। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা যেদিন রোযা ভেঙ্গে ফেলে সেদিন হল ঈদুল ফিতর এবং লোকেরা যেদিন কুরবানী করে সেদিন ঈদুল আযহা। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৬০) আবু ঈসা বলেন, মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, আইশা (রাঃ)-এর নিকট কি মুহাম্মাদ ইবনু মুনকাদির হাদীস শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তার হাদীসে তিনি বলেন, আইশা (রাঃ)-এর নিকট আমি শুনেছি। এই সূত্রে আবু ঈসা হাদীসটিকে হাসান গারীব সহীহ বলেছেন।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রামাযানের শেষ দশদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ করতেন। কিন্তু তিনি এক বছর ইতিকাফ করতে সক্ষম হননি। তাই তিনি পরের বছর বিশ দিন ইতিকাফ করেন। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (২১২৬) এ হাদীসটিকে আবু ঈসা আনাস ইবনু মালিকের হাদীস হিসেবে হাসান গারীব সহীহ বলেছেন। আলিমগণের মধ্যে নিয়্যাত করার পর পূর্ণ করার আগেই ইতিকাফ ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে মতভেদ রয়েছে। একদল আলিম তার কাযা আদায় করাকে ওয়াজিব বলেছেন। নিম্নোক্ত হাদীসটি দ্বারা তারা দলীল গ্রহণ করেনঃ “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ ত্যাগ করে বেরিয়ে আসলেন, পরে শাওয়াল মাসের দশদিন ইতিকাফ করেন।” এরকম মত ইমাম মালিক (রাহঃ)-এরও। অন্য একদল আলিম বলেন, মানত বা নিজেদের জন্য অবশ্য পালনীয় ইতিকাফ যদি না হয়ে থাকে এবং যদি নফল ইতিকাফ হয়ে থাকে তাহলে এমতাবস্থায় ইতিকাফ ছেড়ে বের হয়ে গেলে তার কাযা আদায় করা ওয়াজিব নয়। যদি কেউ স্বেচ্ছায় কাযা করে তবে তা করতে পারে কিন্তু তা তার উপর ওয়াজিব নয়। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) এই মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, তোমার জন্য যেসব আমল ছেড়ে দেয়া জায়িয তুমি যদি এ ধরণের কোন আমল করতে শুরু কর এবং তা পূর্ণ না করে ছেড়ে দাও তাহলে তোমার উপর এ ধরণের কোন আমল কাযা করা ওয়াজিব নয় শুধুমাত্র হাজ্জ ও উমরা ব্যতীত। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইতিকাফে থাকতেন, আমার দিকে তার মাথা এগিয়ে দিতেন এবং আমি তা আঁচড়িয়ে দিতাম। মানবীয় প্রয়োজন (প্রশ্ৰাব-পায়খানা) ব্যতীত তিনি ঘরে আসতেন না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৬৩৩) ও (১৭৭৮) আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আইশা (রাঃ)-এর সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী হাদীসটি একইরকম বর্ণনা করেছেন। তবে আইশা (রাঃ) হতে উরওয়া ও আমরা (রাহঃ)-এর সনদটি সহীহ।
। ইবনু শিহাব হতে উরওয়া ও আমরা-আইশা (রাঃ)-এর সূত্রে লাইস ইবনু সাদও হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। — সহীহ দেখুন পূর্বের হাদীস। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ বলেছেন, মানবীয় প্রয়োজন ছাড়া ইতিকাফকার ইতিকাফস্থল হতে বাইরে বের হতে পারবে না। তারা সকলেই এই বিষয়ে একমত যে, অবশ্যই সে প্রশ্ৰাব-পায়খানার প্রয়োজন হলে বের হতে পারবে। তবে ইতিকাফকারী রোগী দেখা, জুমুআ ও জানাযার নামাযে অংশগ্রহণ করতে পারবে কি না তাদের মাঝে এ বিষয়ে মতপার্থক্য আছে। কোন কোন সাহাবী ও তাবিঈর মতে সে লোক যদি ইতিকাফে বসার সময় এসব প্রয়োজনে বের হওয়ার শর্ত করে থাকে তাহলে সে লোক রোগী দেখতে, জানাযায় এবং জুমু'আর নামাযে উপস্থিত হতে পারবে। এরকম মতই দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী ও ইবনুল মুবারাক। কোন কোন আলিম বলেন, সে লোক উল্লিখিত উদ্দেশ্যে বাইরে বের হতে পারবে না। তাদের মতে শহরে বসবাসকারী জামে মাসজিদ ব্যতীত আর অন্য কোথাও ইতিকাফ করবে না। জুমু'আর জন্য ইতিকাফের জায়গা ছেড়ে বের হওয়াকেও তারা মাকরূহ বলেন, আবার জুমুআ ত্যাগ করাকেও তারা জায়িয মনে করেন না। সুতরাং তারা বলেন, ইতিকাফ শুধু জামে মসজিদেই আদায় করবে যেন ইতেকাফস্থল হতে মানবীয় প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়ার প্রয়োজন না হয়। মানবীয় প্রয়োজন ছাড়া বের হলে ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। এরকম মত প্রকাশ করেন ইমাম মালিক ও শাফিঈ। ইমাম আহমাদ বলেন, আইশা (রাঃ)-এর হাদীসের আলোকে সে লোক রোগী দেখতে ও জানাযায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বের হতে পারবে না। ইমাম ইসহাক বলেন, এই বিষয়ে সে লোক যদি পূর্বেই নিজে নিজে শর্ত করে নেয় তবে জানাযায় অংশগ্রহণ ও রোগী দেখার উদ্দেশ্যে বাইরে বের হতে পারবে।
। আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমরা রোযা পালন করেছি। তিনি আমাদেরকে নিয়ে রামাযান মাসে কোন (নফল) নামায আদায় করেননি। অবশেষে তিনি রামাযানের সাত দিন বাকী থাকতে আমাদেরকে নিয়ে নামাযে দাড়ালেন। এতে এক-তৃতীয়াংশ রাত চলে গেল। আমাদেরকে নিয়ে তিনি ষষ্ঠ রাতে নামাযের উদ্দেশ্যে দাড়াননি। তিনি আবার আমাদের নিয়ে পঞ্চম রাতে নামাযের উদ্দেশ্যে দাড়ান। এতে অর্ধেক রাত চলে গেল। আমরা তাকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমাদের বাকী রাতটিও নামায আদায় করে পার করে দিতেন। তিনি বললেনঃ ইমামের সাথে যদি কোন লোক (ফরয) নামাযে শামিল হয় এবং ইমামের সাথে নামায আদায় শেষ করে তাহলে সে লোকের জন্য সারা রাত (নফল) নামায আদায়ের সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। এরপর মাসের তিন রাত বাকী থাকা পর্যন্ত তিনি আর আমাদের নিয়ে নামায আদায় করেননি। আবার তিনি তৃতীয় (২৭শে) রাত থাকতে আমাদের নিয়ে নামাযের জন্য দাড়ালেন। তার পরিজন ও স্ত্রীগণকেও তিনি এ রাতে ডেকে তুললেন। এত (দীর্ঘ)-সময় ধরে তিনি নামায আদায় করলেন যে, যার ফলে সাহরীর সময় চলে যাওয়ার সংশয় হল আমাদের মনে। বর্ণনাকারী জুবাইর ইবনু নুফাইর বলেন, আবু বকর (রাঃ)-কে আমি বললামঃ "ফালাহ" কি? তিনি বললেন, সাহরী খাওয়া। - সহীহ ইবনু মা-জাহ (১৩২৭), আবু ঈসা হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আলিমগণের মধ্যে রামাযানের রাতসমূহে (তারাবীহ নামায ও নফল ইবাদাতের উদ্দেশ্যে) দণ্ডায়মান হওয়া প্রসঙ্গে দ্বিমত আছে। কোন কোন আলিম বলেন, বিতর সহকারে এর রাক’আত সংখ্যা একচল্লিশ। মাদীনায় বসবাসকারীদের অভিমত এটাই এবং এরকমই আমল করেন এখানকার লোকেরা। কিন্তু আলী ও উমার (রাঃ) প্রমুখ সাহাবায়ি কিরাম হতে বর্ণিত রিওয়ায়াত অনুযায়ী বেশিরভাগ আলিমের অভিমত অর্থাৎ (তারাবীহ ) বিশ রাক’আত। এই মত সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও শাফিঈ (রাহঃ)-এর। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, আমাদের মক্কা নগরীর লোকদেরকেও বিশ রাক’আত আদায় করতে দেখেছি। আহমাদ (রাহঃ) বলেন, এই বিষয়ের উপর বিভিন্ন প্রকার রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে। এই ব্যাপারে তিনি কোনরকম সিদ্ধান্ত দেননি। ইসহাক বলেন, আমরা উবাই ইবনু কাব (রাঃ)-এর বর্ণনানুযায়ী একচল্লিশ রাক’আত আদায় করাকেই পছন্দ করি। রামাযান মাসে ইমামের সাথে তারাবীহ আদায় করাকে ইবনুল মুবারাক, আহমাদ, ও ইসহাক (রহঃ) সমর্থন করেছেন। ইমাম শাফিঈ কুরআনের হাফিয ব্যক্তির জন্য একাকী (তারাবীহর) নামায আদায় করাকে উত্তম বলেছেন। আইশা, নুমান ইবনু বাশীর ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। যাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন রোযা পালনকারীকে যে লোক ইফতার করায় সে লোকের জন্যও রোযা পালনকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব রয়েছে। কিন্তু এর ফলে রোযা পালনকারীর সাওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৪৬) আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
হাদিস 808 — Jami At Tirmidhi 8:127
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Muslim
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُرَغِّبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ بِعَزِيمَةٍ وَيَقُولُ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ ثُمَّ كَانَ الأَمْرُ كَذَلِكَ فِي خِلاَفَةِ أَبِي بَكْرٍ وَصَدْرًا مِنْ خِلاَفَةِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَلَى ذَلِكَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ أَيْضًا عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عن النبي قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح.
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রামাযানের (রাত্র জেগে) ইবাদাত-বন্দিগীতে মাশগুল থাকতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উৎসাহিত করতেন, তবে সেটাকে বাধ্যতামূলক হিসেবে নির্দেশ দেননি। তিনি বলতেনঃ ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশা করে যে লোক রামাযান মাসে (রাতে ইবাদাতে) দণ্ডায়মান হবে সে লোকের পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হবে। এ নিয়মই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু পর্যন্ত চালু ছিল। এ বিষয়টি আবু বাকর (রাঃ)-এর খিলাফাত এবং উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফাতের প্রথম দিকেও এমনই ছিল। – সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১২৪১), নাসা-ঈ, ইমাম বুখারীর মতে মৃত্যু পর্যন্ত...... এই ব্যাক্যাংশটি যুহরী হাদীসে সংযোগ করেছেন। আইশা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। যুহরী-উরওয়া হতে, তিনি আইশা (রাঃ)-হতে এই সূত্রেও এই হাদীসটি বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।