। উম্মু মাকিল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রামাযান মাসের উমরা হজ্জের সমতুল্য। — সহীহ, ইবনু মাজাহ (২৯৯৩) ইবনু আব্বাস, জাবির, আবু হুরাইরা, আনাস ও ওয়াহব ইবনু খানবাশ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ ওয়াহব ইবনু খানবাশকে হারিম ইবনু খানবাশও বলা হয়। (রাবী) বায়ান ও জাবির বলেছেন শাবী হতে, তিনি ওয়াহব ইবনু খানবাশ হতে। আর দাউদ আল আওদী বলেছেন শাবী হতে, তিনি হারিম ইবনু খানবাশ হতে। তার নাম ওয়াহব এটিই অধিক সহীহ। উম্মু মাকিলের হাদীসটি এই সূত্রে হাসান গারীব। আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সঠিকভাবে বর্ণিত আছে যে, রামাযান মাসের উমরা হজ্জের সমতুল্য। ইসহাক বলেন, এ হাদীসের তাৎপর্য সূরা ইখলাস প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাদীসটির তাৎপর্যের অনুরূপ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক “কুল হুআল্লাহু আহাদ সূরা তিলাওয়াত করল সে যেন কুরআন মাজীদের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করল”।
। হাজ্জাজ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কারো দেহের কোন অঙ্গ ভেঙ্গে গেলে বা সে খোড়া হয়ে গেলে হালাল (ইহরাম, মুক্ত) হয়ে যাবে এবং তাকে আরেকবার হাজ্জ আদায় করতে হবে। ইকরামা বলেন, আমি এই হাদীস প্রসঙ্গে আবু হুরাইরা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলে তারা উভয়ে বলেন, হাজ্জাজ সত্য বলেছেন। — সহীহ, ইবনু মী-জাহ (৩০৭৭) এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। হাজ্জাজ আস-সাওওয়াফ হতেও একাধিক বর্ণনাকারী এই হাদীসের মতই রিওয়ায়াত করেছেন। এই হাদীস মামার ও মুআবিয়া ইবনু সাল্লাম বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনু আবি কাসীর হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু রাফি হতে, তিনি হাজ্জাজ ইবনু আমর হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। কিন্তু হাজ্জাজ আস-সাওওয়াফ তার সনদে আবদুল্লাহ ইবনু রাফি-এর উল্লেখ করেননি। হাদীস বিশেষজ্ঞগণের মতে হাজ্জাজ একজন (হাদীসের) হাফিজ ও বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী। মুহাম্মাদ আল-বুখারীকে আমি বলতে শুনেছি, মামার ও মুআবিয়া ইবনু সাল্লামের রিওয়ায়াতটি এই হাদীসের ক্ষেত্রে বেশি সহীহ। উপরোক্ত হাদীসের মতই অন্য একটি সূত্রেও বর্ণিত আছে। সূত্রটি এই আবদ ইবনু হুমাইদ আবদুর রাজ্জাক হতে, তিনি মা’মার হতে, তিনি নবী আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, যুবাআ বিনতুয যুবাইর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হাজ্জ আদায় করতে চাচ্ছি। আমি কি কোন শর্ত আরোপ করতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। যুবাআ বললেন, আমি কিভাবে বলব? তিনি বললেনঃ তুমি বলবে, আমি উপস্থিত, হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত। হে আল্লাহ! তুমি যেখানে আমাকে বাধাগ্রস্ত করে দিবে সেখানেই আমি ইহরামমুক্ত হব। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯৩৮), মুসলিম জাবির, আসমা বিনতু আবু বাকর ও আইশা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। তাদের মতে হাজের ক্ষেত্রে এইরূপ শর্তারোপ করা যায়। তারা বলেন, যদি কোন ইহরামধারী এইরূপ শর্ত করার পর বাধার সম্মুখীন হয় অথবা অপারগ হয়ে পড়ে তাহলে সেলেক ইহরামমুক্ত হয়ে যেতে পারবে। এই মত দিয়েছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। হাজের ক্ষেত্রে শর্তারোপ করা আরেক দল আলিমের মতে সঠিক নয়। তারা বলেন, কোন লোক শর্তারোপ করলেও ইহরামমুক্ত হতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে তাকে কোন শর্তারোপ না করা ব্যক্তির মতই গণ্য করা হবে।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি হাজে কোন রকম শর্তারোপ করা প্রত্যাখ্যান করতেন এবং বলতেন, তোমাদের জন্য কি তোমাদের নবীর সুন্নাতই যথেষ্ট নয়? — সহীহ (১৮১০), বুখারী এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনু উমারের কথার তাৎপর্য হল, যখন কোন ব্যক্তি হাজের জন্য ইহরাম বাধবে অতঃপর কা'বা পর্যন্ত পৌছতে বাধা গ্রস্থ হয় তাহলে সে হজ্জের নিয়্যাত ভঙ্গ করবে। