। উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাকে অবহিত করেছেন এবং সাব ইবনু জাসসামা (রাঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে অবহিত করেছেন যে, আবওয়া বা ওয়াদদান নামক জায়গাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি একটা বন্য গাধা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উপহার দিলেন। কিন্তু তাকে তিনি তা ফেরত দিলেন। তার চেহারাতে মালিন্যের ভাব দেখতে পেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমার এই উপহার ফিরিয়ে দিতাম না। কিন্তু আমরা যে এখন ইহরাম অবস্থায় আছি। সহীহ এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী এবং অপরাপর আলিমগণ মুহরিমের জন্য শিকারের গোশত খাওয়া মাকরূহ বলেছেন। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ফেরতদানের তাৎপর্য এই যে, তিনি অনুমান করেছিলেন যে, হয়ত তার উদ্দেশ্যেই এটিকে শিকার করা হয়েছে। তাই এটা হতে বাঁচতেই তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ইমাম যুহরী (রাহঃ)-এর কিছু শাগরিদ তার হতে বর্ণনা করেন যে, বন্য গাধার গোশত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উপহার দেয়া হয়। কিন্তু এই রিওয়ায়াতটি সংরক্ষিত নয়। আলী ও যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হাজ্জ অথবা “উমরাহ" করতে বের হলাম। আমাদের সামনে এক ঝাক পঙ্গপাল এসে পড়ল। আমরা আমাদের চাবুক ও ছড়ি দিয়ে এগুলো মারতে শুরু করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এটা তোমরা খেতে পার। কারণ এটা জলজ শিকারের অন্তর্ভুক্ত। - যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩২২২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আবূল মুহাৰ্যযিম ব্যতীত এটিকে আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে আর কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আবূল মুহাযযিমের নাম ইয়ামীদ ইবনু সুফিয়ান। শুবা তার সমালোচনা করেছেন। একদল আলিম মুহরিমের জন্য পঙ্গপাল শিকার করা এবং তা খাওয়ার সম্মতি দিয়েছেন। অন্য একদল আলিম বলেছেন, তা শিকার করলে বা খেলে মুহরিমের উপর সাদাকা (দম) নির্ধারিত হবে।
। ইবনু আবূ আম্মার (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে আমি বললাম, হায়েনা কি শিকার (করার মত প্রাণী) তিনি বলেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, সেটা কি খেতে পারবো? তিনি বলেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এ কথা বলেছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৮৫) এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি জারীর ইবনু হাযিম (রাহঃ) রিওয়ায়ত করেছেন এবং তিনি সনদের উল্লেখ করেছেন এভাবে “জাবির হতে তিনি উমার হতে”। কিন্তু ইবনু জুরাইজ (রাহঃ)-এর বর্ণনাটি বেশি সহীহ। এই মত ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর। একদল আলিম মুহুরিমের ক্ষেত্রে বলেন, সে যদি হায়েনা শিকার করে তাহলে তাকে কাফফারা আদায় করতে হবে।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা শরীফে যাওয়ার উদ্দেশে ফাখ নামক জায়গাতে গোসল করেন। - সনদ খুবই দুর্বল। ফাখ শব্দ উল্লেখ না করে বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সহীহ আবূ দাউদ (১২২৯) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সুরক্ষিত নয়। মক্কা মুকাররমায় যাওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করতেন মর্মে বর্ণিত ইবনু উমার (রাঃ) হতে নাফি-এর হাদীসটি বেশী সহীহ। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) মক্কায় যাওয়ার জন্য গোসল করা মুস্তাহাব বলেছেন। রাবী আবদুর রহমান ইবনু যাইদ ইবনু আসলাম হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। আহমাদ ইবনু হাম্বল, আলী ইবনুল মাদীনী প্রমুখ তাকে যঈফ বলেছেন। তার সূত্র ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে এ হাদীসটি মারফুহিসেবে বর্ণিত হয়েছে কি-না তা আমাদের জানা নেই।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় আগমন করলেন তখন এর উচ্চভূমি দিয়ে আসলেন এবং বের হলেন নিম্নভূমি দিয়ে। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৬৩৩) বুখারী, মুসলিম ইবনু উমর (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আইশা (রাঃ)-এর হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
