। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে বাহুর গোশত অন্য সব অংশের গোশতের চেয়ে বেশী প্রিয় ছিল তা নয়, বরং প্রকৃত ব্যাপার এই যে, অনেক দিন পরপর তিনি গোশত খাওয়ার সুযোগ পেতেন। এজন্যই তাকে বাহুর গোশত পরিবেশন করা হত। কেননা বাহুর গোশত তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয় এবং গলে যায়। মুনকার, মুখতাসার শামায়িল (১৪৪) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উল্লেখিত (সনদ) সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিরকা (টক ও বাজযুক্ত পানীয়) কতই না উত্তম তরকারী! সহীহ, ইবনু মাজহ (৩৩১৬, ৩৩১৭), মুসলিম আইশা ও উম্মু হানী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিরকা কতই না উত্তম তরকারী! সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৩১৬, ৩৩১৭), মুসলিম ইয়াহইয়া ইবনু হাসসান হতে, তিনি সুলাইমান ইবনু বিলাল হতে উল্লেখিত সনদে অনুরূপ। তবে তাতে নি'মাল ইদামু অথবা আলউদমু এভাবে উল্লেখ আছে। সহীহ দেখুন পূর্বের হাদীস এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ এবং উল্লেখিত সনদসূত্রে গারীব বলেছেন। আমরা এটিকে হিশাম ইবনু উরওয়ার রিওয়ায়াত হিসাবে শুধু সুলাইমান ইবনু বিলালের সুত্রেই জেনেছি।
। আবূ তালিবের কন্যা উম্মু হানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে এসে বললেনঃ তোমাদের (খাওয়ার মতো) কিছু আছে কি? আমি বললাম, কয়টি শুকনা রুটির টুকরা এবং সিরকা ব্যতীত আর কিছু নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (আমাকে) তা-ই দাও। যে ঘরে সিরকা রয়েছে সে ঘর তরকারিশূন্য নয়। হাসান, “সহীহাহ" (২২২০) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান এবং উল্লেখিত সনদসূত্রে গারীব বলেছেন। আমরা এই হাদীসটি উম্মু হানী (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে শুধু উল্লেখিত সনদসূত্রেই জেনেছি। আবূ হামযা আস-সুমালীর নাম সাবিত, পিতা আবূ সাফিয়্যা। আলী (রাঃ) শহীদ হওয়ার কিছুকাল পরে উম্মু হানী (রাঃ) মৃত্যুবরণ করেন। আমি (তিরমিয়ী) মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে এ হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম, তিনি বললেন, উম্মু হানী হতে শাবীর শ্রুতি সম্পর্কে আমার জানা নেই। আমি আবার বললাম, আবূ হামযাহ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি? তিনি বললেন আহমাদ ইবনু হাম্বল তার সমালোচনা করেছেন। তবে আমার মতে সে হাদীসের যোগ্য।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিরকা কতই না উত্তম তরকারি! সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৩১৭) মুবারাক ইবনু সাঈদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের চেয়ে এই হাদীসটি অধিক সহীহ।
হাদিস 1843 — Jami At Tirmidhi 25:59
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخُزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْكُلُ الْبِطِّيخَ بِالرُّطَبِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَرَوَاهُ بَعْضُهُمْ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلٌ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ عَائِشَةَ وَقَدْ رَوَى يَزِيدُ بْنُ رُومَانَ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ هَذَا الْحَدِيثَ .
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তরমুজ তাজা খেজুরের সাথে একত্রে খেতেন। সহীহ, সহীহাহ (৫৭), মুখতাসার শামা-ইল (১৭০) আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এ হাদীসটি কয়েকজন বর্ণনাকারী হিশাম ইবনু উরওয়া হতে তার বাবার সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাতে আইশা (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। ইয়াযীদ ইবনু রুমান এই হাদীসটি উরওয়ার সূত্রে আইশা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
। আবদুল্লাহ ইবনু জাফর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শসা খেজুরের সাথে একত্রে খেতেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৩২৫) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধু ইবরাহীম ইবনু সাদের সূত্রে জেনেছি।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, উরাইনা হতে কয়েকজন লোক মাদীনায় আসল। এ অঞ্চলের আবহাওয়া তাদের স্বাস্থ্যের অনুকূল না হওয়ায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সাদকার উটের এলাকায় পাঠিয়ে দেন এবং বলেনঃ তোমরা এর দুধ ও প্রস্রাব পান কর। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫৭৮), বুখারী ও মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব বলেছেন। এ হাদীসটি আনাস (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে আবূ কিলাবা (রাঃ) তা বর্ণনা করেছেন। কাতাদা হতে আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে সাঈদ ইবনু আবী আরুবা (রাহঃ) তা বর্ণনা করেছেন।
। সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি তাওরাত কিতাবে পড়েছি, খাওয়ার পর ওযু করার মধ্যেই খাওয়ার বারকাত আছে। আমি ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে বললাম এবং আমি তাওরাত কিতাবে যা পড়েছি তাও তাকে জানালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ খাওয়া-দাওয়ার আগে ও পরে ওযু করার মধ্যেই বারকাত আছে। যঈফ, যঈফা (১৬৮), মুখতাসার, শামায়িল (১৫৯) আবূ ঈসা বলেছেন, এ অনুচ্ছেদে আনাস ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। তিনি আরও বলেছেনঃ আমরা শুধু কাইস ইবনুর রাবীর সূত্রেই এ হাদীসটি জেনেছি। কাইস হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। আবূ হাশিম আর-রুম্মানীর নাম ইয়াহইয়া, পিতা দীনার।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা হতে বেরিয়ে এলেন। তার সামনে খাবার আনা হল। লোকেরা বলল, আমরা কি আপনার জন্যে ওযুর পানি আনবো? তিনি বললেনঃ আমাকে নামাযে দাড়ানোর জন্য ওযুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সহীহ, মুখতাসার শামা-ইল (১৫৮), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি আমর ইবনু দীনারও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে সাঈদ ইবনু হুওয়াইরিসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেছেন, খাওয়া আরম্ভের আগে হাত ধোয়াকে সুফিয়ান সাওরী মাকরূহ মনে করতেন। থালার নিচে রুটি রাখাকেও তিনি মাকরূহ মনে করতেন।