। আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, আবৃ আইয়্যাশ যাইদ (রাহঃ) বার্লির বিনিময়ে গম বিক্রয় করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি সা'দ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলেনঃ তখন তিনি (সাদ) বললেন, এ দুটির মধ্যে কোনটি অপেক্ষাকৃত উত্তমঃ তিনি (যাইদ) বললেন, গম। তারপর তিনি (সা’দ) এ ধরণের বিক্রয় করা নিষেধ করলেন তিনি আরও বললেন, আমি তাজা খেজুরকে শুকনো খেজুরের বিনিময়ে বিক্রয় করা যায় কি-না সেই প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রশ্ন করতে শুনেছি। তিনি তার পাশের লোকদের প্রশ্ন করলেন যে, খেজুর শুকালে কি (ওজনে) কমে যায়? তারা বললেন, হ্যাঁ। তারপর এ ধরণের বিক্রয়কে তিনি নিষিদ্ধ করে দিলেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২৬৪) হান্নাদ বর্ণনা করেছেন ওয়াকী হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়ামীদ হতে, তিনি যাইদ আবু আইয়্যাশ (রাহঃ) হতে, তিনি বলেন, সা’দ (রাঃ)-কে আমরা প্রশ্ন করলাম....উপরের হাদীসের মত। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন। এই মত দিয়েছেন ইমাম শাফিঈ এবং আমাদের সাথীরাও।
হাদিস 1226 — Jami At Tirmidhi 14:26
সহিহসহিহ Hadithসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ النَّخْلِ حَتَّى يَزْهُوَ .
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, খেজুরের লাল বা হলুদ বর্ণ না আসা পর্যন্ত তা বিক্রয় করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারণ করেছেন। - সহীহ, বেচা-কেনার হাদীস।
হাদিস 1227 — Jami At Tirmidhi 14:27
সহিহসহিহ Hadithহাসান Sahihসহিহ - Bukhari And Muslim
وَبِهَذَا الإِسْنَادِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ السُّنْبُلِ حَتَّى يَبْيَضَّ وَيَأْمَنَ الْعَاهَةَ نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُشْتَرِيَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَعَائِشَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَجَابِرٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ كَرِهُوا بَيْعَ الثِّمَارِ قَبْلَ أَنْ يَبْدُوَ صَلاَحُهَا . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .
। একই সনদ সূত্রে আরো বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শীষ জাতীয় ফসল (ধান, গম ইত্যাদি) বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন যতক্ষণ তা পেকে সাদা না হয়। — সহীহ, প্রাগুক্ত আনাস, আইশা, আবু হুরাইরা, ইবনু আব্বাস, জাবির, আবু সাঈদ ও যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, ইবনু উমার (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয আল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিম অমল করেছেন। ফল পক্ক হওয়ার আগেই বিক্রয় করা তাদের মতে মাকরূহ। এই মত পোষণ করেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কাল রং ধারণ না করা পর্যন্ত আঙ্গুরকে এবং হৃষ্টপুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত শস্যকে বিক্রয় করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২১৭) আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এটাকে শুধু হাম্মাদ ইবনু সালামার সূত্রেই মারফু হিসেবে জেনেছি।
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, (পশুর) গর্ভস্থিত বাচ্চার বাচ্চা বিক্রি করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২১৯৭), মুসলিম, বুখারী আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস ও আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবিক অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। 'হাবলুল হাবল’ বলতে বাচ্চার বাচ্চা বুঝায়। এভাবে বিক্রয় করাটা আলিমদের মতে বাতিল বলে গণ্য হবে। এটা ক্রয়-বিক্রয়ে এক প্রকারের প্রতারণা। শুবা-আইয়ুব হতে তিনি সাঈদ ইবনু জুবাইর হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবনু উমারের এ হাদীসটি আবূল ওয়াহহাব আস-সাকাফী এবং তিনি ইবনু উমার হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন এবং এ সূত্রটি অনেক বেশি সহীহ।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, প্রতারণামূলক ক্রয়-বিক্রয় করতে এবং কাকর নিক্ষেপে ক্রয়-বিক্রয় নির্ধারিত করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২১৯৪), মুসলিম ইবনু উমার, ইবনু আব্বাস, আবূ সাঈদ ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। তারা প্রতারণামূলক ক্রয়-বিক্রয় করাকে নিষিদ্ধ বলেছেন। ইমাম শাফিঈ বলেছেন, প্রতারণামূলক ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে রয়েছে পানির মধ্যের মাছ, পলাতক গোলাম, শূন্যে উড়ন্ত পাখি বা অনুরূপ পর্যায়ের কোন কিছুর ক্রয়-বিক্রয়। কাকর নিক্ষেপে বিক্রয়ের ধরণ হলঃ যদি বিক্রেতা ক্রেতাকে বলে, তোমার দিকে আমি যখন কোন কাঁকর ছুঁড়ে মারবো তখন তোমার ও আমার মাঝে বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে ক্রয়-বিক্রয় করাটা। এটা মুনাবাযা ধরণের ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এটাও জাহিলী যুগের প্রথা।