আবু সালামা (রাঃ)-এর মেয়ে যাইনাব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি অধস্তন বর্ণনাকারী হুমাইদ ইবনু নাফিকে নিম্নোক্ত তিনটি হাদীস প্রসঙ্গে জানিয়েছেন। ১১৯৫। তিনি (যাইনাব) বলেছেনঃ (এক) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মু হাবীব (রাঃ)-এর পিতা আবু সুফিয়ান (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর আমি তার নিকট গেলাম। তিনি কস্তুরি মিশ্রিত হলুদ বর্ণের খালুক নামক সুগন্ধি নিয়ে ডাকলেন। তিনি একটি বালিকার গায়ে তা মাখালেন, তারপর তা নিজের উভয় গালে লাগালেন। তারপর তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমার সুগন্ধি মাখার তেমন কোন প্রয়োজন ছিল না। আমি তা শুধুমাত্র এজন্যই মাখলাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা'আলা ও আখিরাত দিবসের উপর যে মহিলা ঈমান রাখে, তার পক্ষে কোন মৃতের জন্য তিন দিনের বেশি শোক প্রকাশ করা জায়িয নয়। শুধুমাত্র স্বামীর জন্য শোক পালন হবে চার মাস দশ দিন। সহীহ, ইরওয়া (২১১৪), সহীহ আবূ দাউদ (১৯৯০, ১৯৯১), বুখারী, মুসলিম
। (দুই) যাইনাব (রাঃ) বলেন, জাহশের মেয়ে যাইনাব (রাঃ)-এর ভাইয়ের মৃত্যুর পর আমি তার নিকট গেলাম। তিনিও সুগন্ধি নিয়ে ডাকলেন এবং তা ব্যবহার করলেন। তারপর তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ আমার সুগন্ধি মাখার তেমন কোন প্রয়োজন ছিল না। তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের উপর যে মহিলা ঈমান রাখে তার পক্ষে কোন মৃতের জন্য তিন দিনের বেশি শোক প্রকাশ করা জায়িয নয়। শুধু স্বামীর জন্য শোক পালন হচ্ছে চার মাস দশ দিন। — সহীহ, প্রাগুক্ত
। (তিন), যাইনাব (রাঃ) বলেন, আমি আমার মা উম্মু সালামা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মেয়ের স্বামী মৃত্যুবরণ করেছে। ইদানীং তার দুই চোখে অসুখ দেখা দিয়েছে। আমরা তার চোখে সুরমা লাগাতে পারব কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না। মহিলাটি দুই কি তিনবার এই প্রশ্ন করল এবং প্রতি বারেই তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ না। তারপর তিনি বললেনঃ এটা তো মাত্র চার মাস দশ দিনের ব্যাপার। জাহিলী যুগে তোমাদের কোন মহিলাকে এক বছর পর্যন্ত শোক পালন শেষে বিষ্ঠা নিক্ষেপ করে ইদ্দাতকে সমাপ্ত করতে হত। — সহীহ, প্রাগুক্ত মালিক ইবনু সিনানের কন্যা এবং আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ)-এর বোন ফুরাইআ ও উমার (রাঃ)-এর কন্যা হাফসা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, যাইনাব (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ও অন্যান্য আলিম মত দিয়েছেন। তাদের মতে যে মহিলার স্বামী মৃত্যুবরণ করেছে সে মহিলা ইদাতের সময় সুগন্ধি ও সাজসজ্জা বর্জন করবে। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক।
সালামা ইবনু সখর আল-বায়ায়ী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, যিহার করার পর কাফফারা আদায়ের পূর্বে স্ত্রীর সাথে সঙ্গমকারী ব্যক্তি প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমতাবস্থায় তার একটি মাত্র কাফফারাই হবে। — সহীহ, প্রাগুক্ত আবু ঈসা বলেন এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিম মত দিয়েছেন। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (একই কাফফারা হবে)। অপর কিছু আলিম বলেন, যিহার করার কাফফারা আদায়ের পূর্বে সহবাস করলে দুটি কাফফারা আদায় করতে হবে। এই মত দিয়েছেন আবদুর রাহমান ইবনু মাহদীও।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক লোক যিহারের পর তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে। তারপর সে লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্ত্রীর সাথে আমি যিহার করেছি এবং কাফফারা আদায়ের পূর্বে সহবাস করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমায় রাহাম করুন! তোমাকে কোন জিনিস এ কাজে লিপ্ত হতে উদ্বুদ্ধ করল? সে বলল, আমি চাদের আলোতে তার পায়ের অলংকার দেখতে পেয়েছিলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমাকে যা হুকুম করেছেন তা পালনের পূর্বে আর তার ধারে-কাছেও যেও না। — সহীহ, ইবনু মাজাহ (২০৬৫) এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্ গারীব বলেছেন।
