। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মহিলা যেন স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া রামাযান মাসের রোযা ব্যতীত একদিনও অন্য কোন (নফল) রোযা পালন না করে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৬১), নাসা-ঈ- রামাযানের উল্লেখ ব্যতীত। ইবনু আব্বাস ও আবু সাঈদ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি আবৃ্য যানাদ হতে, তিনি মূসা ইবনু আবূ উসমান হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও বর্ণিত আছে।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি শাবান মাস ব্যতীত আমার রামাযান মাসের কাযা রোযা আদায় করতে পারতাম না (কোন সংগত ওজরবশত), রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকাল পর্যন্ত এই অবস্থা ছিল। – সহীহ, ইরওয়া (৯৪৪), রাওযুন নায়ীর (৭৬৩), সহীহ আবু দাউদ (২০৭৬), তামামুল মিন্নাহ বুখারী, মুসলিম আবূ ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। হাদীসটিকে ইয়াহইয়া ইবনু সাইদ আনসারী (রাহঃ) আবু সালামা হতে আইশা (রাঃ)-এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস 784 — Jami At Tirmidhi 8:103
দাঈফদাঈফহাসান
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ لَيْلَى، عَنْ مَوْلاَتِهَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الصَّائِمُ إِذَا أَكَلَ عِنْدَهُ الْمَفَاطِيرُ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلاَئِكَةُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى شُعْبَةُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ لَيْلَى عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ عُمَارَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .
। লাইলা (রাহঃ) হতে তার আযাদকারিনী মহিলা (উম্মু উমারা)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রোযাদার ব্যক্তির সামনে বেরোযদার লোকেরা যদি খাবার খায় তাহলে ফেরেশতাগণ তার (রোযাদারের) জন্য দু'আ করেন। যঈফ, ইবনু মাজাহ (১৭৪৮) আবূ ঈসা বলেন, শুবা এই হাদীসটি হাবীব ইবনু যাইদ..... তার পিতামহী উম্মু উমারা (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।
। হাবীব ইবনু যাইদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদের আযাদকৃত দাসী লায়লাকে উম্মু উমারা বিনতু কা'ব আল-আনসারিয়্যা (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সময় তার বাড়িতে আসেন। তখন তিনি তার সামনে খাবার আনলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমিও খাও। তিনি বলেন, আমি (নফল) রোযা রেখেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রোযাদার ব্যক্তির সামনে বেরোযদার লোকেরা যদি খায় তাহলে ফেরেশতাগণ তার (রোযাদারের) জন্য দু'আ করেন। রাবী কোন কোন সময় “হাত্তা ইয়াফরুগু" (খাওয়া শেষ না করা পর্যন্ত) এর জায়গায় “হাত্তা ইয়াশবাউ" (পরিতৃপ্ত না হওয়া পর্যন্ত) শব্দ বর্ণনা করেছেন। - যঈফ, প্রাগুক্ত আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। এই হাদীসটি শারীকের হাদীসের চাইতে অধিক সহীহ।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আমরা মাসিক ঋতুর পর পবিত্র হলে তখন আমাদেরকে তিনি রোযার কাযা আদায়ের হুকুম করতেন কিন্তু নামায কাযা আদায়ের কথা বলতেন না। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৬৩১) মুসলিম, বুখারীতে নামাযের কথা উল্লেখ নেই। আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। মুআযা হতে আইশা (রাঃ)-এর সূত্রেও এ হাদীসটি বর্ণিত আছে। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করার কথা বলেছেন। এই বিষয়ে তাদের মাঝে কোন মতভেদ আছে বলে আমাদের জানা নেই অর্থাৎ ঋতুবতী মহিলাকে তার বাদ পড়ে যাওয়া রোযার কাযা আদায় করতে হবে কিন্তু নামাযের কাযা করতে হবে না। আবু ঈসা বলেন, বর্ণনাকারী উবাইদা হলেন ইবনু মুআত্তিব আয যাববী আল-কুফী তার উপনাম আবু আবদুল কারম।
। লাকীত ইবনু সাবিরা (রাহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ওযু প্রসঙ্গে আমাকে জানিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ ভালোভাবে ওযু কর, আঙ্গুলগুলোর মাঝে খিলাল কর এবং রোযা পালনকারী না হলে নাকের গভীরে পানি পৌছাও। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪০৭) আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। রোযা পালনকারীর জন্য নাক দিয়ে ঔষধ গ্রহণ করাকে আলিমগণ মাকরূহ বলেছেন। এরফলে রোযা ভেঙ্গে যায় বলে তারা মনে করেন। এই মতের পক্ষে উল্লেখিত হাদীস হতে জোরালো সমর্থন পাওয়া যায়।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ কোন সম্প্রদায়ের অতিথি হলে সে যেন তাদের সম্মতি ছাড়া নফল রোযা না রাখে। খুবই দুর্বল, ইবনু মাজাহ (১৭৬৩) আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি মুনকার। কোন নিৰ্ভযোগ্য রাবী হিশাম ইবনু উরওয়া হতে এই হাদীসটি রিওয়াত করেছেন বলে আমরা অবগত নই। মূসা ইবনু দাউদ, আবূ বাকর মাদানী হতে তিনি হিশাম ইবনু উরওয়া-তৎপিতা উরওয়া হতে তিনি আইশা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম এক হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই রিওয়াতটিও যঈফ। আবূ বাকর বিশেষজ্ঞদের মতে দুর্বল। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে আবূ বাকর আল-মাদানী উপনামের যে রাবী হাদীস রিওয়াত করেছেন তার নাম আল-ফাযল ইবনু মুবাশশির। তিনি এই আবূ বাকর আল-মাদানী হতে বেশী বিশ্বস্ত ও অগ্রগণ্য।
। আবু হুরাইরা ও আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রামাযানের শেষ দশকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইতিকাফ করতেন। - সহীহ, ইরওয়া (৯৬৬), সহীহ আবু দাউদ (২১২৫), বুখারী, মুসলিম উবাই ইবনু কাব, আবু লাইলা, আবু সাঈদ, আনাস ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা ও আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ করার ইচ্ছা করতেন তখন ফজরের নামায আদায় করে ইতিকাফের জায়গায় প্রবেশ করতেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৭১),বুখারী, মুসলিম আবু ঈসা বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাইদ-আমরার সুত্রে এই হাদিসটি মুরসালরূপে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে আমরার সূত্রে ইমাম মালিক (রাহঃ) এবং একাধিক বর্ণনাকারী মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। আওযাঈ ও সুফিয়ান সাওরী-ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে, তিনি আমরা হতে, তিনি আইশা (রাঃ) হতে এই হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী কোন কোন আলিমের মতে, কোন ব্যক্তি ইতিকাফ করতে চাইলে ফজরের নামায আদায়ের পর তাকে ইতিকাফের জায়গায় প্রবেশ করতে হবে। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীমের এই মত। অপর একদল আলিম বলেছেন, যে দিন হতে কোন ব্যক্তি ইতিকাফ শুরু করতে চায় সে দিনের পূর্বের রাতের সন্ধ্যায় সূর্য ডুবে যাওয়ার পর যেন সে ব্যক্তি ইতিকাফে বসে। এরকম মতই সুফিয়ান সাওরী ও মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ)-এর।