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, দুই ধরণের বিক্রয় ব্যবস্থার মাধ্যমে (দুই ধরনের শর্তে) একই জিনিসের বিক্রয় করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। --- সহীহ, মিশকাত (২৮৬৮), ইরওয়া (৫/১৪৯) আবদুল্লাহ ইবনু আমর, ইবনু উমার ও ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেন। “বাইআতাইনে ফী বাইআতিন”-এর ব্যাখ্যায় একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেনঃ ক্রেতাকে বিক্রেতা বলল, এই কাপড়টি দশ টাকায় যদি নগদ মূল্যে ক্রয় করা হয়, তবে বাকীতে ক্রয় করলে বিশ টাকা। এই দুটি বিক্রয় প্রস্তাবের মধ্যে কোন একটিকে কোন পক্ষই নাকচ করল না। কিন্তু কোন একটি প্রস্তাব যদি গ্রহণ করে নেয় এবং সে অনুযায়ী চুক্তি হয় তবে তাতে কোন সমস্যা নেই। ইমাম শাফঈ বলেছেন, একই বিক্রয়ে দুই ধরনের বিক্রয় অন্তর্ভুক্ত করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম,নিষেধ করেছেন। তার দৃষ্টান্ত হলঃ কোন লোক বলল, আমি তোমার নিকট এত টাকায় আমার এই ঘর বিক্রয় করব এই শর্তে যে, আমার নিকট তোমার গোলামটিও এত টাকায় বিক্রয় করতে হবে। তোমার গোলাম যখন আমার অধীনে আসবে আমার ঘরও তখন তোমার অধীনে চলে যাবে। এই প্রকারের ক্রয়-বিক্রয় ঐ ক্রয়-বিক্রয় হতে ভিন্ন যেখানে পণ্যের মধ্যে কোনটিরই মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি বিধায় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে বিক্রিত দ্রব্যের মূল্য সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে।
। হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, বললাম, আমার নিকট এসে কোন লোক এমন জিনিস কিনতে চায় যা আমার নিকট নেই। আমি এভাবে বিক্রয় করতে পারি কি যে, তা বাজার হতে ক্রয় করে এনে তাকে দিব? তিনি বলেনঃ যা তোমার অধিকারে নেই তা তুমি বিক্রয় কর না। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২১৮৭)। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার হাতে নেই এমনসব বস্তু বিক্রয় করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিষেধ করেছেন। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। ইসহাক ইবনু মানসূর বলেন, ইমাম আহমাদকে আমি প্রশ্ন করলাম, “ঋণ ও বিক্রয় একত্রে জায়িয নয়” এ কথার অর্থ কি? তিনি বললেন, কোন লোককে ঋণও প্রদান করলে এবং এর সাথে সাথে তার নিকট তোমার পণ্যও চড়া দামে বিক্রয় করলে। অথবা এরূপও হতে পারে যে, কোন জিনিস (বন্ধক রেখে) তাকে ঋণ দিয়ে বললে, তোমার এটা (বন্ধক) এতো দামে বিক্রীত বলে গণ্য হবে যদি ঐটা পরিশোধ করতে না পার। ইসহাক আরও বলেন, আমি ইমাম আহমাদকে পুনরায় বললাম, “লোকসানের দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিক্রয় হয় না” কথার অর্থ কি? তিনি বললেন, আমার মতে শুধু খাদ্যদ্রব্যের বেলায় এটা প্রযোজ্য হবে অর্থাৎ যতক্ষণ এটা তোমার হস্তগত না হবে ততক্ষণ তা বিক্রয় করতে পারবে না। ইসহাক বলেন, পরিমাপ যন্ত্র বা পাত্র দিয়ে যা মাপা হয় সেই সব ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযোজ্য। ইমাম আহমাদ বলেন, যদি এভাবে বলা হয়ঃ আমি এ কাপড় তোমার নিকট বিক্রয় করলাম এবং এর সেলাই ও ধোয়ার কাজ আমার দায়িত্বে, তবে একই বিক্রয়ের মধ্যে এটাও দুটি শর্তারোপের একটি উদাহরণ। সে যদি এরূপ বলেঃ এটা তোমার নিকট বিক্রয় করলাম এবং আমিই এটা ধুয়েও দিব, তবে এতে কোন সমস্যা নেই। কেননা, একটি শর্ত করা হয়েছে (দুটি নয়)।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঋণ ও বিক্রয় একত্রে জায়িয নয় এবং দুই প্রকারের শর্তও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে জুড়ে দেয়া জায়িয নয়, মুনাফা গ্রহণও জায়িয নয় যতক্ষণনা লোকসানের দায়িত্ব না নেয়া হয়, তোমার আয়ত্তে নেই এমন বস্তু বিক্রয় করাও জায়িয নয়। হাসান সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২১৮৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। একাধিক সূত্রে হাকীম (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটি বর্ণিত আছে। আইয়ুব সাখতিয়ানী ও আবূ বিশর বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ ইবনু মাহিক হতে, তিনি হাকীম ইবনু হিযাম হতে। আউফ এবং হিশাম ইবনু হাসসান বর্ণনা করেছেন, ইবনু সীরীন হতে, তিনি হাকীম ইবনু হিযাম হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। এর পরবর্তী বর্ণনাটি মুরসাল। প্রকৃত পক্ষে ইবনু সীরীন বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব সাখতিয়ানী হতে, তিনি ইউসুফ ইবনু মাহাক হতে, তিনি হাকীম ইবনু হিযাম হতে।