। আবু সালামা ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রাহমান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, বায়াযা গোত্রের সালমান ইবনু সাখর আনসারী তার স্ত্রীকে রামাযান মাসের জন্য তার মায়ের পিঠের সাথে তুলনা করল (যিহার করল)। এই মাসের অর্ধেক গত হওয়ার পর এক রাতে সে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করল। তারপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বিষয়টি তাকে জানালো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ একটি গোলাম আযাদ কর। সে বলল, এটা করার সামর্থ্য আমার নেই। তিনি বললেনঃ একাধারে দুই মাস রোযা রাখ। সে বলল, আমার সামর্থ্য নেই এটা করার। তিনি বললেনঃ ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াও। সে বলল, এটা করারও আমার সামর্থ্য নেই। তখন ফারওয়া ইবনু আমর (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে এই খেজুরের ঝুড়িটা দাও যাতে ষাটজন মিসকীনকে সে খাওয়াতে পারে। আরাক এমন বড় ঝুড়িকে বলা হয় যাহাতে ১৫ অথবা ১৬ সা’ খেজুর ধরে। — সহীহ, ইবনু মাজাহ (২০৬২) আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীস অনুযায়ী যিহারের কাফফারা নির্ধারণের ব্যাপারে আলিমগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সালামানকে সালামা আল-বায়াযীও বলা হয়।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিবিদের সাথে ঈলা করে একটি হালাল বিষয়কে নিজের জন্য হারাম করে নিলেন তারপর এই হারামকে হালাল করলেন এবং পরে শপথ (ভঙ্গের)-এর কারণে কাফফারা দিলেন। যঈফ, ইরওয়া (৪৭৫২) এ অনুচ্ছেদে আনাস ও আবূ মূসা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ উল্লেখিত হাদীসটি আলী ইবনু মুসহির এবং অন্যান্যরা দাউদ-এর সূত্রে ইমাম শাবী (রাহঃ) হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে মাসরূক ও আইশা (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। এই (মুরসাল) বর্ণনাটি মাসলামা ইবনু আলকামার বর্ণনার চেয়ে অনেক বেশী সহীহ। কোন লোক চার মাস বা তার বেশী সময় নিজ বিবির নিকটে না যাওয়ার (সহবাস না করার) কসম করলে তাকে ঈলা' বলে। চার মাস চলে গেলে এবং এর মধ্যে স্ত্রীর নিকটে না গেলে তার পরিণতি কি হবে তা নিয়ে আলিমদের মাঝে মতের অমিল আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও বিশেষজ্ঞ আলিমদের মতে চার মাস চলে যাবার পর সে ক্ষান্ত হবে এবং নির্ধারণ করবে যে, হয় তাকে ফেরত নিবে অথবা তালাক দিবে। মালিক ইবনু আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের এই অভিমত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপর একদল সাহাবী ও বিশেষজ্ঞ আলিমদের মতেঃ চার মাস চলে গেলে স্বাভাবিকভাবে এক বাইন তালাক হয়ে যাবে। সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসী ফকীহগণের এই মত।
। সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মুসআব ইবনু যুবাইরের শাসনামলে এক জোড়া লিআনকারী (দম্পতি) প্রসঙ্গে আমাকে প্রশ্ন করা হলঃ তাদেরকে আলাদা করে দেয়া হবে কি-না। আমি এই প্রসঙ্গে কি বলব তা সঠিক অনুমান করতে পারলাম না। আমি আমার ঘর হতে বেরিয়ে সোজা আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-এর ঘরের দরজার সামনে এলাম এবং তার সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রবেশের অনুমতি চাইলাম। আমাকে বলা হল, তিনি দুপুরের খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। তিনি ভিতর হতে আমার কথা শুনে বললেন, ইবনু জুবাইর ভিতরে প্রবেশ কর। নিশ্চয়ই কোন জরুরী বিষয় নিয়ে তুমি এসেছ। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ভিতরে গেলাম। তিনি তার বাহনের হাওদার নিচের মোটা কাপড় বিছিয়ে তার উপর শুয়ে ছিলেন। আমি বললাম, হে আবদুর রাহমানের পিতা! লিআনকারী দম্পতিকে কি একে অপর হতে আলাদা করতে হবে? তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! হ্যাঁ, এ প্রসঙ্গে সর্বপ্রথম অমুকের ছেলে অমুক প্রশ্ন করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে তাকে প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমাদের মাঝে কোন লোক তার স্ত্রীকে খারাপ কাজে (যিনায়) জড়িত দেখে তখন সে কি করবে, এ প্রসঙ্গে আপনি কি মত পোষণ করেন? যদি সে মুখ খুলে তবে একটা ভয়ানক কথা বলল, আর সে চুপ থাকলে তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চুপ রইল। বর্ণনাকারী (ইবনু উমার) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা শুনে নীরব রইলেন এবং কোন উত্তর দিলেন না। তিনি (ফিরে যাওয়ার পর) আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন, আপনাকে যে বিষয়ে ইতিপূর্বে প্রশ্ন করেছিলাম তাতে আমি নিজেই জড়িয়ে পড়েছি। এমন সময় আল্লাহ তা'আলা সূরা নূরের আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ “নিজেদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে যে সকল লোক যিনার অভিযোগ তোলে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের আর কোন সাক্ষী থাকে না তবে তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে