। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’দিন রোযা পালন করতে বারণ করেছেনঃ ঈদুল আযহা এবং ঈদুল ফিতরের দিন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭২১), বুখারী , ইরওয়া (৯৬২), আর রাওয (৬৪৩), সহীহ আবু দাউদ (২০৮৮), মুসলিম। উমার, আলী, আইশা, আবু হুরাইরা, উকবা ইবনু আমির ও আনাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। আবু ঈসা বলেন, আমর ইবনু ইয়াহইয়া হলেন ইবনু উমারা ইবনু আবুল হাসান আল-মাযিনী আল-মাদানী। তিনি একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। সুফিয়ান সাওরী, শুবা ও মালিক ইবনু আনাস তার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। উকবা ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের মুসলিম জনগণের ঈদের দিন হচ্ছে আরাফার দিন, কুরবানীর দিন ও তাশরীকের দিন। এ দিনগুলো হচ্ছে পানাহারের দিন। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (২০৯০), ইরওয়া (৪/১৩০) আলী, সাদ, আবু হুরাইরা, জাবির, নুবাইশা, বিশর ইবনু সুহাইম, আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা, আনাস, হামযা ইবনু আমর আল-আসলামী, কাব ইবনু মালিক, আইশা, আমর ইবনুল আস ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা উকবা ইবনু আমির হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। তাশরীকের দিনগুলোতে রোযা পালন করাকে তারা মাকরুহ (হারাম) মনে করেন। কিন্তু তামাত্তু হাজ পালনকারীর জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিম এই দিনগুলোতে রোযা পালনের সুযোগ দিয়েছেন- যদি তারা কুরবানীর জানোয়ার না পায় এবং প্রথম দশ দিনের মধ্যে রোযা পালন করতে না পেরে থাকে। এরকম মতই প্রকাশ করেছেন ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)। আবু ঈসা বলেন, ইরাকবাসী মুহাদ্দিসগণ বলেন, (বর্ণনাকারীর নাম) মূসা ইবনু আলী ইবনু রাবাহ। মিসরবাসীগণ বলেন, মূসা ইবনু উলাই। আবু ঈসা আরও বলেন, কুতাইবাকে আমি বলতে শুনেছি, তিনি বলতে শুনেছেন যে, মূসা ইবনু আলী বলেছেন, আমার পিতার নাম তাসগীররূপে (উলাই) উচ্চারণ কারো জন্য হালাল মনে করি না।
। রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক রক্তক্ষরণ করে এবং যাহার রক্তক্ষরণ করানো হয় তাদের দু’জনের রোযাই নষ্ট হয়ে যায়। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৭৯-১৬৮১) আলী, সাদ, শাদাদ ইবনু আওস, সাওবান, উসামা ইবনু যাইদ, আইশা, মাকিল ইবনু সিনান (বলা হয় ইনি মাকিল ইবনু ইয়াসার), আবূ হুরাইরা, ইবনু আব্বাস, আবু মূসা ও বিলাল (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা রাফি ইবনু খাদীজ হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রাহঃ) বলেন, রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসই এ বিষয়ে সবচেয়ে সহীহ হাদীস এবং আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রাহঃ) বলেন, সাওবান ও শাদ্দাদ ইবনু আউস হতে বর্ণিত হাদীসই হচ্ছে এ বিষয়ে সবচেয়ে সহীহ হাদীস। ইয়াহইয়া ইবনু আবু কাসীর (রহঃ) আবু কিলাবা (রাঃ) হতে সাওবান ও শাদ্দাদ ইবনু আওমের দুটি হাদীসই বর্ণনা করেছেন।। রোযা অবস্থায় রক্তক্ষরণ করানোকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমের একটি দল মাকরূহ মনে করেন। এমনকি অনেক সাহাবী (রামাযানের) রাতে তা করাতেন যেমন আবূ মূসা আল-আশআরী ও ইবনু উমার (রাঃ)। এরকম মতপ্রকাশ করেছেন ইবনুল মুবারাকও। আবদুর রাহমান ইবনু মাহদী বলেছেন, কেউ যদি রোযা থাকাবস্থায় রক্তক্ষরণ করায় তাহলে তাকে এর কায আদায় করতে হবে। এরকম মত দিয়েছেন আহমাদ ইবনু হাম্বাল ও ইসহাকও। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেছেন, রোযা পালনরত অবস্থায়ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তক্ষরণ করিয়েছেন। আবার এটাও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেনঃ রক্তক্ষরণকারী এবং যে লোকের রক্তক্ষরণ করা হয় তাদের উভয়ের রোযাই বাতিল হয়ে গেল। আমার এ দুটি হাদীসের মধ্যে একটিও সঠিক বলে জানা নেই। কোন ব্যক্তি যদি রোযা থাকাবস্থায় রক্তক্ষরণ করানো হতে দূরে থাকে তাহলে সেটাই আমার মতে বেশি পছন্দনীয়। আর যদি কোন লোক তার রোযা থাকাবস্থায় রক্তক্ষরণ করায় সেক্ষেত্রে আমি মনে করি না এতে করে তার রোযা বাতিল হয়। আবু ঈসা বলেন, বাগদাদে থাকা