। আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতি মাসে যে লোক তিন দিন রোযা পালন করে তা যেন সারা বছরই রোযা পালনের সমান। আল্লাহ তা'আলা এর সমর্থনে তার কিতাবে আয়াত অবতীর্ণ করেছেনঃ “কোন লোক যদি একটি সাওয়াবের কাজ করে তাহলে তার প্রতিদান হচ্ছে এর দশ গুণ” (সূরাঃ আন’আম- ১৬০)। সুতরাং এক দিন দশ দিনের সমান। — সহীহ, ইরওয়া আবূ ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শুবা এই হাদীসটি আবু আবু হুরাইরা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
। মু'আযাহ (রাহঃ) বলেন, আমি আইশা (রাঃ)-কে বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি আবার বললাম, কোন কোন তারিখে তিনি এই রোযা রাখতেন? তিনি বললেন, তিনি যে কোন দিন এই রোযা রাখতেন, এই বিষয়ে তিনি কোন সংকোচ করতেন না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭০৮), মুসলিম আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। বর্ণনাকারী ইয়ামীদ আর-রিশক হলেন ইয়াযীদ আয-যুবাঈ এবং ইনিই ইয়াযীদ ইবনুল কাসিম। ইনি ছিলেন বণ্টনকারী। বসরাবাসীদের ভাষায় ‘রিশক অর্থ বণ্টনকারী।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রতিপালক বলেন, “প্রতিটি সৎ কাজের প্রতিদান হলো দশ গুণ হতে সাত শত গুণ পর্যন্ত। কিন্তু রোযা শুধুমাত্র আমার জন্যই এবং এর প্রতিদান আমি নিজেই দিব।” রোযা জাহান্নাম হতে (বাচার) ঢালস্বরূপ। আল্লাহ্ তা'আলার নিকট রোযা পালনকারীর মুখের গন্ধ কন্তুরী ও মিশক আম্বরের গন্ধের চেয়েও অধিক পছন্দনীয়। তোমাদের কোন রোযা পালনকারীর সাথে যদি কোন জাহিল মূর্খতা সুলভ আচরণ করে তবে সে যেন বলে, আমি রোযাদার। — সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (২/৫৭-৫৮), সহীহ আবু দাউদ (২০৪৬) মুআয ইবনু জাবাল, সাহল ইবনু সাদ, কাব ইবনু উজরা, সালামা ইবনু কাইসার ও বাশীর ইবনুল খাসাসিয়্যা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বাশীর (রাঃ)-এর নাম যাহম ইবনু মা’বাদ, খাসাসিয়্যা হলেন তার মাতা। আবু ঈসা এই সূত্রে আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান গারীব বলেছেন।
সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “রাইয়্যান” নামে জান্নাতে একটি দরজা আছে। রোযা পালনকারীকে এই দরজা দিয়ে প্রবেশের জন্য ডাকা হবে। যে সব লোক রোযা পালন করে তারা এই দরজা দিয়ে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে। আর তাতে যে লোক প্রবেশ করবে সে আর কখনও পিপাসার্ত হবে না। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৪০), “পিপাসার্ত হবে না" ব্যাক্যাংশ ব্যতীত - বুখারী, মুসলিম আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান, সহীহ গারীব বলেছেন।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রোযা পালনকারীর জন্য দু'টি আনন্দ আছে- একটি আনন্দ যখন সে ইফতার করে এবং আরেকটি আনন্দ যখন সে তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৩৮), মুসলিম আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! সে সব লোকের কাজগুলো কেমন যে সব লোক সারা বছর রোযা পালন করে? তিনি বললেনঃ তার রোযা পালনও হল না, ইফতারও হল না। — সহীহ, ইরওয়া (৯৫২), মুসলিম আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবদুল্লাহ ইবনু শিখখীর, ইমরান ইবনু হুসাইন ও আবু মূসা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। সারা বছর রোযা পালন করাকে আলিমগণের একদল মাকরূহ মনে করেন। তারা বলেন, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ও আইয়্যামে তাশরীকের দিনও (কুরবানীর দিনের পরবর্তী তিন দিন) যদি কোন লোক রোযা পালন করে তবে সেটা হবে সারা বছর রোযা (যা মাকরূহ)। যেসব লোক এই দিনগুলোতে রোযা পালন করবে না সে উপরোক্ত মাকরূহ-এর মধ্যে পড়বে না এবং সে সারা বছর রোযাদার হবে না। একইরকম অভিমত ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রাহঃ) হতেও বর্ণিত আছে। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর বক্তব্যও এটাই। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, আইয়্যামে তাশরীক এই পাঁচ দিন রোযা পালন করতে নিষেধ করেছেন। সেই পাঁচটি দিন ছাড়া অন্য কোন দিনের রোযা ত্যাগ করা ওয়াজিব নয়।
