। উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি (ছাগলের) পাজরের ভুনা গোশত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে রাখলেন। তিনি তা হতে খেলেন, তারপর নামাযে দাড়িয়ে গেলেন কিন্তু (আবার) ওযু করেননি। সহীহ, মুখতাসার শামা-ইল (১৩৮) আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস, মুগীরা ও আবূ রাফি (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ এবং এই সনদসূত্রে গারীব বলেছেন।
। আবূ জুহাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি হেলান দিয়ে কখনো খাবার খাই না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২৬২), বুখারী এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আমরা এ হাদীস, প্রসঙ্গে শুধু আলী ইবনুল আকমারের সূত্রে জেনেছি। এ হাদীসটি আলী ইবনুল আকমারের সুত্রে যাকারিয়্যা ইবনু আবু যাইদা, সুফিয়ান ইবনু সাঈদ সাওরী প্রমুখ আলী ইবনুল আকসার হতে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি আলী ইবনুল আকমারের সূত্রে শুবা-সুফিয়ান সাওরী হতে বর্ণনা করেছেন। আলী, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিষ্টি ও মধু পছন্দ করতেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৩২৩), নাসাঈ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আলী ইবনু মুসহির-হিশাম ইবনু উরওয়ার সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত আছে। এ হাদীসে আরো অনেক বক্তব্য রয়েছে।
। আলকামা ইবনু আবদুল্লাহ আল-মুযানী (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (আবদুল্লাহ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ গোশত কিনলে (রান্নার সময়) সে যেন তাতে বেশী ঝোল রাখে। কারো ভাগে গোশত না পড়লেও সে যেন অন্তত ঝোল খেতে পায়। এটাও গোশতের অন্তর্ভুক্ত। যঈফ, যঈফা (২৩৪১) এ অনুচ্ছেদে আবূ যার (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উল্লেখিত সনদসূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু ফাযাআর হাদীস হিসেবে এটি জেনেছি। তিনি ছিলেন স্বপ্নের ব্যাখ্যাকার। সুলাইমান ইবনু হারব মুহাম্মাদ ইবনু ফাযাআর সমালোচনা করেছেন। আলকামা ইবনু আবদুল্লাহ হলেন বাকর ইবনু আবদুল্লাহ আল-মুযানীর ভাই।
। আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ন্যায়সংগত ও কল্যাণকর কাজের কোন বিষয়কেই যেন তোমাদের কেউ তুচ্ছ মনে না করে। সে (ভাল করার মতো) কিছু না পেলে অন্তত তার ভাইয়ের সাথে যেন হাসিমুখে মিলিত হয়। তুমি গোশত কিনে তা অথবা অন্য কিছু রান্না করার সময় তাতে ঝোলের পরিমাণ বেশি রাখবে এবং তোমার প্রতিবেশীকেও তা হতে এক আজলা দিবে। সহীহ, মুসলিম (৮/৩৭), পৃথকভাবে,সহীহা (১৩৬৮),তালীকুর রাগীব (৩/২৬৪) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি শুবা বর্ণনা করেছেন আবূ ইমরান আল-জাওনী হতে।
। আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পুরুষদের মধ্যে অনেক কামিল ব্যক্তি এসেছে। কিন্তু ইমরান-কন্যা মারইয়াম (আঃ) এবং ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া (রাঃ)-এর মতো আর কোন কামিল লোক মহিলাদের মধ্যে আসেনি। অন্য সব খাবারের চাইতে সারীদের যেমন বেশি মর্যাদা (অগ্রাধিকার) রয়েছে, তেমনি মহিলাদের উপর আইশা (রাঃ)-এরও একইরকম মর্যাদা রয়েছে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২৮০), নাসা-ঈ আইশা ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমার পিতা (হারিস) আমাকে বিয়ে করিয়ে দেন। এ উপলক্ষে তিনি কিছু লোককে দাওয়াত করেন। তাদের মধ্যে সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গোশত দাত দিয়ে ছিড়ে ছিড়ে বা কেটে কেটে খাও। কেননা তা খুবই সুস্বাদু ও তৃপ্তিদায়ক। যঈফ, যঈফা (২১৯৩) আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আইশা ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। উল্লেখিত হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র আবদুল কারীমের সূত্রেই জেনেছি। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আবদুল কারমের স্মরণশক্তির সমালোচনা করেছেন। আইউব সাখতিয়ানী তাদের অন্যতম।
। জাফর ইবনু আমর ইবনু উমাইয়া আয-যামরী (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (আমর ইবনু উমাইয়া) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ছুরি দিয়ে একটি ছাগলের কাঁধের (রান্না করা) গোশত কাটতে এবং তা খেতে দেখেছেন। তারপর তিনি নামায আদায়ের জন্য চলে গেলেন কিন্তু (নতুন করে) ওযু করেননি। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪৯০), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য গোশত আনা হল এবং তাকে বাহুর গোশত পরিবেশন করা হল। তিনি বাহুর গোশতই বেশি পছন্দ করতেন। তিনি তা দাঁত দিয়ে ছিড়ে ছিড়ে চিবিয়ে খেলেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৩০৭), বুখারী ও মুসলিম ইবনু মাসউদ, আইশা, আবদুল্লাহ ইবনু জাফর ও আবূ উবাইদা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আৰূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ হাইয়্যানের নাম ইয়াহইয়া, পিতা সাঈদ ইবনু হাইয়্যান আত-তামীমী। আবূ যারআর নাম হারিম।