। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রামাযান মাসের শেষের দশদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে থাকতেন (ইতিকাফ করতেন)। তিনি বলতেনঃ রামাযান মাসের শেষের দশদিন তোমরা কাদরের রাতকে খোজ কর। — সহীহ। বুখারী, মুসলিম উমার, উবাই ইবনু কা'ব, জাবির ইবনু সামুরা, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ, ইবনু উমার, ফালাতান ইবনু আসিম, আনাস আবু সাইদ, আবদুল্লাহ ইবনু উনাইস, আবু বাকরা, ইবনু আব্বাস, বিলাল ও উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। ইউজাবিরু’ শব্দের অর্থ তিনি ইতিকাফ করতেন। এই ক্ষেত্রে বেশিরভাগ হাদীসের শব্দ হচ্ছেঃ শেষ দশদিনের প্রতি বিজোড় রাত্রে তোমরা লাইলাতুল কাদর খোজ কর। লাইলাতুল কাদর প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে যে, তা হল একুশ, তেইশ, পঁচিশ, সাতাশ, উনত্রিশ বা রামাযানের শেষরাত্র। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, আমার মতে এর অর্থ হল, আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেভাবেই উত্তর প্রদান করতেন তাকে যেভাবে প্রশ্ন করা হত। তার কাছে কোন ব্যক্তি প্রশ্ন করেছে, অমুক রাত্রে কি আমরা তা খোজ করব? উত্তরে তিনি বলেছেন, তোমরা অমুক রাত্রে তা খোজ কর। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) আরও বলেন, আমার নিকটে একুশ তারিখ সম্পর্কিত রিওয়ায়াতটি হচ্ছে এ বিষয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী। আবু ঈসা বলেন, উবাই ইবনু কাব (রাঃ) শপথ করে বলতেনঃ তা হল সাতাশ তারিখের রাত্রি।তিনি আরও বলতেন, এর আলামত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন এবং তা আমরা হিসাব করে রেখেছি এবং স্মরণ রেখেছি। আবু কিলাবা (রাঃ) বলেন, লাইলাতুল কাদর শেষ দশকের মাঝে আবর্তিত হতে থাকে। আবদ ইবনু হুমাইদ আবদুর রাযযাক হতে, তিনি মামার হতে, তিনি আইয়ুব হতে, তিনি আবু কিলাবা (রাঃ) হতে এই বক্তব্যটি বর্ণনা করেছেন।
। যির (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ)-কে আমি বললাম, হে আবুল মুনযির! এই যে সাতাশের রাত লাইলাতুল কাদর আপনি সেটা কিকরে জানতে পারলেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ অবশ্যই, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, এই রাত্রের পরবর্তী সকালে সূর্য উদিত হয় ক্ষীণ আলো নিয়ে দীপ্তিহীন অবস্থায়। আমরা সেটাকে গুনে এবং স্মরণ করে রেখেছি। আল্লাহ তা'আলার শপথ! ইবনু মাসউদ (রাঃ)-ও জানেন যে, সেটা হচ্ছে রামাযানের রাত্র এবং সাতাশেরই রাত্র। কিন্তু তোমাদেরকে তিনি তা জানাতে পছন্দ করেননি, তোমরা যদি পরে এটার উপর নির্ভর করে বসে থাক। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১২৪৭), মুসলিম অনুরূপ আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবদুর রাহমান (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, লাইলাতুল কাদর প্রসঙ্গে একবার আবু বাকরা (রাঃ)-এর কাছে আলোচনা হল। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি বাণী শোনার কারণে আমি রামাযান মাসের শেষ দশদিন ব্যতীত অন্য কোন রাত্রে লাইলাতুল কাদরকে খোজ করি না। আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা কাদরের রাত্রে খোজ কর রামাযানের নয়দিন বাকী থাকতে বা সাতদিন বাকী থাকতে বা পাঁচদিন বাকী থাকতে বা তিন দিন বাকী থাকতে অথবা এর শেষ রাত্রে। — সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (২০৯২) বর্ণনাকারী বলেন, রামাযানের বিশদিন পর্যন্ত আবূ বাকরা (রাঃ) সারা বছরের মতই নামায আদায় করতেন, কিন্তু তিনি শেষ দশদিন আসলে যতটুকু সম্ভব সাধনা করতেন। আবূ ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
হাদিস 795 — Jami At Tirmidhi 8:114
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هُبَيْرَةَ بْنِ يَرِيمَ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُوقِظُ أَهْلَهُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রামাযানের শেষ দশদিন নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারের সদস্যদের (ইবাদতে মগ্ন থাকার জন্য) ঘুম থেকে উঠাতেন। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৬৮), বুখারী, মুসলিম আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রামাযানের শেষ দশদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইবাদাতে) এত বেশি সাধনা করতেন যে, অন্য কোন সময়ে এরকম সাধনা করতেন না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৬৭) এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।
হাদিস 797 — Jami At Tirmidhi 8:116
সহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ نُمَيْرِ بْنِ عَرِيبٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْغَنِيمَةُ الْبَارِدَةُ الصَّوْمُ فِي الشِّتَاءِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ مُرْسَلٌ . عَامِرُ بْنُ مَسْعُودٍ لَمْ يُدْرِكِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ وَالِدُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَامِرٍ الْقُرَشِيِّ الَّذِي رَوَى عَنْهُ شُعْبَةُ وَالثَّوْرِيُّ .
