। ইয়ালা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একটি চাদরের মধ্যভাগ ডান বগলের নীচে দিয়ে এবং তার দুই প্রান্ত বাম কাঁধের উপর দিয়ে জড়ানো (ইযতিবা) অবস্থায় (বাহু খোলা রেখে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহ্ তাওয়াফ করেছেন। – হাসান, ইবনু মা-জাহ (২৯৫৪) আবু ঈসা বলেন, এটি ইবনু জুরাইজ হতে বর্ণিত সাওরীর হাদীস। এটিকে আমরা শুধুমাত্র তার হাদীস হিসেবেই জেনেছি। এই হাদীসটি হাসান সহীহ। আবদুল হামীদ হলেন ইবনু জুবাইরা ইবনু শাইবা এবং ইয়ালা (রাঃ) হলেন ইয়ালা ইবনু উমাইয়্যা।
। আবিস ইবনু রবীআ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে আমি হাজরে আসওয়াদে চুমা দিতে দেখেছি এবং তিনি তখন বলছিলেনঃ আমি তোমাকে চুমা দিচ্ছি অথচ আমি জানি তুমি শুধুই একটি পাথর। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যদি তোমাকে চুমা দিতে না দেখতাম তাহলে আমি তোমাকে চুমা দিতাম না। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯৪৩), বুখারী, মুসলিম আবু বাকর ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। যুবাইর ইবনু আরাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত এক ব্যক্তি ইবনু উমারকে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। জবাবে তিনি বললেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। লোকটি বললোঃ আপনি কি মনে করেন? আমি যদি পরাভূত হই, আপনি কি মনে করেন? আমি যদি ভিড়ে আটকে পরি, তিনি বললেন তোমার ঐ কি মনে কর (কথাটি) ইয়ামানে রেখে আস (লোকটি ইয়ামানী ছিল তাই একথা বললেন) আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উহা স্পর্শ করতে ও চুম্বন দিতে দেখেছি। — সহীহ (আল-হাজ্জ্বলকাবীর) বুখারী বর্ণনাকারী এই যুবাইর ইবনু আরাবী হতে হাম্মাদ ইবনু যাইদ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর যুবাইর ইবনু আদী কুফাবাসী যার উপনাম আবূ সালামা তিনি আনাস ইবনু মালিক এবং আরও অনেক সাহাবী হতে হাদীস শুনেছেন। তার নিকট হতে সুফিয়ান সাওরী এবং আরও অনেক হাদীস বিশারদ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। হাদীসটি আরও একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করার কথা বলেছেন। হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করাকে তারা মুস্তাহাব বলেছেন। তবে এর নিকটে আসা সম্ভব না হলে তাতে হাত দিয়ে স্পর্শ করে হাতে চুম্বন করবে। এতটুকু নিকটে আসাও সম্ভব না হলে এর বরাবর এসে দাড়িয়ে আল্লাহু আকবার বলবে। এটি ইমাম শাফিঈ (রাহঃ)-এর অভিমত।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আসার পর বাইতুল্লাহ শারীফে সাত (শাওতে) তাওয়াফ করলেন। তারপর মাকামে ইবরাহীমে এসে পাঠ করলেনঃ ইবরাহীমের দাড়াবার জায়গাকে তোমরা নামাযের জায়গা হিসেবে গ্রহণ কর” (সূরাঃ বাকারা- ১২৫)। তারপর মাকামে ইবরাহীমের পিছনে তিনি দুরাক’আত নামায আদায় করলেন, তারপর হাজরে আসওয়াদের নিকটে এসে তা চুমা দিলেন, তারপর বললেনঃ যে দিক হতে আল্লাহ্ তা'আলা শুরু করেছেন সে দিক হতে (দৌড়ানো) আমরাও শুরু করব। সাফা পর্বত হতে তিনি সাঈ শুরু করলেন এবং পাঠ করলেনঃ সাফা ও মারওয়া আল্লাহ্ তা'আলার নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত”(সূরাঃ বাকারা- ১৫৮)। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৩৭৪), মুসলিমে এরূপ বর্ণনা আছে “আমি শুরু করব"। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আলিমগণের মতে এই হাদীস অনুযায়ী আমল করতে হবে। মারওয়ার আগে সাফা হতে সাঈ শুরু করতে হবে। সাফার আগে মারওয়া হতে সাঈ শুরু করলে তা সঠিক হবে না, বরং শুরু করতে হবে সাফা হতেই। সাফা ও মারওয়ার সাঈ না করে যদি কোন লোক শুধু বাইতুল্লাহ্ তাওয়াফ করে চলে আসে তবে এ প্রসঙ্গে আলিমগণের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে। কিছু সংখ্যক আলিম বলেন, যদি কোন লোক সাফা ও মারওয়ার সাঈ না করে মক্কা হতে বেরিয়ে যায় এবং মক্কার নিকটেই থাকা অবস্থায় যদি সে কথা তার মনে পড়ে তবে সে ফিরে আসবে এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ পুরো করবে। আর যদি দেশে ফিরার পর তার মনে পড়ে তাহলে তার হাজ্জ হয়ে যাবে কিন্তু তাকে একটি দম (কুরবানী) দিতে হবে। এটা সুফিয়ান সাওরীর অভিমত। কোন কোন আলিম বলেছেন, কোন লোক যদি সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ না করে দেশে ফিরে আসে তাহলে তার হাজ্জ আদায় হবে না। এটা ইমাম শাফিঈ (রাহঃ)-এর অভিমত। তিনি বলেন, সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করা ওয়াজিব, তা ব্যতীত হাজ্জ হবে না।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মুশরিকদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মধ্যে সাঈ করেছেন (দৌড়িয়েছেন)। – সহীহ বুখারী, মুসলিম আইশা, ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করাকে (দৌড়ে চলাকে) আলিমগণ মুস্তাহাব বলেছেন। সাঈ না করে সাফা ও মারওয়ার মাঝে যদি কোন লোক শুধু হেটে প্রদক্ষিণ করে তবে তাও জায়িয।
হাদিস 864 — Jami At Tirmidhi 9:57
সহিহসহিহহাসান Sahihহাসান
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ جُمْهَانَ، قَالَ رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ يَمْشِي فِي السَّعْىِ فَقُلْتُ لَهُ أَتَمْشِي فِي السَّعْىِ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ قَالَ لَئِنْ سَعَيْتُ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْعَى وَلَئِنْ مَشَيْتُ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْشِي وَأَنَا شَيْخٌ كَبِيرٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرُوِيَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ نَحْوُهُ .