হাদিস 768 — Jami At Tirmidhi 8:87
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ - Bukhari And Muslim
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ صِيَامِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ صَامَ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَفْطَرَ . قَالَتْ وَمَا صَامَ رَسُولُ اللَّهُ صلى الله عليه وسلم شَهْرًا كَامِلاً إِلاَّ رَمَضَانَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোযা পালন প্রসঙ্গে আইশা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা পালন করেই যেতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি তো রোযা পালন করেই যাচ্ছেন। আবার রোযা আর রোযা পালন করবেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও রামাযান মাস ব্যতীত সম্পূর্ণ মাস রোযা পালান করেননি। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭১০), বুখারী, মুসলিম ৷ আনাস ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোযা প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোন মাসে তিনি রোযা পালন করতে শুরু করলে মনে হত যে, তার হয়তো আর রোযা ত্যাগের ইচ্ছা নেই। আবার যখন তিনি রোযা পালন করা ছেড়ে দিতেন তখন মনে হত তিনি হয়তো আর রোযা পালন করবেন না। তুমি যদি তাকে রাতে নামায রত অবস্থায় দেখতে ইচ্ছা করতে তবে সে অবস্থায়ই দেখতে পেতে। আর তুমি যদি তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে ইচ্ছা করতে তবে সে অবস্থায়ই দেখতে পেতে। — সহীহ, বুখারী (১৯৭২), মুসলিম (৩/১৬২), নামাযের ব্যাক্যাংশ বাদে সংক্ষিপ্তভাবে। আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার ভাই দাউদ (আঃ)-এর রোযা হল সবচেয়ে উত্তম রোযা। তিনি একদিন রোযা পালন করতেন এবং একদিন পালন করতেন না। আর যুদ্ধের ময়দানে শক্রর মুখোমুখী হলে তিনি পালাতেন না। – সহীহ, বুখারী, মুসলিম আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। বর্ণনাকারী আবুল আব্বাস একজন মক্কার কবি ছিলেন এবং তিনি একজন অন্ধ ব্যক্তি। তার নাম সাইব ইবনু ফাররূখ। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম বলেন, সবচেয়ে উত্তম (নফল) রোযা হচ্ছে সেই রোযা যা একদিন পরপর পালন করা হয়। বলা হয় যে, এই নিয়মে রোযা রাখা কঠিন।
আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ)-এর মুক্তদাস আবূ উবাইদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে কুরবানীর দিন দেখতে পেয়েছি যে, খুতবা দেওয়ার আগে প্রথমে তিনি নামায আদায় করলেন। এরপর তিনি বললেন, এই দুই ঈদের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি রোযা পালন করতে নিষেধ করতে শুনেছি। ঈদুল ফিতরের দিন হল তোমাদের (সারা মাসের) রোযা ভঙ্গের দিন এবং মুসলিমদের ঈদের দিন। আর তোমরা ঈদুল আযহার দিন তোমাদের কুরবানীর গোশত খাবে। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৭২২), বুখারী, মুসলিম আবু ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ)-এর মুক্ত দাস আবূ উবাইদের নাম সা’দ। তাকে আবদুর রাহমান ইবনু আযহারের মাওলাও বলা হয়। আবদুর রাহমান ইবনু আযহার হলেন আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ)-এর চাচাত ভাই।