর সূত্রেই পরিচিত হতে পেরেছি।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন নারী যেন বোনের পাত্র খালি করে নিজের পাত্র পূরণের জন্য তার তালাক প্রার্থনা না করে। — সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (১৮৯১) উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তালাক মাত্রই বলবৎ হয়, কিন্তু বুদ্ধি ও স্মৃতি নষ্ট হওয়া ব্যক্তির তালাক বলবৎ হয় না। খুবই দুর্বল। সহীহ কথা হল হাদীসটি মাওকুফ, ইরওয়া (২০৪২) আবূ ঈসা বলেনঃ আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র আতা ইবনু আজলানের সূত্রেই মারফু হিসাবে জেনেছি। কিন্তু তিনি হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল এবং হাদীস বর্ণনায় ভুলের শিকার হতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী মত দিয়েছেন। তাদের মতে নির্বোধ ব্যক্তির তালাক কার্যকর হয় না। কিন্তু যে উন্মাদ কখনও জ্ঞান ফিরে পায় আবার কখনও জ্ঞানহারা হয়ে পড়ে সে যদি হুশ থাকাকালে তালাক দেয় তবে তা বলবৎ হবে।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, লোকেরা (জাহিলী যুগে) যেমন ইচ্ছা নিজ স্ত্রীকে তালাক দিত। এমনকি সে শতবার বা ততোধিক তালাক দেবার পরও তাকে ইদ্দাতের মধ্যে ফেরত নিলে সে পুরা দস্তর তার বিবি বিবেচিত হত। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌছল যে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল, আল্লাহ্ তা'আলার শপথ! আমি তোমাকে এমন তালাকও দিব না যে, তুমি আমার নিকট হতে আলাদা হয়ে যাবে এবং তোমাকে কখনো (স্থান) সহায়তাও দিব না। তার স্ত্রী বলল, এ কেমন কথা? সে বলল, আমি তোমাকে তালাক দিব এবং ইদ্দাত শেষ হওয়ার আগে ফিরিয়ে নিব। তোমার সাথে বারবার এমনই করতে থাকব। স্ত্রীলোকটি আইশা (রাঃ)-এর নিকটে এসে তাকে এ ঘটনা জানালো। আইশা (রাঃ) নীরব রইলেন। এর মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাযির হলেন। তিনি তাকে ব্যাপারটি অবগত করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকলেন। এসময় কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হলঃ "তালাক দুইবার। তারপর হয় তাকে যথারীতি ফিরিয়ে নিবে, অন্যথায় সঠিক পন্থায় মুক্ত করে দিবে"-(সূরাঃ বাকারা- ২২৯)। আইশা (রাঃ) বলেন, এরপর থেকে যে লোক আগে তালাক দিয়েছে আর যে লোক দেয়নি উভয়ই ভবিষ্যতের জন্য নতুনভাবে তালাকের অধিকার লাভ করলো। যঈফ, ইরওয়া (৭/১৬২) হিশাম ইবনু উরওয়া (রাহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে উপরে উল্লেখিত হাদীসের মতই হাদীস বর্ণিত আছে। কিন্তু এই সূত্রে উরওয়া (রাহঃ) আইশা (রাঃ)-এর উল্লেখ করেননি। এই বর্ণনাটি ইয়ালা ইবনু শাবীবের বর্ণিত হাদীসের তুলনায় অনেক বেশী সহীহ।
। আবুস সানাবিল ইবনু বাকাক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সুবাইআ (রাঃ) সন্তান প্রসব করেন তার স্বামী মারা যাবার তেইশ বা পঁচিশ দিন পর। তিনি নিফাস হতে পবিত্র হয়ে পুনরায় বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু কেউ কেউ সেটাকে খারাপ বলে মনে করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি বললেনঃ সে ইচ্ছা করলে এটা করতে পারে, কেননা, তার ইদ্দাত পূর্ণ হয়ে গেছে। — সহীহ, ইবনু মাজাহ (২০২৭) এ হাদীসটি আরো একটি সনদসূত্রে বর্ণিত হয়েছে। উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবুস সানাবিল (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি উল্লেখিত সনদ সূত্রে মাশহর ও গারীব। আবুস সানাবিলের নিকট হতে আল-আসওয়াদ হাদীস শুনেছেন কি-না তা আমাদের জানা নেই। ইমাম বুখারী (রাহঃ) বলেছেন, আবুস সানাবিল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পরও বেঁচে ছিলেন কি-না তা আমাদের জানা নেই। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিম মত দিয়েছেন যে, যদি কোন গর্ভবতী মহিলার স্বামী মৃত্যুবরণ করে তবে তার সন্তান জন্মের সাথে সাথে তার বিয়ে করা হালাল (জায়িয), যদিও তার ইদ্দাত (চার মাস দশদিন) পূর্ণ না হয়। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। অপর একদল সাহাবী ও অন্যদের মতে “দুই মেয়াদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘতর মেয়াদ" হবে তার ইদ্দাতকাল। কিন্তু প্রথমোক্ত মতই অনেক বেশি সহীহ।
। সুলাইমান ইবনু ইয়াসার (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, গর্ভবতী বিধবা স্ত্রীলোকের ইদ্দাত প্রসঙ্গে আবু হুরাইরা, ইবনু আব্বাস ও আবু সালামা ইবনু আবদুর রাহমান (রাঃ) আলোচনা করলেন, যে স্বামীর মৃত্যুর পরপর সে সন্তান প্রসব করে (তার ইদ্দাত কখন পূর্ণ হবে)। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, দুই মেয়াদের মধ্যে দীর্ঘতর মেয়াদই হবে তার ইদ্দাতকাল। আবূ সালামা (রাঃ) বললেন, সন্তান জন্মের সাথে সাথে তার বিয়ে করা বৈধ হবে। আবু হুরাইরা (রাঃ) বললেন, আমি আমার ভাইয়ের ছেলে আবু সালামার সাথে একমত। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মু সালামা (রাঃ)-এর নিকট বিষয়টি সমাধানের জন্য (লোক) পাঠান। তিনি বললেন, সুবাইয়া আসলামিয়া তার স্বামী মারা যাবার অল্পদিন পরই সন্তান প্রসব করে। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফাতওয়া জানতে চাইলে তিনি তাকে বিয়ের অনুমতি দেন। — সহীহ, ইরওয়া (২১১৩), সহীহ আবু দাউদ (১১৯৬), আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।