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরকমই করেছেন যখন তাঁকে কাফিরগণ বাধা দিয়েছিল।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমি বললামঃ মিনায় অবস্থানের দিনগুলিতে সাফিয়্যা বিনতু হুওয়াই (রাঃ) হায়েযগ্রস্তা হয়ে পড়েছেন। তিনি বললেনঃ সে আমাদের প্রতিবন্ধক হবে নাকি? লোকেরা বলল, তিনি তাওয়াফে যিয়ারাত করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে কোন সমস্যা নেই। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৭২, ৩০৭৩), বুখারী, মুসলিম ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আইশা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ মত দিয়েছেন। তাওয়াফে যিয়ারাত সম্পন্ন করার পর কোন মহিলা হয়েযগ্রস্তা হলে সে (মিনা হতে) চলে আসতে পারে। এতে তার উপর অন্য কিছু বর্তাবে না। এই অভিমত সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর।
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যে লোক বাইতুল্লাহর হাজ্জ করে তার শেষ কাজ যেন বাইতুল্লাহর তাওয়াফ হয়। তবে ঋতুবতী মহিলা এর ব্যতিক্রম। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য (চলে আসার) অনুমতি দিয়েছেন। — সহীহ, বুখারী (১৭৬১), অনুমতির ব্যাক্য সহ ইরওয়া (৪/২৮৯) ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন।
। হারিস ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি এই ঘরের হাজ্জ বা উমরা করবে তার শেষ কাজ যেন বাইতুল্লায় সম্পর্কযুক্ত হয়। এই বর্ণনাটি মুনকার, তবে "উমরা করবে" এই শব্দ ব্যতীত হাদীসের অর্থ সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (১৭৪৯), যঈফা (৪৫৮৫) উমার (রাঃ) তখন তাকে (হারিস ইবনু আবদুল্লাহকে) বলেন, তোমার শরম হওয়া উচিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তুমি এই বিষয়টি শুনেছ অথচ আজো আমাদেরকে তা জানাওনি। এই অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, হারিস ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আওস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি গারীব। হাজ্জাজ ইবনু আরতাহ হতেও একাধিক রাবী একইরকম বর্ণনা করেছেন। এই সনদের কোন কোন অংশে হাজ্জাজের উল্টো বর্ণনা করা হয়েছে।
হাদিস 947 — Jami At Tirmidhi 9:141
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَنَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَطَافَ لَهُمَا طَوَافًا وَاحِدًا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ قَالُوا الْقَارِنُ يَطُوفُ طَوَافًا وَاحِدًا . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ يَطُوفُ طَوَافَيْنِ وَيَسْعَى سَعْيَيْنِ . وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ .
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একসাথে হাজ্জ ও উমরা আদায় করেছেন (কিরান হাজ্জ করেছেন) এবং হাজ্জ ও উমরার জন্য একটি মাত্র তাওয়াফই করেছেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৯৭১, ২৯৭৪) ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সংখ্যক বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ আমল করেছেন। তারা বলেন, কিরান হাজ্জ পালনকারী একটি তাওয়াফই করবে। এই অভিমত ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপর কিছু সংখ্যক বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ বলেন, কিরান হাজ পালনকারী দুটি তাওয়াফ ও দুটি সাঈ করবে (একটি হাজের জন্য ও একটি উমরার জন্য)। এই অভিমত ইমাম সাওর ও কুফাবাসী আলিমদের।
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হাজ্জ ও উমরার ইহরাম যে লোক একত্রে বাধবে এই দুইটির ক্ষেত্রে সে লোকের জন্য এক তাওয়াফ ও এক সাঈ যথেষ্ট হবে এবং সে একই সাথে উভয়টি হতে ইহরামমুক্ত হয়ে যাবে। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯৭৫) এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। কেননা, দারাওয়ারদী এককভাবে এই শব্দে হাদীস বর্ণনা করেছেন। একাধিক রাবী উবাইদুল্লাহ ইবনু উমর (রাহঃ) হতে এটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এটিকে তারা মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি এবং এটাই অনেক বেশি সহীহ।