। জাফর ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, তাওয়াফের দুরাকাআত নামাযে তিনি (মুহাম্মাদ আল-বাকির) সূরা কাফিরূন ও সূরা ইখলাস তিলাওয়াত করতে পছন্দ করতেন। – সনদ সহীহ, মাকতু’ আব্দুল আজীজ ইবনু ইমরানের হাদীসের তুলনায় এই হাদীসটিকে আবু ঈসা বেশি সহীহ বলেছেন। কেননা বর্ণনাকারী আবদুল আযীয ইবনু ইমরান হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল।
। যাইদ ইবনু উসাই (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আলী (রাঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, কি বিষয় সহকারে আপনাকে (নবম হিজরীতে মক্কায়) পাঠানো হয়েছিল? তিনি বললেন, চারটি বিষয় (ঘোষণা করার জন্য)। মুসলিম ছাড়া আর কোন লোক জান্নাতে যাবে না; কোন লোক উলঙ্গ অবস্থায় বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে পারবে না; এইখানে (কা'বা শারীফে) মুসলিম ও মুশরিকগণ এই বছরের পর একত্র হতে পারবে না এবং যে সব লোকের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুক্তি আছে সে সব লোকের চুক্তি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে, কিন্তু যে সব লোকের চুক্তিতে কোন মেয়াদের উল্লেখ নেই সে সব লোকের চুক্তির মেয়াদ (আজ হতে) চার মাস পর্যন্ত। — সহীহ, ইরওয়া (১১০১) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। ইবনু আবু উমার ও নাসর ইবনু আলী তারা উভয়ে সুফিয়ান হতে, তিনি আবু ইসহাকের বরাতে পূর্বোক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। তবে যাইদ ইবনু উসাইর স্থলে তারা উভয়ে ইয়ুসাই উল্লেখ করেছেন, এটাই বেশি সহীহ। — সহীহ দেখুন পূর্বের হাদীস আবু ঈসা বলেন, এই ক্ষেত্রে শুবার ভুল আছে। বর্ণনাকারীর নামটি তিনি যাইদ ইবনু উসাইল বলে উল্লেখ করেছেন।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট হতে আচঞ্চল চোখে ও প্রফুল্ল মনে চলে গেলেন কিন্তু (কিছুক্ষণ পর) ফিরে আসলেন চিন্তগ্রস্ত অবস্থায়। আমি তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি কাবার ভেতরে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার মন বলছিল আমি যদি এরূপ না করতাম (তবে সেটাই ভাল ছিল)। আমার ভয় হচ্ছে আমার পরে আমার উম্মাতদেরকে যন্ত্রণায় ফেললাম কি-না। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩০৬৪) আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
। বিলাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কাবার অভ্যন্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায আদায় করেছেন। – সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৬৩), বুখারী, মুসলিম ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনি নামায আদায় করেননি, বরং তাকবীর ধ্বনি করেছেন। উসামা ইবনু যাইদ, ফাযল ইবনু আব্বাস, উসমান ইবনু তালহা ও শাইবা ইবনু উসমান (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বিলাল (রাঃ) বর্ণিত এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ আলিম মত দিয়েছেন। কাবার অভ্যন্তরে নামায আদায় করাতে কোন সমস্যা আছে বলে তারা মনে করেন না; ইমাম মালিক বলেন, নফল নামায কা'বার অভ্যন্তরে আদায় করাতে কোন সমস্যা নেই; তবে ফরয নামায আদায় করা মাকরূহ। ইমাম শাফিঈ বলেন, যে কোন নামায কাবার অভ্যন্তরে আদায় করায় সমস্যা নেই তা ফরয হোক বা নফল হোক। কেননা, কিবলামূখী হওয়া, পবিত্রতা অর্জন করা ইত্যাদি প্রসঙ্গে ফরয ও নফলের বিধান একই।
। আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, ইবনু যুবাইর (রাঃ) তাকে বললেন, তোমাকে উম্মুল মু'মিনীন আইশা (রাঃ) যে হাদীস বলেছেন, তা আমার নিকটে বর্ণনা কর। আসওয়াদ বলেন, তিনি আমাকে বলেছেন যে, তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ যদি তোমার সম্প্রদায় জাহিলী যুগের এত নিকটে এবং ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে নবদীক্ষিত না হত তাহলে আমি কা'বা ঘরকে ভেঙ্গে (পুনঃনির্মাণ করে) এর দুটো দরজা বানাতাম। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৮৭৫) বর্ণনাকারী বলেন, পরে যখন ইবনুয যুবাইর (রাঃ) ক্ষমতাধিকারী হন তখন এটিকে ভেঙ্গে (পুনঃনির্মাণ করেন এবং) এর দুইটি দরজা তৈরী করেন। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কাবা ঘরের অভ্যন্তরে ঢুকে সেখানে আমি নামায আদায়ের ইচ্ছা করতম তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে হিজর (হাতীম)-এ প্রবেশ করিয়ে আমাকে বললেনঃ যদি তুমি বাইতুল্লায় চাও তাহলে এই হিজরেই নামায আদায় করে নাও। কেননা এও বাইতুল্লাহর অংশ। কিন্তু তোমার সম্প্রদায় কা'বা ঘর ছোট করে নির্মাণ করে এবং (অর্থাভাবে) এই স্থানটিকে কা'বার বাইরে রেখে দেয়। — হাসান সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (১৭৬৯), সহীহাহ (৪৩) এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। বর্ণনাকারী আলকামার পিতার নাম বিলাল।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাত হতে হাজরে আসওয়াদ অবতীর্ণ হয়েছিল দুধ হতেও বেশি সাদা অবস্থায়। কিন্তু এটিকে আদম সন্তানের গুনাহ এমন কালো করে দিয়েছে। — সহীহ, মিশকাত (২৫৭৭), তা’লীকুর রাগীব (২/১২৩), আল-হাজ্জ্বল কাবীর আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীম জান্নাতের ইয়াকুত (দীপ্তিশীল মূল্যবান মণি) হতে দুটো ইয়াকুত। আল্লাহ্ তা'আলা এই দুটির আলোকপ্রভা নিম্প্রভ করে দিয়েছেন। এ দু'টির প্রভা যদি তিনি নিস্তেজ করে না দিতেন তাহলে তা পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে যা কিছু আছে সব আলোকিত করে দিত। — সহীহ, মিশকাত (২৫৭৯) আবু ঈসা বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-এর এই বক্তব্য মাওকৃফভাবে বর্ণিত আছে। আনাস (রাঃ) হতেও এই বিষয়ে হাদীস বর্ণিত আছে, তবে তা গারীব।