। বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক মহিলা এসে বলল, আমার মা মৃত্যুবরণ করেছেন, কিন্তু তিনি হাজ্জ আদায় করেননি। তার পক্ষে কি আমি হাজ আদায় করব? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তার পক্ষে তুমি হজ্জ আদায় কর। — সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৫৬১), মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবূ রাযীন আল-উকাইলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমার পিতা খুবই বৃদ্ধ। তিনি হাজ্জ, উমরা, এমনকি সফর করতেও সক্ষম নন। তিনি বললেনঃ তোমার পিতার পক্ষে তুমি হাজ্জ ও উমরা আদায় কর। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯০৬) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস হতেই জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যের পক্ষ হতে উমরা করার অনুমতি দিয়েছেন। আবু রায়ীন আল-উকাইলী (রাঃ)-এর নাম লাকীত, পিতা আমির।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলো উমরা করা কি ওয়াজিব? তিনি বললেনঃ না, তবে তোমরা উমরা করলে তা অতিশয় ভাল। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ্। কোন কোন আলিমের মতে উমরা ওয়াজিব নয়। এ কথাও বলা হত যে, হাজ হলো দুটি। কুরবানীর দিন হলো বড় হাজ্জ এবং উমরা হলো ছোট হাজ। ইমাম শাফিঈ বলেন, উমরা হলো সুন্নাত (প্রতিষ্ঠিত ইবাদাত)। আমার জানামতে তা ছেড়ে দেয়ার সুযোগ কেউ দেননি। এটি নফল হওয়া প্রসঙ্গেও কোন গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এটি নফল বলে যে হাদীস বর্ণিত আছে তা যঈফ, তা দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা জেনেছি যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) উমরা পালন ওয়াজিব মনে করতেন। আবূ ঈসা বলেন, এর পুরোটাই ইমাম শাফিঈর বক্তব্য।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত পর্যন্ত হাজ্জের মধ্যে উমরাও অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৫৭১), মুসলিম সুরাকা ইবনু জু'শুম ও জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাসের হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এই হাদীসের তাৎপর্য হল, হাজ্জের মাসসমূহে উমরা করায় কোন সমস্যা নেই। অনুরূপ ব্যাখ্যাই করেছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। এই হাদীসের তাৎপর্য হল, হজ্জের মাসসমূহে জাহিলী যুগের লোকেরা উমরা আদায় করত না। ইসলামের আবির্ভাবের পর এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতি দেন এবং বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত উমরাও হজ্জের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে অর্থাৎ হাজ্জের মাসসমূহে উমরা করাতে কোন সমস্যা নেই। হাজ্জের মাস হলঃ শাওয়াল, যুলকাদা ও যুলহিজ্জার প্রথম দশদিন। হজ্জের মাসগুলি ব্যতীত অন্য মাসে হাজের ইহরাম বাধা উচিত নয়। আর হারাম মাসগুলো হলোঃ রজব, যুলকাদা, যুলহিজ্জা ও মুহাররাম। অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবী ও অপরাপর অনেক আলিম।
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক উমরা অপর উমরা পর্যন্ত সংঘটিত গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ। কবুল হাজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নেই। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৮৮), বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দিলেন তিনি যেন আইশা (রাঃ)-কে তানঈম হতে (ইহরাম করে) উমরা করান। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯৯৯), বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। মুহাররিশ আল-কাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, উমরার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে (ইহরাম বেঁধে) জিরানা হতে বের হন এবং রাতেই মক্কায় যান। উমরা পালন করে তিনি ঐ রাতেই ফিরে আসেন। জিরানাতেই তার ভোর হয়। মনে হল তিনি যেন এখানেই রাতযাপন করেছেন। পরের দিন তিনি সূর্য ঢলে পড়ার পর বাতনে সারিফের উদ্দেশ্যে রাওয়ানা হন এবং মুযদালফার পথে সেখানে পৌছে যান। এই কারণে তার এই উমরার খবর মানুষের নিকট অজ্ঞাত থেকে যায়। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৭৪২) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গরীব বলেছেন। এই হাদীস ছাড়া মুহাররিশ আল-কাবী (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আর কোন হাদীস বর্ণিত আছে কি-না তা আমাদের জানা নেই। বলা হয়ে থাকে যে, “জা-আ মাআত তারক” অর্থাৎ মাও সূলের পথে আগমণ করেন।
। উরওয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ইবনু উমার (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হল, কোন মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরা করেছেন? তিনি বললেন, রজব মাসে। উরওয়া বলেন, তখন আইশা (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কোন উমরা করেননি যাতে তিনি অর্থাৎ ইবনু উমার (রাঃ) তার সাথে ছিলেন না। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো কখনও রজব মাসে উমরা করেননি। – সহীহ, ইবনু মাজাহ (২৯৯৭, ২৯৯৮), বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা গারীব বলেছেন। মুহাম্মাদ আল-বুখারীকে আমি বলতে শুনেছি, উরওয়া ইবনুয যুবাইর (রাহঃ) হতে হাবীব ইবনু আবী সাবিত কখনও কিছু শুনেননি।
হাদিস 937 — Jami At Tirmidhi 9:130
সহিহসহিহহাসান Sahihসহিহ Bukhari
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اعْتَمَرَ أَرْبَعًا إِحْدَاهُنَّ فِي رَجَبٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বমোট চারবার উমরা করেছেন, এর মধ্যে একটি করেছেন রজব মাসে। — সহীহ, (হাদীসটি পূর্বের হাদীসের সংক্ষিপ্তরূপ, তাতে আইশা (রাঃ) রজব মাসের উমরাহকে অস্বীকার করেছেন।) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।
। বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, যুলকাদা মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাহ করেছেন। — সহীহ, বুখারী এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।