অবস্থায় ইমাম শাফিঈর মত ছিল এটাই। কিন্তু এই বিষয়ে তিনি মিসরে যাওয়ার পর রক্তক্ষরণের অনুমতির পক্ষপাতী ছিলেন এবং কোনরকম সমস্যা আছে বলে মনে করেননি রোযা থাকাবস্থায় রক্তমোক্ষণ করানোতে। তার এই মতের সমর্থনে তিনি দলীল হিসাবে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা ও ইহরাম অবস্থায় বিদায় হজ্জে রক্তক্ষরণ করিয়েছেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রোযা পালন ও ইহরাম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তক্ষরণ করিয়েছেন। — সহীহ, এই অর্থে "রোযা থাকাবস্থায় তিনি রক্তক্ষরণ করিয়েছেন", বুখারী, ইবনু মা-জাহ (১৬৮২) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা সহীহ বলেছেন। আব্দুল ওয়ারিসের বর্ণনার ন্যায় ওহাইবও বর্ণনা করেছেন। ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম আইয়ুব হতে তিনি ইকরিমা হতে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন ইবনু আব্বাসের উল্লেখ না করে।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা ও মদীনার মাঝখানে ইহরাম ও রোযা অবস্থায় রক্তক্ষরণ করিয়েছেন। এই শদের হাদীসটি মুনকার। প্রগুক্ত এই অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ, জাবির ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও তাবিঈ এই হাদীস অনুসারে অভিমত দিয়েছেন যে, রোযাব্রত অবস্থায় রক্তক্ষরণ (শিঙ্গা লাগানো) করানোতে কোন সমস্যা নেই। সুফিয়ান সাওর, মালিক ইবনু আনাস ও শাফিঈ (রাহঃ)-এর একই মত।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাওমে বিসাল কর না। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো সাওমে বিসাল করেন। তিনি বললেনঃ আমি তো তোমাদের কারো মত নই। আমাকে আমার প্রতিপালক পানাহার করান। — সহীহ, বুখারী বাশীর ইবনুল খাসাসিয়্যা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আনাস (রাঃ)-এর হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন। সাওমে বিসালকে তারা মাকরূহ বলে মত দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি একাধিক দিন সাওমে বিসাল করতেন এবং ইফতার করতেন না।
হাদিস 779 — Jami At Tirmidhi 8:98
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Agreed Upon
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، قَالَ أَخْبَرَتْنِي عَائِشَةُ، وَأُمُّ سَلَمَةَ زَوْجَا النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُدْرِكُهُ الْفَجْرُ وَهُوَ جُنُبٌ مِنْ أَهْلِهِ ثُمَّ يَغْتَسِلُ فَيَصُومُ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَدْ قَالَ قَوْمٌ مِنَ التَّابِعِينَ إِذَا أَصْبَحَ جُنُبًا يَقْضِي ذَلِكَ الْيَوْمَ . وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ .
। আবু বাকর ইবনু আবদুর রাহমান ইবনু হারিস ইবনু হিশাম (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আইশা ও উম্মু সালামা (রাঃ) জানিয়েছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (কোন কোন সময়) কোন স্ত্রীর (সাথে সহবাসের) কারণে নাপাক অবস্থায় ফজর হয়ে যেত। এরপর তিনি গোসল করতেন এবং রোযা পালন করতেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭০৩), বুখারী, মুসলিম আইশা ও উম্মু সালামা হতে বর্ণিত হাদীসকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ সাহাবী ও তাবিঈ আমল করেছেন। এ মত দিয়েছেন সুফিয়ান, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)। তাবিঈগণের একটি দল বলেন, সহবাসজনিত কারণে নাপাক অবস্থায় কোন লোকের ফজর হয়ে গেলে সে লোককে এই দিনের রোযার কায করতে হবে। তবে প্রথমে বর্ণিত মতটিই অধিক সহীহ।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কাউকে খাবারের দাওয়াত দেওয়া হলে সেলোক যেন তা গ্রহণ করে। সে রোযাদার হলে (দাওয়াতকারীর জন্য) যেন দু'আ করে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭৫০), মুসলিম
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নাৰী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কোন রোযাদারকে যদি খাবারের দাওয়াত দেওয়া হয় তাহলে সে যেন বলে, আমি রোযা আছি। - সহীহ, প্রাগুক্ত আবু ঈসা আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত উভয় হাদিসকেই হাসান সহিহ বলেছেন।