হাদিস 854 — Jami At Tirmidhi 9:47
সহিহসহিহহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الْعُمَرِيُّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ مَكَّةَ نَهَارًا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের বেলা মক্কা নগরীতে আগমন করেন। — সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৬২৯), বুখারী, মুসলিম এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন।
। মুহাজির আল-মাক্কী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হলঃ কোন ব্যক্তি বাইতুল্লাহ্ শরীফ দেখে তার উভয় হাত তুলবে কি-না। তিনি বললেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হাজ্জ করেছি, কিন্তু তখন কি আমরা তা করেছি? যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (৩২৬), মিশকাত তাহকীক ছানী (২৫৭৪) আবূ ঈসা বলেন, বাইতুল্লাহ দেখে হাত তোলা বিষয়ের এই হাদীসটি শুবা হতে আবূ কাযাআর সূত্রেই আমরা জেনেছি। আবূ কাযাআর নাম সুওয়াইদ ইবনু হুজাইর।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মক্কায় পৌছার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদুল হারামে প্রবেশ করেন এবং হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন, তারপর ডান দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তিন বার তাওয়াফ করলেন দ্রুত পদক্ষেপে, আর স্বাভাবিক গতিতে তাওয়াফ করলেন চার বার। এরপর মাকামে ইবরাহীমে আসলেন এবং পাঠ করলেনঃ “মাকামে ইবরাহীমকে তোমরা নামাযের জায়গা হিসাবে গ্রহণ কর”(সূরাঃ বাকারা- ১২৫)। তিনি এখানে তার ও বাইতুল্লাহর মাঝে মাকামে ইবরাহীমকে রেখে দুই রাকাআত নামায আদায় করলেন, এরপর হাজরে আসওয়াদের নিকট এসে তা চুম্বন করলেন। এরপর তিনি বের হয়ে গেলেন সাফা পাহাড়ের দিকে (সাঈর উদ্দেশ্যে)। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার ধারণা তিনি তখন পাঠ করলেনঃ “নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া (পাহাড়দুটি) আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত"(সূরাঃ বাকারা- ১৫৮)। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৭৪), মুসলিম ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেন।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, হাজরে আসওয়াদ হতে শুরু করে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন বার দ্রুত পদক্ষেপে তাওয়াফ করেন এবং ধীর পদক্ষেপে চারবার তাওয়াফ করেন। — সহীহ, প্রাগুক্ত ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আলিমগণ এই হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, কোন লোক নিজ ইচ্ছায় দ্রুত পদে তাওয়াফ (রমল) ছেড়ে দিলে তার এই কাজটি মন্দ বলে বিবেচিত হবে, কিন্তু এইজন্য তার উপর কিছু ধার্য হবে না। প্রথম তিন চক্করে রমল না করলে বাকী চক্করসমূহে আর তা করবে না। একদল আলিম বলেছেন, মক্কাবাসী এবং যারা মক্কা হতে ইহরাম বাধেন তাদের জন্য রমল (দ্রুত পদে তাওয়াফ) নেই।
। আবুত তুফাইল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। তাওয়াফের সময় মুআবিয়া (রাঃ) যে রুকনের পাশ দিয়েই যেতেন সেটিই চুম্বন করতেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাকে বললেন, শুধুমাত্র রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুম্বন করতেন। মুআবিয়া (রাঃ) বলেন, বাইতুল্লাহর কিছুই উপেক্ষণীয় নয়। - সহীহ, আলহাজ্জ্বল কাবীর, বুখারী, মুসলিম উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ আলিম আমল করার কথা বলেছেন অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত আর কিছু চুম্বন করবে না।