। আমির ইবনু মাসউদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শীতকালের রোযা হচ্ছে বিনা পরিশ্রমে যুদ্ধলন্ধ মালের অনুরূপ। - সহীহ, সহীহা (১৯২২), আর-রাওয (৬৯) আবূ ঈসা হাদীসটিকে মুরসাল বলেছেন। কারণ, আমির ইবনু মাসউদ (রাহঃ)-এর সাক্ষাৎ ঘটেনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে। যার সূত্রে শুবা ও সাওরী হাদীস বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন ইবরাহীম ইবনু আমির আল-কুরাশীর পিতা।
। সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলঃ “যেসব লোক রোযা আদায়ের ক্ষেত্রে সামর্থবান হয়েও (না রাখবে) সেসব লোক যেন একজন মিসকীনের আহার দেয়” আমাদের মধ্যে তখন যার ইচ্ছা হত সে রোযা পালন না করে তার পরিবর্তে ফিদইয়া আদায় করত। অতঃপর এর পরবর্তী আয়াত “তোমাদের মধ্যে যে লোক রামাযান মাস পায় সে লোক যেন রোযা পালন করে” অবতীর্ণ হলে উপরের আয়াতের (সূরাঃ বাকারা- ১৮৪) বিধান বাতিল হয়ে যায়। - সহীহ, ইরওয়া (৪/২২),বুখারী, মুসলিম আবু ঈসা হাদীসটিকে হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। ইয়াযীদ হলেন, ইবনু আবু উবাইদ সালামা ইবনু আকওয়ার মুক্তদাস।
। মুহাম্মাদ ইবনু কাব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রামাযান মাসে আমি আনাস (রাঃ)-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি সফরের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার সফরের উটটিতে হাওদা বেঁধে দেয়া হল। তিনি সফরের পোশাক পরলেন এবং খাবার নিয়ে আসতে বললেন, তারপর তিনি তা খেলেন। আমি বললাম, এটা কি সুন্নাত? তিনি বললেন, সুন্নাত। তারপর তিনি জন্তুযানে আরোহণ করলেন। — সহীহ (তাসহীহ হাদীসে ইফতারিস সা-য়িসি কাবলা সাফারিহি বাদাল ফাজার (পৃঃ)
। মুহাম্মাদ ইবনু কাব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রামাযান মাসে আমি আনাস (রাঃ)-এর নিকট আসলাম .... পূর্বোক্ত হাদীসের মতই। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু জাফর হলেন ইবনু আবু কাসীর মাদীনী, তিনি একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। তিনি ইসমাঈল ইবনু জাফরের ভাই। আবদুল্লাহ ইবনু জাফর হলেন ইবনু নাজীহ; তিনি আলী ইবনু আব্দুল্লাহ মাদীনীর পিতা। তাকে ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন দুর্বল বর্ণনাকারী বলেছেন। এ হাদীসটির ভিত্তিতে কোন কোন আলিম বলেন, কোন মুসাফির লোক বাড়ী হতে সফরের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে রোযা ভঙ্গ করে পানাহার করে নিতে পারবে, কিন্তু নামায কসর করতে পারবে না তার গ্রাম বা নগরপ্রাচীর অতিক্রম না হওয়া পর্যন্ত। এরকম মতই প্রকাশ করেছেন ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী।
। হাসান ইবনু আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রোযাদারের জন্য তোহফা হল তৈল ও লোবান জাতীয় সুগন্ধি। মাওযু, যঈফা (১৬৬০) আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি গারীব, এর সনদ খুবএকটা মজবুত নয়। সাদ ইবনু তারীফ ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে এই প্রসঙ্গে আমরা জানি না। সাদকে দুর্বল রাবী বলা হয়েছে। উমাইর ইবনু মামূনকে উমাইর ইবনু মামূমও বলা হয়।