। কাসীর ইবনু জুমহান (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সাফা ও মারওয়ার মাঝে দৌড়ে চলার স্থানে বনু উমর (রাঃ)-কে আস্তে চলতে দেখে আমি বললাম, সাফা ও মারওয়ার মাঝে দৌড়ে চলার স্থানে আপনি আস্তে চলছেন যে? তিনি বলেন, আমি যদি দ্রুত চলি তবে দ্রুত চলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও দেখেছি। আর যদি আস্তে চলি তবে আস্তে চলতেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, আর আমি তো এখন একজন বৃদ্ধ লোক। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯৮৮) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। একই রকম হাদীস ইবনু উমার (রাঃ) হতে সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ)-ও বর্ণনা করেছেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের বাহনে সাওয়ার হয়ে (বাইতুল্লাহ ) তাওয়াফ করেছেন। তিনি হাজরে আসওয়াদের নিকটে পৌছে এর প্রতি ইশারা করেছেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯৪৮), বুখারী, মুসলিম জাবির, আবুত তুফায়িল ও উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। কোন কারণ ছাড়া আরোহী অবস্থায় বাইতুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করাকে একদল আলিম মাকরূহ বলেছেন। এই অভিমত ইমাম শাফিঈরও।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক পঞ্চাশ বার বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করবে সে তার মায়ের গর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিনের মত পাপ মুক্ত হয়ে যাবে। যঈফ, যঈফা (৫১০২) এই অনুচ্ছেদে আনাস ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি গারীব। আমি মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে এই হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটি ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে তার উক্তি হিসেবে বর্ণিত হয়ে থাকে।
। আইয়ূব সাখতিয়ানী (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ ইবনু জুবাইরকে মুহাদ্দিসগণ তার পিতা সাঈদ ইবনু জুবাইর হতেও উত্তম গণ্য করতেন। তার এক ভাই ছিল, যার নাম আবদুল মালিক ইবনু সাঈদ ইবনু জুবাইর। তার নিকট হতেও মুহাদ্দিসগণ হাদীস বর্ণনা করেছেন। — সনদ সহীহ
। জুবাইর ইবনু মুতইম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আবদ মানাফের বংশধরগণ! তোমরা কোন লোককে রাত ও দিনের যে কোন সময় ইচ্ছা বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে এবং নামায আদায় করতে বাধা দিও না। — সহীহ, সহীহ ইবনু মা-জাহ (১২৫৪) ইবনু আব্বাস ও আবু যার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু আবু নাজীহও এই হাদীস আবদুল্লাহ ইবনু বাবা হতে বর্ণনা করেছেন। ইমামদের মধ্যে মক্কা শারীফে আসর ও ফজরের নামাযের পর অন্য কোন নামায আদায় করার বৈধতা প্রসঙ্গে মতের অমিল আছে। কিছু সংখ্যক আলিম আসর ও ফজরের পরে নামায ও তাওয়াফে কোন সমস্যা না থাকার কথা বলেছেন। এই অভিমত ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকেরও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীসকে তারা প্রমাণ হিসাবে হাযির করেন। আরেক দল আলিম বলেন, আসরের পর যদি কোন লোক তাওয়াফ করে তাহলে সে লোক সূর্য না ডোবা পর্যন্ত তাওয়াফের নামায আদায় করবে না। এমনিভাবে ফজরের পর কোন লোক যদি তাওয়াফ করে তাহলে সে লোক সূর্য না উঠা পর্যন্ত তাওয়াফের নামায আদায় করবে না। তারা নিজেদের মতের অনুকূলে উমার (রাঃ)-এর হাদীস পেশ করেছেন। ফজরের নামাযের পড় তিনি তাওয়াফ করলেন, কিন্তু (তাওয়াফের) নামায আদায় করলেন না। সূর্য উঠার পর তিনি ঐ নামায ঘতুয়া নামক জায়গাতে পৌছে আদায় করেন। এই মত সুফিয়ান সাওরী ও মালিকেরও।