চারবার আল্লাহ তা'আলার নামে শপথ করে বলবে..... যদি সে সত্যবাদী হয়” (৬-১০)। তিনি লোকটিকে ডেকে এনে তাকে এ আয়াতগুলো পাঠ করে শুনান, তাকে উপদেশ দিয়ে ভালোভাবে বুঝান। তিনি তাকে বললেনঃ দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের শাস্তি হতে অনেক হালকা। তিনি বললেন, না, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন! তাকে আমি মিথ্যা অপবাদ দেইনি। তারপর তিনি স্ত্রীলোকটির প্রতি মনোনিবেশ করলেন এবং তাকেও উপদেশ দিয়ে উত্তমভাবে বুঝালেনঃ দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের শাস্তি হতে খুবই হালকা। স্ত্রীলোকটি বলল, না, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন। সে সত্য কথা বলেনি। বর্ণনাকারী (ইবনু উমার) বলেন, তারপর প্রথমে পুরুষকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শপথ করালেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার নাম সহকারে চারবার শপথ করে সাক্ষ্য দিলেন যে, তিনি (অভিযোগের ব্যাপারে) সত্যবাদী। তিনি পঞ্চম বারে বললেন যে, তিনি (আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গে) মিথ্যাবাদী হলে তার উপর আল্লাহর অভিসম্পাত। তারপর তিনি স্ত্রীলোকটিকে লিআন করান। সে চারবার আল্লাহ তা'আলার নাম উচ্চারণ সহকারে শপথ করে সাক্ষ্য দিল যে, তার বিরুদ্ধে উঠানো অভিযোগে সে (স্বামী) মিথ্যাবাদী। সে পঞ্চম বারে বলল, সে (স্বামী) সত্যবাদী হলে তবে তার নিজের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত। তারপর তাদের বিয়ে বন্ধন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিন্ন করে দিলেন। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৯৫৫), মুসলিম সাহল ইবনু সাদ, ইবনু আব্বাস, হুযাইফা ও ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেন। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক লোক তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে লিআন করল। তাদের বিয়ে বন্ধনকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিন্ন করে দেন এবং সন্তানটিকে তার মায়ের সাথে সম্পৃক্ত করেন। — সহীহ, ইবনু মাজাহ (২০৬৯), নাসাঈ এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেন।
। যাইনাব বিনতু কাব ইবনু উজরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তাকে মালিক ইবনু সিনান (রাঃ)-এর মেয়ে এবং আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ)-এর বোন ফুরাইআ (রাঃ) জানিয়েছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসেন একটা প্রশ্ন করার উদ্দেশ্যে যে, ইন্দাতের জন্য তার নিজের বংশ খুদরা গোত্রে যেতে পারেন কি-না। তার স্বামী তার কয়েকটি পলাতক গোলামের খোজে গিয়েছিলেন। তিনি যখন পত্যাবর্তন করতেছিলেন তখন তাদের সাথে সাক্ষাৎ ঘটে এবং তারা সেখানে তাকে মেরে ফেলে। ফুরাইআ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমার বাবার বাড়ী যাওয়ার উদ্দেশ্যে আবেদন করলাম। কেননা, আমার জন্য আমার স্বামী তার নিজস্ব কোন ঘর রেখে যাননি, এমনকি ভরণ-পোষণের খরচপাতিও নয়। ফুরাইআ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হ্যাঁ বললেন। তিনি বলেন, তারপর আমি ফিরে চললাম। আমি শুধু (তার) হুজরা অথবা মসজিদের নিকটে পৌছলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আবার ডাকলেন বা আমাকে ডাকার নির্দেশ দিলেন। আমাকে তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কি বলেছিলে? ফুরাইআ (রাঃ) বলেন, আমার স্বামী সম্পর্কে পূর্বে আমি যে ঘটনা বলেছিলাম তার নিকট তা আবার বললাম। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার ঘরেই থাক ইদ্দাত পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত। ফুরাইআ (রাঃ) বলেন, আমি এখানে ইদ্দাত পালন করলাম চার মাস দশদিন। তিনি বলেন, তারপর উসমান (রাঃ) খালীফা হওয়ার পর তিনি আমার কাছে লোক পাঠিয়ে এ বিষয়টি জানতে চাইলেন। আমি এ প্রসঙ্গে তাকে জানালাম। তিনি এর অনুসরণ করেছেন এবং সে অনুযায়ী ফায়সালা দিয়েছেন। — সহীহ, ইবনু মাজাহ (২০৩১) এ হাদীসটি কাব ইবনু উজরা (রাঃ) হতে অন্য একটি সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ মত দিয়েছেন। তাদের মতে, ইদ্দাতের সময় পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ইদ্দাত পালনকারী স্বামীর ঘর হতে যাবে না। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামে অপর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তৎপরবর্তী আলিমগণ বলেন, মহিলা তার ইচ্ছামত যে কোন জায়গায় ইদ্দাত পালন করতে পারে। স্বামীর ঘরে ইদ্দাত পালন না করলেও কোন সমস্য নেই। আবু ঈসা বলেন, কিন্তু প্রথমোক্ত মতই অনেক বেশি সহীহ।